শহীদ নুরুল ইসলাম
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ নূরুল ইসলাম (১৩০)।
পেশা: দিনমজুর। জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৩.১১.১৯৭২, ৪১ বছর।
আহত হওয়ার তারিখ: ১৫.০৭.২০১৩, বেলা ১ টা
শাহাদাতের তারিখ: ১৫.০৭.২০১৩, বেলা ২টা,
স্থান: চাঁপাইনবাবগঞ্জের রসুলপুর বাজার মোড়ে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: রসুলপুর, ডাকঘর: ছাত্রাজিতপুর,
থানা:শিবগঞ্জ, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
পিতা: মৃত সাজ্জাদ আলী, কৃষক। মাতা:মৃত হাজেরা বেগম, বয়স প্রায় ৬৫ বছর।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: শহীদ নূরুল ইসলামের বাড়ি ঘরের অবস্থা খুব খারাপ। বসবাসের জন্য টিন শেডের ২টি ঘর রয়েছে। শহীদ নূরুল ইসলাম শ্রমিক ছিলেন। বর্তমানে আয়ের কোন উৎস নেই। স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণঃ স্ত্রী: মোসা:নাদিরা বেগম, গৃহিণী। মেয়ে: মোসা:সেলিনা খাতুন, ৭ম শ্রেণী, মো:নাদিম, ৪র্থ শ্রেণী,মো: নাহিদ, ২য় শ্রেণী, মো: ওয়াহিদ, প্লে। ভাই-বোনের বিবরণ; মোসা: রুমা খাতুন। মৃত জালাল উদ্দীন,ব্যবসা। মো: শফিকুল ইসলাম, ব্যবসা। মো: আবু বাক্কার, ব্যবসা। মো: ইয়াসিন আলী, ব্যবসা। মো: তাসবুর আলী, ব্যবসা। মোসা: রেখা বেগম, গৃহিণী।
পেশা: দিনমজুর। জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৩.১১.১৯৭২, ৪১ বছর।
আহত হওয়ার তারিখ: ১৫.০৭.২০১৩, বেলা ১ টা
শাহাদাতের তারিখ: ১৫.০৭.২০১৩, বেলা ২টা,
স্থান: চাঁপাইনবাবগঞ্জের রসুলপুর বাজার মোড়ে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: রসুলপুর, ডাকঘর: ছাত্রাজিতপুর,
থানা:শিবগঞ্জ, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
পিতা: মৃত সাজ্জাদ আলী, কৃষক। মাতা:মৃত হাজেরা বেগম, বয়স প্রায় ৬৫ বছর।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: শহীদ নূরুল ইসলামের বাড়ি ঘরের অবস্থা খুব খারাপ। বসবাসের জন্য টিন শেডের ২টি ঘর রয়েছে। শহীদ নূরুল ইসলাম শ্রমিক ছিলেন। বর্তমানে আয়ের কোন উৎস নেই। স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণঃ স্ত্রী: মোসা:নাদিরা বেগম, গৃহিণী। মেয়ে: মোসা:সেলিনা খাতুন, ৭ম শ্রেণী, মো:নাদিম, ৪র্থ শ্রেণী,মো: নাহিদ, ২য় শ্রেণী, মো: ওয়াহিদ, প্লে। ভাই-বোনের বিবরণ; মোসা: রুমা খাতুন। মৃত জালাল উদ্দীন,ব্যবসা। মো: শফিকুল ইসলাম, ব্যবসা। মো: আবু বাক্কার, ব্যবসা। মো: ইয়াসিন আলী, ব্যবসা। মো: তাসবুর আলী, ব্যবসা। মোসা: রেখা বেগম, গৃহিণী।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
"শহীদের ভাই বলেন: 'শহীদ নুরুল ইসলাম ভাই খুবই সাহসী একজন ব্যক্তি ছিলেন এবং তিনি শহীদ হওয়ার জন্য সব সময় আগ্রহ প্রকাশ করতেন।আল্লাহ তার ইচ্ছা পূরণ করেছেন।"
১.শহীদের পরিচিতি শহীদ নূরুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার রসুলপুর গ্রামে ১৯৭২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মরহুম পিতা সাজ্জাদ আলী ও মাতা হাজেরা বেগমের আট সন্তানের অন্যতম ছিলেন। তিনি একজন দিনমজুর শ্রমিক ছিলেন। তিন ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে অভাবের সংসার হলেও ইসলামের জন্য, সংগঠনের জন্য তার আবেগের কখনও ঘাটতি হত না। শহীদ হওয়ার জন্য সব সময়ই আগ্রহ প্রকাশ করতেন।
শাহাদাতকালে তিনি স্ত্রী, মোসা: নাদিরা বেগমসহ চারটি সন্তান মেয়ে: মোসা:সেলিনা খাতুন, ৭ম শ্রেণী, মো: নাদিম, ৪র্থ শ্রেণী,মো: নাহিদ, ২য় শ্রেণী, মো:ওয়াহিদ, প্লে গ্রুপে রেখে যান।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
অধ্যাপক গোলাম আষমের ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম সারাদেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ও হরতালের আহবান করে। ১৫ ই জুলাই ২০১৩, দিনটি ছিল সোমবার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রসুলপুর বাজার মোড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী স্থানীয় জনতাকে সাথে নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করছিলেন। হঠাৎ করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পুলিশ বিজিৰিকে সাথে নিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করে শত শত নিরীহ নারী-পুরুষকে আহত, গুলিবিদ্ধ করে। শহীদ নুরুল ইসলাম বাতিলের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সামনে অগ্রসর হতে থাকলে বিজিবির গুলি বিদ্ধ হয় তার বুকে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শহীদ নুরুল ইসলাম। সাথীরা দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করলে, সে চেষ্টাব্যর্থ করে দিয়ে তিনি মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ ধর্মনিরপেক্ষ আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের উপর সীমাহীন জুলুম নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় তথাকথিত যুদ্ধাপরাধ মামলায় আটক জামায়াত নেতাদের একের পর এক ফাঁসির রায় দিচ্ছে অবৈধ ট্রাইব্যুনাল। ১৫ জুলাই ২০১৩ ছিল অধ্যাপক গোলাম আযমের রায় ঘোষণার দিন। প্রতিবাদে সারা দেশে হরতালের ঘোষণা দেয় জামায়াত। চাঁপাইনবাবগঞ্জেও শান্তিপূর্ণ ভাবে হরতাল পালিত হচ্ছিল। বেলা ১টায় শান্তিপূর্ণ হরতালকারীদের উপর পুলিশ-বিজিবি নৃশংসভাবে গুলি চালালে আহত হন অনেকে। শহীদ নুরুল ইসলাম বাতিলের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সামনে অগ্রসর হতে থাকলে বিজিবির গুলি বিদ্ধ হয় তার বুকে। মারাত্মক আহত অবস্থায় জিয়াউর রহমানকে রাজশাহী মেডিক্যালে নেয়ার চেষ্টা করা হয় কিন্তু পথিমধ্যে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। এ বিষয়ে পরের দিনের জাতীয় দৈনিক সমূহে বিস্তারিত নিউজ আসে। ১৭ জুলাই ২০১৩ দৈনিক সংগ্রাম রিপোর্ট করে; চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিহত ২ শিবির কর্মীর দাফন সম্পন্ন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা: গতকাল চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিবগঞ্জের রসুলপুর মোড়ে অধ্যাপক গোলাম আযমের রায়কে কেন্দ্র করে প্রথম দিনের হরতালে পুলিশের গুলিতে নিহত জামায়াত কর্মী নুরুল ইসলাম (৪২) ও শিবির কর্মী জিয়াউর রহমান (১৮)-এর লাশ তাদের গ্রামেরবাড়ি শিবগঞ্জ পৌর এলাকার মোহদীপুর মহল্লায় ও ঘোড়া পাখিয়া ইউনিয়নের চামাগ্রামেদাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহত জিয়াউর রহমানের দাফনকালে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহর সেক্রেটারি গোমাল মোস্তফা বলেন, এই সরকার আমাদের মানুষ মনে করছে না। পশু-পাখির মতো হত্যা করছে। মাত্র কয়েক মাসে প্রায় দেড় ডজন ইসলামী আন্দোলনের কর্মীকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় হত্যা করা হয়েছে। সারা দেশে শত শত কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই সরকার যদি মনে করে থাকে হত্যা করে গুম করে তারা পার পেয়ে যাবে তাহলে তারা ভুল করছে। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের, প্রতিটি গুমের বিচার বাংলার এই জমিনে আজ হোক কাল হোক হতেই হবে। হত্যাকাণ্ড চালিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে কোনকালেই দাবিয়ে রাখা যায়নি ভবিষ্যতেও যাবে না ইনশাআল্লাহ। এদিকে ককটেল বিস্ফোরণ, রাবার বুলেট নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে গতকালের হরতাল চাঁপাইনবাবগঞ্জে পালিত হয়েছে। যুবলীগ কর্মীরা হরতাল বিরোধী মিছিল বের করলে শিবির কর্মীরা ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় ১৫ নং ওয়ার্ডের যুবলীগ কর্মী আলমগীর হোসেন একটি ককটেল ছুঁড়ে মারলে একজন শিবির কর্মী আহত হয়। অপর একটি ককটেল তার হাত থেকে ছিটকে পড়লে ঘটনাস্থলেই পথচারীসহ ৬ জন আহত হয়। আহতরা হলো-আসাদুল হক, নজরুল ইসলাম, আলমগীর, ৩ শিশু সজীব (৯), স্মিতা (৫) ও আমিন (৮)। পরে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে বলে জানান নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম বজলুর রশিদ। তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া শহরের বড় বড় বিপণি বিতানসহ দোকানপাট ও ব্যাংক-বীমা বন্ধ ছিল। জেলা শহর থেকে দূরপাল্লাসহ আন্তঃজেলা রুটে যানবাহন ছেড়ে যায়নি। অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর সোনামসজিদে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও বন্দর থেকে কোন পণ্যবাহী ট্রাক ছেড়ে যায়নি।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা শহীদের ছেলে নাদিমের কথা: 'বাবা খুবই নম্র,ভদ্র ও খুব আবেগী একজন ব্যক্তি ছিলেন এবং তিনি ইসলামের জন্য, সংগঠনের কাজে নিজেকে উজাড় করেদিতেন।' শহীদের ভাই: 'শহীদ নুরুল ইসলাম ভাই খুবই সাহসী একজন ব্যক্তিছিলেন এবং তিনিশহীদ হওয়ার জন্য সব সময় আগ্রহ প্রকাশ করতেন। আল্লাহ তার ইচ্ছা পুরণ করেছেন।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল নাম: শহীদ নূরুল ইসলাম (১৩০)। পেশা: দিনমজুর। জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৩.১১.১৯৭২, ৪১ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ১৫.০৭.২০১৩, বেলা ১ টা শাহাদাতের তারিখ: ১৫.০৭.২০১৩, বেলা ২টা, স্থান: চাঁপাইনবাবগঞ্জের রসুলপুর বাজার মোড়ে। স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: রসুলপুর, ডাকঘর: ছাত্রাজিতপুর, থানা:শিবগঞ্জ, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ। • পিতা: মৃত সাজ্জাদ আলী, কৃষক। মাতা:মৃত হাজেরা বেগম, বয়স প্রায় ৬৫ বছর। বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: শহীদ নূরুল ইসলামের বাড়ি ঘরের অবস্থা খুব খারাপ। বসবাসের জন্য টিন শেডের ২টি ঘর রয়েছে। শহীদ নূরুল ইসলাম শ্রমিক ছিলেন। বর্তমানে আয়ের কোন উৎস নেই। স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণঃ স্ত্রী: মোসা:নাদিরা বেগম, গৃহিণী। মেয়ে: মোসা:সেলিনা খাতুন, ৭ম শ্রেণী, মো:নাদিম, ৪র্থ শ্রেণী,মো: নাহিদ, ২য় শ্রেণী, মো: ওয়াহিদ, প্লে। ভাই-বোনের বিবরণ; মোসা: রুমা খাতুন। মৃত জালাল উদ্দীন,ব্যবসা। মো: শফিকুল ইসলাম, ব্যবসা। মো: আবু বাক্কার, ব্যবসা। মো: ইয়াসিন আলী, ব্যবসা। মো: তাসবুর আলী, ব্যবসা। মোসা: রেখা বেগম, গৃহিণী।
১.শহীদের পরিচিতি শহীদ নূরুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার রসুলপুর গ্রামে ১৯৭২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মরহুম পিতা সাজ্জাদ আলী ও মাতা হাজেরা বেগমের আট সন্তানের অন্যতম ছিলেন। তিনি একজন দিনমজুর শ্রমিক ছিলেন। তিন ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে অভাবের সংসার হলেও ইসলামের জন্য, সংগঠনের জন্য তার আবেগের কখনও ঘাটতি হত না। শহীদ হওয়ার জন্য সব সময়ই আগ্রহ প্রকাশ করতেন।
শাহাদাতকালে তিনি স্ত্রী, মোসা: নাদিরা বেগমসহ চারটি সন্তান মেয়ে: মোসা:সেলিনা খাতুন, ৭ম শ্রেণী, মো: নাদিম, ৪র্থ শ্রেণী,মো: নাহিদ, ২য় শ্রেণী, মো:ওয়াহিদ, প্লে গ্রুপে রেখে যান।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
অধ্যাপক গোলাম আষমের ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম সারাদেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ও হরতালের আহবান করে। ১৫ ই জুলাই ২০১৩, দিনটি ছিল সোমবার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রসুলপুর বাজার মোড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী স্থানীয় জনতাকে সাথে নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করছিলেন। হঠাৎ করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পুলিশ বিজিৰিকে সাথে নিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করে শত শত নিরীহ নারী-পুরুষকে আহত, গুলিবিদ্ধ করে। শহীদ নুরুল ইসলাম বাতিলের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সামনে অগ্রসর হতে থাকলে বিজিবির গুলি বিদ্ধ হয় তার বুকে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শহীদ নুরুল ইসলাম। সাথীরা দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করলে, সে চেষ্টাব্যর্থ করে দিয়ে তিনি মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ ধর্মনিরপেক্ষ আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের উপর সীমাহীন জুলুম নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় তথাকথিত যুদ্ধাপরাধ মামলায় আটক জামায়াত নেতাদের একের পর এক ফাঁসির রায় দিচ্ছে অবৈধ ট্রাইব্যুনাল। ১৫ জুলাই ২০১৩ ছিল অধ্যাপক গোলাম আযমের রায় ঘোষণার দিন। প্রতিবাদে সারা দেশে হরতালের ঘোষণা দেয় জামায়াত। চাঁপাইনবাবগঞ্জেও শান্তিপূর্ণ ভাবে হরতাল পালিত হচ্ছিল। বেলা ১টায় শান্তিপূর্ণ হরতালকারীদের উপর পুলিশ-বিজিবি নৃশংসভাবে গুলি চালালে আহত হন অনেকে। শহীদ নুরুল ইসলাম বাতিলের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সামনে অগ্রসর হতে থাকলে বিজিবির গুলি বিদ্ধ হয় তার বুকে। মারাত্মক আহত অবস্থায় জিয়াউর রহমানকে রাজশাহী মেডিক্যালে নেয়ার চেষ্টা করা হয় কিন্তু পথিমধ্যে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। এ বিষয়ে পরের দিনের জাতীয় দৈনিক সমূহে বিস্তারিত নিউজ আসে। ১৭ জুলাই ২০১৩ দৈনিক সংগ্রাম রিপোর্ট করে; চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিহত ২ শিবির কর্মীর দাফন সম্পন্ন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা: গতকাল চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিবগঞ্জের রসুলপুর মোড়ে অধ্যাপক গোলাম আযমের রায়কে কেন্দ্র করে প্রথম দিনের হরতালে পুলিশের গুলিতে নিহত জামায়াত কর্মী নুরুল ইসলাম (৪২) ও শিবির কর্মী জিয়াউর রহমান (১৮)-এর লাশ তাদের গ্রামেরবাড়ি শিবগঞ্জ পৌর এলাকার মোহদীপুর মহল্লায় ও ঘোড়া পাখিয়া ইউনিয়নের চামাগ্রামেদাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহত জিয়াউর রহমানের দাফনকালে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহর সেক্রেটারি গোমাল মোস্তফা বলেন, এই সরকার আমাদের মানুষ মনে করছে না। পশু-পাখির মতো হত্যা করছে। মাত্র কয়েক মাসে প্রায় দেড় ডজন ইসলামী আন্দোলনের কর্মীকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় হত্যা করা হয়েছে। সারা দেশে শত শত কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই সরকার যদি মনে করে থাকে হত্যা করে গুম করে তারা পার পেয়ে যাবে তাহলে তারা ভুল করছে। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের, প্রতিটি গুমের বিচার বাংলার এই জমিনে আজ হোক কাল হোক হতেই হবে। হত্যাকাণ্ড চালিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে কোনকালেই দাবিয়ে রাখা যায়নি ভবিষ্যতেও যাবে না ইনশাআল্লাহ। এদিকে ককটেল বিস্ফোরণ, রাবার বুলেট নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে গতকালের হরতাল চাঁপাইনবাবগঞ্জে পালিত হয়েছে। যুবলীগ কর্মীরা হরতাল বিরোধী মিছিল বের করলে শিবির কর্মীরা ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় ১৫ নং ওয়ার্ডের যুবলীগ কর্মী আলমগীর হোসেন একটি ককটেল ছুঁড়ে মারলে একজন শিবির কর্মী আহত হয়। অপর একটি ককটেল তার হাত থেকে ছিটকে পড়লে ঘটনাস্থলেই পথচারীসহ ৬ জন আহত হয়। আহতরা হলো-আসাদুল হক, নজরুল ইসলাম, আলমগীর, ৩ শিশু সজীব (৯), স্মিতা (৫) ও আমিন (৮)। পরে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে বলে জানান নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম বজলুর রশিদ। তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া শহরের বড় বড় বিপণি বিতানসহ দোকানপাট ও ব্যাংক-বীমা বন্ধ ছিল। জেলা শহর থেকে দূরপাল্লাসহ আন্তঃজেলা রুটে যানবাহন ছেড়ে যায়নি। অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর সোনামসজিদে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও বন্দর থেকে কোন পণ্যবাহী ট্রাক ছেড়ে যায়নি।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা শহীদের ছেলে নাদিমের কথা: 'বাবা খুবই নম্র,ভদ্র ও খুব আবেগী একজন ব্যক্তি ছিলেন এবং তিনি ইসলামের জন্য, সংগঠনের কাজে নিজেকে উজাড় করেদিতেন।' শহীদের ভাই: 'শহীদ নুরুল ইসলাম ভাই খুবই সাহসী একজন ব্যক্তিছিলেন এবং তিনিশহীদ হওয়ার জন্য সব সময় আগ্রহ প্রকাশ করতেন। আল্লাহ তার ইচ্ছা পুরণ করেছেন।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল নাম: শহীদ নূরুল ইসলাম (১৩০)। পেশা: দিনমজুর। জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৩.১১.১৯৭২, ৪১ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ১৫.০৭.২০১৩, বেলা ১ টা শাহাদাতের তারিখ: ১৫.০৭.২০১৩, বেলা ২টা, স্থান: চাঁপাইনবাবগঞ্জের রসুলপুর বাজার মোড়ে। স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: রসুলপুর, ডাকঘর: ছাত্রাজিতপুর, থানা:শিবগঞ্জ, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ। • পিতা: মৃত সাজ্জাদ আলী, কৃষক। মাতা:মৃত হাজেরা বেগম, বয়স প্রায় ৬৫ বছর। বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: শহীদ নূরুল ইসলামের বাড়ি ঘরের অবস্থা খুব খারাপ। বসবাসের জন্য টিন শেডের ২টি ঘর রয়েছে। শহীদ নূরুল ইসলাম শ্রমিক ছিলেন। বর্তমানে আয়ের কোন উৎস নেই। স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণঃ স্ত্রী: মোসা:নাদিরা বেগম, গৃহিণী। মেয়ে: মোসা:সেলিনা খাতুন, ৭ম শ্রেণী, মো:নাদিম, ৪র্থ শ্রেণী,মো: নাহিদ, ২য় শ্রেণী, মো: ওয়াহিদ, প্লে। ভাই-বোনের বিবরণ; মোসা: রুমা খাতুন। মৃত জালাল উদ্দীন,ব্যবসা। মো: শফিকুল ইসলাম, ব্যবসা। মো: আবু বাক্কার, ব্যবসা। মো: ইয়াসিন আলী, ব্যবসা। মো: তাসবুর আলী, ব্যবসা। মোসা: রেখা বেগম, গৃহিণী।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍