হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মো: বদিউজ্জামান
শহীদ মো: বদিউজ্জামান

শহীদ মো: বদিউজ্জামান

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ মোঃ বদিউজ্জামান (০৩৬), পেশা: ছাত্র (ফাজিল, ৩য় বর্ষ)।
সাংগঠনিক মান: সাথী।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৮.১০.১৯৯১, বয়স ২২ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ৫ নভেম্বর ২০১২, ডান চোখে রাবার বুলেট লেগেছে। মাথায় পুলিশের লাঠির আঘাত।
শাহাদাতের তারিখ: ১০-১১-২০১২, ফজর নামাযের পর। স্থান। ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতাল, কাকরাইল।
*
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: হোল্ডিং-১২০, তেলিহার, ডাকঘর: আমদই, ইউনিয়ন-কুসুম্বা থানা। পাঁচবিবি, জেলা: জয়পুরহাট।
* পিতা: মৃত আব্বাস আলী, কৃষিকাজ করতেন।
মাতা: খোবেলা খানম, ৬২ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: টিনের এবং মাটির একটি বসতবাড়ি। চাষাবাদের কোন জমি নেই। টিউবওয়েল ও টয়লেট নেই।
* ভাই-বোনের বিবরণ: নাজমুন নাহার, বিবাহিতা, স্বামী কৃষক, ফাতেমা খাতুন, বিবাহিত, স্বামী কৃষক, পারভীন আক্তার, বিবাহিতা, স্বামী কৃষক, গোলাপী বেগম, বিবাহিতা, স্বামী কৃষক, আরজানা, বিবাহিতা, স্বামী কৃষক, মনজু আরা, বিবাহিতা, স্বামী কৃষক।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

"বদিউজ্জামান পৃথিবীর ইতিহাসে হয়তো এক ব্যতিক্রমী মৃত্যু। রাত ৮টায় বগুড়াতে লাশবাহী গাড়ি পুলিশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় (এটাকে গ্রেফতার নাকি কিডন্যাপ। বলা হবে)। খানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ নভেম্বর জামায়াতের মিছিলে পুলিশের হামলা নিয়ে সদর থানার ওসি বাদি হয়ে মামলা করেন। যার নং হচ্ছে ০৯। তারিখ ০৫.১১.১২। মোদ্দা কথা যে ঘটনায় তার মৃত্যু সে মামলায় সেই আসামি। ঘটনার আট মাস পরেও সে মামলা এখনও পেন্ডিং। এই মামলায় বদিউজ্জামানকে ১৩ নং আসামি করা হয়েছিল। তার জন্য কি সত্যি হলো আনলাকি ১৩? অবশ্য ধৈর্যশীলরা আল্লাহর চূড়ান্ত ফায়সালার অপেক্ষায় থাকেন।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ বদিউজ্জমান জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার তেলিহার গ্রামে ১৯৯১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা আব্বাস মণ্ডল ও মা খোবেলা খানমের সাত সন্তানের মধ্যে তিনি সবার ছোট এবং একমাত্র ছেলে। অন্য ছয় বোনেরই বিবাহ হয়ে গেছে। ছোট বেলা থেকে ভাল ছাত্র হিসেবে তিনি সকলের নিকট পরিচিত ছিলেন। শহীদ বদিউজ্জামান তার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন হাতিগাড়া ডি এস এস মাদ্রাসা থেকে। এরপর একই প্রতিষ্ঠান থেকে মাধ্যমিক শেষ করে কোড়ই নুরুল হুদা কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন। এখান থেকে আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ফাজিল শ্রেণীতে ভর্তি হন। শাহাদাতের আগ পর্যন্ত তিনি ফাজিল ৩য় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ২০০৪ সালে বাবা মারা গেছেন। মা খোবেলা খানম গৃহিণী। শহীদের বোন জামাইদের সহযোগিতায় তার সংসার কোন মতে চলে।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলে
দিনটি ছিল ৫ নভেম্বর ২০১২। অবৈধ ট্রাইব্যুনাল বাতিল এবং মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। তারই অংশ হিসেবে জয়পুরহাটেও সেদিন বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। উক্ত মিছিলে সরকারি নির্দেশে পুলিশ বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায় ও লাঠিচার্জ করে। এর একপর্যায়ে বদিউজ্জামান-এর ডান চোখে রাবার বুলেটের আঘাত লাগে। এরপর পুলিশের বেপরোয়া লাঠির আঘাতে মাথা ফেটে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ২ কিলোমিটার দুরে জয়পুরহাট হাসপাতালে তাকে আনা হয় ও পরে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। মাথায় ৮-১০টি সেলাই ছিল। সেখানেও অবস্থার অবনতি ঘটলে পরে তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেয়া হয়। তারপর তাকে কাকরাইলস্থ ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থা আরো খারাপ হলে তার একটি চোখ তুলে ফেলতে হয়। এখানেই ১০-১১-২০১২ তারিখ ঘটনার ৫দিন পর ফজর নামাযের পরপরই তিনি শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন। ১১ নভেম্বর ২০১২ তারিখ শহীদের জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয় হাবিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। প্রায় ৩০ হাজার লোকের বিশাল সেই জানাযায় ইমামতি করেন মাওলানা সানোয়ার হোসেন। জানাজা শেষে শহীদের নিজ বাড়িতেই দাফন করা হয়।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
বিশ্ববিখ্যাত মুফাস্সির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে এবং বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। তারই অংশ হিসেবে জয়পুরহাটেও সেদিন বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। উক্ত মিছিলে সরকারি নির্দেশে পুলিশ বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায় ও লাঠিচার্জ করে। সে মিছিলে ৫০ জন গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক লোক আহত হন। তাদের একজন ছিলেন শহীদ মো: বদিউজ্জামান। শহীদ মো। বদিউজ্জামান এর ডান চোখে রাবার বুলেটের আঘাত লাগে। এরপর পুলিশের বেপরোয়া লাঠির আঘাতে মাথা ফেটে যায়। তারপর তাকে কাকরাইলস্থ ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থা আরো খারাপ হলে তার একটি চোখ তুলে ফেলতে হয়। এখানেই ১০-১১-২০১২ তারিখ ঘটনার ৫ দিন পর ফজর নামাযের পরপরই তিনি শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন।
এরপর তার লাশ ঢাকা থেকে জয়পুরহাট পৌঁছানো, জানাজা, দাফন ও মামলা ইত্যাদি নিয়ে যেসব নাটক মঞ্চস্থ হয় তা জাতীয় পত্রিকায় বর্ণিত হয়েছে। ১২ নভেম্বর ২০১২ দৈনিক সংগ্রাম রিপোর্ট করে, জয়পুরহাটে শিবির নেতা শহীদ বদিউজ্জামানের জানাযায় জনতার ঢল' জয়পুরহাট: গত ৫ নভেম্বর পুলিশের গুলিতে নিহত শিবির নেতা বদিউজ্জামানের জানাযার একাংশ সংগ্রাম জয়পুরহাট থেকে মাশরেকুল আলম: পাঁচবিবিতে শিবির নেতা শহীদ বদিউজ্জামানের নামাজে জানাযা শেষে পুলিশি প্রহরায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তাকে শেষ বিদায় জানাতে নামাজে জানাযায় নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে।
নামাজে জানাযায় জনতার ঢল
শনিবার সন্ধ্যায় লাশ জয়পুরহাটে পৌঁছলে পুলিশি হেফাজতে লাশ মর্গে রাখা হয়। সকালে লাশের ময়না তদন্ত করা হয়। সকালে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশি প্রহরায় নিহত বদিউজ্জামানের লাশ তার গ্রামের বাড়ি পাঁচবিবি উপজেলার তেলিহার গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। পূর্ব ঘোষিত সময় অনুযায়ী হাবিবপুর স্কুল মাঠে সকাল সাড়ে ১১টায় তার নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার পূর্বে নিহত বদিউজ্জামানের গ্রাম তেলিহার ও জানাযার স্থান হাবিবপুর স্কুল মাঠের চতুর্পাশের রাস্তায় পুলিশ সশস্ত্র অবস্থান নেয়। এতে জনমনে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আইন-শৃংখলা রক্ষায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
গতকাল রোববার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে দলে দলে সাধারণ মানুষসহ জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা জানাযায় শরিক হওয়ার জন্য তেলিহার গ্রাম ও হাবিবপুর স্কুল মাঠে জমায়েত হতে থাকে। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন জামায়াত কর্মী মাওলানা সানোয়ার হোসেন। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার হাবিবপুর স্কুল মাঠে গতকাল সকালে নামাযে জানাযা শেষে ৫ নভেম্বর পুলিশ-জামায়াত সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত শিবির নেতা বদিউজ্জামানকে তেলিহার গ্রামে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে পুলিশি প্রহরায় দাফন করা হয়েছে।
লাশ ছিনিয়ে নেয় পুলিশ
শনিবার ঢাকা থেকে জয়পুরহাটে আসার পথে বগুড়ার শেরপুরে নিহত বদিউজ্জামানের লাশবাহী মাইক্রোবাস পুলিশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় বলে অভিযোগ করেছেন শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা ইয়াছিন আরাফাত। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত বলেন, ৫ নভেম্বর আহত হয়ে বদিউজ্জামান জয়পুরহাট থেকে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতলে ভর্তি হলেও গত ৫ দিনে ঢাকায় আওয়ামী লীগের কোন নেতা দাবি করেনি সে লীগের লোক। অথচ বগুড়া থেকে পুলিশের মাধ্যমে লাশ ছিনতাই করে তারা লাশ নিয়ে ঘৃণ্য রাজনীতি করে বলে প্রমাণ করেছে। বদিউজ্জামানের জানাযায় আওয়ামী লীগের কোন নেতা উপস্থিত নেই কেন প্রশ্ন করে তিনি বলেন, যদি বদিউজ্জামান তাদের কর্মী হতো তাহলে জানাযায় আ'লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হতেন।
লাশ দিয়ে রাজনীতি
শহীদ বদিউজ্জামানের মা খোবেলা বেগম (৭৫) তার ছেলে শিবির কর্মী নয় দাবি করে শিবির নেতা এরফান ও আমিনুরসহ অজ্ঞাতনামা অসংখ্য শিবির কর্মীর নামে সদর থানায় শনিবার সন্ধ্যায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করিয়েছে। তবে এলাকাবাসী মনে করছেন, এটা আওয়ামী লীগের লাশ নিয়ে ঘৃণ্য রাজনীতিরই একটি অংশ।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ নভেম্বর জামায়াতের মিছিলে পুলিশের হামলা নিয়ে সদর থানার ওসি (তদন্ত) খায়রুল বাশার বাদি হয়ে মামলা করেন। যার নং হচ্ছে ৪৭। তারিখ ০৬.১১.১২। এই মামলাও বদিউজ্জামানকে ১৩ নং আসামি করা হয়েছিল।
শহীদ বদিউজ্জামানের বোন জেবউননেছা, মাদরাসার শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, মসজিদের ইমাম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, কৃষক খাদেমুল, প্রতিবেশী মেরিনাসহ অসংখ বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজন এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ বদিউজ্জামানের শিবির নেতা হওয়ার ব্যাপারে প্রমাণ দিয়েছেন। সন্তানহারা পাগলিনী মাকে ভুল বুঝিয়ে এ ধরনের মামলা করানো হয়েছে বলে তারা মনে করেন। ছাত্রশিবির জেলা শাখার পক্ষ থেকে নিহত বদিউজ্জামানের ব্যবহৃত ডায়েরি, রিপোর্ট বই, বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি স্বাক্ষর, ওই দিন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তিসহ নানা প্রমাণ দেখানো হয়।
৪. স্বজনদের কান্না
'সাত ভাই চম্পা' বাংলাদেশের লোক সাহিত্যের এক সেরা উপাখ্যান। সাত ভাইয়ের ভেতর একটি মাত্র বোন দিয়ে সে কাহিনী। অনেকটা সেই আদলেই বদিউজ্জামানদের পরিবারটি; তবে কিছুটা ভিন্ন। এভাবে বলা যায় 'ছয় বোন, জামান'। ছয় বোনের পর আদরের একমাত্র ভাই বদিউজ্জামান। তাই সবার কলিজার টুকরা ছিল সে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাবা মারা যাওয়ায় তার ওপর দরদ আরো বেড়ে যায় সবার। তিনি তার এলাকা তেলিহার উপশাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। তিনি প্রায়ই বলতেন, 'আমার জীবন দিয়ে হলেও সাঈদীর জীবন বাঁচাতে চাই'। ঘটনার দিন তার গায়ে জ্বর জ্বর ছিল, তার পরও তিনি বলেছেন মিছিলে যাব। স্বজনরা তাদের শঙ্কার কথা বললে তিনি নিরুদ্বেগ ভাবে বলেছেন, 'প্রয়োজনে শহীদ হব'। মা স্বপ্নযোগে ছেলেকে দেখেন, শহীদ বদিউজ্জামান সাদা ধবধবে পাঞ্জাবি গায় বাসায় এসেছে, মাকে বলছে, 'অনেক লোকজন আসছে খাবার দাবার দাও।
বদিউজ্জামান পৃথিবীর ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী মৃত্যু। পাঁচ দিন তিনি মৃত্যুর সাথে লড়াই করে মারা যান। এ সময় কোন খোঁজ না নিলেও মৃত্যুর পরই তাকে আওয়ামী লীগের কর্মী বলে দারি করা হয়। শুধু কি তাই ঢাকা থেকে ফেরার পথে বগুড়া শেরপুর হতেই পুলিশ পিছু ধাওয়া করে এবং রাত ৮ টায় বগুড়াতে লাশবাহী গাড়ি পুলিশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় (এটাকে গ্রেফতার নাকি কিডনাপ। বলা হবে)। পরিবারের অনুমতি বা উপস্থিতি ছাড়াই নিজেদের মতো করে পোস্টমর্টেম করে। ১২ ঘণ্টা পর পরিবারের কাছে লাশ ফেরৎ দেয়। শত শত পুলিশের উপস্থিতিতে জানাজাতে ৩০ হাজার মানুষ আসলেও লাশ দাবিদার আওয়ামী লীগের কেউ আসেনি। পরবর্তীতে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ নভেম্বর জামায়াতের মিছিলে পুলিশের হামলা নিয়ে সদর থানার ওসি (তদন্ত) খায়রুল বাশার বাদি হয়ে মামলা করেন। যার নং হচ্ছে ০৯। তারিখ ০৫.১১.১২। মোদ্দা কথা যে ঘটনায় তার মৃত্যু সে মামলায় সেই আসামি, ঘটনার আট মাস পরেও সে মামলা এখনও পেন্ডিং। এই মামলায় বদিউজ্জামানকে ১৩ নং আসামি করা হয়েছিল। তার জন্য কি সত্যি হলো আনলাকি ১৩? অবশ্য ধৈর্যশীলরা আল্লাহর চূড়ান্ত ফায়সালার অপেক্ষায় থাকেন।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মোঃ বদিউজ্জামান (০৩৬), পেশা: ছাত্র (ফাজিল, ৩য় বর্ষ)।
সাংগঠনিক মান: সাথী।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৮.১০.১৯৯১, বয়স ২২ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ৫ নভেম্বর ২০১২, ডান চোখে রাবার বুলেট লেগেছে। মাথায় পুলিশের লাঠির আঘাত।
শাহাদাতের তারিখ: ১০-১১-২০১২, ফজর নামাযের পর। স্থান। ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতাল, কাকরাইল।
*
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: হোল্ডিং-১২০, তেলিহার, ডাকঘর: আমদই, ইউনিয়ন-কুসুম্বা থানা। পাঁচবিবি, জেলা: জয়পুরহাট।
* পিতা: মৃত আব্বাস আলী, কৃষিকাজ করতেন।
মাতা: খোবেলা খানম, ৬২ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: টিনের এবং মাটির একটি বসতবাড়ি। চাষাবাদের কোন জমি নেই। টিউবওয়েল ও টয়লেট নেই।
* ভাই-বোনের বিবরণ: নাজমুন নাহার, বিবাহিতা, স্বামী কৃষক, ফাতেমা খাতুন, বিবাহিত, স্বামী কৃষক, পারভীন আক্তার, বিবাহিতা, স্বামী কৃষক, গোলাপী বেগম, বিবাহিতা, স্বামী কৃষক, আরজানা, বিবাহিতা, স্বামী কৃষক, মনজু আরা, বিবাহিতা, স্বামী কৃষক।