হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ আনিসুর রহমান
শহীদ আনিসুর রহমান

শহীদ আনিসুর রহমান

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ আনিসুর রহমান
পিতার নাম: জাহাঙ্গীর হোসেন
মাতার নাম: আনোয়ারা খাতুন
জন্ম তারিখ: অক্টোবর ৩, ১৯৯৬
ভাই বোন: তিন ভাই এক বোনের মধ্যে দ্বিতীয়
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- পারকুল গয়হাট্টা, ইউনিয়ন- পুর্নিমাগাতি খানা- উল্লাপাড়া, জেলা- সিরাজগঞ্জ
সাংগঠনিক মান: সাথী
সর্বশেষ পড়ালেখা: একাদশ শ্রেণী, মওলানা ভাসানী ডিগ্রি কলেজ
শাহাদাতের স্থান: সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ আনিসুর রহমান ১৯৯৬ সালের ৩ অক্টোবর সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া সদর উপজেলার পারকুল গয়হাট্টা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ও মাতা মোসাঃ আনোয়ারা খাতুনের সংসারে চার সন্তানের মধ্যে আনিসুর রহমান দ্বিতীয়। মাওলানা ভাসানি কলেজে এইচএসসি বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী ও সংগঠনের সাথী মোঃ আনিসুর রহমান। শাহাদাতের সময় তাঁর পরীক্ষা চলছিল, দুই বিষয় পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
১৩ এপ্রিল ২০১৫। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান এর ফাঁসির রায়ের পরের দিন হরতাল চলাকালে পুলিশের নির্যাতনে শাহাদাতবরণ করেন।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শাহাদাতের কিছুদিন আগে সিরাজগঞ্জ কুটুমবাড়ির পাশ থেকে মামাতো ভাইসহ ভাঙচুরের মামলায় একবার গ্রেফতার হন শহীদ আনিসুর রহমান। তখন ঢাকার গাজীপুরে অবস্থিত কিশোর সংশোধনাগারে ছিলেন তিনি। ছাব্বিশ দিন কারাবরণের পর জামিন পান তিনি।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ।
রাত ৯টার দিকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি মাথায় নিয়ে নিজ মেস থেকে শহরের সয়াগোবিন্দ মামার বাড়িতে আসার সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন শহীদ আনিসুর রহমান। এরপর অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ডান পায়ের হাঁটুর নিচে উপর্যুপরি গুলি করে পুলিশ, অবস্থার অবনতি হলে রাতে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে ফেলে রাখে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ভোররাতে তিনি শাহাদাতবরণ করেন।
হাসপাতাল থেকে ১৪ এপ্রিল দুপুর বারোটার দিকে লাশ গ্রহণ করেন দূর সম্পর্কের আত্মীয় রুহুল আমিন। বিকেল পাঁচটায় শহীদের মরদেহ বাড়িতে আনা হয়। এরপর গয়হাট্টা বাজার কেন্দ্রিয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মনসুরের ইমামতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পর তাকে গয়হাট্টা কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আপনজনদের কথা
শহীদ আনিসুর রহমানের পিতা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন- আনিসুর ছিল আমার চোখের মনি। সন্তান হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব হয়ে গেলাম। কারো সাথে সে কখনও রাগ পর্যন্ত করেনি। আমরা কিভাবে বেঁচে আছি আল্লাহ জানেন। যাওয়ার সময় সে আমার কাছে টাকা চেয়েছিল, আমি তার মায়ের হাতে টাকা দিয়ে মাঠে চলে গিয়েছিলাম। যদি জানতাম সেদিনের দেখাই শেষ দেখা হবে।
শহীদ আনিসুর রহমানের মা বিলাপ করতে করতে বলেন- আমার বেটার ব্যবহারের কথা বলতে গেলে চিৎকার করে কান্না আসে। সে আমাকে বলেছিল, মা একটু ধৈর্য্য ধরো। আমি বড় হলে তোমার সব দুঃখ কেটে যাবে। শাহাদাতের দুইদিন আগে সে বাড়ি থেকে গিয়েছিল। শনিবার ফোন করে বলেছিল- আমার জন্য দোয়া করো।
শহীদের পরিবার
শহীদ আনিসুর রহমানের পরিবারে পিতা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন পেশায় কৃষক। পঞ্চান্ন বছর বয়সে নিজের অল্প কিছু জমি ও অন্যের কাছ থেকে কিছু বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে সংসারের ভার বহন করছেন। শহীদের মা মোসাঃ আনোয়ারা খাতুনের বয়স চল্লিশ বছর। পুত্র হারানোর ব্যথায় তিনি ক্ষণে ক্ষণে বিলাপ করে উঠছেন। শহীদের ভাই-বোনদের মধ্যে সবার বড় বোন তানজিলা খাতুনের বয়স বিশ বছর। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তিনি থাকেন স্বামীর সংসারে। পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান শহীদ আনিসুর রহমান। আনিসুর রহমানের ছোট ভাই আরিফুল ইসলামের বর্তমান বয়স আঠারো বছর। আরিফুল রাজশাহী কলেজে প্রথম বর্ষে অধ্যায়নরত। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথী। শহীদের অপর ছোট ভাই শরীফুল ইসলামের বর্তমান বয়স ষোল বছর। পিতার সাথে কৃষি কাজ করেন তিনি।
এক নজরে শহীদ আনিসুর রহমান
পুরোনাম: শহীদ আনিসুর রহমান
পিতার নাম: জাহাঙ্গীর হোসেন
মাতার নাম: আনোয়ারা খাতুন
জন্ম তারিখ: অক্টোবর ৩, ১৯৯৬
ভাই বোন: তিন ভাই এক বোনের মধ্যে দ্বিতীয়
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- পারকুল গয়হাট্টা, ইউনিয়ন- পুর্নিমাগাতি খানা- উল্লাপাড়া, জেলা- সিরাজগঞ্জ
সাংগঠনিক মান: সাথী
সর্বশেষ পড়ালেখা: একাদশ শ্রেণী, মওলানা ভাসানী ডিগ্রি কলেজ
শাহাদাতের স্থান: সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍