হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মো: নাসির উদ্দিন
শহীদ মো: নাসির উদ্দিন

শহীদ মো: নাসির উদ্দিন

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ মোঃ নাসির উদ্দিন (০৫৩)। সাংগঠনিক মান: ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী ছিলেন।
পেশা: শহীদ মো: নাসির উদ্দীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আলীয়া মাদ্রাসায় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে অনার্সে অধ্যয়নরত ছিলেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০১.০১.১৯৯৩, ২১ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি' ১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি' ১৩, বিকাল ৫টায়, স্থান: শিবগঞ্জ সদর। দাফন করা হয়: পারিবারিক কবরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: পশ্চিম গোপালনগর, ডাকঘর: ভবানীপুর, ইউনিয়ন: শ্যামপুর, উপজেলা:
শিবগঞ্জ, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
পিতা: মো: মফিজ উদ্দিন, বয়স প্রায় ৬২ বছর, কৃষিকাজ করেন।
মাতা: মোছা: হালিমা খাতুন, বয়স প্রায় ৫৫ বছর, গৃহিণী।
ভাই- বোনের বিবরণ: শহীদ মো: নাসির উদ্দীন, অনার্স অধ্যয়নরত, ইসলামিক স্টাডিজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসা। সোহেম উদ্দিন, সপ্তম শ্রেণী, শরৎ নগর দাখিল মাদরাসা, সুরেফা বেগম, বিবাহিতা, গৃহিণী। তাহেরা বেগম, বিবাহিতা, গৃহিণী, মুক্তারা বেগম, দাখিল শ্রেণী, ভবানীপুর আলিম মাদরাসা।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

"বড় বোন স্বপ্নে দেখে, প্রিয় ভাই শহীদ নাসির যেন অনুযোগ করে তাকে বলছে, আপা আমাকে পুলিশ ধরে গুলি করেছে।... তার পড়ার টেবিলে এখনও টাঙ্গানো আছে আর মা-বাবার দোয়া লেখা ওয়ালমেটটি। বাবা মফিজউদ্দীন কড়ে ভাঙা বটগাছের মতোই একা ক্ষেতে নিড়ানি দিয়ে চলেন তার ৬২ বছরের চোখ কেমন ঝাপসা হয়ে যায়। ঠা ঠা রোদেও রাজ্যের অমাবস্যা তাকে ঘিরে ধরে।"
১. শহীদের পরিচিতি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম গোপালনগর গ্রামে শহীদ মোঃ নাসির উদ্দিন ১৯৯৩ সনে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মফিজউদ্দিন এবং মাতা হালিমা খাতুনের দুই ছেলে তিন মেয়ের ভেতর ভাইদের মধ্যে তিনিই ছিলেন বড়। দরিদ্র পিতা-মাতার স্বপ্ন ছিল ছেলে-মেয়েদেরকে লেখা-পড়া শিখিয়ে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন। শহীদ মো: নাসির উদ্দিনের দুই বোন বিবাহিতা। এক বোন আলিম শ্রেণীতে এবং ছোট ভাই মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। শহীদ মোঃ নাসির উদ্দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আলীয়া মাদ্রাসায় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে অনার্সে অধ্যয়নরত ছিলেন। তিনি ছিলেন নম্র, ভদ্র, বিনয়ী, সৎ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী। তাইতো আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে অন্যায় রায়ের পর তিনি ঘরে বসে থাকতে পারেননি। বরং নেমে এসেছেন জনতার সাথে রাজপথে। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সংগ্রামরত অবস্থায়ই চলে গেছেন মহান রবের দরবারে।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
দিনটি ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সেদিন ছিল বিশ্ববিখ্যার মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে তথাকথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ষড়যন্ত্রমূলক রায় ঘোষণার দিন। প্রহসনের এ রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকে দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছিল। ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সাঈদী সাহেবের ফাঁসির রায় ঘোষণার পর বিকাল ৫টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মিছিলে অংশগ্রহণ শেষে চলে যাওয়ার সময় সদর উপজেলার শিবতলা নামক স্থানে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র আক্রমণ করে। এ অবস্থায় তিনি পড়ে যান এবং মুহুর্মুহু গুলির শিকার হন। এতে শহীদ মোঃ নাসির উদ্দিন পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন। এছাড়াও আরো অনেকে গুলিবিদ্ধ হন। তার জানাযার নামাজে ইমামতি করেন অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম। জানাযায় প্রায় ১২ হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
দিনটি ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সেদিন ছিল বিশ্ববিখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে তথাকথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ষড়যন্ত্রমূলক রায় ঘোষণার দিন। ট্রাইব্যুনান কর্তৃক সাঈদী সাহেবের ফাঁসির রায় ঘোষণার পর বিকাল ৫টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মিছিলে অংশগ্রহণ শেষে চলে যাওয়ার পর পুলিশ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র আক্রমণ করে। পরেরদিনের জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় এর বিবরণ পাওয়া যায়। দৈনিক সংগ্রাম, ১ মার্চ, ২০১৩ রিপোর্ট করে। "চাঁপাইনবাবগঞ্জে জনতা মাওলানা সাঈদীর ফাঁসির রায় শোনার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাজারো জামায়াত শিবিরের কর্মী সমর্থক মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় শোনার পর কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এর আগে পবিত্র কুরআন শরিফ পাঠ করতে থাকেন জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মীরা। ব্যাপক উত্তেজনা আর বিক্ষোভ মিছিলে মুখরিত থাকে রাস্তাগুলো। বিকেল সাড়ে ৪টার সময় বিজিবি-পুলিশ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা যৌথভাবে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে ব্যাপক সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে জামায়াতের ১ জন নিহত ও ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়। জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমায়াতে ইসলামীর ঢাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল গতকাল বৃহস্পতিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের সর্বত্রই আবারো স্মরণকালের রেকর্ডভঙ্গ করে শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে সকল প্রকার যানবাহন এবং রিকশা, জ্যান মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা যায়নি।
সকল প্রকার মার্কেটে দোকানপাট বন্ধ ছিল। হরতাল চলাকালে জামায়াত শিবিরের কর্মীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে বিরুক্ত হয়ে পিকেটিং ও বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। এককভাবে জামায়াত শিবির হরতাল পালনে আবারো নজির সৃষ্টি করেছে। হরতাল চলাকালে জেলার ভোলাহাট, কানসাট, শিবগঞ্জ, শিবতলা এলাকায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
৪. শহীদের আপনজনদের কথ্য
মা-বাবার কান্না। মা বলেন, চাঁপাইয়ে গন্ডগোলের খবর পেয়ে আমি এবং আমার অন্য ছেলেরা ওকে বারবার মোবাইল করে খোঁজ নিতে চেয়েছি কিন্তু পারেনি। সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ছোটভাই সোহেমউদ্দীন বারবার চেষ্টার পর একবার মোবাইলে পেয়ে যায়। কিন্তু তেমন কথা বলেনি। শুধু বলেছে, 'ব্যস্ত আছি কথা বলতে পারছি না। বড় বোন স্বপ্নে দেখে, প্রিয় ভাই শহীদ নাসির যেন অনুযোগ করে তাকে বলছে, 'আপা আমাকে পুলিশ ধরে গুলি করেছে। ভাই হারা বোনের সান্তনা দুনিয়ার কোন কোর্টে এই সাক্ষ্যের হয়তো কোন মূল্য নেই কিন্তু সর্বোচ্চ বিচারপতির হাত থেকে ওরা কিভাবে রক্ষা পাবে? তার পড়ার টেবিলে এখনও টাঙ্গানো আছে আর 'মা-বাবার দোয়া' লেখা ওয়ালমেটাট। বাবা মফিজউদ্দীন ঝড়ে ভাঙা বটগাছের মতোই ক্ষেতে নিড়ানি দিয়ে চলেন আর তার ৬২ বছরের চোখ কেমন কাপসা হয়ে যায়। ঠা ঠা রোদেও রাজ্যের অমাবস্যা তাকে ঘিরে ধরে।
এলাকাবাসীর কথা। সে ছিল খুবই ভাল ছেলে। সে খুব মেধাবী ছাত্র ছিল। সে ছিল খবই নম্র, অদ্র, বিনয়ী, সৎ ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী। সে নামাজের ক্ষেত্রে সর্বদা সবার আগে থাকতো। বাড়িতে আসলে সবাইকে নিয়ে একসাথে নামাজ পড়তো। এমনকি প্রতিদিন ফজরের সময় অনেককেই ফোন করে বা মিস কল দিয়ে নামাজের জন্য জাগিয়ে দিতো। তার পড়ার টেবিলে এখনও টাঙ্গানো আছে, নামাজ না পড়ার ক্ষতি সম্বলিত চার্ট, নিজ হাতে তৈরি ক্যালেন্ডার। সে নিয়মিত তাহাজ্জুদ ওজার ছিল।
৫. বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা
টালির চালা দেয়া আধা পাকা ১টি ঘর। বাঁশের বেড়া ও টালির চালা দেয়া ১টি ঘর আছে। নিজেদের বিখা খানেক আবাদি জমি আছে।
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মোঃ নাসির উদ্দিন (০৫৩)। সাংগঠনিক মান: ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী ছিলেন।
পেশা: শহীদ মো: নাসির উদ্দীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আলীয়া মাদ্রাসায় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে অনার্সে অধ্যয়নরত ছিলেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০১.০১.১৯৯৩, ২১ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি' ১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি' ১৩, বিকাল ৫টায়, স্থান: শিবগঞ্জ সদর। দাফন করা হয়: পারিবারিক কবরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: পশ্চিম গোপালনগর, ডাকঘর: ভবানীপুর, ইউনিয়ন: শ্যামপুর, উপজেলা:
শিবগঞ্জ, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
পিতা: মো: মফিজ উদ্দিন, বয়স প্রায় ৬২ বছর, কৃষিকাজ করেন।
মাতা: মোছা: হালিমা খাতুন, বয়স প্রায় ৫৫ বছর, গৃহিণী।
ভাই- বোনের বিবরণ: শহীদ মো: নাসির উদ্দীন, অনার্স অধ্যয়নরত, ইসলামিক স্টাডিজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসা। সোহেম উদ্দিন, সপ্তম শ্রেণী, শরৎ নগর দাখিল মাদরাসা, সুরেফা বেগম, বিবাহিতা, গৃহিণী। তাহেরা বেগম, বিবাহিতা, গৃহিণী, মুক্তারা বেগম, দাখিল শ্রেণী, ভবানীপুর আলিম মাদরাসা।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍