হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মো: রবিউল ইসলাম রবু
শহীদ মো: রবিউল ইসলাম রবু

শহীদ মো: রবিউল ইসলাম রবু

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ মো: রবিউল ইসলাম রবু (০৯৬)। তিনি ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। পেশা। আমকেনা আর সাইকেল দিয়ে তা বিক্রি করে প্রতিদিন ১০০/১৫০ টাকা উপার্জন হতো।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১২.০২,১৯৮৯, ২৬ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ২৯.০৩.২০১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ২৯.০৩.২০১৩
= স্থান। পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদ। দাফন করা হয়। পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: বাবুপুর, ডাকঘর। ভবানীপুর, ইউনিয়ন। শ্যামপুর, উপজেলা। শিবগঞ্জ, জেলা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
পিতা: ভদু বিশ্বাস-৭০ বছর।
মাতা: যাকেরা বেগম,-৫৫-গৃহিণী।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ। স্ত্রী-আদুরী বেগম, বয়স ২০ বছর, গৃহিণী, ছেলে। মো: রায়হান, বয়স। প্রায় ২ বছর আড়াই মাস।
ভাই-বোনের বিবরণ: জিয়াউর রহমান, ৩২ বছর, দিনমজুর। শহীদ মো: রবিউল ইসলাম রবু।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

"সদ্য বিধবা ২০ বছরের স্ত্রী আদরী বেগম তার আড়াই বছরের ছেলে রায়হানকে কোলে নিয়ে বলেন, ২ দিন পর স্বপ্নে দেখলাম। সেই রক্তাক্ত শার্টটি গায়ে সাইকেল চালিয়ে সে আসলো- হাত ভর্তি ফলমূল, মাছ। আমি অভিমান করে বললাম, তুমি রাস্তা চিনতে পার না, আস না কেন? হাসিমাখা মুখে সে বললো, আমাকে তো আসতে দেয় না। অনেক খাবার, সব খেতে পারছি না।"
১. শহীদের পরিচিতি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বাবুপুর গ্রামে শহীদ মো: রবিউল ইসলাম রবু ১৯৮৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা তদু বিশ্বাস আর মাতা যাকেরা বেগমের দুই সন্তানের মধ্যে শহীদ মো: রবিউল ইসলাম রবু ছোট। তিনি ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। এরপর পিতার সাথে ধরেছিলেন সংসারের হাল। গরিব পরিবারের সন্তান হিসেবে তিনি খুবই সাদাসিধে জীবন যাপন করতেন। আম কেনা আর সাইকেল দিয়ে তা বিক্রি করে প্রতিদিন ১০০/১৫০ টাকা উপার্জন হতো। অভাবের কারণে দিনমজুরির করেও সংসার চালাতেন। দিনমজুরির ফাঁকে যতটুকু সময় পেতেন দ্বীনের কাজে ব্যয় করতেন। তিনি ছিলেন বিবাহিত। রায়হান নামে তার আড়াই বছরের একটি ফুটফুটে ছেলে আছে।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৯ মার্চ ২০১৩ তারিখে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পুলিশ ও বিজিবিকে সাথে নিয়ে তাদের এলাকায় লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের উদ্দেশ্যে নিরীহ মানুষদের ওপর আক্রমণ চালায়। শহীদ মো: রবিউল ইসলাম রবু গ্রামবাসীর সাথে এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। পুলিশ ও বিজিবি সহ আওয়ামী বাহিনী গোপালনগর এলাকায় গ্রামবাসীর প্রতিরোধে লুটপাট করতে না পেরে অতর্কিত শত শত রাউন্ড গুলি করে। এতে অনেকে গুলিবিদ্ধ হন এবং ভোর ৬.৩০ এর দিকে শহীদ রবিউল ইসলাম রবু গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শাহাদাৎ বরণ করেন।
পুলিশ লাশ না দেয়ায় প্রায় ৩৬ ঘন্টা পর শ্যামপুর ইউসি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তিনজনের গায়েবানা জানাযা একসাথে অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন অধ্যাপক রকিবুল ইসলাম। এতে প্রায় ৩০ হাজারের অধিক লোক উপস্থিত ছিলেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২৯ মার্চ ২০১৩ তারিখে রাত আড়াইটায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পুলিশ র‍্যাব ও বিজিবিসহ প্রায় তিন শতাধিক প্রশাসনের লোককে সাথে নিয়ে শ্যামপুর ইউনিয়নে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের উদ্দেশ্যে নিরীহ মানুষদের ওপর আক্রমণ চালায়। আতীয় গণমাধ্যমে এ ব্যাপারে ৪ মার্চ ২০১৩ ব্যাপক নিউজ হয়। দৈনিক সংগ্রাম লিখে; "চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিবগঞ্জ উপজেলায় আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা নিহত হবার পর গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত্রিতে উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রশাসন পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি'র হাজার হাজার সদস্যসহ এক সাঁড়াশি অভিযান চালায়। গ্রামবাসী উপায়ান্তর না দেখে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতে ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে গেলে পুলিশের গুলিতে ৩ জন নিহত ও অন্তত ১০০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে গ্রামবাসী জানিয়েছে। নিহতরা হচ্ছেন, শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের ওমরপুর গ্রামের কদুর ছেলে রবিউল ইসলাম (২৪), গোপালনগর গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে মতিউর রহমান (৪৫) ও শরৎনগর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে অলিউল্লাহ (১৬)। সোনামসজিদ মহাসড়কের রসুলপুর, ইসরাইল মোড়, বেকির মোড়, কানসাট গোপালনগর মোড়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের উপ-রাজারামপুর, শিবতলা মোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে কাঠের গুঁড়ি ও বিদ্যুতের পোল দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে সড়ক অবরোধ করে মানুষ। সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে।
জামায়াতসহ ১৮ দলীয় জোট আয়ুর এক সাংবাদিক সম্মেলনে জোটের সমন্বয়ক জেলা বিএনপি'র সভাপতি অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা লিখিত বক্তব্যে, শিবগঞ্জের শ্যামপুরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিরস্ত্র ৩জন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে শনিবার জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও গায়েবানা জানাজা এবং আগামী রোববার জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের আহবান করেন। তিনি আরো বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিবগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস পরিদর্শনে এসে পুলিশকে জনতার প্রতি গুলিবর্ষণের নির্দেশ দেয়ার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি পল্লী বিদ্যুতের ঘটনার দায় ১৮ দলীয় জোটের নেতা কর্মীদে ওপর চাপাতে চাইছেন কিন্তু আমি পরিষ্কার বলতে চাই ঐ ঘটনার দিন দুটি সাদা মাইক্রোবাসে কারা এসেছিল তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কারণ মিছিল ঐ এলাকায় পৌঁছানোর পূর্বেই পল্লী বিদ্যুৎ ভবন জ্বলতে দেখা গেছে যা স্থানীয় জনতা সকলেই প্রত্যক্ষ করেছে। সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক লতিফুর রহমান নিহত ৩ জনকে তাদের সমর্থক বলে দাবি করেন।"
শনিবার ৩০ মার্চ ২০১০, দৈনিক আমার দেশ লিখে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট ও কামাল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার
দিকে হরতালের সময় সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি গ্রেফতারের নামে শিবগঞ্জের শ্যামপুর ইউনিয়নের গোপালনগর এলাকায় অভিযানে নামে পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাবের সমন্বয়ে যৌথবাহিনীর সদস্যরা। তাদের সঙ্গে একজন ম্যাজিস্ট্রেটও ছিল। তারা গ্রামের নিরীহ কিছু লোককে আটকের চেষ্টা করলে বিক্ষুত গ্রামবাসী তাদের অবরুদ্ধ করে। অবরুদ্ধ থাকার একপর্যায়ে রাত ৩টার দিকে পুলিশ ও বিজিবি নির্বিচারে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে রাতেই তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়। নিহতরা হলেন উমরপুর গ্রামের আবদুল হাকিমের ছেলে স্থানীয় স্বরূপনগর দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণীর ছাত্রশিবির কর্মী অলিউল্লাহ (১৭), শ্যামপুর গ্রামের ভদু বিশ্বাসের ছেলে রবিউল ইসলাম রবু (২৫) ও শ্যামপুর চামাবাজার এলাকার জিল্লুর রহমানের ছেলে মতিউর রহমান (২৫)। নিহত মতিউর ও রবিউল পেশায় কৃষক বলে জানিয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্য। এছাড়াও আরও অন্তত ৬০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যার জন্যই ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে অভিযানে নেমেছে। সহিংসতায় জড়িত ছিল না এমন ব্যক্তিদেরকেও আটকের চেষ্টা করে পুলিশ। ফলে বিক্ষুদ্ধ গ্রামবাসী তাদের প্রতিরোধ করে।
এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। খবর পেয়ে ভোরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে কানসার্ট নিয়ে যান। গতকাল সকাল ১১টার দিকে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা আবারও শ্যামপুরে অভিযানে নামে। অভিযানের আগেই একরকম পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে এলাকা। গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে কমপক্ষে ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল শ্যামপুর এলাকায় সরেজমিন দেখা গেছে পুলিশের নির্মমতার চিহ্ন। গ্রামের অনেক লোক কুড়িয়ে পাওয়া গুলির খোসা, গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি সাংবাদিকদের দেখান। নিহতদের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। নিহত মাদরাসা ছাত্র ওয়ালিউল্লাহর বাড়িতে গিয়ে তার মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজনদের বুকফাটা মাহাজারি করতে দেখা যায়। তাদের সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা কারও ছিলনা। উপস্থিত সবাই ওয়ালিউল্লাহর জন্য ফেলেছেন চোখের পানি। ওয়ালিউল্লাহর বাবা আবদুল হাকিম জানান, রাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ গুলির শব্দে ঘুম ভাঙে তার। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বুলেটের শব্দে আশপাশের লোকজনের সঙ্গে সে ও তার ছেলে বাড়ির বাইরে বের হয়। সামনে এগুতেই একটি গুলি ওয়ালিউল্লাহর আন চোয়ালে ঢুকে বাঁদিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ছটফট করতে করতে ইন্তেকাল করেন ওয়ালিউল্লাহ। তাকে হাসপাতালেও নেয়ার সময় পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, নিহত ও আহত অধিকাংশই আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একই অবস্থা বিরাজ করছে নিহত মতিউর ও রবিউলের বাড়িতে। রবিউলের বৃদ্ধ বাবা ভনু বিশ্বাস ছেলের শোকে বাকরুদ্ধ। রবিউলের চাচাতো ভাই মনিরুজ্জামান মনির জানান, কেন তাদের গ্রামে পুলিশ গুলি ছুড়ল তা তারা জানেন না। তিনি বলেন, পুলিশের গুলির শব্দে এলাকাবাসীর ঘুম ভেঙেছে। ওই সময় পরিস্থিতি বোঝার জন্য বাড়ির বাইরে যাওয়ামাত্র অনেকের সঙ্গে গুলিবিদ্ধ হন রবিউল।
নিহত ওয়ালিউল্লাহর চাচা স্থানীয় মাদরাসার সুপার আবদুল মালেক বলেন, পুলিশের সঙ্গে ওই অভিযানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ক্যাডাররাও অংশ নেয়। তিনি বলেন, এমন বিভীষিকাময় রাত তারা জীবনে কখনও দেখেননি। গুলির সময় নারী-পুরুষের চিৎকার আর আহাজারিতে পুরো এলাকায় তখন ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আর বিদ্যুৎ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। তিনি এ হত্যাকান্ডের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়ী করে বলেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এলাকা পরিদর্শন করে যাওয়ার পরই পুলিশ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এদিকে দুপুর ১২টার দিকে শহরের পাঠানপাড়া বিএনপি কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই গণহত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান ১৮ দলের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে ১৮ দলীয় জোটের জেলা সমন্বয়কারী ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া অভিযোগ করেন, আসামি ধরার নামে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি সদস্যরা শ্যামপুর গ্রামে গিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মতো নিরস্ত্র ঘুমন্ত মানুষকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে। শতাধিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এর প্রতিবাদে আগামী রোববার চাঁপাইনবাবগঞ্জে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করবে ১৮ দল। এছাড়া শনিবার বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি, গায়েবানা জানাজা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রেীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, জেলা জামায়াতের সাবেক আমির রফিকুল ইসলাম, জামায়াতের সাবেক এমপি লতিফুর রহমানসহ জোটের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার বশির আহম্মেদ সাংবাদিকদের জানান, আসামি ধরার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির যৌথ বাহিনীর সদস্যরা শ্যামপুর এলাকায় যায়। এ সময় আসামিপক্ষের লোকজন যৌথ বাহিনীকে অবরুদ্ধ এবং তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেটসহ যৌথ বাহিনীর ১২ সদস্য আহত হয় বলে দাবি করেন তিনি। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক ড. শাহ আলম জানান, কানসাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলায় আসামিদের ধরতে গেলে গ্রামবাসীর হামলার মুখে পড়ে পুলিশ।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের মায়ের বক্তব্য। পহীদের মা বলেন, আমার ছেলে গ্রামের সব মানুষের কাছে ভাল মানুষ বলে পরিচিত ছিলো। সবাই ওকে খুব ভালবাসতো। আমি তার হত্যার বিচার চাই। শহীদের স্ত্রীর বক্তব্য: সদ্য বিধবা ২০ বছরের স্ত্রী আদরী বেগম তার আড়াই বছরের ছেলে রায়হানকে কোলে নিয়ে বলেন, ২ দিন পর স্বপ্নে দেখলাম; সেই রক্তাক্ত শার্টটি গায়ে সাইকেল চালিয়ে সে আসলো-হাত ভর্তি ফলমূল, মাছ। আমি অভিমান করে বললাম, তুমি রাস্তা চিনতে পারনো, আসনো কেন? হাসিমাখা মুখে সে বললো, আমাকেতো আসতে দেয় না। অনেক খাবার, সব খেতে পারছি না।
চাচা মনসুর আলী বলেন, ওকে আমার নিজের ছেলেদের চাইতেও বেশি ভালবাসতাম। নিয়মিত নামাজ গড়তো। মুচকি হাসি যেন ওর মুখে লেগেই থাকতো।
৫. বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা
মধ্যম মানের ঘরবাড়ি এবং দিনমজুরি করে তাদের পরিবার চলে।
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: রবিউল ইসলাম রবু (০৯৬)। তিনি ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। পেশা। আমকেনা আর সাইকেল দিয়ে তা বিক্রি করে প্রতিদিন ১০০/১৫০ টাকা উপার্জন হতো।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১২.০২,১৯৮৯, ২৬ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ২৯.০৩.২০১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ২৯.০৩.২০১৩
= স্থান। পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদ। দাফন করা হয়। পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: বাবুপুর, ডাকঘর। ভবানীপুর, ইউনিয়ন। শ্যামপুর, উপজেলা। শিবগঞ্জ, জেলা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
পিতা: ভদু বিশ্বাস-৭০ বছর।
মাতা: যাকেরা বেগম,-৫৫-গৃহিণী।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ। স্ত্রী-আদুরী বেগম, বয়স ২০ বছর, গৃহিণী, ছেলে। মো: রায়হান, বয়স। প্রায় ২ বছর আড়াই মাস।
ভাই-বোনের বিবরণ: জিয়াউর রহমান, ৩২ বছর, দিনমজুর। শহীদ মো: রবিউল ইসলাম রবু।