শহীদ মাওলানা আবদুল জলিল
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ মাওলানা আবদুল জলিল
পিতা: মৃত রিয়াজউদ্দীন ফকির
মাতা: মৃত রহিমা খাতুন
জন্ম তারিখ: ২৬ মার্চ ১৯৬৬
স্ত্রীর নাম: রাবেয়া খাতুন
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- ধুকুরিয়া বেড়া, থানা- বেলকুচি, জেলা- সিরাজগঞ্জ
পেশা: পশু ডাক্তার
সাংগঠনিক মান: রুকন প্রার্থী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
দায়িত্ব: ইউনিট সভাপতি
শাহাদাতের স্থান।: সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল
পিতা: মৃত রিয়াজউদ্দীন ফকির
মাতা: মৃত রহিমা খাতুন
জন্ম তারিখ: ২৬ মার্চ ১৯৬৬
স্ত্রীর নাম: রাবেয়া খাতুন
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- ধুকুরিয়া বেড়া, থানা- বেলকুচি, জেলা- সিরাজগঞ্জ
পেশা: পশু ডাক্তার
সাংগঠনিক মান: রুকন প্রার্থী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
দায়িত্ব: ইউনিট সভাপতি
শাহাদাতের স্থান।: সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ মাওলানা আবদুল জলিল ১৯৬৬ সালের ২৬ মার্চ সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানাধীন ধুকুরিয়া বেড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পেশায় পশু ডাক্তার আবদুল জলিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকনপ্রার্থী এবং ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিটের সভাপতি ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান।
২০১৩ সালে ২৭ নভেম্বর, বুধবার, আনুমানিক বেলা ১১.৩০ মিনিটের সময় স্থানীয় সাংসদ আব্দুল লতিফ। বিশ্বাস এর ইঙ্গিতে ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে মিছিলে পুলিশ ও আ'লীগ সরাসরি গুলি করলে জামায়াত নেতা শহীদ আবদুল জলিল মহান আল্লাহর ডাকে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে আখেরাতের অনন্ত জীবনে চলে যান।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচী উপলক্ষ্যে ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রায় পাঁচ সহস্রাধিক জামায়াত-বিএনপি নেতাকর্মী মিছিল ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের কল্যাণপুর থেকে উপজেলা সদরের দিকে আসতে থাকে। মিছিলটি মুকুন্দগাঁতী বাজারে আসামাত্র আওয়ামীলীগ যুবলীগের সশস্ত্র গুন্ডবাহিনী হামলা করে মিছিলে। এতে সংঘর্ষ বেধে গেলে আওয়ামীলীগ কর্মীরা জামায়াত নেতা আব্দুল জলিলকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এক পর্যায়ে পুলিশ-বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে জামায়াত কর্মীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট, গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে ২১জন গুলিবদ্ধিসহ অন্ততঃ ৫০জন আহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পথে আব্দুল জলিল শাহাদাত বরণ করেন।
শহীদের মরদেহ বাড়ীতে আনার পর বিকেল তিনটার দিকে পুলিশ পোস্টমর্টেমের জন্য পুনরায় লাশ নিয়ে যায়। পরে রাত এগারোটার দিকে লাশ হস্তান্তর করা হয়। পরদিন সকাল দশটায় ধুকুরিয়া বেড়াস্থ গাবের পাড়া ডিবি ফাজিল মাদরাসা মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যক্ষ আলী আলম।
আপনজনদের কথা
শহীদের আপনজন বলতে বৃদ্ধা মা, প্রিয়তমা স্ত্রী, আদরের ২ ছেলে ও ১ মেয়ে সহ আপন ৫ ভাই ১ বোন। ভাই বোনদের মধ্যে শহীদ ডাঃ মাওলানা আব্দুল জলিল এর অবস্থান ছিল ১ম। শহীদের বৃদ্ধা মা মাওলানা আব্দুল জলিল এর মৃত্যুর পর শোক-বিহ্বল কণ্ঠে বলেন, "আব্দুল জলিলকে বড় আশা নিয়ে আলেম বানিয়েছিলাম। আমার মৃত্যুর পর সে আমার জানাযা পরবে। কিন্তু আমার সে আশা পূর্ণ হলো না। বড় ভালো মানুষ ছিল আমার সোনার বেটা। কোনদিন আমার সাথে খারাপ আচরণ করেনি। আমি আল্লাহর কাছে আমার বেটা হত্যার বিচার চাই। শহীদের মা হিসেবে আজ আমি গর্বিত"।
শহীদের স্ত্রী বেগম রাবেয়া খাতুন নিজেকে শহীদের স্ত্রী ভেবে গর্ববোধ করেন বলে দাবী করেন। তিনি বলেন, "স্বামীর দেখানো পথ ধরে আমি আমার সন্তানদেরকেও দ্বীনের পথে কুরআনের জন্য উৎসর্গ করলাম।"
শহীদের বড় ছেলে জাহিদুল ইসলাম বলেন- ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর আমাদের ছেড়ে আব্বা শাহাদাত বরণ করে আল্লাহর ডাকে সারা দিয়ে চলে গেছেন ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজীউন। আজ ৬ বছর পরেও আব্বার স্মৃতি এখনো ভুলতে পারিনি। প্রতিনিয়ত, প্রতিমুহূর্তে আব্বার কথা মনে পড়ে। তার কথা মনে হলে বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে। নিমিষেই দুচোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে। আব্বার কথা মনে হলে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। প্রতি ওয়াক্ত নামাজে তার জন্য দোয়া, দান সাদাকার পাশাপাশি কবর জিয়ারত করার চেষ্টা করি। বাবা মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন যে কত বড় নেয়ামত বেঁচে থাকতে বুঝি না। তারা চলে গেলে বুঝি যে কত বড় নেয়ামত হারিয়েছি। আব্বার সাথে যতটুকু সদাচরণ করা কর্তব্য ছিল তা করতে পারিনি। এজন্য আমিও ক্ষমা প্রার্থী। আর আব্বার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি আপনি অনুগ্রহ করে তার সব গুনাহ ক্ষমা করে তার কবর আজাব মাফ করে দিন, তার সৎ আমলগুলো কবুল করুন। তার আত্মীয় স্বজনদেরও ক্ষমা করুন। শহীদ হিসেবে কবুল করুন। 'রাব্বীর হামহুমা কামা রব্বাইয়ানিস সগীরা"। আমাদের মানুষ করার চেষ্টা করেছেন আব্বা। ইসলামী আন্দোলনের জন্য তিনি সব সময় আমাদের উৎসাহ দিতেন। আমরা চাই আল্লাহ যেন আব্বাকে শহীদ হিসেবে কবুল করে। আল্লাহ যেন জান্নাতে আমাদেরকে একসাথে থাকার ব্যবস্থা করেন। আব্বার মতো যারা শহীদ হয়েছেন তাদের সকলের রক্তের বিনিময়ে আল্লাহ বাংলাদেশে ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করে।
জাহিদুল আরো বলেন- একদিন আমরা মাঠে কাজ করছিলাম। মাঠ থেকে ফেরার পথে দুইটা বোঝা ছিল। তিনি দুইটাই নিজের মাথায় নিয়ে নিলেন। আমাদের দুই ভাইয়ের কষ্ট হবে ভেবে তিনি আমাদেরকে দিলেন না। মিছিলের দিন আমরা একসাথে মিছিলে গেলাম। আমরা ফিরে আসলাম অথচ আব্বা আর আসলেন না। শহীদের কন্যা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার অগ্রসর কর্মী জাকিয়া খাতুন বলেন- আমার বাবার মতো কাউকে দেখিনি। তিনি কোনদিন আমাকে নাম ধরে ডাকেননি। আমাকে ডাকতেন সোনা বেটি বলে। নানুবাড়ি যাবার সময় আমাকে কোলে করে নিয়ে যেতেন। কোনদিন কোন কষ্ট পেতে দেননি। অনেক ছোট বয়সে বাবাকে হারিয়েছি।
শহীদের পরিবারে শহীদের স্ত্রী মোসাঃ রাবেয়া খাতুন ছাড়াও শহীদের দুই পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে। বড় পুত্র জাহিদুল ইসলামের বর্তমান বয়স পঁচিশ বছর। তিনি বর্তমানে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে অধ্যায়নরত। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের তিনি সাথী ও বেলকুচি থানার অফিস সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শহীদের দ্বিতীয় পুত্র জাকারিয়া হোসেন অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যায়ন করছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের তিনি কর্মী। এবং শহীদের সর্বশেষ সন্তান একমাত্র কন্যা জাকিয়া খাতুন নবম শ্রেণীতে পড়ছেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার তিনি অগ্রসর কর্মী।
এক নজরে শহীদ মাওলানা আবদুল জলিল
পুরোনাম: শহীদ মাওলানা আবদুল জলিল
পিতা: মৃত রিয়াজউদ্দীন ফকির
মাতা: মৃত রহিমা খাতুন
জন্ম তারিখ: ২৬ মার্চ ১৯৬৬
স্ত্রীর নাম: রাবেয়া খাতুন
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- ধুকুরিয়া বেড়া, থানা- বেলকুচি, জেলা- সিরাজগঞ্জ
পেশা: পশু ডাক্তার
সাংগঠনিক মান: রুকন প্রার্থী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
দায়িত্ব: ইউনিট সভাপতি
শাহাদাতের স্থান।: সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান।
২০১৩ সালে ২৭ নভেম্বর, বুধবার, আনুমানিক বেলা ১১.৩০ মিনিটের সময় স্থানীয় সাংসদ আব্দুল লতিফ। বিশ্বাস এর ইঙ্গিতে ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে মিছিলে পুলিশ ও আ'লীগ সরাসরি গুলি করলে জামায়াত নেতা শহীদ আবদুল জলিল মহান আল্লাহর ডাকে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে আখেরাতের অনন্ত জীবনে চলে যান।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচী উপলক্ষ্যে ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রায় পাঁচ সহস্রাধিক জামায়াত-বিএনপি নেতাকর্মী মিছিল ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের কল্যাণপুর থেকে উপজেলা সদরের দিকে আসতে থাকে। মিছিলটি মুকুন্দগাঁতী বাজারে আসামাত্র আওয়ামীলীগ যুবলীগের সশস্ত্র গুন্ডবাহিনী হামলা করে মিছিলে। এতে সংঘর্ষ বেধে গেলে আওয়ামীলীগ কর্মীরা জামায়াত নেতা আব্দুল জলিলকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এক পর্যায়ে পুলিশ-বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে জামায়াত কর্মীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট, গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে ২১জন গুলিবদ্ধিসহ অন্ততঃ ৫০জন আহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পথে আব্দুল জলিল শাহাদাত বরণ করেন।
শহীদের মরদেহ বাড়ীতে আনার পর বিকেল তিনটার দিকে পুলিশ পোস্টমর্টেমের জন্য পুনরায় লাশ নিয়ে যায়। পরে রাত এগারোটার দিকে লাশ হস্তান্তর করা হয়। পরদিন সকাল দশটায় ধুকুরিয়া বেড়াস্থ গাবের পাড়া ডিবি ফাজিল মাদরাসা মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যক্ষ আলী আলম।
আপনজনদের কথা
শহীদের আপনজন বলতে বৃদ্ধা মা, প্রিয়তমা স্ত্রী, আদরের ২ ছেলে ও ১ মেয়ে সহ আপন ৫ ভাই ১ বোন। ভাই বোনদের মধ্যে শহীদ ডাঃ মাওলানা আব্দুল জলিল এর অবস্থান ছিল ১ম। শহীদের বৃদ্ধা মা মাওলানা আব্দুল জলিল এর মৃত্যুর পর শোক-বিহ্বল কণ্ঠে বলেন, "আব্দুল জলিলকে বড় আশা নিয়ে আলেম বানিয়েছিলাম। আমার মৃত্যুর পর সে আমার জানাযা পরবে। কিন্তু আমার সে আশা পূর্ণ হলো না। বড় ভালো মানুষ ছিল আমার সোনার বেটা। কোনদিন আমার সাথে খারাপ আচরণ করেনি। আমি আল্লাহর কাছে আমার বেটা হত্যার বিচার চাই। শহীদের মা হিসেবে আজ আমি গর্বিত"।
শহীদের স্ত্রী বেগম রাবেয়া খাতুন নিজেকে শহীদের স্ত্রী ভেবে গর্ববোধ করেন বলে দাবী করেন। তিনি বলেন, "স্বামীর দেখানো পথ ধরে আমি আমার সন্তানদেরকেও দ্বীনের পথে কুরআনের জন্য উৎসর্গ করলাম।"
শহীদের বড় ছেলে জাহিদুল ইসলাম বলেন- ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর আমাদের ছেড়ে আব্বা শাহাদাত বরণ করে আল্লাহর ডাকে সারা দিয়ে চলে গেছেন ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজীউন। আজ ৬ বছর পরেও আব্বার স্মৃতি এখনো ভুলতে পারিনি। প্রতিনিয়ত, প্রতিমুহূর্তে আব্বার কথা মনে পড়ে। তার কথা মনে হলে বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে। নিমিষেই দুচোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে। আব্বার কথা মনে হলে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। প্রতি ওয়াক্ত নামাজে তার জন্য দোয়া, দান সাদাকার পাশাপাশি কবর জিয়ারত করার চেষ্টা করি। বাবা মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন যে কত বড় নেয়ামত বেঁচে থাকতে বুঝি না। তারা চলে গেলে বুঝি যে কত বড় নেয়ামত হারিয়েছি। আব্বার সাথে যতটুকু সদাচরণ করা কর্তব্য ছিল তা করতে পারিনি। এজন্য আমিও ক্ষমা প্রার্থী। আর আব্বার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি আপনি অনুগ্রহ করে তার সব গুনাহ ক্ষমা করে তার কবর আজাব মাফ করে দিন, তার সৎ আমলগুলো কবুল করুন। তার আত্মীয় স্বজনদেরও ক্ষমা করুন। শহীদ হিসেবে কবুল করুন। 'রাব্বীর হামহুমা কামা রব্বাইয়ানিস সগীরা"। আমাদের মানুষ করার চেষ্টা করেছেন আব্বা। ইসলামী আন্দোলনের জন্য তিনি সব সময় আমাদের উৎসাহ দিতেন। আমরা চাই আল্লাহ যেন আব্বাকে শহীদ হিসেবে কবুল করে। আল্লাহ যেন জান্নাতে আমাদেরকে একসাথে থাকার ব্যবস্থা করেন। আব্বার মতো যারা শহীদ হয়েছেন তাদের সকলের রক্তের বিনিময়ে আল্লাহ বাংলাদেশে ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করে।
জাহিদুল আরো বলেন- একদিন আমরা মাঠে কাজ করছিলাম। মাঠ থেকে ফেরার পথে দুইটা বোঝা ছিল। তিনি দুইটাই নিজের মাথায় নিয়ে নিলেন। আমাদের দুই ভাইয়ের কষ্ট হবে ভেবে তিনি আমাদেরকে দিলেন না। মিছিলের দিন আমরা একসাথে মিছিলে গেলাম। আমরা ফিরে আসলাম অথচ আব্বা আর আসলেন না। শহীদের কন্যা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার অগ্রসর কর্মী জাকিয়া খাতুন বলেন- আমার বাবার মতো কাউকে দেখিনি। তিনি কোনদিন আমাকে নাম ধরে ডাকেননি। আমাকে ডাকতেন সোনা বেটি বলে। নানুবাড়ি যাবার সময় আমাকে কোলে করে নিয়ে যেতেন। কোনদিন কোন কষ্ট পেতে দেননি। অনেক ছোট বয়সে বাবাকে হারিয়েছি।
শহীদের পরিবারে শহীদের স্ত্রী মোসাঃ রাবেয়া খাতুন ছাড়াও শহীদের দুই পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে। বড় পুত্র জাহিদুল ইসলামের বর্তমান বয়স পঁচিশ বছর। তিনি বর্তমানে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে অধ্যায়নরত। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের তিনি সাথী ও বেলকুচি থানার অফিস সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শহীদের দ্বিতীয় পুত্র জাকারিয়া হোসেন অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যায়ন করছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের তিনি কর্মী। এবং শহীদের সর্বশেষ সন্তান একমাত্র কন্যা জাকিয়া খাতুন নবম শ্রেণীতে পড়ছেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার তিনি অগ্রসর কর্মী।
এক নজরে শহীদ মাওলানা আবদুল জলিল
পুরোনাম: শহীদ মাওলানা আবদুল জলিল
পিতা: মৃত রিয়াজউদ্দীন ফকির
মাতা: মৃত রহিমা খাতুন
জন্ম তারিখ: ২৬ মার্চ ১৯৬৬
স্ত্রীর নাম: রাবেয়া খাতুন
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- ধুকুরিয়া বেড়া, থানা- বেলকুচি, জেলা- সিরাজগঞ্জ
পেশা: পশু ডাক্তার
সাংগঠনিক মান: রুকন প্রার্থী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
দায়িত্ব: ইউনিট সভাপতি
শাহাদাতের স্থান।: সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍