হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ আলমগীর হোসেন সুমন
শহীদ আলমগীর হোসেন সুমন

শহীদ আলমগীর হোসেন সুমন

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ আলমগীর হোসেন
গিতা: মোঃ জসিম উদ্দিন, বয়স ও পেশা: ৫৫ বছর, ক্ষুদ্র ব্যবসা
মাতা: নুরজাহান বেগম, বয়স ও পেশা: ৪৫ বছর, গৃহিনী
সন্তান: মোঃ সিয়াম হোসেন
জন্ম তারিখ: ১৯৮৬ সাল
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- চরফুল গাগড়াখালী, ইউনিয়ন- দৌলতপুর, থানা- বেলকুচি ডাকঘর- কল্যাণপুর, জেলা- সিরাজগঞ্জ
লেশা: তাঁত শ্রমিক
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মোঃ আলমগীর হোসেন ১৯৮৬ সালে সিরাজগঞ্জ জিলার বেলকুচি থানার চরফুল গাগড়াখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁতশ্রমিক ছিলেন। তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনার পর সাংসারিক অসচ্ছলতায় তিনি তাঁতশ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন। এলাকায় দাওয়াতী কাজের জন্য তিনি সকলের প্রিয় ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান।
০৯.০৪.১৪ ইং তারিখ রাত ১০ ঘটিকার সময় উপজেলা নির্বাচনোত্তর সহিংসতা ঠেকানোর জন্য সাধারণ গ্রামবাসীর সাথে একত্রিত হয়ে রাত জেগে গ্রাম পাহারা দেওয়ার সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় শহীদ আলমগীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
০৯.০৪.২০১৪ তারিখ রাত ১০টায় দুধর্ষ পেশাদার খুনি ও আওয়ামী সন্ত্রাসী আব্দুল মজিদ ওরফে ব্যাঙ্গ মজিদ স্থানীয় সন্ত্রাসীদের নিয়ে জামায়াত কর্মী আসলাম উদ্দিনের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় জামায়াত ও বিএনপি'র নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিহত করলে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। রাত দেড়টার দিকে পুনরায় সন্ত্রাসী আব্দুল মজিদের নেতৃত্বে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা অতর্কিত আক্রমণ চালায় ও মারপিট করতে থাকে। তাদের এলোপাতারী হামলায় তাঁতশ্রমিক আলমগীর হোসেন বুকে-পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মক আহত হন। হাসপাতালে নেবার পথে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। এই হামলায় আরো ৫ জন আহত হয়।
আপনজনদের কথা
পিতা: ছেলেকে হারিয়ে পিতা পাগলপারা। তিনি বলেন- যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই।
স্ত্রী: আমার নিরপরাধ স্বামীকে শুধু মাত্র ইসলামী আন্দোলন করার কারণে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার কামনা করি। তিন বছরের শিশু সন্তান মোঃ সিয়াম হোসেন পিতার শোকে নির্বাক।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
দৈনিক প্রথম আলো "সিরাজগঞ্জে আ.লীগের সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত-কর্মী নিহত" শিরোনামে ১০ এপ্রিল ২০১৪ নিম্মোক্ত খবর প্রচার করে-
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে গতকাল বুধবার রাতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আলমগীর হোসেন (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। এ ঘটনায় উপজেলায় আগামী রোববার আধাবেলা হরতাল ডেকেছে জেলা জামায়াত।
জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম জানান, নিহত আলমগীর জামায়াতের ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন কমিটির বায়তুল মাল সম্পাদক ছিলেন। আলমগীর উপজেলার ধুলিরচর গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বেলকুচির ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের ধুলিরচর গ্রামে আওয়ামী লীগের কর্মীদের সঙ্গে জামায়াত-সমর্থকদের রাজনৈতিক বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গতকাল বুধবার রাত নয়টার দিকে আওয়ামী লীগের কর্মী আবদুল মজিদ ওরফে ব্যাঙ মজিদের সমর্থকদের সঙ্গে জামায়াত-সমর্থক আসলাম মাস্টারের সহযোগীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরস্পরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন আহত হন। তাঁদের সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে আলমগীর মারা যান।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মজিদের ভাইয়ের ছেলে রুবেল রানা ও আমিনকে আটক করে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকায় বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম ইউসুফী খান জানান, এলাকাটি জামায়াত-শিবিরের কর্মী-অধ্যুষিত। ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগেও এখানে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরপর গত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী কিছু ভোট পেলে জামায়াত ক্ষুব্ধ হয়। এরই জের ধরে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হাই জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
দৈনিক ইত্তেফাক "সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগ জামায়াত সংঘর্ষে নিহত ১' শিরোনামে খবর প্রচার করে-
জেলার বেলকুচি উপজেলার ধুলিরচর গ্রামে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আলমগীর হোসেন (২৫) নামে এক শিবির কর্মী নিহত হয়েছে। নিহত আলমগীর হোসেন একই গ্রামের জসিম উদ্দিন বন্দুর ছেলে। এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াত আগামী রবিবার বেলকুচি উপজেলায় আধাবেলা হরতালের ডাক দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ধুলিরচর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মজিদের বাড়িতে গত বছর হামলার ঘটনায় গ্রামের জামায়াত নেতা আসলাম উদ্দিনের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। এ ঘটনার জের ধরে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আব্দুল মজিদ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আসলাম উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া করলে তারা পিছু হটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানায়, রাত দেড়টার দিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ফের হামলা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে আলমগীর হোসেনকে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত পাঁচজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বওড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রুবেল রানা ও চরদুলগাগরাখালি গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিন উদ্দিনকে আটক করেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম ইউসুফ জী খান জানান, বুধবার রাতে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালালে এই ঘটনা ঘটে।
এদিকে জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য শহীদুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। কর্মী হত্যার ঘটনায় জেলা জামায়াতের সিদ্ধান্তে আগামী রবিবার বেলকুচিতে আধাবেলা হরতাল ডাকা হয়েছে। বেলকুচি থানার ওসি আব্দুল হাই জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এক নজরে শহীদ আলমগীর হোসেন
পুরোনাম: শহীদ আলমগীর হোসেন
গিতা: মোঃ জসিম উদ্দিন, বয়স ও পেশা: ৫৫ বছর, ক্ষুদ্র ব্যবসা
মাতা: নুরজাহান বেগম, বয়স ও পেশা: ৪৫ বছর, গৃহিনী
সন্তান: মোঃ সিয়াম হোসেন
জন্ম তারিখ: ১৯৮৬ সাল
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- চরফুল গাগড়াখালী, ইউনিয়ন- দৌলতপুর, থানা- বেলকুচি ডাকঘর- কল্যাণপুর, জেলা- সিরাজগঞ্জ
লেশা: তাঁত শ্রমিক
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍