হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ তহুরুল ইসলাম
শহীদ তহুরুল ইসলাম

শহীদ তহুরুল ইসলাম

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ তহুরুল ইসলাম।
পিতার নাম: আয়েস উদ্দীন, পেশা- কৃষি।
মাতার নাম: আজিনুর বেগম, পেশা- গৃহিণী।
ঠিকানা: গ্রাম- হাঙ্গামী, পোস্ট অফিস- মনাকষা, থানা- শিবগঞ্জ, জেলা- চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
বয়স: ২০ বছর।
পড়াশোনা: ফাযিল প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন।
ভাই-বোনের মধ্যে অবস্থান: নয় ভাইবোনের মধ্য তিনি সপ্তম।
সাংগঠনিক মান: সাথী।
দায়িত্ব: ইউনিয়ন সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক।
আহত হওয়ার তারিখ: ২৯ অক্টোবর ২০১৪
শাহাদাতের তারিখ: ১৩ নভেম্বর ২০১৪

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ তছরুল ইসলাম ১৯৯৬ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার হাসামী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আয়েস উদ্দীন একজন কৃষক। মাতা আজিনুর বেগম গৃহিণী। নয় ভাইবোনের মধ্যে তহুরুল ছিলেন সপ্তম। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথী (সাংগঠনিক পদ) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মনাকষা ইউনিয়নের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। তহুরুল শিবগঞ্জ ফাজিল মাদরাসায় ফাজিল প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর শিবগঞ্জ বাজারে জামায়াত-শিবিরের উদ্যোগে মিছিল বের হয়। তহুরুল ইসলাম সেই মিছিলে শামিল ছিলেন। পুলিশ সেই মিছিলে অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ করে। এতে তছরুল ইসলামসহ এগারো জন গুলিবিদ্ধসহ প্রায় চল্লিশ জন আহত হন। শহীদ তহুরুলের বুকে ১টি এবং পেটে ২টি গুলি লাগে। এতে তহুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পরেন। দীর্ঘ ১৫ দিন পর চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১০৩ নভেম্বর ২০১৪, সকাল ৮.১০ মি. শাহাদাতবরণ করেন।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা:
শহীদের দায়িত্বশীল জানান, তছরুল সংগঠনের একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন। পরিবারের অত্যন্ত আদরের সন্তান ছিলো সে। পরিবারের অন্যান্যরা শিক্ষার সুযোগ না পেলেও তিনি কৃতিত্বের সাথে মনকষা দাখিল মাদরাসা থেকে মানবিক বিভাগে ২০০৯ সালে ৩.৫০ পেয়ে দাখিল এবং শিবগঞ্জ ফাজিল মাদরাসা থেকে ২০১১ সালের ৩.৩৩ পেয়ে আলিম পাশ করেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার বলেন, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করতে গিয়ে একমাত্র শহীদ তহুরুল ইসলাম ভাই। আমি ১৫ আগস্ট ২০১৪ শহীদ আব্দুল মালেক ভাইয়ের আলোচনা সভায় আমি উপস্থিত ছিলাম এবং সেখানে শহীদ তহুরুল ভাইকে আমি সাথী শপথ পাঠ করিয়েছিলাম। জানতাম না, এই ভাইটি কিছুদিন পরে শাহাদাতবরণ করবেন। তাঁর কবরের পাশে এসে আমাকে দোয়া করতে হবে এটা আমি ভাবিনি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁকে জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা দান করুন। ঘটনায় সামগ্রিক বিবরণ।
২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার মিথ্যা অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। উক্ত রায়ের পর বিকাল ৩টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ বাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। তহুরুল ইসলাম সেই মিছিলে শামিল ছিলেন। পুলিশ মিছিলে অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ করে। এতে তহুরুল ইসলামসহ এগারো জন গুলিবিদ্ধসহ প্রায় চল্লিশ জন আহত হন। শহীদ তছরুদের বুকে ১টি এবং পেটে ২টি গুলি লাগে। তহুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়লে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হতে দেখে পরের দিন তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। তাতেও অবস্থান উন্নতি না হওয়ায় তাঁকে ঢাকায় নিয়ে একটি হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। দীর্ঘ ১৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১৩ নভেম্বর ২০১৪, সকাল ৮.১০ মি. শাহাদাতবরণ করেন।
আমীরে জামায়াতের শোক।
মোঃ তরুল ইসলামের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ শোকবাণী দিয়েছেন। শোকবাণীতে তিনি বলেন, গত ২৯ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে সরকারের দায়ের করা মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়ার প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ মিছিল বের করলে তাতে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী তহুরুল ইসলামকে গুরুতর আহত করে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তিকাল করেন।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী তহুরুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। নিহত ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী এছরুল ইসলামকে শহীদ হিসেবে কবুল করার জন্য তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা জানিয়ে দোয়া করেন, আল্লাহ তার এ শোক সহ্য করার তাওফিক দান করুন।
ছাত্রশিবিরের শোক।
শিবির নেতা তছরুল ইসলামকে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার ও সেক্রেটারি জেনারেল আতিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী জালিম সরকারের নির্দেশে পুলিশ মেধাবী ছাত্রনেতা তহুরুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করেছে। সরকার যে বন্দুকের নল দিয়েই ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে, এই ঘটনা তার বড় প্রমাণ। একদিকে মাওলানা নিজামীসহ জামায়াত নেতৃবৃন্দকে হত্যার জন্য সরকার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে, অন্যদিকে এর প্রতিবাদে রাস্তায় মিছিল করতে গেলেও পুলিশ পাখির মতো গুলি করে মানুষ হত্যা করছে। জামায়াত-শিবিরকে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগেরও কোনো সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বন্দুকের নল দিয়ে সরকার ক্ষমতায় টিকতে পারবে না। শহীদ তহুরুল ইসলামের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে শিবিরের নেতাকর্মীরা আন্দোলন অব্যাহত রাখবে। আওয়ামী অপশাসকের পতন ঘটিয়ে ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে মুক্ত করেই ছাত্র-জনতা ঘরে ফিরবে।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে তছরুল ইসলামকে খুনের সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে ও ভবিষ্যতে পুলিশ দিয়ে মিছিলে গুলিবর্ষণ এবং অগণতান্ত্রিক আচরণ থেকে বিরত থাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এক নজরে শহীদ তছরুল ইসলাম
নাম: তহুরুল ইসলাম।
পিতার নাম: আয়েস উদ্দীন, পেশা- কৃষি।
মাতার নাম: আজিনুর বেগম, পেশা- গৃহিণী।
ঠিকানা: গ্রাম- হাঙ্গামী, পোস্ট অফিস- মনাকষা, থানা- শিবগঞ্জ, জেলা- চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
বয়স: ২০ বছর।
পড়াশোনা: ফাযিল প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন।
ভাই-বোনের মধ্যে অবস্থান: নয় ভাইবোনের মধ্য তিনি সপ্তম।
সাংগঠনিক মান: সাথী।
দায়িত্ব: ইউনিয়ন সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক।
আহত হওয়ার তারিখ: ২৯ অক্টোবর ২০১৪
শাহাদাতের তারিখ: ১৩ নভেম্বর ২০১৪