হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মোঃ কামরুল হাসান
শহীদ মোঃ কামরুল হাসান

শহীদ মোঃ কামরুল হাসান

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ মোঃ কামরুল হাসান
পিতার নাম: মোহাম্মদ আলী
পিতার পেশা: কৃষি
মাতার নাম: মোছাঃ জাহানারা বেগম
মাতার পেশা: গৃহিণী
জন্ম তারিখ: ৪ জুলাই ১৯৯৪
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- ছোট খুদড়া, পোস্ট- বন্দবিলা উপজেলা- বাঘারপাড়া, জেলা- যশোর।
ভাই বোন: দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে তৃতীয়
সাংগঠনিক মান: সদস্য প্রার্থী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির
সর্বশেষ পড়াশুনা: অনার্স ৩য় বর্ষ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সরকারী এম এম কলেজ, যশোর
আহত হওয়ার স্থান: শহীদ আসাদ হল, সরকারী এম এম কলেজ, যশোর
কাদের আঘাতে শহীদ: রড, হাতুড়ি, হকিস্টিক, স্ট্যাম্প, জিআই পাইপ দিয়ে পেটানো হয়
শাহাদাতের তারিখ: ছাত্রলীগ: ২৩ নভেম্বর ২০১৫, ঢাকার নেবার পথে দৌলতদিয়া
ফেরি ঘাটের কাছে, রাত সাড়ে বারোটায়

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদেরা মরে না, তারা অমর। তাদেরকে অন্য মৃতদের মধ্যে শামিল করা যায় না। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারিমে একাধিকবার বসেছেন। সূরা বাকারায় ১৫৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- আল্লাহর পথে যারা নিহত হয় তাদের মৃত বল না বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারো না।
- আল কোরআন
শহীদের পরিচিতি
শহীদ মোঃ কামরুল হাসান ৪ঠা জুলাই ১৯৯৪ সালে যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার ছোট খুদড়া গ্রামে
জনন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোহাম্মদ আলী ও মাতা মোহাঃ জাহানারা বেগমের চার সন্তানের মধ্যে কামরুল হাসান তৃতীয়। সরকারী এমএম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শহীদ কামরুল হাসান ছিলেন
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রশ্নপত্রপ্রাপ্ত সদস্য প্রার্থী। শহীদ কামরুল হাসান যশোরে ইসলামী আন্দোলনের প্রেরণার নাম। তিনি যেমন মেধাবী ছাত্র ছিলেন তেমন চরিত্রবান ও সংগঠক ছিলেন। তিনি কলা অনুষদের দায়িত্বশীল ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ঢাকে চলে যান।
নিয়মিত নামাজ পড়ার কারণে ছাত্রলীগ তাকে আগে থেকে শিবির সন্দেহ করত। কামরুল হাসান ছাত্রলীগের ডাকে মিছিলে অংশগ্রহণ না করে বাড়িতে চলে যান। ২৩ নভেম্বর তাঁর সম্মান ৩য় বর্ষের পরীক্ষা দেয়ার জন্য বাড়ি থেকে ক্যাম্পাসে আসেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ছাত্রলীগ তাঁকে জোরপূর্বক অপহরণ করে সরকারি এমএম কলেজের শহীদ আসাদ হলের ২০১ নম্বর রুমে নিয়ে রড, হকিস্টিক, স্ট্যাম্প এবং রামদা দিয়ে পিটিয়ে অত্যন্ত পৈশাচিকভাবে নির্যাতন করে পুলিশে হস্তান্তর করে। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকা নেয়ার পথে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে রাত সাড়ে ১২টায় শহীদ কামরুল হাসান সবাইকে কাঁদিয়ে মহান আল্লাহর কাছে। পৌঁছে যান।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
মহান আল্লাহ রাজুল আলামিনের দ্বীনকে বিজয়ী করার প্রত্যয়ে যারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তাদের পথচলা নিঃসন্দেহে বর্ণনাতীত কঠিন। এ কাঠিন্যের মাপকাঠি দিয়ে মহান প্রভু তার অতি প্রিয় বান্দাহদেরকে বাছাই করে নেন। কিছু বান্দার জীবনের বিনিময়ে পরীক্ষা করতে চান কারা ঈমানের দাবিতে সত্যবাদী এবং কারা মিথ্যাবাদী।
সুরা বাকারার ১৫৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- "নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু কয়, ক্ষুধা, জান ও মাল এবং ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করব। (হে পয়গম্বর।) আপনি বৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।"
শহীদ কামরুল হাসান পারিবারিক চাপে বাইরের মেসে থেকেও নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও কুরআন তেলাওয়াত করতেন। যার কারণে ছাত্রলীগের চক্ষুশূল হয়েছিলেন। কামরুল হাসান সকলের সাথে মিশে চলার চেষ্টা করতেন কিন্তু নিজের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। মা-বাবার ছিলেন আশার প্রদীপ। তিনি সকলের সাথে ভালো ব্যবহার করতেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
২০১৫ সালের ২১ নভেম্বর। রাত ১২টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল শহীদ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের তথাকথিত যুদ্ধাপরাধের মামলায় অন্যায়ভাবে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। সারাদেশের মতো আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ যশোরে আনন্দ মিছিল করে। ২২ নভেম্বর সরকারি এমএম কলেজে ছাত্রলীগ মিছিল করে এবং জামায়াত-শিবির বিরোধী শ্লোগান দেয়। মিছিদের আগে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী মেসগুলাতে তারা সাধারণ ছাত্রদেরকে জোর করে অংশগ্রহণ করায়। যারা মিছিলে আসেনি তাদেরকে পরে টর্চার করে।
শহীদ কামরুল হাসান পারিবারিক চাপে সংগঠনের অনুমতি নিয়ে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী 'নির্ঝর' নামক একটি সাধারণ মেসে থাকতেন। নিয়মিত নামাজ পড়ার কারণে ছাত্রলীগ তাকে আগে থেকে শিবির সন্দেহ করত। কামরুল হাসান ছাত্রলীগের মিছিলে না গিয়ে বাড়িতে চলে যান। ২৩ নভেম্বর সম্মান ৩য় বর্ষের পরীক্ষা দেয়ার
জন্য বাড়ি থেকে ক্যাম্পাসে আসেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ছাত্রলীগ তাঁকে জোরপূর্বক অপহরণ করে। এমএম কলেজের শহীদ আসাদ হলের ২০১ নম্বর রুমে নিয়ে রড, হকিস্টিক, স্ট্যাম্প এবং রামদা দিয়ে পিটিয়ে অত্যন্ত পৈশাচিকভাবে নির্যাতন করে। জোর করে দায়িত্বশীলের নাম এবং অবস্থান জেনে নেয়। এরপর ছাত্রলীগ এমএম কলেজ শাখার তৎকালীন সভাপতি রওশন ইকবাল শাহীর নির্দেশে জিসান, রনি, জুয়েল, নূর ইসলামসহ ৭-৮ জন ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী 'আশিক ভিলায়' মেসে হামলা চালায়। হাবিবুল্লাহ তাদের পরিচিত ছিল না, যার কারণে মেসে গিয়ে হাবিবুল্লার নাম জিজ্ঞাসা করলে মেসের দায়িত্বশীল রাজু বলেন, হাবিবুল্লাহ মেসে নেই। এ কথা বলার সাথে সাথে তারা রাজুর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হাবিবুল্লাহ তখন দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। রাজুর ওপর নির্যাতন দেখে তিনি খাবার শেষ না করে বাইরে এসে বললেন, ওকে ছেড়ে দিন আমি হাবিবুল্লাহ। তখন নরপশুরা হাবিবুল্লাহকে ধরে নিয়ে আসাদ হলের কসাইখানা খ্যাত ২০১ নম্বর রুমে আটকে রেখে হকিস্টিক, রড, স্ট্যাম্প, রামদা দিয়ে পিটিয়ে পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের কারণে তার সমস্ত অঙ্গে রক্ত জমাট বেঁধে কালো হয়ে গিয়েছিল এবং দুই পা ভেঙে গিয়েছিল। সেদিন তাদের চিৎকারের আর্তনাদ ছাত্রলীগের নরপশুদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করেনি। এদিকে থানায় পুলিশকে জানালে পুলিশ তাঁদেরকে উদ্ধার না করে ছাত্রলীগের সহায়তায় শহরের রেলগেটে অবস্থিত শিবিরের আরেকটি মেসে হামলা চালায়। সেখানে শিবিরের সাথী আল মামুনকে মেরে মারাত্মকভাবে। আহত করে। পরে তাকেও মুমূর্ষু অবস্থায় যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ দিকে হাবিবুল্লাহ এবং কামরুল হাসানের অবস্থা যখন আশঙ্কাজনক, নির্যাতনের প্রায় ২ ঘণ্টা পর বিকেল ৩টার দিকে পুলিশ এ দুইজনকে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু পুলিশ এবং ডাক্তারদের অবহেলায় সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে তাঁদের অবস্থার আরো অবনতি হয়। অবশেষে বিকেল এটায় আমাদের প্রিয় ভাই হাবিবুল্লাহ শাহাদাতবরণ করেন। কামরুল হাসানের অবস্থা আরো অবনতি হলে দায়িত্বশীলরা তাঁকে ঢাকায় পাঠানোর জন্য প্রশাসন এবং ডাক্তারদের কাছে অনেক অনুরোধ করেন কিন্তু তারা বিষয়টি মোটেও আমলে নেয়নি। অনেক চেষ্টার পরে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর অনুমতি মিলল। নরপশুরা ডার পেটে এমনভাবে নির্যাতন করেছিল যে তার ফুসফুস ফেটে গিয়েছিল। ফলে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে আসার আগে রাত সাড়ে ১২টায় শহীদ কামরুল হাসান সবাইকে কাঁদিয়ে মহান আল্লাহর কাছে পৌঁছে যান। আর আহত মামুনকে কোনো রকম চিকিৎসা শেষে কয়েকদিন পর মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠায়। সেদিন আমাদের ভাইদের চাপাকান্না হয়তোবা আল্লাহর আরশে পৌঁছেছে কিন্তু সরকারের পুলিশ এবং ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের কানে পৌঁছায়নি। পুলিশ হত্যাকারীদের নামে কোনো মামলা নেয়নি এমনকি একটি মিছিল পর্যন্ত করতে দেয়া হয়নি। দুনিয়ার আদালতে এর কোনো বিচার না হলেও আখেরাতের আদালতে আল্লাহ অবশ্য এর বিচার করবেন ইনশাআল্লাহ।
নির্যাতনে হতাহত ছাত্রদের নিজেদের কর্মী দাবি করে তখন শিবির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, 'এমএম কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তিনটি ছাত্রাবাস থেকে ওই ছাত্রদের ধরে আসাদ হলের ২০১ নম্বর কক্ষে নিয়ে নির্যাতন করেন। পরে পুলিশ ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণাধীন হল থেকে তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে তখন ছাত্রলীগ নেতারা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছাত্রলীগের কেউ কোনো নির্যাতন করেননি। আর আসাদ হল থেকে নয়, হলের পাশ থেকে পুলিশ তাদের নিয়ে গেছে। তবে তখন ঘটনায় মামলা নেয়নি পুলিশ। বাধ্য হয়ে এ ঘটনার ১৯ দিন পর আদালতে মামলা দায়ের করেন কামরুলের বড় ভাই ইব্রাহিম হোসেন। এই মামলায় ১৩ জনের নাম পরিচয় উল্লেখ করে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল তৎকালীন যশোর শহর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান রনি, যুগ্ম আহ্বায়ক স্থানছাবিল আহমেদ জিসান, এমএম কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান, কর্মী দূর ইসলাম, জামাল হোসেন, ইয়াসিন মোহাম্মাদ কাজল ও সজিবুর রহমান। আদালত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলাটি কোতোয়ালি থানায় পাঠায়।
ওই সময় এসআই সাহাবুল আলম বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেখানে নিহতদের শিবির সমর্থক উল্লেখ করা হলেও হামলাকারীদের কোনো পরিচয় না দিয়ে অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জন দুষ্কৃতকারী উল্লেখ করা হয়। ২০১৭ সালের ৬ জুন ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। এ রিপোর্টের ফলাফল কী তা-ও জানে না নিহতের পরিবার। এদিকে, ঘটনার পর চার বছর হতে যাচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আটক হয়নি কোনো আসামি। দুইজনকে প্রকাশ্য পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত অধিকাংশ আসামিই সরকারি এমএম কলেজের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। তারা প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ নিয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার ২নং আসামি স্থানছাবিল আহম্মেদ জিসান ছিল যশোর শহর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। প্রকাশ্যে ছাত্র নির্যাতনের 'বীরত্ব' দেখানোর পর সে এখন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। পদ নির্ধারণে এমন পন্থা অবলম্বন করায় দিন দিন ছাত্রলীগ হয়ে উঠছে আরো বেপরোয়া।
আসামিরা এক সময় আইনি প্রক্রিয়া থামিয়ে দিতেও মরিয়া হয়ে ওঠে। এদিকে হুমকি দেয়া হয়, মামলা তুলে না নিলে তাকেও একই পরিণতির শিকার হতে হবে। বাদি ইব্রাহিম হোসেন জীবনের নিরাপত্তার অভাবে মালয়েশিয়া চলে গেছেন।
মামলার অন্যতম আইনজীবী রোকনুজ্জামান বলেন, দুইজন ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা খুবই বেদনাদায়ক। আইনজীবী হিসেবে খুনিদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বিচার প্রক্রিয়া সুদূর পরাহত। চার বছরে একজন আসামিও আটক হয়নি। তিনি বলেন, দেশে বিরাজমান বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই খুনিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং আবরার হত্যার মতো নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।মতো নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
'যশোরে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের পিটুনিতে শিবির কর্মী নিহত' শিরোনামে দৈনিক নয়াদিগন্ত নিম্মোক্ত সংবাদ পরিবেশন করেন-
যশোরে ছাত্রাবাস থেকে ধরে এনে ছাত্রশিবিরের এক কর্মীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। তাদের প্রহারে আরো দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল বিকেলে যশোর সরকারি এমএম কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত হাবিবুল্লাহ যশোরের শার্শা উপজেলার তেবাড়িয়া গ্রামের নিয়ামত আলীর ছেলে।
আহত দুইজন হলেন, বাঘারপাড়া উপজেলার ছোট খুদরা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে কামরুল হাসান ও মাগুরার শালিখা উপজেলার আতিয়ার রহমানের ছেলে আল-মামুন। তারা সবাই যশোর সরকারি এমএম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।
আহত ছাত্র আল মামুন দাবি করেছেন, ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের ছাত্রাবাসে হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করে তাদের আহত করেছে। বেধড়ক মারপিটে হাবিবুল্লাহ মারা গেছেন।
তবে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল জানিয়েছেন, এ ঘটনার সাথে ছাত্রলীগ কর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। হতাহতরা সবাই ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী। শিবিরের গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে সাধারণ ছাত্ররা তাদের মারধর করেছে।
এ ব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি সিকদার আক্কাস আলী জানান, এমএম কলেজ এলাকার একটি ছাত্রাবাসে শিবির কর্মীরা গোপন বৈঠক করছিল। এ খবর পেয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাঁদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় সাধারণ ছাত্ররা তাদের 'গণপিটুনি' দেয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে তিনজনকেই আহত অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সন্ধ্যায় আহতদের মধ্যে হাবিবুল্লাহ মারা যান।
প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ
প্রথম আলো, বাংলামেইলসহ কিছু গণমাধ্যমে যশোরে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের নির্যাতনে নিহত শিবির নেতাদের গণপিটুনিতে নিহত উল্লেখ করে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতিআবদুল জব্বার ও সেক্রেটারী জেনারেল আতিকুর রহমান বলেন,ছাত্রলীগ নিরীহ ছাত্রদের নৃশংসভাবে খুন করে বর্বরতার পরিচয় দিয়েছে আর প্রথম আলো ও বাংলামেইলের মত গণমাধ্যম তা আড়াল করার অপচেষ্টা করে বর্বরদের সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছে। গত ২৩শে নভেম্বরদুপুর ২টায় যশোর সরকারি মাইকেল মধুসৃধন কলেজের অর্থনীতির ৩য় বর্ষের ছাত্র মোঃ হাবিবুল্লাহ হুসাইন, কামরুল হাসান, আব্দুল্লাহ আল মামুনকে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রওশন ইকবাল শাহীর নেতৃত্বে জিসান, রনি, জুয়েলসহ ১০-১৫জন ছাত্রলীগ ক্যাডার মেস থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে কলেজের আসাদ হলে আটকে রেখে তাদেরউপর বর্বর নির্যাতন চালানো হয়। ঘন্টাখানেক পর পুলিশ এসে আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালেনিয়ে গেলে হাবিবুল্লাহ হুসাইনকে মৃত ঘোষণা করেকর্তব্যরত চিকিৎসক। অন্য দুই জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়। তার মধ্যে কামরুল হাসানের অবস্থার অবনতিহলে তাকে ঢাকায় আনার পথে সেও রাত ২টায় মারা যায়। ছাত্রলীগের এই বর্বরতায় যখন ধিক্কারের ঝড় উঠেছেতখন তা আড়াল করতে এসব গণমাধ্যমের এইন্যক্কারজনক মিথ্যাচার চরমদায়িত্বহীনতার নিকৃষ্ট উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। ছাত্রলীগ অব্যাহত সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া নৃশংসতার জন্য এসব গণমাধ্যমের দায়িত্বহীন ভূমিকা অনেকাংশে দায়ী বলে দেশবাসী মনে করে। এসব গণমাধ্যমের বুঝা উচিৎ, প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে নৃশংসতা আড়াল আরেকটি নৃশংসতাকে উৎসাহিত করে। নেতৃবৃন্দ ভবিষ্যতে এমন অমানবিক অপপ্রচার থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রতি আহবান জানান। জানাজা ২৪ তারিখ বাদ আসর নিজ বাড়ির উঠোনে শহীদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন শহর শাখার সভাপতি আজহারুল ইসলাম।
এক নজরে শহীদ মোঃ কামরুল হাসান
নাম: মোঃ কামরুল হাসান
পিতার নাম: মোহাম্মদ আলী
পিতার পেশা: কৃষি
মাতার নাম: মোছাঃ জাহানারা বেগম
মাতার পেশা: গৃহিণী
জন্ম তারিখ: ৪ জুলাই ১৯৯৪
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- ছোট খুদড়া, পোস্ট- বন্দবিলা উপজেলা- বাঘারপাড়া, জেলা- যশোর।
ভাই বোন: দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে তৃতীয়
সাংগঠনিক মান: সদস্য প্রার্থী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির
সর্বশেষ পড়াশুনা: অনার্স ৩য় বর্ষ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সরকারী এম এম কলেজ, যশোর
আহত হওয়ার স্থান: শহীদ আসাদ হল, সরকারী এম এম কলেজ, যশোর
কাদের আঘাতে শহীদ: রড, হাতুড়ি, হকিস্টিক, স্ট্যাম্প, জিআই পাইপ দিয়ে পেটানো হয়
শাহাদাতের তারিখ: ছাত্রলীগ: ২৩ নভেম্বর ২০১৫, ঢাকার নেবার পথে দৌলতদিয়া
ফেরি ঘাটের কাছে, রাত সাড়ে বারোটায়

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍