হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মো: আনিছুর রহমান
শহীদ মো: আনিছুর রহমান

শহীদ মো: আনিছুর রহমান

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ মো: আনিছুর রহমান (০৯৪)।
পেশা। ইট ভাটায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন।
পিতা: মোঃ ইব্রাহীম মোল্লা, বয়স ৬০ বছর, অন্যের জমিতে কৃষক হিসেবে কাজ করেন।
মাতা: ফুলজান বেগম, বয়স ৫০ বছর, গৃহিণী।
* স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা: গ্রাম: জয়পুর, ডাকঘর: জয়পুর, থানা: মণিরামপুর, জেলা: যশোর।
যোগাযোগকারীর নাম ও সম্পর্ক: মো: মনছুর আলী শহীদের বড় ভাই, ০১৯৩৮ ১৪৮৯৪৪।
আহত ও শাহাদাতের তারিখ: ২২ মার্চ ২০১৩, ফজরের সময়, গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন।
জানাজার ইমামতি করেন: জনাব মাওলানা আজিজুর রহমান, উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫ হাজার।
* ভাই- বোনের বিবরণঃ মোঃ মনছুর আলী-বয়স-৩০, কৃষি কাজ করেন। মরিয়ম-বয়স-২৮, গৃহিণী।
মনিরা, বয়স-২৭ গৃহিণী। শহীদ মো: আনিছুর রহমান-বয়স-২৫।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

"মা শোকে পাথর, পাগলের মতোই দৌড়াদৌড়ি করে পিছলে পা ভেঙে গিয়েছে। আনিছুরের শোকে কাঁদেন আর বলেন, ও আমার সোনার পাখিরে..। মায়ের এই কান্নার গভীরতা কেবল সেই বুঝতে পারবে যার তরতাজা ছেলেটি হঠাৎ এভাবে মারা গেছে। কেউ সাক্ষাতে গেলে মা কেঁদে কেঁদে আনিছুরকে স্মরণ করে বলেন ও বাজিরে, বাবা (সাক্ষাৎপ্রার্থী) বাজির মতো মানুষ পাচ্ছি না। ছেলেটিও মায়ের জন্য পাগল ছিল তাই দাদী স্বপ্নে দেখেন, জ্যোতির্ময় চেহারায় সুন্দর পোশাক পরে ফজরের সময় আনিছুর বাড়ি এসেছে আর বলছে, মা কুনে।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: আনিছুর রহমান যশোর জেলার মণিরামপুর থানার জয়পুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিতা ইব্রাহিম মোল্লা ও মাতা ফুলজান বেগমের পাঁচ সন্তানের মধ্যে চতুর্থ। পিতা-মাতার অভাবী সংসারে অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে তিনি চতুর্থ শ্রেণির পর আর পড়ালেখা করতে পারেননি। এজন্য তিনি সামর্থ্যবান হওয়ার পর থেকে তাদের গ্রামের পাশের ইটভাটায় প্রতিদিন মাত্র ১৫০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক। হিসেবে কাজ করতেন।
শহীদ আনিছুর রহমান ছিলেন ছোটবেলা থেকেই অতি শান্ত প্রকৃতির ছেলে। তিনি ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনকে অনেক ভালবাসতেন। তিনি নিয়মিত নামাজ-রোজা করতেন। সঠিক পথে চলার চেষ্টা করতেন। প্রতিদিনের ন্যায় ঐ দিনও ইটভাটায় যাচ্ছিলেন। যাওয়ার সময় মাইকে পুলিশি তাণ্ডবের ঘোষণা শুনতে পান এবং সেখানে উপস্থিত হন। তখন পুলিশি তাণ্ডবে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে শাহাদাত বরণ করেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২২শে মার্চ ফজরের আজানের পর মুসল্লিরা যখন মুয়াজ্জিনের ডাকে মসজিদ পানে যাচ্ছিলেন ঠিক এমনি সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মণিরামপুর উপজেলা আমির অধ্যাপক ফজলুল হকের জয়পুরের বাড়িতে পুলিশ এবং সরকার দলীয় ক্যাডাররা তাকে গ্রেফতারের জন্য হানা দেয়। তাকে সেখানে না পেয়ে পুলিশ বাহিনী পাশে অবস্থিত মসজিদে হানা দেয় এবং সেখান থেকে চারজন সাধারণ মুসল্লিকে গ্রেফতার করে। এ অবস্থায় মসজিদের চার পাশের সাধারণ লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে তারা সেখানে উপস্থিত হয়। এক পর্যায়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুরো গ্রামবাসীকে পুলিশি তাণ্ডবের কথা জানিয়ে দেয়। এর ফলে পুলিশ তখনই ওখানে অবস্থানরত সাধারণ জনগণের উপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এ সময় গ্রামবাসী-পুলিশ ও সরকার দলীয় ক্যাডার বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে নিরীহ গ্রামবাসীর গুলির কবলে পড়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। শহীদ মো: আনিছুর রহমান সকাল ৫:৩০ মিনিটে ডান পাঁজরে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। সাথে সাথে দুইজন মহিলাসহ প্রায় ২০ জনের মত গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা সেখান থেকে দ্রুত প্রস্থান করে। পরে জানা যায় যে, স্থানীয় আসনের সরকারদলীয় এমপি টিপু সুলতানের মদদে এ ঘটনাটি ঘটানো হয়। তার জানাযার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা আজিজুর রহমান। জানাযায় প্রায় ৫ হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২২শে মার্চ ফজরের আজানের পর মুসল্লিরা যখন মুয়াজ্জিনের ডাকে মসজিদ পানে যাচ্ছিলেন ঠিক এমনি সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মণিরামপুর উপজেলা আমির অধ্যাপক ফজলুল হকের জয়পুরের বাড়িতে পুলিশ এবং সরকারদলীয় ক্যাডাররা তাকে গ্রেফতারের জন্য হানা দেয়। বিস্তারিত বিবরণ আসে পরের দিনকার জাতীয় দৈনিক সমূহে। ২৩ মার্চ, ২০১৩ দৈনিক আমার দেশ বর্ণনা করে-
মসজিদে নামাজরত মুনস্তিপ্তদের গণগ্রেফতার। কাল হরতাল। যশোরে গ্রামবাসী-পুলিশ সংঘর্ষে গুলিতে নিহত
১. আঙচুর আগুন লড়ক অবরোধ
যশোর অফিস। মসজিদে ঢুকে নামাজ আদায়রত যশোর অফিস। মসজিদে ঢুকে নামাজ আদায়রত মুসল্লিদের গ্রেফতার করা নিয়ে যশোরের মনিরামপুরে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশের গুলিতে আনিছুর রহমান নামে বিএনপির এক কর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পুলিশ ও মহিলাসহ অর্ধশতাধিক। সংঘর্ষকালে গ্রামবাসীর সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা অংশ নিয়ে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুললে একপর্যায়ে পুলিশ পিছু হটে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
যশোর মনিরামপুত্রে পুলিশের গুলিতে নিহয় বিএনপিকর্মী আনিসুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ফজরের নামাজের সময় মনিরামপুর উপজেলার জয়পুর গ্রামের দীঘিরপাড় জামতলা বাজার মসজিদে হানা দেয় বিপুলসংখ্যক পুলিশ। তারা মসজিদে ঢুকে নামাজ আদায়রত মুসল্লি আক্কাস, দর্জি মোশারফ, মিজান ও তোফাজ্জেল নামে চারজনকে আটক করে। একই সময় পুলিশ গ্রামটির কাচারিবাড়ি মসজিদে ঢুকে ও মামলার আসামিদের খোঁজ করে। এ ঘটনায় মুসল্লিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী পুলিশকে ঘিরে ফেলে। আশপাশের গ্রাম হুরগাতি, বেগারিকসা, দেলুয়াবাড়ি, চান্দুয়া, সমসকাটি, জালকাড়া ও শোলাকুড় থেকেও হাজার হাজার লোক ছুটে আসে ঘটনাস্থলে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। গ্রামবাসী ইটপাটকেল ছোড়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে। পুলিশও নির্বিচার গুলি ছোড়ে।
গ্রামবাসী জানান, পুলিশের সঙ্গে মনিরামপুর আওয়ামী লীগ আশ্রিত কুখ্যাত সন্ত্রাসী আদম বাহিনীর লোকজন অংশ নেয়। পুলিশের পাশাপাশি তারা রাইফেল-পিস্তলের গুলি চালায়। প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে জয়পুর গ্রামের ইব্রাহিম মোল্লার ছেলে আনিছুর রহমান নিহত হন। আহত হন নারীসহ অর্ধশতাধিক। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ১০ জনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গোটা এলাকা গ্রামবাসীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুভাষচন্দ্র সাহা জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত। পুলিশ আসামি গ্রেফতারের জন্য ফের এলাকায় যাবে। নিহত আনিছুর রহমানের মামা মুজিবর রহমান বলেন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক ফজলুল হককে গ্রেফতার করতে পুলিশ জয়পুর গ্রামের মসজিদে হানা দিয়েছিল। সংঘর্ষকালে গুলিবিদ্ধ আনিছুর দীর্ঘসময় বিনাচিকিৎসায় পড়ে থাকায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয় বলে তিনি দাবি করেন।
নিহত আনিছুরের ফুফা তৈয়েবুর রহমান জানান, পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহতদের সবাই সাধারণ শ্রমজীবী। মসজিদ থেকে নামাজরত মুসল্লিদের আটক করায় এরা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে এগিয়ে যায়।
আহত বেনজির আহমেদের বাবা আবদুর রাজ্জাক জানান, পুলিশের সঙ্গে আদম বাহিনী নামে পরিচিত মনিরামপুরের একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা ছিল। তিনি দাবি করেন, হতাহতের ঘটনা ঘটেছে আদম বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে।
৪. শহীদের স্বজনদের কথা
শহীদের পিতার কথা। আমার ছোট ছেলে আনিছুর রহমান আজ আল্লামা সাঈদী সাহেবের মুক্তির জন্য ও ইসলামী আন্দোলনের নেতা কর্মীদের উপর যে নির্যাতন চলছে তার প্রতিবাদ করার কারণে শহীদ হয়েছে। আমার কোন দুঃখ নেই। আমি আল্লাহর কাছে হত্যাকারীদের বিচার চাই। আর আমি যেন শহীদের পিতা হয়ে পরকালে সাক্ষ্য দিতে পারি এই কামনা করছি। তিনি অত্যন্ত গর্বের সাথে বলেন, 'সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ জেনে গেছে, কত মানুষ আসছে দোয়া করছে, এমনকি শুনলাম বিদেশেও দোয়া হয়েছে। আমি চাই, আমার ছেলের মত আর কোন ছেলের প্রাণ দিতে না হয় এজন্য আল্লামা সাঈদীসহ ইসলামী আন্দোলনের নেতা কর্মীদের মুক্তির জন্য এই সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
শহীদের মায়ের আকুতি। আমি আমার ছোট ছেলে নাড়িকাটা ধনকে হারিয়েছি। আজ আমি বড় ব্যথিত, আমার হৃদয়ে বড় শূন্যতা বিরাজ করছে। ও সাঈদীর খুব ভক্ত ছিল, সর্বদা মোবাইলে তার ওয়াজ শুনতো। কত মানুষ ওকে দেখতে আসলো। এত মানুষের মহব্বত। তবে আমি মনকে একথা দ্বারা বুঝ দিচ্ছি যে, আমার ছেলের কারণে সাঈদী সাহেবের মুক্তি হবে। আমি শহীদের মা হয়েছি আর সাথে সাথে আল্লাহর কাছে এই দোয়া করছি আমার ছেলের রক্তের বিনিময়ে এ দেশ থেকে ইসলাম বিরোধী শক্তির পতন হোক এবং ইসলামী সমাজব্যবস্থা কায়েম হোক। আল্লাহ সন্তানহারা মায়ের এ দোয়াকে কবুল করুন। ও ফজরের নামাজের সময় পুরান বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ পুলিশের গুলি, সে তার মামাকে ফোন করে বললো, 'মামু আগুয়েন না পরিস্থিতি মেলা খারাপ। পাঁচ মিনিট পর শোনা গেল মসজিদের পাশে আনিছুর গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ নিয়ে মা শোকে পাথর, পাগলের মতোই দৌড়াদৌড়ি করে হঠাৎ পিছলে গিয়ে তার পা ভেঙে গিয়েছে। মা এখনও আনিছুরের শোকে কাঁদেন আর বলেন,ও আমার সোনার পাখিরে। মায়ের এই কান্নার গভীরতা কেবল সেই বুঝতে পারবে যার তরতাজা ছেলেটি হঠাৎ এভাবে মারা গেছে। কেউ সাক্ষাতে গেলে মা কেঁদে কেঁদে আনিছুরকে স্মরণ করে বলেন, 'ও বাজিরে, বাবা (সাক্ষাৎপ্রার্থী) বাজির মতো মানুষ পাচ্ছি না। ছেলেটিও মায়ের জন্য পাগল ছিল। তাই দাদী স্বপ্নে দেখেন, জ্যোতির্ময় চেহারায় সুন্দর পোশাক পয়ে ফজরের সময় আনিসুর বাড়ি এসেছে আর বলছে, মা কুনে?'
৫. বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা
১১ কাঠা জমির উপর একটি ছোট আধা-পাকা বাড়ি। এছাড়া মাঠে ফসল ফলানোর মত কোন জায়গা জমি নেই। ৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: আনিছুর রহমান (০৯৪)।
পেশা। ইট ভাটায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন।
পিতা: মোঃ ইব্রাহীম মোল্লা, বয়স ৬০ বছর, অন্যের জমিতে কৃষক হিসেবে কাজ করেন।
মাতা: ফুলজান বেগম, বয়স ৫০ বছর, গৃহিণী।
* স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা: গ্রাম: জয়পুর, ডাকঘর: জয়পুর, থানা: মণিরামপুর, জেলা: যশোর।
যোগাযোগকারীর নাম ও সম্পর্ক: মো: মনছুর আলী শহীদের বড় ভাই, ০১৯৩৮ ১৪৮৯৪৪।
আহত ও শাহাদাতের তারিখ: ২২ মার্চ ২০১৩, ফজরের সময়, গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন।
জানাজার ইমামতি করেন: জনাব মাওলানা আজিজুর রহমান, উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫ হাজার।
* ভাই- বোনের বিবরণঃ মোঃ মনছুর আলী-বয়স-৩০, কৃষি কাজ করেন। মরিয়ম-বয়স-২৮, গৃহিণী।
মনিরা, বয়স-২৭ গৃহিণী। শহীদ মো: আনিছুর রহমান-বয়স-২৫।