হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ গোলাম রব্বানী
শহীদ গোলাম রব্বানী

শহীদ গোলাম রব্বানী

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ গোলাম রব্বানী ৩০ নভেম্বর ১৯৮৯ সালে সিলেটের বিশ্বনাথের পাখিছিরি গ্রামে জন্ম নেওয়া এক নিরহংকারী, শান্ত ও নীতিবান তরুণ। কৃষিশ্রমে পরিবারের হাল ধরলেও তাঁর হৃদয়ে ছিল দাওয়াতি কাজের প্রতি গভীর নিবেদন এবং দেশের বুকে ইসলামের বিজয়ের অকৃত্রিম স্বপ্ন। জান্নাতের প্রত্যাশা বুকে ধারণ করা এই তরুণের ২০ মার্চ ২০১৩ সালে নিরপরাধ নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নেন। বিশ্বনাথে ইসলামী আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে সেই দিন পুলিশের নির্বিচার গুলিতে কপালে গুলি লেগে তিনি শহীদ হন।
জানাযায় হাজারো মানুষের অশ্রু ও ভালোবাসা তাঁর সংগ্রামী জীবনের মূল্যায়নকে আরও গভীর করে তোলে। তাঁর শাহাদাত আজও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের এক অনন্ত প্রতীক।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ গোলাম রব্বানী
সিলেট জেলা
"পিতা-মাতার ৫ ছেলে-মেয়ের মাঝে শহীদ গোলাম রব্বানী ছিলেন একমাত্র পুত্র সন্তান। স্বপ্ন দেখতেন এ সুন্দর দেশটিতে ইসলামের বিজয়ের। ... পুলিশের এলোপাতাড়ি ভাবে নির্বিচারে গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন বিশ্বনাথে ইসলামী আন্দোলনের প্রথম শহীদ গোলাম রব্বানী। কপালে রাজটিকার মতোই গুলির চিহ্ন নিয়েই হয়তো তিনি হাশরের ময়দানে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবেন।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ গোলাম রব্বানী সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার পাখিছিরি গ্রামে ৩০ নভেম্বর ১৯৮৯ ইং সালে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা মুহিবুর রহমান নিজাম ও মাতা মোছাম্মাৎ আফিয়া বেগম ৫ ছেলে-মেয়ের মাঝে শহীদ গোলাম রব্বানী ছিলেন দ্বিতীয় ও একমাত্র পুত্রসন্তান। চন্দ্রগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণী ও উত্তর বিশ্বনাথ দ্বি-পাক্ষিক উচ্চবিদ্যালয় থেকে দশম শ্রেণী পাস করে আর লেখাপড়া করেননি। তার পর তিনি পরিবারের কৃষি কাজ দেখাশুনা করতেন। দাওয়াতে দ্বীনের পথে তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। স্বপ্ন দেখতেন এ সুন্দর দেশটিতে ইসলামের বিজয়ের। গত ২০/০৩/২০১৩ ইং তারিখে সকালে নিরপরাধ নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে অংশ নিয়েছিলেন শান্তিপূর্ণ মিছিলে। কিন্তু সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পেটুয়া বাহিনী পুলিশের এলোপাতাড়ি ভাবে নির্বিচারে গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন বিশ্বনাথে ইসলামী আন্দোলনের প্রথম শহীদ গোলাম রব্বানী। কপালের ডান পাশে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন তিনি।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
গত ২০ মার্চ ২০১৩ তারিখ বুধবার সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব যোবায়েরের গ্রেফতারের প্রতিবাদে সিলেট বিভাগে হরতাল সফল করার লক্ষ্যে ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ি থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে বিশ্বনাথ উপজেলা জামায়াতের শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন তিনি। মিছিলে সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পেটুয়া বাহিনী পুলিশ এলোপাতাড়ি ভাবে নিবিচার গুলি চালায়। এসময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন উপজেলা জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মতিউর রহমানের ভাতিজা জামায়াত কর্মী গোলাম রব্বানী। ২২ মার্চ ২০১৩ তারিখ বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের পাখিছিরি গ্রামের দক্ষিণের মাঠে নামাজে জানাযা শেষে নিজ বাড়ির সামনের মসজিদের পাশে তাকে দাফন করা হয়। নিহতের চাচা মাওলানা আতিকুর রহমানের ইমামতিতে জানাযার নামাজে ২৫-৩০ হাজার লোক অংশগ্রহণ করেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
সিলেটে মহানগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব যোবায়েরকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সিলেট বিভাগে জামায়াতের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালের সমর্থনে গত ২০ মার্চ ২০১৩ তারিখ, বুধবার সকাল ৮টায় বিশ্বনাথ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ৩ রাউন্ড চাইনিজ রাইফেলের গুলি, ৬৪ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১২ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে গোলাম রব্বানী গুলিবিদ্ধ হলে মুমূর্ষু অবস্থায় সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এইচএম আখতার ফারুকসহ ২০ জামায়াত কর্মী আহত হন। জাতীয় দৈনিক সমূহে এ ব্যাপারে নিউজ হয়।
দৈনিক আমার দেশ, ২১ মার্চ,২০১৩।
গুলিতে গোলাম রাব্বানী নামে এক জামায়াতকর্মী নিহত হয়েছেন।
সিলেটের বিশ্বনাথে পুলিশের গুলিতে জামায়াত কর্মী নিহত বিভাগে সর্বাত্মক হরতাল পালিত
সিলেট অফিস ও বিশ্বনাথ প্রতিনিধি।
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব যোবায়েরকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সিলেট বিভাগে জামায়াতে ইসলামীর ডাকে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল সর্বাত্মকভাবে পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে জেলার বিশ্বনাথে পুলিশের গুলিতে গোলাম রাব্বানী নামে এক জামায়াতকর্মী নিহত হয়েছেন। সকালেই রাব্বানী নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে সিলেট নগরীসহ আশপাশের উপজেলায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। নেতাকর্মীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন। রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী। পুলিশের কঠোর পাহারার মধ্যেও পিকেটিং করে তারা। হরতালে বেশকিছু গাড়িতে আগুন ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। এদিকে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ সকাল ১০টায় গোলাম রাব্বানীর জানাজা শেষে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আমাদের অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
বিশ্বনাথে পুলিশের গুলিতে জামায়াতকর্মী নিহত: হরতালের শুরুতেই বিশ্বনাথের কলেজ রোডে পিকেটিংয়ের
সময় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় এক জামায়াতকর্মী নিহত হন। নিহত গোলাম রাব্বানী (৩০) উপজেলার ২নং খাজাঞ্চি ইউনিয়নের পাখিছিরি গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। এসময় উভয়পক্ষের সংঘর্ষে ৫ পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্বনাথের কলেজ রোডে দু'শতাধিক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী হরতালের সময় মিছিল শুরু করলে তাতে বাধা দেয় পুলিশ। এসময় জামায়াত-শিবির কর্মীরা পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে মিছিল করতে থাকলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও গুলি নিক্ষেপ করে।
উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষে তাদের ২০ কর্মী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।
সিলেট নগরীতে নজিরবিহীন হরতাল: গতকাল সিলেটে সাধারণ লোকজনের মধ্যে ছিল অজানা আতঙ্ক।
নগরজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের দায়িত্বে ছিল পুলিশ-র‍্যাব-বিজিবি। পুলিশের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেই নগরীর বিভিন্ন স্থানে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে করেন জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। বিভিন্ন স্থানে চলে পিকেটিং। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে নগরীর লামাবাজার, রায়নগর, চৌখিদেখী, কুমারপাড়া, মেডিক্যাল, বালুচরসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করে তারা। সুবহানীঘাট। এলাকায় শিবিরকর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশ মিছিলে গুলি ছোড়ে। এতে বেশ ক'জন আহত হয়।
এদিকে বিশ্বনাথে পুলিশের গুলিতে জামায়াতকর্মী রাব্বানী নিহতের ঘটনায় নগরীতে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। শাহী ঈদগাহে সিলেট মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা পিকেটারদের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যান। ওই এলাকা থেকে পরে ৪ জনকে আটক করে পুলিশ।
সকাল থেকে নগরীতে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল করলেও ভারী যানবাহন চলেনি সিলেট থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো বাস। তবে ট্রেন ছেড়ে গেছে। হরতালের কারণে নগরীর বেশিরভাগ রাস্তাই ফাঁকা এবং দোকানপাটও ছিল বন্ধ। দুপুরে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ হরতালবিরোধী মিছিল এবং ছাত্রলীগ মোটরসাইকেলে মহড়া দেয়।
এদিকে বিশ্বনাথে জামায়াতের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে গোলাম রাব্বানীকে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিলেট মহানগর, জেলা উত্তর ও জেলা দক্ষিণ জামায়াত নেতারা। অবিলম্বে খুনের সঙ্গে জড়িত অতিউৎসাহী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হবে বলেও তারা হুমকি দেন।
অপরদিকে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর আলিয়া মাদরাসা মাঠে শহীদ রাব্বানীর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে গ্রামের বাড়িতে বেলা ২টায় জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন শেষে জামায়াতের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন। গতকাল গোলাম রাব্বানী নিহত হওয়ার পর এক তাৎক্ষণিক সভায় নেতারা এসব কথা বলেন।
৪. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ গোলাম রব্বানী (০৯১)।
জন্য তারিখ ও বয়স: ৩০ নভেম্বর ১৯৮৯ ইং, ২৪ বছর।
আহত হওয়ার তারিখ: ২০ মার্চ ২০১৩, কপালে গুলিবিদ্ধ।
শাহাদাতের তারিখ: ২০ মার্চ ২০১৩। স্থান: বিশ্বনাথ উপজেলা।
দাফন করা হয়: পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: পাখিছিরি, ডাকঘর: রাজাগঞ্জ, থানা: বিশ্বনাথ, জেলা: সিলেট।
পিতা: মুহিবুর রহমান নিজাম, ৬০ বছর কৃষক।
মাতা: মোছা: আফিয়া বেগম, ৪৫ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: টিনের আধাপাকা বাড়ি: নিজেদের কৃষি জমি রয়েছে। কৃষি কাজের উপর সংসার নির্ভরশীল।
ভাই-বোনের বিবরণ: আছমা বেগম, ২৫ বছর, বিবাহিতা। গোলাম রব্বানী, ২৪ বছর, শহীদ। হাবিবা বেগম, ১৪ বছর। মাহবুবা বেগম, (১২) রাবিয়া বেগম (৯)।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍