শহীদ আশরাফুল ইসলাম
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ আশরাফুল ইসলাম
পিতার নাম: মকবুল সরদার, বয়স: ৬৮
পেশা: গ্যাংগ্রিণ হয়ে এক পা পঙ্গু তাই কর্ম অক্ষম
মাতার নাম: ফুলজান, বয়স: ৫৫, পেশা: গৃহিণী
বয়স: ১৮ বছর
স্থায়ী ঠিকানা: সাহেব আলী বাড়ী, ওয়ার্ড- ০৮, মহীরণ পোস্ট থানা- বাঘারপাড়া, জেলা- যশোর।
ভাই-বোন: ৪ ভাই এক বোনের মধ্যে চতুর্থ
সাংগঠনিক মান: জামায়াত সমর্থক
পেশা: রঙ মিস্ত্রি
শাহাদাতের তারিখ: ১২ ডিসেম্বর ২০১৩
শাহাদাতের স্থান:মহিরণ বোলতেঘাটা নড়াইল-যশোর মহাসড়ক
পিতার নাম: মকবুল সরদার, বয়স: ৬৮
পেশা: গ্যাংগ্রিণ হয়ে এক পা পঙ্গু তাই কর্ম অক্ষম
মাতার নাম: ফুলজান, বয়স: ৫৫, পেশা: গৃহিণী
বয়স: ১৮ বছর
স্থায়ী ঠিকানা: সাহেব আলী বাড়ী, ওয়ার্ড- ০৮, মহীরণ পোস্ট থানা- বাঘারপাড়া, জেলা- যশোর।
ভাই-বোন: ৪ ভাই এক বোনের মধ্যে চতুর্থ
সাংগঠনিক মান: জামায়াত সমর্থক
পেশা: রঙ মিস্ত্রি
শাহাদাতের তারিখ: ১২ ডিসেম্বর ২০১৩
শাহাদাতের স্থান:মহিরণ বোলতেঘাটা নড়াইল-যশোর মহাসড়ক
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
আমাদের সকলের কাছে তিনি ছিলেন প্রিয় ও পরিচিত মুখ। পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামায়াতের সাথে পড়ার চেষ্টা করতেন। তাঁর ব্যবহার ছিল অমায়িক। তিনি কাউকে কষ্ট দিতেন না। যুব সমাজের ধ্বংসের ক্রান্তিলগ্নে এ রকম একটি সৎ চরিত্রবান মানুষ সমাজে পাওয়া বড়ই কঠিন।
- এলাকাবাসী
শহীদের পরিচিতি
শহীদ আশরাফুল ইসলাম যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানাধীন মহীরণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মকবুল সরদার ও মাতা ফুলজান বেগমের পাঁচ সন্তানের মধ্যে আশরাফুল ইসলাম চতুর্থ। শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করে আঠারো বছর বয়সে শহীদ হন রঙমিস্ত্রী আশরাফুল ইসলাম।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান।
১২ই ডিসেম্বর ২০১৩, ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়। এই দিনটি ইতিহাসে একটি কালোদিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই দিনে বিশ্বের ইতিহাসে একজন নিরীহ, নিরাপরাধ মানুষকে রাষ্ট্রীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছিল সমগ্র বাংলাদেশ। ১৩ ডিসেম্বর শুক্রবার ভোরে শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের প্রতিবাদে প্রতিবাদ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন আশরাফুল ইসলাম। আন্দোলনরত জনতার উপর একটি বেপরোয়া ট্রাক তুলে দিলে শহীদ আশরাফুল ইসলাম তাৎক্ষণিক শাহাদাতবরণ করেন।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
প্রথমবার যখন শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির গুঞ্জন উঠলো তখন তিনি অস্থির হয়ে উঠেছিলেন। বলেছিলেন- "ভালো আলো মানুষগুলো মরে গেলে আমাদের বেঁচে থেকে কী হবে?"
লোকজন তাঁকে বিয়ের কথা বললে তিনি বলতেন- "মায়ের খেদমত আমিই করতে পারি। বউয়ের দরকার নাই।" ঘন্টায় ১০ টাকায় শ্রম বিক্রি করতেন, এবং এতেই মা-ছেলের সংসার চলতো।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ।
১২ই ডিসেম্বর ২০১৩। ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়। এই দিনটি ইতিহাসে একটি কালোদিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই দিনে বিশ্বের ইতিহাসে একজন নিরীহ, নিরাপরাধ মানুষকে রাষ্ট্রীয় আয়োজনের মধ্যে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছিল সমগ্র বাংলাদেশ। জালিম সরকার ও প্রশাসন সেই বিক্ষুদ্ধ জনতাকেও নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের বরাতে জানা যায়, ওই দিন সারাদেশে পাঁচজন নিরীহ নিরাপরাধ মানুষকে শুধুমাত্র অন্যায্য হত্যার প্রতিবাদের কারণে গুলি করে হত্যা করা হয়। আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেন অসংখ্য মানুষ।
জানা যায়, শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের সাথে সাথে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে আপামর জনগণও। রাস্তায় নেমে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন, প্রতিবাদ জানান রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডের। কিন্তু নব্য ফেরাউন হাসিনার পোষা গুন্ডাবাহিনীও বাষ্ট্রীয় রুটি-রুজিতে পালিত পুলিশ-বিজিবি এ বিক্ষোভ সহ্য করতে পারলো না। তারা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষকে হত্যার উৎসবে মেতে উঠলো। বৃহস্পতিবার ফাঁসি কার্যকরের পর শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর সারাদেশের মতো যশোরের বাঘারপাড়ায় মহীরণ বোলতেঘাটা নড়াইল-যশোর মহাসড়কেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তাদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচীতে সমর্থন জানিয়ে স্থানীয় সাধারণ জনতাও শামিল হন অন্যায্য এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে। শহীদ আশরাফুল ইসলাম উক্ত প্রতিবাদী বিক্ষোতে শরীক হয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক তুলে দেওয়া হয় আন্দোলনরত জনতার উপর। এতে আশরাফুল ইসলামত তাৎক্ষণিক শাহাদাতবরণ করেন।
আপনজনদের কথা
শহীদের মা ফুলজান বেগম বলেন- ওর কথা কেউ তুলতে পারে না। প্রথমবার যখন কাদের মোল্লার ফাঁসির গুঞ্জন উঠলো তখন সে অস্থির হয়ে উঠেছিল। বলেছিল- "ভালো ভালো মানুষগুলো মরে গেলে আমরা বেঁচে থেকে কী হবে?"
তিনি আরো বলেন- "আশরাফুল খুব সাহসী ছিল। তাঁর বাবা যখন নতুন বিয়ে করে আলাদা থাকা শুরু করলো, তখনও আশরাফুল আমাকে আগলে রেখে একা সংসার চালাতো। লোকজন তাকে বিয়ের কথা বললে সে বলতো মায়ের খেদমত আমিই করতে পারি। বউয়ের দরকার নাই। ঘন্টায় ১০ টাকায় শ্রম বিক্রি করতো, এবং এই টাকাতেই আমাদের মা-ছেলের সংসার চলতো। অনেক কষ্ট করে ঘর তৈরি করেছিল কিন্তু একটা বছরও সে ঘরে থাকতে পারেনি।'-বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন শহীদের জননী ফুলজান বেগম।
তিনি আরো বলেন- "আত্মীয় স্বজনের প্রতি অনেক আদর যত্ন করতো। শাহাদাতের তিনদিন আগে তার মেঝো ভাইয়ের শাশুড়ি এসেছিল বেড়াতে। সে তাঁকে নিজের খাটে শুইতে দিয়ে নিজে রান্না ঘরের মেঝেতে
শুইয়ে কাটিয়েছে।
আল্লাহ আমার কলিজার টুকরা সন্তানের শাহাদাত আল্লাহ কবুল করুন। আমি চাই তার শাহাদাতের বিনিময়ে এই জমিনে ইসলাম বিজয়ী হোক। শহীদের মা হিসাবে আমি গর্বিত।"
শহীদের বোন শহীদ আশরাফুল ইসলাম আমার প্রিয় ছোটভাই, তার মৃত্যুতে আমি এবং আমাদের পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। আমরা দুনিয়াতে আমার প্রিয় ভাইকে হারিয়েছি কিন্তু পরকালে আমরা তাকে আমাদের শহীদ ভাই হিসাবে পেতে চাই।
এলাকাবাসী: আমাদের সকলের কাছে তিনি ছিলেন প্রিয় ও পরিচিত মুখ। পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামায়াতের সাথে পড়ার চেষ্টা করতেন। তাঁর ব্যবহার ছিল অমায়িক। তিনি কাউকে কষ্ট দিতেন না। যুব সমাজের ধ্বংসের ক্রান্তিলগ্নে এ রকম একটি সৎ চরিত্রবান মানুষ সমাজে পাওয়া বড়ই কঠিন। বড় ভাই। দ্বীনের জন্য আল্লাহ আমার ভাইকে কবুল করুন।
জানাজা শাহাদাতের পরদিন ১৩ই ডিসেম্বর ২০১৩ বাদ আসর মহিরণ মহিউস সুন্না কওমী মাদরাসা মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এক নজরে শহীদ আশরাফুল ইসলাম
নাম: আশরাফুল ইসলাম
পিতার নাম: মকবুল সরদার, বয়স: ৬৮
পেশা: গ্যাংগ্রিণ হয়ে এক পা পঙ্গু তাই কর্ম অক্ষম
মাতার নাম: ফুলজান, বয়স: ৫৫, পেশা: গৃহিণী
বয়স: ১৮ বছর
স্থায়ী ঠিকানা: সাহেব আলী বাড়ী, ওয়ার্ড- ০৮, মহীরণ পোস্ট থানা- বাঘারপাড়া, জেলা- যশোর।
ভাই-বোন: ৪ ভাই এক বোনের মধ্যে চতুর্থ
সাংগঠনিক মান: জামায়াত সমর্থক
পেশা: রঙ মিস্ত্রি
শাহাদাতের তারিখ: ১২ ডিসেম্বর ২০১৩
শাহাদাতের স্থান:মহিরণ বোলতেঘাটা নড়াইল-যশোর মহাসড়ক
- এলাকাবাসী
শহীদের পরিচিতি
শহীদ আশরাফুল ইসলাম যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানাধীন মহীরণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মকবুল সরদার ও মাতা ফুলজান বেগমের পাঁচ সন্তানের মধ্যে আশরাফুল ইসলাম চতুর্থ। শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করে আঠারো বছর বয়সে শহীদ হন রঙমিস্ত্রী আশরাফুল ইসলাম।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান।
১২ই ডিসেম্বর ২০১৩, ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়। এই দিনটি ইতিহাসে একটি কালোদিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই দিনে বিশ্বের ইতিহাসে একজন নিরীহ, নিরাপরাধ মানুষকে রাষ্ট্রীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছিল সমগ্র বাংলাদেশ। ১৩ ডিসেম্বর শুক্রবার ভোরে শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের প্রতিবাদে প্রতিবাদ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন আশরাফুল ইসলাম। আন্দোলনরত জনতার উপর একটি বেপরোয়া ট্রাক তুলে দিলে শহীদ আশরাফুল ইসলাম তাৎক্ষণিক শাহাদাতবরণ করেন।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
প্রথমবার যখন শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির গুঞ্জন উঠলো তখন তিনি অস্থির হয়ে উঠেছিলেন। বলেছিলেন- "ভালো আলো মানুষগুলো মরে গেলে আমাদের বেঁচে থেকে কী হবে?"
লোকজন তাঁকে বিয়ের কথা বললে তিনি বলতেন- "মায়ের খেদমত আমিই করতে পারি। বউয়ের দরকার নাই।" ঘন্টায় ১০ টাকায় শ্রম বিক্রি করতেন, এবং এতেই মা-ছেলের সংসার চলতো।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ।
১২ই ডিসেম্বর ২০১৩। ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়। এই দিনটি ইতিহাসে একটি কালোদিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই দিনে বিশ্বের ইতিহাসে একজন নিরীহ, নিরাপরাধ মানুষকে রাষ্ট্রীয় আয়োজনের মধ্যে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছিল সমগ্র বাংলাদেশ। জালিম সরকার ও প্রশাসন সেই বিক্ষুদ্ধ জনতাকেও নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের বরাতে জানা যায়, ওই দিন সারাদেশে পাঁচজন নিরীহ নিরাপরাধ মানুষকে শুধুমাত্র অন্যায্য হত্যার প্রতিবাদের কারণে গুলি করে হত্যা করা হয়। আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেন অসংখ্য মানুষ।
জানা যায়, শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের সাথে সাথে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে আপামর জনগণও। রাস্তায় নেমে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন, প্রতিবাদ জানান রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডের। কিন্তু নব্য ফেরাউন হাসিনার পোষা গুন্ডাবাহিনীও বাষ্ট্রীয় রুটি-রুজিতে পালিত পুলিশ-বিজিবি এ বিক্ষোভ সহ্য করতে পারলো না। তারা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষকে হত্যার উৎসবে মেতে উঠলো। বৃহস্পতিবার ফাঁসি কার্যকরের পর শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর সারাদেশের মতো যশোরের বাঘারপাড়ায় মহীরণ বোলতেঘাটা নড়াইল-যশোর মহাসড়কেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তাদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচীতে সমর্থন জানিয়ে স্থানীয় সাধারণ জনতাও শামিল হন অন্যায্য এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে। শহীদ আশরাফুল ইসলাম উক্ত প্রতিবাদী বিক্ষোতে শরীক হয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক তুলে দেওয়া হয় আন্দোলনরত জনতার উপর। এতে আশরাফুল ইসলামত তাৎক্ষণিক শাহাদাতবরণ করেন।
আপনজনদের কথা
শহীদের মা ফুলজান বেগম বলেন- ওর কথা কেউ তুলতে পারে না। প্রথমবার যখন কাদের মোল্লার ফাঁসির গুঞ্জন উঠলো তখন সে অস্থির হয়ে উঠেছিল। বলেছিল- "ভালো ভালো মানুষগুলো মরে গেলে আমরা বেঁচে থেকে কী হবে?"
তিনি আরো বলেন- "আশরাফুল খুব সাহসী ছিল। তাঁর বাবা যখন নতুন বিয়ে করে আলাদা থাকা শুরু করলো, তখনও আশরাফুল আমাকে আগলে রেখে একা সংসার চালাতো। লোকজন তাকে বিয়ের কথা বললে সে বলতো মায়ের খেদমত আমিই করতে পারি। বউয়ের দরকার নাই। ঘন্টায় ১০ টাকায় শ্রম বিক্রি করতো, এবং এই টাকাতেই আমাদের মা-ছেলের সংসার চলতো। অনেক কষ্ট করে ঘর তৈরি করেছিল কিন্তু একটা বছরও সে ঘরে থাকতে পারেনি।'-বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন শহীদের জননী ফুলজান বেগম।
তিনি আরো বলেন- "আত্মীয় স্বজনের প্রতি অনেক আদর যত্ন করতো। শাহাদাতের তিনদিন আগে তার মেঝো ভাইয়ের শাশুড়ি এসেছিল বেড়াতে। সে তাঁকে নিজের খাটে শুইতে দিয়ে নিজে রান্না ঘরের মেঝেতে
শুইয়ে কাটিয়েছে।
আল্লাহ আমার কলিজার টুকরা সন্তানের শাহাদাত আল্লাহ কবুল করুন। আমি চাই তার শাহাদাতের বিনিময়ে এই জমিনে ইসলাম বিজয়ী হোক। শহীদের মা হিসাবে আমি গর্বিত।"
শহীদের বোন শহীদ আশরাফুল ইসলাম আমার প্রিয় ছোটভাই, তার মৃত্যুতে আমি এবং আমাদের পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। আমরা দুনিয়াতে আমার প্রিয় ভাইকে হারিয়েছি কিন্তু পরকালে আমরা তাকে আমাদের শহীদ ভাই হিসাবে পেতে চাই।
এলাকাবাসী: আমাদের সকলের কাছে তিনি ছিলেন প্রিয় ও পরিচিত মুখ। পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামায়াতের সাথে পড়ার চেষ্টা করতেন। তাঁর ব্যবহার ছিল অমায়িক। তিনি কাউকে কষ্ট দিতেন না। যুব সমাজের ধ্বংসের ক্রান্তিলগ্নে এ রকম একটি সৎ চরিত্রবান মানুষ সমাজে পাওয়া বড়ই কঠিন। বড় ভাই। দ্বীনের জন্য আল্লাহ আমার ভাইকে কবুল করুন।
জানাজা শাহাদাতের পরদিন ১৩ই ডিসেম্বর ২০১৩ বাদ আসর মহিরণ মহিউস সুন্না কওমী মাদরাসা মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এক নজরে শহীদ আশরাফুল ইসলাম
নাম: আশরাফুল ইসলাম
পিতার নাম: মকবুল সরদার, বয়স: ৬৮
পেশা: গ্যাংগ্রিণ হয়ে এক পা পঙ্গু তাই কর্ম অক্ষম
মাতার নাম: ফুলজান, বয়স: ৫৫, পেশা: গৃহিণী
বয়স: ১৮ বছর
স্থায়ী ঠিকানা: সাহেব আলী বাড়ী, ওয়ার্ড- ০৮, মহীরণ পোস্ট থানা- বাঘারপাড়া, জেলা- যশোর।
ভাই-বোন: ৪ ভাই এক বোনের মধ্যে চতুর্থ
সাংগঠনিক মান: জামায়াত সমর্থক
পেশা: রঙ মিস্ত্রি
শাহাদাতের তারিখ: ১২ ডিসেম্বর ২০১৩
শাহাদাতের স্থান:মহিরণ বোলতেঘাটা নড়াইল-যশোর মহাসড়ক