শহীদ আসগর আলী লিমন
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ আসগর আলী লিমন (১০২)। পেশা: ছাত্র।
জন্ম তারিখ ও বয়স। ৭.৭.৯৯ সাল। বয়স ১৩ বছর প্রায়। আহত হওয়ার তারিখ। ২৪.০৪.২০১৩
সময় বেলা ১১ আনুমানিক।
শাহাদাতের তারিখ: ২৪.০৪.২০১৩ সময় দুপুর ১২ আনুমানিক।
স্থায়ী ঠিকানা। গ্রাম-উপরাজারামপুর, ইউনিয়ন-ডাকঘর-উপরাজারামপুর, খানা-সদর, জেলা-
চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
পিতা। মোঃ লোকমান হোসেন, সৌদি আরব প্রবাসী।
মাতা। মোসা। আকলিমা বেগম, বয়স প্রায় ৪২ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা। বর্তমানে লিমনের বাড়ি ভাল মানের। তার আব্বা মোঃ লোকমান
হোসেন বিদেশে কর্মরত এবং সেখানের আয় থেকেই তাদের পরিবার পরিচালিত হয়।
ভাই-বোনের বিবরণ। শহীদ আসগর আলী লিমন, মোসা। লিপি, বিবাহিত, গৃহিণী।
জন্ম তারিখ ও বয়স। ৭.৭.৯৯ সাল। বয়স ১৩ বছর প্রায়। আহত হওয়ার তারিখ। ২৪.০৪.২০১৩
সময় বেলা ১১ আনুমানিক।
শাহাদাতের তারিখ: ২৪.০৪.২০১৩ সময় দুপুর ১২ আনুমানিক।
স্থায়ী ঠিকানা। গ্রাম-উপরাজারামপুর, ইউনিয়ন-ডাকঘর-উপরাজারামপুর, খানা-সদর, জেলা-
চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
পিতা। মোঃ লোকমান হোসেন, সৌদি আরব প্রবাসী।
মাতা। মোসা। আকলিমা বেগম, বয়স প্রায় ৪২ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা। বর্তমানে লিমনের বাড়ি ভাল মানের। তার আব্বা মোঃ লোকমান
হোসেন বিদেশে কর্মরত এবং সেখানের আয় থেকেই তাদের পরিবার পরিচালিত হয়।
ভাই-বোনের বিবরণ। শহীদ আসগর আলী লিমন, মোসা। লিপি, বিবাহিত, গৃহিণী।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
"খুব সকালে মা সালাতুল ফজর শেষে কুরআন পড়েন। কিছুক্ষণ পর লিমন এসে মাকে বলেন, আমাকে নাস্তা তৈরি করে দাও আমি স্কুলে যাব। মা বললেন, আজ হরতাল স্কুলে যেতে পারবি না। এ কথা বলে বাড়ির গেইটে ভিতর থেকে তালা লাগিয়ে চাবি চালের মটকায় লুকিয়ে রেখে নিশ্চিন্ত হলেন।... কিছুক্ষণ পর গেইটের বাহিরে জানালা দিয়ে মা, মা বলে ডেকে চাবি রেখে বলল; আমি চলে গেলাম। কিছুক্ষণ পর মা চতুর্দিক থেকে গোলাগুলির শব্দ শুনেনতার পর সব শেষ। লিমন হচ্ছে সৌদি প্রবাসী ধনী ব্যক্তির একমাত্র আদরের দুলাল। একমাত্র কন্যাসন্তান ছাড়া এই পৃথিবীতে হতভাগ্য পিতা-মাতার আর কেউ রইলো না। সাথে জানাযায় সমবেত জনতা কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং আহাজারি করতে থাকে, ইয়া আল্লাহ আর কত লাশ চাই এই জালেম সরকারের।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ আসগর আলী লিমন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর খানার উপরাজারামপুর গ্রামে ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মো: লোকমান হোসেন ও মাতা মোসা: আকলিমা বেগম-এর ২ সন্তানের মধ্যে একমাত্র পুত্র এবং ছোট সন্তান ছিলেন তিনি। পরিবারের ভরণ-পোষণ ও সন্তানদের সচ্ছল জীবন যাপনের জন্যে দীর্ঘদিন প্রবাসে কর্মরত শহীদের পিতা জনাব মোঃ লোকমান হোসেন। তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে সৌদি আরবে থাকেন। রাজারামপুর হামিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র স্নেহধন্য সন্তান শহীদ আসগর আলী লিমনকে ঘিরে মায়ের স্বপ্ন ছিল, পড়ালেখা করে একদিন বড় কিছু হবে তাদের দুঃখ-কষ্ট মুছে দিবে। কিন্তু ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে সদা প্রস্তুত ছাত্রশিবিরের কর্মী শহীদ লিমন নিজের জীবন দিয়ে চলে গেলেন জান্নাতের পানে।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৪.০৪.১৩ খুব সকালে মা সালাতুল ফজর শেষে কুরআন পড়েন। কিছুক্ষণ পর লিমন এসে মাকে বলেন, আমাকে নাস্তা তৈরি করে দাও আমি স্কুলে যাব। মা বললেন, আজ হরতাল স্কুলে যেতে পারবি না। এ কথা বলে বাড়ির গেইটে ভিতর থেকে তালা লাগিয়ে চাবি চালের মটকায় লুকিয়ে রেখে নিশ্চিন্ত হলেন। লিমন সকালে নাস্তা না করেই বেরিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর গেইটের বাহিরে জানালা দিয়ে মা, মা চাবি রেখে বলল; আমি চলে গেলাম। মা সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠে দেখলেন সে দ্রুত ছুটে চলে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর মা চতুর্দিক থেকে গোলাগুলির শব্দ শুনেন। এর পর সব শেষ। ৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
সরকাফা দলের লেলিয়ে দেয়া পুলিশ বাহিনীর নিত্য অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার গোটা রাজশাহী। কয়েক দিন আগে হঠাৎ র্যাব গ্রেফতার করে গুম করে ফেলে ইসরামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগরীর অফিস সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম মাসুমকে। মাসুম শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জনাব নুরুল ইসলাম বুলবুল ভাইয়ের আপন ছোট ভাই। ২৪ এপ্রিল'১৩ আনোয়ারুল ইসলাম মাসুম এর কমের প্রতিবাদে সংগঠন হরতাল আহবান করে। এ হরতালের সমর্থনে দুপুর ১২ টায় রাজশাহীর উপশহরে উপরাজারামপুর মোড়ে ছাত্রদের মিছিল শুরু হয়। সদা সক্রিয় মাসুম নারায়ে তাকবির শ্লোগানে মিছিলে যোগদান করে। শ্লোগানে-শ্লোগানে অন্য সার্থীদের সাথে এগিয়ে চলে লিমন। হাঠাৎ বাধা দেয় পুলিশ। শুরু হয় সংঘর্ষ। নির্বিচারে গুলি ছুড়ে পুলিশ। পুলিশের গুলি সরাসরি লিমনের গলা ভেদ করে অপর পাশে বেরিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে তিনি লুটিয়ে পড়েন। কেন্দ্রীয় সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। উল্লেখ্য যে একই মিছিলে অংশ গ্রহণকারী আপন খালাতো ভাই শিবিরের সদস্য মো: আব্দুল কাদের ঘটনাটি বর্ণনা করেন। পরের দিনের জাতীয় পত্রিকাসমূহে এ বিষয়ে বিস্তারিত নিউজ আসে। দৈনিক সংগ্রাম ২৫ এপ্রিল, ২০১৩ লিখে।
"পুলিশের গুলিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিবিরকর্মী নিহত"
সর্বাত্মক হরতালে আচল দেশ
হরতাল চলাকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের গুলিতে নিহত ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী লিমন
স্টাফ রিপোর্টার: ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালের দ্বিতীয় দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে মারমুখী ছিল পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের গুলিতে শিবিরের কর্মী আসগর আলী লিমন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী, চাঁদপুর, রংপুর, বগুড়া, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ হয়েছে। হরতালের দ্বিতীয় দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ গুলি চালিয়েছে। ছাত্রশিবির জানিয়েছে, তাদের ১৯ জন নেতা-কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে একজন মারা যান। এছাড়া জোটের আটক নেতা-কর্মীর সংখ্যা দুই শতাধিক।
দৈনিক সংগ্রাম ২৬ এপ্রিল, ২০১৩ লিখে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের গুলিতে নিহত শিবিরকর্মী লিমনের জানাযায় শোকার্ত মানুষের আহাজারি
৩-৪শ' জামায়াত-শিবিরকর্মীর নামে মামলা? গ্রেফতার ৮
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা। গত বুধবার দিবাগত রাত ৮টা ৩০ মিনিটের সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের গুলিতে নিহত শিবির কর্মী মোঃ আসগর আলী লিমনকে সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর জানাযা শেষে উপ-রাজারামপুরে দাফন করা হয়। জানাযায় অংশগ্রহণ করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য সাবেক জেলা আমীর অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, জেলা আমীর অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, জেলা নায়েবে আমীর সাবেক এমপি অধ্যাপক লতিফুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর আমীর অধ্যাপক মোঃ মোখলেসুর রহমান, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা শামসুল হক প্রমুখ। জানাযায় ইমামতি করেন জেলা ওলামা পরিষদ সভাপতি মাওলানা সোহরাব আলী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ইসলামী ছাত্রশিবিরের শহর শাখার সভাপতি শফিক এনায়েত উল্লাহ জানান, নিহত লিমনের আত্মত্মার মাগফিরাত কামনা করে আজ শুক্রবার বাদ জুমা মসজিদে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।
জানাযাপূর্ব বক্তৃতায় বক্তারা বলেন, সরকার পুলিশকে খোলা হুমুক দিয়েছে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা করতে। এরই সর্বশেষ শিকার হয়েছেন আমাদের ছোট্টমণি লিমন। আমরা জানি না কী দিয়ে তার মা-বাবাকে সান্তনা দিব। লিমন হচ্ছে ইতালি প্রবাসী ধনী ব্যক্তির একমাত্র আদরের দুলাল। একমাত্র কন্যা সন্তান ছাড়া এই পৃথিবীতে হতভাগ্য পিতা-মাতার আর কেউ রইলো না। সাথে সাথে জানাযায় সমবেত জনতা কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং আহাজারি করতে থাকে, ইয়া আল্লাহ আর কত লাশ চাই এই জালেম সরকারের। আর কত মায়ের বুক খালি হলে ক্ষান্ত হবে সরকার। বক্তারা বলেন, এ কেমন দেশে বাস করছি আমরা। পিতা তার সন্তানকে রেখে প্রবাসে গেছে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে। আর এ দেশের পুলিশ তার ছোট্ট সন্তানরে হত্যা করল। কি অন্যায় করেছিল এই ১৩-১৪ বছরের ছেলেটি। গতকাল সকালে এই এলাকায় বাড়িতে বাড়িতে ঢুকে পুলিশ নারী, শিশুসহ অসুস্থ মানুষের ওপর নির্যাতন করেছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে। আজ এই সরকারের হাতে নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ কেউই নিরাপদ নয়। এই ছোট্ট শিশুর রক্তের বিনিময়ে আল্লাহ তুমি আমাদের এই জালেম সরকারের হাত থেকে রক্ষা করো। আসুন আমরা এই শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে এই জালেম, গণহত্যাকারী সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। আমরা এই হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা আপন করছি এবং অবিলম্বে লিমন হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সকল খুনিকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এ এইচ এনায়েত উদ্দিন জানান, র্যাবের ২ কর্মকর্তা আহতের ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানার এসআই সরকার রহমত বাদি হয়ে ২২ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরো ৩-৪শ' জনের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেছে। লিমন হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখনও মামলা দায়ের হয়নি। অন্যদিকে আসগর হোসেন লিমন নিহতের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদ লিমনের মামা বলেছেন, আমার ভাগ্নে শহীদ হয়েছেন। আর শহীদদের মরণ নেই বরং সে জীবিত এবং রবের পক্ষ থেকে রিজিকপ্রাপ্ত হচ্ছে। শহীদ লিমনের মা বলেছেন। আমি শহীদের মা হতে পেরে নিজে গর্ববোধ করছি।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ আসগর আলী লিমন (১০২)। পেশা: ছাত্র।
জন্ম তারিখ ও বয়স। ৭.৭.৯৯ সাল। বয়স ১৩ বছর প্রায়। আহত হওয়ার তারিখ। ২৪.০৪.২০১৩
সময় বেলা ১১ আনুমানিক।
শাহাদাতের তারিখ: ২৪.০৪.২০১৩ সময় দুপুর ১২ আনুমানিক।
স্থায়ী ঠিকানা। গ্রাম-উপরাজারামপুর, ইউনিয়ন-ডাকঘর-উপরাজারামপুর, খানা-সদর, জেলা-
চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
পিতা। মোঃ লোকমান হোসেন, সৌদি আরব প্রবাসী।
মাতা। মোসা। আকলিমা বেগম, বয়স প্রায় ৪২ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা। বর্তমানে লিমনের বাড়ি ভাল মানের। তার আব্বা মোঃ লোকমান
হোসেন বিদেশে কর্মরত এবং সেখানের আয় থেকেই তাদের পরিবার পরিচালিত হয়।
ভাই-বোনের বিবরণ। শহীদ আসগর আলী লিমন, মোসা। লিপি, বিবাহিত, গৃহিণী।
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ আসগর আলী লিমন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর খানার উপরাজারামপুর গ্রামে ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মো: লোকমান হোসেন ও মাতা মোসা: আকলিমা বেগম-এর ২ সন্তানের মধ্যে একমাত্র পুত্র এবং ছোট সন্তান ছিলেন তিনি। পরিবারের ভরণ-পোষণ ও সন্তানদের সচ্ছল জীবন যাপনের জন্যে দীর্ঘদিন প্রবাসে কর্মরত শহীদের পিতা জনাব মোঃ লোকমান হোসেন। তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে সৌদি আরবে থাকেন। রাজারামপুর হামিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র স্নেহধন্য সন্তান শহীদ আসগর আলী লিমনকে ঘিরে মায়ের স্বপ্ন ছিল, পড়ালেখা করে একদিন বড় কিছু হবে তাদের দুঃখ-কষ্ট মুছে দিবে। কিন্তু ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে সদা প্রস্তুত ছাত্রশিবিরের কর্মী শহীদ লিমন নিজের জীবন দিয়ে চলে গেলেন জান্নাতের পানে।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৪.০৪.১৩ খুব সকালে মা সালাতুল ফজর শেষে কুরআন পড়েন। কিছুক্ষণ পর লিমন এসে মাকে বলেন, আমাকে নাস্তা তৈরি করে দাও আমি স্কুলে যাব। মা বললেন, আজ হরতাল স্কুলে যেতে পারবি না। এ কথা বলে বাড়ির গেইটে ভিতর থেকে তালা লাগিয়ে চাবি চালের মটকায় লুকিয়ে রেখে নিশ্চিন্ত হলেন। লিমন সকালে নাস্তা না করেই বেরিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর গেইটের বাহিরে জানালা দিয়ে মা, মা চাবি রেখে বলল; আমি চলে গেলাম। মা সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠে দেখলেন সে দ্রুত ছুটে চলে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর মা চতুর্দিক থেকে গোলাগুলির শব্দ শুনেন। এর পর সব শেষ। ৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
সরকাফা দলের লেলিয়ে দেয়া পুলিশ বাহিনীর নিত্য অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার গোটা রাজশাহী। কয়েক দিন আগে হঠাৎ র্যাব গ্রেফতার করে গুম করে ফেলে ইসরামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগরীর অফিস সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম মাসুমকে। মাসুম শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জনাব নুরুল ইসলাম বুলবুল ভাইয়ের আপন ছোট ভাই। ২৪ এপ্রিল'১৩ আনোয়ারুল ইসলাম মাসুম এর কমের প্রতিবাদে সংগঠন হরতাল আহবান করে। এ হরতালের সমর্থনে দুপুর ১২ টায় রাজশাহীর উপশহরে উপরাজারামপুর মোড়ে ছাত্রদের মিছিল শুরু হয়। সদা সক্রিয় মাসুম নারায়ে তাকবির শ্লোগানে মিছিলে যোগদান করে। শ্লোগানে-শ্লোগানে অন্য সার্থীদের সাথে এগিয়ে চলে লিমন। হাঠাৎ বাধা দেয় পুলিশ। শুরু হয় সংঘর্ষ। নির্বিচারে গুলি ছুড়ে পুলিশ। পুলিশের গুলি সরাসরি লিমনের গলা ভেদ করে অপর পাশে বেরিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে তিনি লুটিয়ে পড়েন। কেন্দ্রীয় সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। উল্লেখ্য যে একই মিছিলে অংশ গ্রহণকারী আপন খালাতো ভাই শিবিরের সদস্য মো: আব্দুল কাদের ঘটনাটি বর্ণনা করেন। পরের দিনের জাতীয় পত্রিকাসমূহে এ বিষয়ে বিস্তারিত নিউজ আসে। দৈনিক সংগ্রাম ২৫ এপ্রিল, ২০১৩ লিখে।
"পুলিশের গুলিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিবিরকর্মী নিহত"
সর্বাত্মক হরতালে আচল দেশ
হরতাল চলাকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের গুলিতে নিহত ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী লিমন
স্টাফ রিপোর্টার: ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালের দ্বিতীয় দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে মারমুখী ছিল পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের গুলিতে শিবিরের কর্মী আসগর আলী লিমন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী, চাঁদপুর, রংপুর, বগুড়া, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ হয়েছে। হরতালের দ্বিতীয় দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ গুলি চালিয়েছে। ছাত্রশিবির জানিয়েছে, তাদের ১৯ জন নেতা-কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে একজন মারা যান। এছাড়া জোটের আটক নেতা-কর্মীর সংখ্যা দুই শতাধিক।
দৈনিক সংগ্রাম ২৬ এপ্রিল, ২০১৩ লিখে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের গুলিতে নিহত শিবিরকর্মী লিমনের জানাযায় শোকার্ত মানুষের আহাজারি
৩-৪শ' জামায়াত-শিবিরকর্মীর নামে মামলা? গ্রেফতার ৮
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা। গত বুধবার দিবাগত রাত ৮টা ৩০ মিনিটের সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের গুলিতে নিহত শিবির কর্মী মোঃ আসগর আলী লিমনকে সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর জানাযা শেষে উপ-রাজারামপুরে দাফন করা হয়। জানাযায় অংশগ্রহণ করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য সাবেক জেলা আমীর অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, জেলা আমীর অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, জেলা নায়েবে আমীর সাবেক এমপি অধ্যাপক লতিফুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর আমীর অধ্যাপক মোঃ মোখলেসুর রহমান, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা শামসুল হক প্রমুখ। জানাযায় ইমামতি করেন জেলা ওলামা পরিষদ সভাপতি মাওলানা সোহরাব আলী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ইসলামী ছাত্রশিবিরের শহর শাখার সভাপতি শফিক এনায়েত উল্লাহ জানান, নিহত লিমনের আত্মত্মার মাগফিরাত কামনা করে আজ শুক্রবার বাদ জুমা মসজিদে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।
জানাযাপূর্ব বক্তৃতায় বক্তারা বলেন, সরকার পুলিশকে খোলা হুমুক দিয়েছে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা করতে। এরই সর্বশেষ শিকার হয়েছেন আমাদের ছোট্টমণি লিমন। আমরা জানি না কী দিয়ে তার মা-বাবাকে সান্তনা দিব। লিমন হচ্ছে ইতালি প্রবাসী ধনী ব্যক্তির একমাত্র আদরের দুলাল। একমাত্র কন্যা সন্তান ছাড়া এই পৃথিবীতে হতভাগ্য পিতা-মাতার আর কেউ রইলো না। সাথে সাথে জানাযায় সমবেত জনতা কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং আহাজারি করতে থাকে, ইয়া আল্লাহ আর কত লাশ চাই এই জালেম সরকারের। আর কত মায়ের বুক খালি হলে ক্ষান্ত হবে সরকার। বক্তারা বলেন, এ কেমন দেশে বাস করছি আমরা। পিতা তার সন্তানকে রেখে প্রবাসে গেছে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে। আর এ দেশের পুলিশ তার ছোট্ট সন্তানরে হত্যা করল। কি অন্যায় করেছিল এই ১৩-১৪ বছরের ছেলেটি। গতকাল সকালে এই এলাকায় বাড়িতে বাড়িতে ঢুকে পুলিশ নারী, শিশুসহ অসুস্থ মানুষের ওপর নির্যাতন করেছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে। আজ এই সরকারের হাতে নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ কেউই নিরাপদ নয়। এই ছোট্ট শিশুর রক্তের বিনিময়ে আল্লাহ তুমি আমাদের এই জালেম সরকারের হাত থেকে রক্ষা করো। আসুন আমরা এই শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে এই জালেম, গণহত্যাকারী সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। আমরা এই হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা আপন করছি এবং অবিলম্বে লিমন হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সকল খুনিকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এ এইচ এনায়েত উদ্দিন জানান, র্যাবের ২ কর্মকর্তা আহতের ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানার এসআই সরকার রহমত বাদি হয়ে ২২ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরো ৩-৪শ' জনের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেছে। লিমন হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখনও মামলা দায়ের হয়নি। অন্যদিকে আসগর হোসেন লিমন নিহতের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদ লিমনের মামা বলেছেন, আমার ভাগ্নে শহীদ হয়েছেন। আর শহীদদের মরণ নেই বরং সে জীবিত এবং রবের পক্ষ থেকে রিজিকপ্রাপ্ত হচ্ছে। শহীদ লিমনের মা বলেছেন। আমি শহীদের মা হতে পেরে নিজে গর্ববোধ করছি।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ আসগর আলী লিমন (১০২)। পেশা: ছাত্র।
জন্ম তারিখ ও বয়স। ৭.৭.৯৯ সাল। বয়স ১৩ বছর প্রায়। আহত হওয়ার তারিখ। ২৪.০৪.২০১৩
সময় বেলা ১১ আনুমানিক।
শাহাদাতের তারিখ: ২৪.০৪.২০১৩ সময় দুপুর ১২ আনুমানিক।
স্থায়ী ঠিকানা। গ্রাম-উপরাজারামপুর, ইউনিয়ন-ডাকঘর-উপরাজারামপুর, খানা-সদর, জেলা-
চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
পিতা। মোঃ লোকমান হোসেন, সৌদি আরব প্রবাসী।
মাতা। মোসা। আকলিমা বেগম, বয়স প্রায় ৪২ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা। বর্তমানে লিমনের বাড়ি ভাল মানের। তার আব্বা মোঃ লোকমান
হোসেন বিদেশে কর্মরত এবং সেখানের আয় থেকেই তাদের পরিবার পরিচালিত হয়।
ভাই-বোনের বিবরণ। শহীদ আসগর আলী লিমন, মোসা। লিপি, বিবাহিত, গৃহিণী।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍