হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ জিয়াউর রহমান
শহীদ জিয়াউর রহমান

শহীদ জিয়াউর রহমান

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ জিয়াউর রহমান (১২৯)।
পেশা: একাদশ শ্রেণীর ছাত্রছিলেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৪.০১.১৯৯৭, ১৬ বছর।
আহত হওয়ার তারিখ: ১৫.০৭.২০১৩, বেলা ১টা।
শাহাদাতের তারিখ: ১৫.০৭.২০১৩ বিকাল ৩টা।
স্থান: রসূলপুর, শিবগঞ্জ।
দাফন করা হয়: নিজ এলাকার সরকারি কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম:ধুমি হায়াতপুর, ডাকঘর: ধুমি হায়াতপুর, থানা: শিবগঞ্জ, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
পিতা: মো:রফিকুল ইসলাম, ৩ মাস আগে মারা গেছেন।
মাতা: মোসা:বাদুনারা বগম, বয়স ৫০ বছর, গৃহিণী। বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা:বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা খুবই শোচনীয়। বাঁশের বেড়া দেয়া মাত্র ২টি ঘর রয়েছে। পল্লী চিকিৎসক বড় ভাইয়ের সামান্য আয়ে সংসার চলে।
ভাই-বোনের বিবরণ: মো:আবু বাক্কার, ব্যবসা। মোসা:আয়েশা খাতুন, গৃহিণী। মো:আজিম, ব্যবসা। মো:আনারুল, কৃষি। মোসা:ফাতেমা খাতুন, গৃহিণী। মোসা: রিমা খাতুন, গৃহিণী।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

"শহীদের মাতা-পিতা বলেন আল্লাহ আমাদের সন্তানকে শহীদ হিসাবে কবুল করুন। বড় ভাই বলেন: শহীদ জিয়াউর রহমান সব সময় শাহাদাতের তামান্না পোষণ করতেন এবং শাহীদদের ওপর লিখিত বই পুস্তক সব সময় পড়তেন।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ জিয়াউর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার ধুমি হায়াতপুর গ্রামে ১৯৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিতা মো: রফিকুল ইসলাম ও মাতা মোসা: বাদুনারা বেগমের সাত ছেলে-মেয়ের ভিতর অত্যন্ত প্রিয় সন্তান ছিলেন। পরিবারের ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হবে জিয়াউর রহমান। গোবিন্দপুর ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র জিয়া বন্ধুদের খুব প্রিয় ছিলেন।
২. যেভাবে তিনিআল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
১৫ জুলাই ২০১৩ ছিল তথাকথিত যুদ্ধাপরাধ মামলায় আটক অধ্যাপক গোলাম আযমের রায় ঘোষণার দিন। প্রতিবাদে সারা দেশে হরতালের ঘোষণা দেয় জামায়াত। চাঁপাইনবাবগঞ্জেও শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হচ্ছিল। রোজাদার অবস্থায় জিয়াউর রহমান সেই হরতালে অংশগ্রহণ করেন। দুপুর বেলা ১টায় শান্তিপূর্ণ হরতালকারীদের উপর পুলিশ-বিজিবি বেপরোয়া গুলি চালায়। আহত অবস্থায় জিয়াউর রহমানকে রাজশাহী মেডিক্যালে নেয়ার পথে বিকাল ৩টায় শাহাদাত বরণ করেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
ধর্মনিরপেক্ষ আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের উপর সীমাহীন জুলুম নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় তথাকথিত যুদ্ধাপরাধ মামলায় আটক জামায়াত নেতাদের একের পর এক ফাঁসির রায় দিচ্ছে অবৈধ ট্রাইব্যুনাল। ১৫ জুলাই ২০১৩ ছিল অধ্যাপক গোলাম আযমের রায় ঘোষণার দিন। প্রতিবাদে সারা দেশে হরতালের ঘোষণা দেয় জামায়াত। চাঁপাইনবাবগঞ্জেও শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হচ্ছিল। রোজাদার অবস্থায় জিয়াউর রহমান সেই হরতালে অংশগ্রহণ করেন। হঠাৎ বেলা ১টায় শান্তিপূর্ণ হরতালকারীদের উপর পুলিশ-বিজিবি নৃশংসভাবে গুলি চালালে আহত হন অনেকে। মারাত্মক আহত অবস্থায় জিয়াউর রহমানকে রাজশাহী মেডিক্যালে নেয়ার পথে বিকাল ৩ টায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন। এ বিষয়ে পরের দিনের জাতীয় দৈনিক সমূহে বিস্তারিত নিউজ আসে।
১৭ জুলাই ২০১৩ দৈনিক সংগ্রাম রিপোর্ট করে; চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিহত ২ শিবির কর্মীর দাফন সম্পন্ন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা: গতকাল চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিবগঞ্জের রসুলপুর মোড়ে অধ্যাপক গোলাম আযমের রায়কে কেন্দ্র করে প্রথম দিনের হরতালে পুলিশের গুলিতে নিহত জামায়াত কর্মী নুরুল ইসলাম (৪২) ও শিবির কর্মী জিয়াউর রহমান (১৮)-এর লাশ তাদের গ্রামের বাড়ি শিবগঞ্জ পৌর এলাকার মোহদীপুর মহল্লায় ও ঘোড়া পাখিয়া ইউনিয়নের চামাগ্রামে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহত জিয়াউর রহমানের দাফনকালে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহর সেক্রেটারি গোলাম মোস্তফা বলেন, এই সরকার আমাদের মানুষ মনে করছে না। পশু পাখির মতো হত্যা করছে। মাত্র কয়েক মাসে প্রায় দেড় ডজন ইসলামী আন্দোলনের কর্মীকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় হত্যা করা হয়েছে। সারা দেশে শত শত কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই সরকার যদি মনে করে থাকে হত্যা করে গুম করে তারা পার পেয়ে যাবে তাহলে তারা ভুল করছে। প্রতিটি হত্যাকান্ডের, প্রতিটি গুমের বিচার বাংলার এই জমিনে আজ হোক কাল হোক হতেই হবে। হত্যাকান্ড চালিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে কোনকালেই দাবিয়ে রাখা যায়নি ভবিষ্যতেও যাবে না ইনশাআল্লাহ। এদিকে ককটেল বিস্ফোরণ, রাবার বুলেট নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে গতকালের হরতাল চাঁপাইনবাবগঞ্জে পালিত হয়েছে। যুবলীগ কর্মীরা হরতাল বিরোধী মিছিল বের করলে শিবির কর্মী ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় ১৫ নং ওয়ার্ডের যুবলীগ কর্মী আলমগীর হোসেন একটি ককটেল ছুঁড়ে মারলে একজন শিবির কর্মী আহত হয়। অপর একটি ককটেল তার হাত থেকে ছিটকে পড়লে ঘটনাস্থলেই পথচারীসহ ৬ জন আহত হয়।
আহতরা হলো-আসাদুল হক, নজরুল ইসলাম, আলমগীর, ৩ শিশু সজীব (৯), স্মিতা (৫) ও আমিন (৮)। পরে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে বলে জানান নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম বজলুর রশিদ। তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া শহরের বড় বড় বিপণিবিতানসহ দোকানপাট ও ব্যাংক-বীমা বন্ধ ছিল। জেলা শহর থেকে দূরপাল্লাসহ আন্তঃজেলা রুটে যানবাহন ছেড়ে যায়নি। অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর সোনামসজিদে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও বন্দর থেকে কোন পণ্যবাহী ট্রাক ছেড়েযায়নি।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের মাতা-পিতা: আল্লাহ আমাদের সন্তানকে শহীদ হিসাবে কবুল করুন। বড় ভাই: শহীদ জিয়াউর রহমান সব সময় শাহাদাতের তামান্না পোষণ করতেন এবং শাহীদদের উপর লিখিত বই পুস্তক সব সময় পড়তেন। ঈদে আমাকে একটি সাইকেল কিনে দিতে বলেছিলেন কিন্তু তার আগেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ জিয়াউর রহমান (১২৯)।
পেশা: একাদশ শ্রেণীর ছাত্রছিলেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৪.০১.১৯৯৭, ১৬ বছর।
আহত হওয়ার তারিখ: ১৫.০৭.২০১৩, বেলা ১টা।
শাহাদাতের তারিখ: ১৫.০৭.২০১৩ বিকাল ৩টা।
স্থান: রসূলপুর, শিবগঞ্জ।
দাফন করা হয়: নিজ এলাকার সরকারি কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম:ধুমি হায়াতপুর, ডাকঘর: ধুমি হায়াতপুর, থানা: শিবগঞ্জ, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
পিতা: মো:রফিকুল ইসলাম, ৩ মাস আগে মারা গেছেন।
মাতা: মোসা:বাদুনারা বগম, বয়স ৫০ বছর, গৃহিণী। বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা:বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা খুবই শোচনীয়। বাঁশের বেড়া দেয়া মাত্র ২টি ঘর রয়েছে। পল্লী চিকিৎসক বড় ভাইয়ের সামান্য আয়ে সংসার চলে।
ভাই-বোনের বিবরণ: মো:আবু বাক্কার, ব্যবসা। মোসা:আয়েশা খাতুন, গৃহিণী। মো:আজিম, ব্যবসা। মো:আনারুল, কৃষি। মোসা:ফাতেমা খাতুন, গৃহিণী। মোসা: রিমা খাতুন, গৃহিণী।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍