শহীদ মো:মাহফুজুর রহমান
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ মো:মাহফুজুর রহমান (০৪৪)। ফলিয়া মাধ্যমিক উচ্চবিদ্যালয়-দশম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিলেন। সাংগঠনিক মান: ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী। জন্ম তারিখ ও বয়স: ১২.০৫.১৯৯৬, ১৮ বছর। আহত হওয়ার তারিখ:৪ মার্চ ২০১৩।ডান পায়ের উরুতে গুলি করে পুলিশ। শাহাদাতের তারিখ: ৪ মার্চ ২০১৩, সকাল ৯:৩০টার দিকে শাহাদাত বরণ করেন। স্থান:উল্লাপাড়া। দাফন করা হয়: বাড়ির পাশে 1 স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: ফলিয়া পশ্চিম পাড়া, ডাকঘর: পূর্নিমাগাঁতী, ইউনিয়ন: পূর্নিমাগাঁতী উপজেলা: উল্লাপাড়া, জেলা: সিরাজগঞ্জ। পিতা: মো: আজিজুল হক প্রামানিক, বয়স প্রায় ৬৪ বছর, কৃষি। মাতা: মোসা: ময়না খাতুন, বয়স প্রায় ৪৫ বছর, গৃহিণী, অধিকাংশ সময় রোগে ভোগেন। ভাই-বোনের বিবরণ: মো: আব্দুল মতিন, বয়স-২৭। মোসা: মুরশিদা খাতুন, বয়স-১৯, বিবাহিতা, গৃহিণী। শহীদ মো:মাহফুজুর রহমান।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
"শহীদ মো: মাহফুজুর রহমান আল্লামা সাঈদী সাহেবের ক্যাসেট খুবই আগ্রহের সাথে শুনতো। রায়ের আগের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বুধবার সেতার পিঠাপিঠি বড় বোন মুরশিদা খাতুন যার সাথেছিল তার খুবই সখ্য তাকে বলেছিল, 'আল্লামা সাঈদীর রায়ে যদি ফাঁসি হয়, আমারও দেখ ২-৩ দিনের ভেতর মৃত্যু হয়ে যাবে। তার স্বজনরা আজ শোকে পাথর। সত্যি আল্লাহ তার বান্দার কথাকে কিভাবে কাঁটায় কাঁটায় কবুল করেছেন।"
১.শহীদের পরিচিতি
শহীদ মোঃ মাহফুজুর রহমান সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার ফলিয়া (পশ্চিম পাড়া) গ্রামে ১৯৯৬ইং সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পিতা আজিজুল হক প্রামানিক ও মাতা ময়না খাতুনের তিন সন্তানের মধ্যে সবার ছোট। দরিদ্র পিতা-মাতা আর্থিক অভাব অনটনের কারণে সন্তানদের মুখে দু'মুঠো ভাতের যোগান দিতে ব্যস্ত ছিলেন। পারেননি তাদের পড়া-লেখার ভাল কোন ব্যবস্থা করতে। শহীদ মোঃ মাহফুজুর রহমান অনেক কষ্টে দশম শ্রেণী পর্যন্ত যেতে সক্ষম হয়েছিলেন। বর্তমানে তার পিতা খুবই অসুস্থ, টিউমার হয়েছে। অপারেশন করতে হবে। তাইতো পড়া-লেখার পাশাপাশি দরিদ্র পিতার সাথে হাল ধরতে হয়েছে সংসারের। একমাত্র বড় ভাই তাঁত ও কৃষি কাজ করেন এবং একমাত্র বোন বিবাহিতা। এত অভাব অনটন সত্ত্বেও শহীদ মো: মাহফুজুর রহমান ছিলেন নম্র, ভদ্র, সৎ ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী। তাইতো আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে অন্যায় রায়ের পর তিনি আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি। প্রতিবাদ করতে নেমে এসেছেন রাজপথে।
২. যেভাবেতিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে ঘোষিত ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ৪ মার্চ ২০১৩ তারিখে জামায়াতের ডাকে দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছিল। সকাল ৬টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি প্রতিবাদ মিছিল ও পিকেটিং-এ অংশগ্রহণ করেন। শান্তিপূর্ণ পিকেটিং এর ওপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি করলে তিনি পূর্ব দেলুয়া নামক জায়গায় সকাল ৭:৩০ মিনিটে ডান উরুতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত অবস্থায় গ্রেফতার হন। পুলিশ তাকে চিকিৎসা না দিয়ে থানায় নিয়ে ফেলে রাখলে এক পর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি সকাল ৯:৩০ দিকে শাহাদাত বরণ করেন। তার জানাযার নামাজে ইমামতি করেন জনাব মো: শামসুল আলম। জানাযার নামাজে প্রায় ১৫ হাজার লোক অংশগ্রহণ করেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে ঘোষিত ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ৪ মার্চ ২০১৩ তারিখে জামায়াতের ডাকে দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছিল। সকাল ৬টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি প্রতিবাদ মিছিল ও পিকেটিং এ অংশগ্রহণ করেন। শান্তিপূর্ণ পিকেটিং চলাকালে জনতার ওপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি করলে তিনি ঊরুতে গুলিবিদ্ধ হয়েআহত অবস্থায় গ্রেফতার হন। পুলিশ তাকেচিকিৎসা না দিয়ে থানায় নিয়ে ফেলে রাখলে এক পর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। পরেরদিন জাতীয় দৈনিকসমূহে এবিষয়ে বিস্তারিত নিউজ আসে; দৈনিক আমার দেশ ৫ মার্চ, ২০১৩ রিপোর্ট করে; উল্লাপাড়ায় স্কুলছাত্র নিহত: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পূর্বদেলুয়ায় জামায়াত-শিবির ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে শিবির কর্মী স্কুলছাত্র মাহফুজুর নিহত হয়েছে। সে স্থানীয় ফোলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র। এ সময় ৫ জন গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ ২৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের উল্লাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তিকরা হয়েছে। গতকাল সকালে হরতাল সমর্থকরা বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ব ফোলিয়ায় পাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করার সময় পুলিশ বাধা দিলে এ সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশের রাবার বুলেট ও টিয়ারশেলে ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়। আহতদের হাসপাতালে নেয়ার পথে মাহফুজুর মারা যায়। অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাঐতারায় একটি বেইলি ব্রিজের পাটাতন তুলে ফেলে হরতাল সমর্থকরা বিক্ষোভ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলি চালিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দৈনিক সংগ্রাম ৬ মার্চ, ২০১৩ জানাজা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট করে; উল্লাপাড়ায় নিহত শিবির কর্মীর নামাযে জানাযায় শোকার্ত মানুষের ঢল উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: মাওলানা সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে জামায়াতের ডাকা হরতালের দ্বিতীয় দিনে উল্লাপাড়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত মাহফুজুরের নামাযে জানাযায় শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। গত সোমবার রাতে উল্লাপাড়া থানা থেকে পুলিশ নিহত মাহফুজুরের লাশ তার গ্রামের বাড়ি উপজেলার ফলিয়া গ্রামে পৌঁছালে সহপাঠী শিক্ষার্থী আর গ্রামবাসীর আহাজারিতে এক বেদনাবিধুর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় নিহত মাহফুজুরের লাশ নামাযেজানাযার জন্য তার স্কুল ফলিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে পৌঁছালে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। বিভিন্ন এলাকা থেকে খন্ড খন্ড মিছিল এসে স্কুলের বিশাল মাঠ শোকার্ত মানুষের ভিড়েউপচে পড়ে। জানাযা পূর্ব সমাবেশে জামায়াত শিবির ও ১৮ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দের পক্ষে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট শামছুল আলম, রায়গঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান এ.বি.এম আব্দুস ছাত্তার, উল্লাপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মেয়র বেলাল হোসেন, রায়গঞ্জ পৌর মেয়র মোশারফ হোসেন আকন্দ, বিএনপি নেতা আজাদ হোসেন, এডভোকেট আব্দুর রশিদ চাঁদ, সলঙ্গা বিএনপি সভাপতি মতিয়ার রহমান, সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ শহর শিবিরের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম, এডভোকেট আবু তালেব, সভাপতি সোলায়মান হোসেন, সলঙ্গার আমির হোসাইন, উল্লাপাড়া জামায়াতের সেক্রেটারি আলাউদ্দিন আল আজাদ, ফলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বুলবুল হোসেন প্রমুখ।
৪. সাঈদীর ফাঁসি হলে আমারও মৃত্যুহয়ে যাবে
শহীদ মো:মাহফুজুর রহমান আল্লামা সাঈদী সাহেবের ক্যাসেট খুবই আগ্রহের সাথে শুনতো। রায়ের আগের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বুধবার সে তার পিঠাপিঠি বড় বোন মুরশিদা খাতুন যার সাথেছিল তার খুবই সখ্য তাকে বলেছিল, 'আল্লামা সাঈদীর রায়ে যদি ফাঁসি হয়, আমারও দেখ ২-৩ দিনের ভেতর মৃত্যু হয়ে যাবে। তার স্বজনরা আজ শোকে পাথর। সত্যি আল্লাহ তার বান্দার কথাকেকিভাবে কাঁটায় কাঁটায় কবুল করেছেন। ৫. বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা ২ রুম বিশিষ্ট টিনের ছোট্ট ১টি ঘর আছে, পাটকাঠির বেড়ার ঘর ১টি, চাষাবাদের তেমন কোন জমিজমা নেই। কোন মতে তাদের সংসার চলে।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো:মাহফুজুর রহমান (০৪৪)। ফলিয়া মাধ্যমিক উচ্চবিদ্যালয়-দশম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিলেন। সাংগঠনিক মান: ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী। জন্ম তারিখ ও বয়স: ১২.০৫.১৯৯৬, ১৮ বছর। আহত হওয়ার তারিখ:৪ মার্চ ২০১৩।ডান পায়ের উরুতে গুলি করে পুলিশ। শাহাদাতের তারিখ: ৪ মার্চ ২০১৩, সকাল ৯:৩০টার দিকে শাহাদাত বরণ করেন। স্থান:উল্লাপাড়া। দাফন করা হয়: বাড়ির পাশে 1 স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: ফলিয়া পশ্চিম পাড়া, ডাকঘর: পূর্নিমাগাঁতী, ইউনিয়ন: পূর্নিমাগাঁতী উপজেলা: উল্লাপাড়া, জেলা: সিরাজগঞ্জ। পিতা: মো: আজিজুল হক প্রামানিক, বয়স প্রায় ৬৪ বছর, কৃষি। মাতা: মোসা: ময়না খাতুন, বয়স প্রায় ৪৫ বছর, গৃহিণী, অধিকাংশ সময় রোগে ভোগেন। ভাই-বোনের বিবরণ: মো: আব্দুল মতিন, বয়স-২৭। মোসা: মুরশিদা খাতুন, বয়স-১৯, বিবাহিতা, গৃহিণী। শহীদ মো:মাহফুজুর রহমান।
১.শহীদের পরিচিতি
শহীদ মোঃ মাহফুজুর রহমান সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার ফলিয়া (পশ্চিম পাড়া) গ্রামে ১৯৯৬ইং সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পিতা আজিজুল হক প্রামানিক ও মাতা ময়না খাতুনের তিন সন্তানের মধ্যে সবার ছোট। দরিদ্র পিতা-মাতা আর্থিক অভাব অনটনের কারণে সন্তানদের মুখে দু'মুঠো ভাতের যোগান দিতে ব্যস্ত ছিলেন। পারেননি তাদের পড়া-লেখার ভাল কোন ব্যবস্থা করতে। শহীদ মোঃ মাহফুজুর রহমান অনেক কষ্টে দশম শ্রেণী পর্যন্ত যেতে সক্ষম হয়েছিলেন। বর্তমানে তার পিতা খুবই অসুস্থ, টিউমার হয়েছে। অপারেশন করতে হবে। তাইতো পড়া-লেখার পাশাপাশি দরিদ্র পিতার সাথে হাল ধরতে হয়েছে সংসারের। একমাত্র বড় ভাই তাঁত ও কৃষি কাজ করেন এবং একমাত্র বোন বিবাহিতা। এত অভাব অনটন সত্ত্বেও শহীদ মো: মাহফুজুর রহমান ছিলেন নম্র, ভদ্র, সৎ ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী। তাইতো আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে অন্যায় রায়ের পর তিনি আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি। প্রতিবাদ করতে নেমে এসেছেন রাজপথে।
২. যেভাবেতিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে ঘোষিত ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ৪ মার্চ ২০১৩ তারিখে জামায়াতের ডাকে দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছিল। সকাল ৬টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি প্রতিবাদ মিছিল ও পিকেটিং-এ অংশগ্রহণ করেন। শান্তিপূর্ণ পিকেটিং এর ওপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি করলে তিনি পূর্ব দেলুয়া নামক জায়গায় সকাল ৭:৩০ মিনিটে ডান উরুতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত অবস্থায় গ্রেফতার হন। পুলিশ তাকে চিকিৎসা না দিয়ে থানায় নিয়ে ফেলে রাখলে এক পর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি সকাল ৯:৩০ দিকে শাহাদাত বরণ করেন। তার জানাযার নামাজে ইমামতি করেন জনাব মো: শামসুল আলম। জানাযার নামাজে প্রায় ১৫ হাজার লোক অংশগ্রহণ করেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে ঘোষিত ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ৪ মার্চ ২০১৩ তারিখে জামায়াতের ডাকে দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছিল। সকাল ৬টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি প্রতিবাদ মিছিল ও পিকেটিং এ অংশগ্রহণ করেন। শান্তিপূর্ণ পিকেটিং চলাকালে জনতার ওপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি করলে তিনি ঊরুতে গুলিবিদ্ধ হয়েআহত অবস্থায় গ্রেফতার হন। পুলিশ তাকেচিকিৎসা না দিয়ে থানায় নিয়ে ফেলে রাখলে এক পর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। পরেরদিন জাতীয় দৈনিকসমূহে এবিষয়ে বিস্তারিত নিউজ আসে; দৈনিক আমার দেশ ৫ মার্চ, ২০১৩ রিপোর্ট করে; উল্লাপাড়ায় স্কুলছাত্র নিহত: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পূর্বদেলুয়ায় জামায়াত-শিবির ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে শিবির কর্মী স্কুলছাত্র মাহফুজুর নিহত হয়েছে। সে স্থানীয় ফোলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র। এ সময় ৫ জন গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ ২৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের উল্লাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তিকরা হয়েছে। গতকাল সকালে হরতাল সমর্থকরা বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ব ফোলিয়ায় পাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করার সময় পুলিশ বাধা দিলে এ সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশের রাবার বুলেট ও টিয়ারশেলে ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়। আহতদের হাসপাতালে নেয়ার পথে মাহফুজুর মারা যায়। অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাঐতারায় একটি বেইলি ব্রিজের পাটাতন তুলে ফেলে হরতাল সমর্থকরা বিক্ষোভ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলি চালিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দৈনিক সংগ্রাম ৬ মার্চ, ২০১৩ জানাজা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট করে; উল্লাপাড়ায় নিহত শিবির কর্মীর নামাযে জানাযায় শোকার্ত মানুষের ঢল উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: মাওলানা সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে জামায়াতের ডাকা হরতালের দ্বিতীয় দিনে উল্লাপাড়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত মাহফুজুরের নামাযে জানাযায় শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। গত সোমবার রাতে উল্লাপাড়া থানা থেকে পুলিশ নিহত মাহফুজুরের লাশ তার গ্রামের বাড়ি উপজেলার ফলিয়া গ্রামে পৌঁছালে সহপাঠী শিক্ষার্থী আর গ্রামবাসীর আহাজারিতে এক বেদনাবিধুর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় নিহত মাহফুজুরের লাশ নামাযেজানাযার জন্য তার স্কুল ফলিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে পৌঁছালে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। বিভিন্ন এলাকা থেকে খন্ড খন্ড মিছিল এসে স্কুলের বিশাল মাঠ শোকার্ত মানুষের ভিড়েউপচে পড়ে। জানাযা পূর্ব সমাবেশে জামায়াত শিবির ও ১৮ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দের পক্ষে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট শামছুল আলম, রায়গঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান এ.বি.এম আব্দুস ছাত্তার, উল্লাপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মেয়র বেলাল হোসেন, রায়গঞ্জ পৌর মেয়র মোশারফ হোসেন আকন্দ, বিএনপি নেতা আজাদ হোসেন, এডভোকেট আব্দুর রশিদ চাঁদ, সলঙ্গা বিএনপি সভাপতি মতিয়ার রহমান, সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ শহর শিবিরের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম, এডভোকেট আবু তালেব, সভাপতি সোলায়মান হোসেন, সলঙ্গার আমির হোসাইন, উল্লাপাড়া জামায়াতের সেক্রেটারি আলাউদ্দিন আল আজাদ, ফলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বুলবুল হোসেন প্রমুখ।
৪. সাঈদীর ফাঁসি হলে আমারও মৃত্যুহয়ে যাবে
শহীদ মো:মাহফুজুর রহমান আল্লামা সাঈদী সাহেবের ক্যাসেট খুবই আগ্রহের সাথে শুনতো। রায়ের আগের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বুধবার সে তার পিঠাপিঠি বড় বোন মুরশিদা খাতুন যার সাথেছিল তার খুবই সখ্য তাকে বলেছিল, 'আল্লামা সাঈদীর রায়ে যদি ফাঁসি হয়, আমারও দেখ ২-৩ দিনের ভেতর মৃত্যু হয়ে যাবে। তার স্বজনরা আজ শোকে পাথর। সত্যি আল্লাহ তার বান্দার কথাকেকিভাবে কাঁটায় কাঁটায় কবুল করেছেন। ৫. বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা ২ রুম বিশিষ্ট টিনের ছোট্ট ১টি ঘর আছে, পাটকাঠির বেড়ার ঘর ১টি, চাষাবাদের তেমন কোন জমিজমা নেই। কোন মতে তাদের সংসার চলে।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো:মাহফুজুর রহমান (০৪৪)। ফলিয়া মাধ্যমিক উচ্চবিদ্যালয়-দশম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিলেন। সাংগঠনিক মান: ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী। জন্ম তারিখ ও বয়স: ১২.০৫.১৯৯৬, ১৮ বছর। আহত হওয়ার তারিখ:৪ মার্চ ২০১৩।ডান পায়ের উরুতে গুলি করে পুলিশ। শাহাদাতের তারিখ: ৪ মার্চ ২০১৩, সকাল ৯:৩০টার দিকে শাহাদাত বরণ করেন। স্থান:উল্লাপাড়া। দাফন করা হয়: বাড়ির পাশে 1 স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: ফলিয়া পশ্চিম পাড়া, ডাকঘর: পূর্নিমাগাঁতী, ইউনিয়ন: পূর্নিমাগাঁতী উপজেলা: উল্লাপাড়া, জেলা: সিরাজগঞ্জ। পিতা: মো: আজিজুল হক প্রামানিক, বয়স প্রায় ৬৪ বছর, কৃষি। মাতা: মোসা: ময়না খাতুন, বয়স প্রায় ৪৫ বছর, গৃহিণী, অধিকাংশ সময় রোগে ভোগেন। ভাই-বোনের বিবরণ: মো: আব্দুল মতিন, বয়স-২৭। মোসা: মুরশিদা খাতুন, বয়স-১৯, বিবাহিতা, গৃহিণী। শহীদ মো:মাহফুজুর রহমান।