হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মোঃ ফিরোজ হোসেন
শহীদ মোঃ ফিরোজ হোসেন

শহীদ মোঃ ফিরোজ হোসেন

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ মোঃ ফিরোজ হোসেন
পিতার নাম: মৃতঃ ফজলু আকন্দ, পেশা। কৃষি।
মাতার নাম: মোছাঃ মরজিনা বেগম, বয়স ৫৮, পেশা। গৃহিণী।
জন্ম তারিখ: ২৫/০৫/১৯৭৫ সাল
বর্তমান ঠিকানা: গ্রাম- হালরী, ডাকঘর- পুরাপৈল থানা- জয়পুরহাট সদর, জেলা- জয়পুরহাট।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- দাদড়া জুতিগ্রাম, জয়পুরহাট সদর, জয়পুরহাট।
আহত হওয়ার তারিখ: ১৫ ডিসেম্বর/১৩
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ১৫ ডিসেম্বর-১৩, সন্ধ্যা- ৫.০০ ঘটিকা।
আহতের ধরণ ও পরবর্তী অবস্থা: বুকের বাম পাশে গুলি লেগে পিঠের ডান পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

পিতা-মাতার ৪ (চার) সন্তানের মধ্যে তিনি ২য় সন্তান। শহীদ মোঃ ফিরোজ হোসেন ২৫/০৫/১৯৭৫ সনে জন্মগ্রহণ করেন। তারা ০২ ভাই ০২ বোন। তিনি পেশায় ভ্যান চালক এবং একজন জামায়াত কর্মী। শহীদের সময় স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রেখে যান।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
'ঘটনা স্থল হালট্রীগ্রাম' শহীদের নিজ এলাকা। ১৫ডিসেম্বর-১৩ তথাকথিত বিচারের নামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইয়ের ফাঁসির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছিল। হরতাল হরতাল কর্মসূচীতে অংশ নেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে শহীদ ফিরোজ হোসেন আসেন। হরতাল চালাকালে স্থানীয় হালরীগ্রামে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি কর্তৃক অভিযানের সময় গ্রামবাসীরা শক্তিশালী প্রতিরোধ করলে যৌথবাহিনী নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। তাদের গুলিতে মোঃ ফিরোজ হোসেন গুলিবিদ্ধ হন।
১৫ ডিসেম্বর'১৩ বিকেল ৪.০০ ঘটিকার সময় গুলিবিদ্ধ হবার পর স্থানীয়রা জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে সন্ধ্যা ৫.০০ ঘটিকায় শাহাদাত বরণ করেন।। চান্দা-জামালপুর মাঠে তার জানাজা নামাজ পড়ানো হয়। তার নিজ পারিবারীক কবরস্থানে শহীদ ফিরোজ হোসেনকে দাফন করা হয়।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শাহাদাতের আগে তিনি ঈমানের তাগিদেই ইসলামী আন্দোলন করতে জামায়াত, শিবির কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণ করতেন। ফিরোজ হোসেন সর্বদায় শহীদ হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেন ঘটনার দিন নিজ বাড়ীতে কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে শাহাদত বরণ করেন।
সামগ্রীক ঘটনার বিবরণ:
১৫ডিসেম্বর-১৩ তথাকথিত বিচারের নামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ছিল। অত্র এলাকার ইসলামী আন্দোলনের সকল কর্মসূচীই জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরানাপৈল ইউনিয়নের হালটি মোড় থেকে শুরু হতো। ইসলামী আন্দোলন করার অপরাধে এবং কাদের মোল্লা'র ফাঁসির প্রতিবাদে হরতাল, অবরোধ কর্মসূচী পালন করায় সময় গত ১৫ডিসেম্বর-১৩ ইং স্থানীয় হালটীগ্রামে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি কর্তৃক যৌথ অভিযান শুরু করে। বিকাল ৪টায় তখন আশে পাশের সকল গ্রামের হাজার হাজার মানুষ একত্র হয়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানে তীব্র প্রতিরোধের গড়ে তোলে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ফাঁসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে থাকে। এ সময় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিপি নির্বিচারে শত-শত রাউন্ড টিয়ারসেল ও গুলিবর্ষণ করতে থাকে। সাথে সরকারী দলের লোকেরাও উস্কানী দিতে থাকে। যৌথ বাহিনীর তাণ্ডবে ঘটনাস্থলেই তিনজন শহীদ হয়।
দৈনিক আমার দেশ-এ প্রচারিত সংবাদ মারফত জানা যায়- জয়পুরহাট শহরের হালুটি বাজারে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের ২ কর্মীসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
গতকাল বিকেলে সদর উপজেলার পুরানাপুল হালুটি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সদর উপজেলার জলাকুল গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে শিবিরকর্মী শামীম এবং হালুটি গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে জামায়াতকর্মী ফিরোজ ও একই গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের ছেলে ইনসান আলী। প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, গতকাল দুপুর আড়াইটায় জামায়াত-শিবিরকর্মীরা হরতালের সমর্থনে সদর উপজেলার পুরানাপৈল বাজারের কাছে পাকুড়তলী নামক স্থানে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে জয়পুরহাট-হিলি সড়ক অবরোধ করে পিকেটিং করতে থাকে। এ সময় পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে জামায়াত-শিবিরকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। জামায়াত-শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে চারটি ককটেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ জামায়াত-শিবিরকর্মীদের লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা রাস্তা থেকে সরে যায়।
পুলিশ তখন অতিরিক্ত ফোর্স তলব করে। এরপর পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ২২ পাড়ি র‍্যাব-বিজিবি ও পুলিশ পুরানপৈল ইউনিয়নের দত্তপুর, হালুটি, তুলাট, জলাটুল ও হাতীগাড়া এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করে। এ সময় হাজার হাজার গ্রামবাসী লাঠিসোটা, দা-বঁটি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে এসে পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাবের ওই দলকে চারদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলে।
তখন গ্রামবাসীকে লক্ষ্য করে পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাব সদস্যরা নির্বিচারে শত শত গুলিবর্ষণ করে।
তুলাট গ্রামের আবদুল জব্বার জানান, র‍্যাব-পুলিশ সাধারণ মানুষের ওপর নিষ্ঠুরভাবে গুলি করেছে। ঘন্টাব্যাপী নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনায় হালুটি গ্রামের রেজওয়ান, রিয়াজুল, হানজালা, শামিম, রবিউল, হাতীগাড়া গ্রামের মাহমুদুল হাসান, খবির উদ্দীন, মনসুর রহমান, ফিরোজ হোসেন, ইনসান আলী, আবদুর রহমান মেম্বার ও তাঁর ছেলে সুজন, হাতীগাড়া গ্রামের এনামুল, তুলাট গ্রামের ভ্যানচালক শাকিলসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ জলাটুল গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে শিবিরকর্মী শামিম ও তুলাট গ্রামের ভ্যানচালক ফিরোজ হোসেন মারাত্মক আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে শামিম ও হাসপাতালে ভর্তি করার পর ফিরোজ মারা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী বেলাল হোসেন জানান, বাড়ির উঠানে কর্মরত দন্তপুর গ্রামের আবু সালেহের স্ত্রী রাজিয়া বেগমের পেটে গুলি লাগে। এমনকি মাঠে কর্মরত কৃষকদেরও লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে পুলিশ।
আপনজনদের কথা
শহীদ ফিরোজ হোসেন এর স্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফিরোজ হোসেন সর্বদায় শহীদ হতে চাইতো।
শহীদের স্ত্রী বলেন- আমার স্বামী ইসলামী আন্দোলনের একজন কর্মী। স্বামীকে হারিয়ে এখন খনিকের জন্য হলেও নিজেকে সামলাতে পারছি না। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন। ভাই-বোনের বিবরণ।
১. মোঃ হিরো (ভাই), রিক্সা চালক
২. মোছাঃ আখতার বানু (বোন), গৃহিণী
৩. মোছাঃ তসলিমা (বোন), গৃহিণী
সন্তানদের বিবরণঃ
১. মোঃ আব্দুল মজিদ ওরফে লিয়ন (ছেলে), ২২/০১/২০০৫, ৪র্থ শ্রেণী
২. মোছাঃ তাসকিয়া (মেয়ে), ০৫/১/২০০৮, শিশু
এক নজরে শহীদ মোঃ ফিরোজ হোসেন
নাম: শহীদ মোঃ ফিরোজ হোসেন
পিতার নাম: মৃতঃ ফজলু আকন্দ, পেশা। কৃষি।
মাতার নাম: মোছাঃ মরজিনা বেগম, বয়স ৫৮, পেশা। গৃহিণী।
জন্ম তারিখ: ২৫/০৫/১৯৭৫ সাল
বর্তমান ঠিকানা: গ্রাম- হালরী, ডাকঘর- পুরাপৈল থানা- জয়পুরহাট সদর, জেলা- জয়পুরহাট।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- দাদড়া জুতিগ্রাম, জয়পুরহাট সদর, জয়পুরহাট।
আহত হওয়ার তারিখ: ১৫ ডিসেম্বর/১৩
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ১৫ ডিসেম্বর-১৩, সন্ধ্যা- ৫.০০ ঘটিকা।
আহতের ধরণ ও পরবর্তী অবস্থা: বুকের বাম পাশে গুলি লেগে পিঠের ডান পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়।