হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মোছাঃ আছমা
শহীদ মোছাঃ আছমা

শহীদ মোছাঃ আছমা

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ মোছাঃ আছমা
নাম: শহীদ মোছাঃ আছমা
স্বামীর নাম: মোঃ আব্দুস সালেক
পেশা ও বয়স: চাকুরী, ৫৭ বছর।
জন্ম তারিখ: ০৬/০৫/১৯৬২ সাল
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- দত্তপুর, ডাকঘর- পুরানাপৈল
খানা- জয়পুরহাট সদর, জেলা- জয়পুরহাট।
আহত হওয়ার তারিখ: ১৫ ডিসেম্বর/১৩
আহতের ধরণ ও পরবর্তী অবস্থা
পেটে গুলি বিদ্ধ।
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ১৭ ডিসেম্বর-১৩, রাত- ১১.৩০ ঘটিকা।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মোছাঃ আছমা জনু ০৬/০৫/১৯৬২ সালে। স্বামী- মোঃ আব্দুস সালেক, প্যারালাইসিস রোগী। তার এক ছেলে আহসান, মানসিক রোগী। এক মেয়ে ফেন্সী। শহীদ আছমা একজন মহিলা জামায়াত কর্মী ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান।
'ঘটনা স্থল হালয়ী-দন্তপুর' শহীদের নিজ এলাকা। ১৫ডিসেম্বর-১৩ তথাকথিত বিচারের নামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছিল। হরতাল চলাকালে তিনি অসুস্থ স্বামী ও সন্তানের ঔষধ নিয়ে দস্তপুর গ্রামের বাড়ী ফেরাকালে স্থানীয় হালটী ও দন্তপুর গ্রামে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি কর্তৃক অভিযানের সময় গ্রামবাসীরা শক্তিশালী প্রতিরোধ করলে যৌথবাহিনী নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। তাদের গুলিতে মোছাঃ আছমা গুলিবিদ্ধ হন।
১৫ ডিসেম্বর'১৩ বিকেল ৪.০০ ঘটিকার সময় গুলিবিদ্ধ হবার পর স্থানীয়রা প্রথমে জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে অবস্থা গুরুতর হলে পরে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৭/১২/১৩ ইং রাত্রি ১১.৩০ ঘটিকায় শাহাদাত বরণ করেন। দজপুর মাঠে তার জানাজা নামাজ পড়ানো হয়। তার নিজ পারিবারিক কবরস্থানে শহীদ আছমাকে দাফন করা হয়।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শহীদের স্বামী মোঃ আব্দুস সালেক, প্যারালাইসিস রোগী। একমাত্র ছেলে আহসান, মানসিক রোগী। দুই রুগীর সেবাযত্নই শহীদের প্রধান কাজ ছিল। তাই নিয়মিত তিনি ঔষধ নিতে জয়পুরহাট শহরে যাতায়াত করতেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ।
১৫ডিসেম্বর-১৩ তথাকথিত বিচারের নামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ছিল। অত্র এলাকার ইসলামী আন্দোলনের সকল কর্মসূচীই জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরানাপৈল ইউনিয়নের হালট্রী মোড় থেকে শুরু হত। ইসলামী আন্দোলন করার অপরাধে এবং কাদের মোল্লা'র ফাঁসির প্রতিবাদে হরতাল, অবরোধ কর্মসূচী পালন করায় সময় গত ১৫ডিসেম্বর-১৩ ইং স্থানীয় হালরীগ্রামে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি কর্তৃক যৌথ অভিযান শুরু করে। বিকাল ৪টায় তখন আশে পাশের সকল গ্রামের হাজার হাজার মানুষ একত্র হয়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানে তীব্র প্রতিরোধের গড়ে তোলে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ফাঁসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে থাকে। এ সময় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিপি নির্বিচারে শত-শত রাউন্ড টিয়ার সেল ও গুলি বর্ষণ করতে থাকে। সাথে সরকারী দলের লোকেরাও উস্কানী দিতে থাকে। যৌথ বাহিনীর তাণ্ডবে ঘটনাস্থলেই ০৩জন শহীদ হয়।দৈনিক আমার দেশ-এ প্রচারিত সংবাদ মারফত জানা যায়- জয়পুরহাট শহরের হালুটি বাজারে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের ২ কর্মীসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
গতকাল বিকেলে সদর উপজেলার পুরানাপুল হালুটি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সদর উপজেলার জলাকুল গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে শিবিরকর্মী শামীম (২২) এবং হালুটি গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে জামায়াতকর্মী ফিরোজ ও একই গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের ছেলে ইনসান আলী।
প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, গতকাল দুপুর আড়াইটায় জামায়াত-শিবিরকর্মীরা হরতালের সমর্থনে সদর উপজেলার পুরানাপৈল বাজারের কাছে পাকুড়তলী নামক স্থানে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে জয়পুরহাট-হিলি সড়ক অবরোধ করে পিকেটিং করতে থাকে। এ সময় পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে জামায়াত-শিবিরকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। জামায়াত-শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে চারটি ককটেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ জামায়াত-শিবিরকর্মীদের লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা রাস্তা থেকে সরে যায়।
পুলিশ তখন অতিরিক্ত ফোর্স তলব করে। এরপর পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ২২ গাড়ি র‍্যাব-বিজিবি ও পুলিশ পুরানপৈল ইউনিয়নের দন্তপুর, হালুটি, তুলাট, জলাটুল ও হাতীগাড়া এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করে। এ সময় হাজার হাজার গ্রামবাসী লাঠিসোটা, দা-বঁটি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে এসে পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাবের ওই দলকে চারদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলে।
তখন গ্রামবাসীকে লক্ষ্য করে পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাব সদস্যরা নির্বিচারে শত শত গুলিবর্ষণ করে। তুলাট গ্রামের আবদুল জব্বার জানান, র‍্যাব-পুলিশ সাধারণ মানুষের ওপর নিষ্ঠুরভাবে গুলি করেছে। ঘন্টাব্যাপী নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনায় হালুটি গ্রামের রেজওয়ান, রিয়াজুল, হানজালা, শামিম, রবিউল, হাতীগাড়া গ্রামের মাহমুদুল হাসান, খবির উদ্দীন, মনসুর রহমান, ফিরোজ হোসেন, ইনসান আলী, আবদুর রহমান মেম্বার, তাঁর ছেলে সুজন, হাতীগাড়া গ্রামের এনামুল, তুলাট গ্রামের ভ্যানচালক শাকিলসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ জলাটুল গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে শিবিরকর্মী শামিম ও তুলাট গ্রামের ভ্যানচালক ফিরোজ হোসেন মারাত্মক আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে শামিম ও হাসপাতালে ভর্তি করার পর ফিরোজ মারা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী বেলাল হোসেন জানান, বাড়ির উঠানে কর্মরত দন্তপুর গ্রামের আবু সালেহের স্ত্রী রাজিয়া বেগমের পেটে গুলি লাগে। এমনকি মাঠে কর্মরত কৃষকদেরও লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে পুলিশ।
শহীদ আছমার স্বামী-আব্দুস সালেক বলেন, আমার স্ত্রী আমাদের সেবাযত্ন করতে গিয়ে আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছেন। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন।
সন্তানদের বিবরণঃ
মোঃ আহসান হাবিব (ছেলে), ৩৮ বছর, বিবাহিত, মানসিক রোগী
মোছাঃ ফেন্সি বেগম (মেয়ে), ৩২ বছর, বিবাহিত, গৃহিণী
এক নজরে শহীদ মোছাঃ আছমা
শহীদ মোছাঃ আছমা
নাম: শহীদ মোছাঃ আছমা
স্বামীর নাম: মোঃ আব্দুস সালেক
পেশা ও বয়স: চাকুরী, ৫৭ বছর।
জন্ম তারিখ: ০৬/০৫/১৯৬২ সাল
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- দত্তপুর, ডাকঘর- পুরানাপৈল
খানা- জয়পুরহাট সদর, জেলা- জয়পুরহাট।
আহত হওয়ার তারিখ: ১৫ ডিসেম্বর/১৩
আহতের ধরণ ও পরবর্তী অবস্থা
পেটে গুলি বিদ্ধ।
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ১৭ ডিসেম্বর-১৩, রাত- ১১.৩০ ঘটিকা।