শহীদ মোঃ ইনসান আলী
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ মোঃ ইনসান আলী
পিতার নাম: মরহুম মোঃ মোসলেম হোসেন
মাতার নাম: মোছাঃ রিনা বেগম
বয়স ও পেশা: গৃহিণী, ৪০ বছর।
জন্ম তারিখ: ১২/০৮/১৯৯৮ সাল
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- হালরী, ডাকঘর- পুরানপৈল
খানা- জয়পুরহাট সদর, জেলা- জয়পুরহাট।
আহত হওয়ার তারিখ: ১৫ ডিসেম্বর/১৩
আহতের ধরণ ও পরবর্তী অবস্থা
ডান হাতের কব্জী ও বুকে গুলি লেগে ও পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়।
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ১৫ ডিসেম্বর-১৩, সন্ধ্যা- ৭.০০ ঘটিকা।
পিতার নাম: মরহুম মোঃ মোসলেম হোসেন
মাতার নাম: মোছাঃ রিনা বেগম
বয়স ও পেশা: গৃহিণী, ৪০ বছর।
জন্ম তারিখ: ১২/০৮/১৯৯৮ সাল
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- হালরী, ডাকঘর- পুরানপৈল
খানা- জয়পুরহাট সদর, জেলা- জয়পুরহাট।
আহত হওয়ার তারিখ: ১৫ ডিসেম্বর/১৩
আহতের ধরণ ও পরবর্তী অবস্থা
ডান হাতের কব্জী ও বুকে গুলি লেগে ও পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়।
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ১৫ ডিসেম্বর-১৩, সন্ধ্যা- ৭.০০ ঘটিকা।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ মোঃ ইনসান আলী ১২/০৮/১৯৯৮ সনে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা-মাতার ২ (দুই) সন্তানের মধ্যে তিনি ২য় সন্তান। তিনি নিজ এলাকা হালটী উপ-শাখার ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি ছিলেন। হাতিগাড়া দাখিল মাদ্রাসায় দশম শ্রেণীতে পড়া-লেখা করতেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান।
'ঘটনা স্থল হালটীগ্রাম' শহীদের বাড়ির পাশেই। ১৫ডিসেম্বর-১৩ তথাকথিত বিচারের নামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছিল। হরতাল কর্মসূচীতে অংশ নেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে শহীদ ইনসান আলী আসেন। হরতাল চালাকালে স্থানীয় হালটীগ্রামে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি কর্তৃক অভিযানের সময় গ্রামবাসীরা শক্তিশালী প্রতিরোধ করলে যৌথবাহিনী নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। তাদের গুলিতে মোঃ ইনসান আলী গুলিবিদ্ধ হন।
১৫ ডিসেম্বর'১৩ বিকেল ৪.০০ ঘটিকার সময় গুলিবিদ্ধ হবার পর স্থানীয়রা জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে সন্ধ্যা ৭.০০ ঘটিকায় শাহাদাত বরণ করেন। তুলাট মাঠে শহীদের জানাজা নামাজ পড়ানো হয়। হালড়ী পারিবারিক কবরস্থানে ইনসান আলীকে দাফন করা হয়।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শাহাদাতের আগে তিনি ঈমানের তাগিদেই ইসলামী আন্দোলন করতে জামায়াত, শিবির কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করতেন। ইনসান আলী সর্বদায় শহীদ হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেন এবং ঘটনার আগের দিন নিজ টেবিলে পড়ালেখার করার সময় তার বন্ধুকে বলেছিলেন- আমি কাল থেকে আর প্রাইভেট পড়তে যাবো না। ঘটনার দিন নিজ বাড়ীতে দুপুরের খাবার খেয়ে কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে শাহাদাত বরণ করেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
১৫ডিসেম্বর-১৩ তথাকথিত বিচারের নামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ছিল।
অত্র এলাকার ইসলামী আন্দোলনের সকল কর্মসূচীই জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরানাপৈল ইউনিয়নের হালটি মোড় থেকে শুরু হত। ইসলামী আন্দোলন করার অপরাধে এবং কাদের মোল্লা'র ফাঁসির প্রতিবাদে হরতাল, অবরোধ কর্মসূচী পালন করায় সময় ১৫ ডিসেম্বর ২০১৩ ইং স্থানীয় হালমীগ্রামে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি কর্তৃক যৌথ অভিযান শুরু করে। বিকাল ৪টায় তখন আশেপাশের সকল গ্রামের হাজার হাজার মানুষ একত্র হয়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানে তীব্র প্রতিরোধের গড়ে তোলে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ফাঁসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে থাকে। এ সময় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ, র্যাব, বিজিপি নির্বিচারে শত-শত রাউন্ড টিয়ারসেল ও গুলি বর্ষণ করতে থাকে। সাথে সরকারী দলের লোকেরাও উস্কানী দিতে থাকে। যৌথ বাহিনীর তাণ্ডবে ঘটনাস্থলেই ০৩জন শহীদ হয়।
১৬ ডিসেম্বর ২০১৩, দৈনিক আমার দেশ-এ প্রচারিত সংবাদ মারফত জানা যায়- জয়পুরহাট শহরের হালুটি বাজারে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের ২ কর্মীসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
গতকাল বিকেলে সদর উপজেলার পুরানাপুল হালুটি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সদর উপজেলার জলাকুল গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে শিবিরকর্মী শামীম এবং হালুমি গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে জামায়াতকর্মী ফিরোজ ও একই গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের ছেলে ইনসান আলী। প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, দুপুর আড়াইটায় জামায়াত-শিবিরকর্মীরা হরতালের সমর্থনে সদর উপজেলার পুরানাপৈল বাজারের কাছে পাকুড়তলী নামক স্থানে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে জয়পুরহাট-হিলি সড়ক অবরোধ করে পিকেটিং করতে থাকে। এ সময় পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে জামায়াত-শিবিরকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। জামায়াত-শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে চারটি ককটেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ জামায়াত-শিবিরকর্মীদের লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা রাস্তা থেকে সরে যায়।
পুলিশ তখন অতিরিক্ত ফোর্স তলব করে। এরপর পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ২২ গাড়ি র্যাব-বিজিবি ও পুলিশ পুরানপৈল ইউনিয়নের দন্তপুর, হালুটি, তুলাট, জলাটুল ও হাতীগাড়া এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করে। এ সময় হাজার হাজার গ্রামবাসী লাঠিসোটা, দা-বঁটি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে এসে পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবের ওই দলকে চারদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলে।
তখন গ্রামবাসীকে লক্ষ্য করে পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা নির্বিচারে শত শত গুলিবর্ষণ করে।
তুলটি গ্রামের আবদুল জব্বার জানান, র্যাব-পুলিশ সাধারণ মানুষের ওপর নিষ্ঠুরভাবে গুলি করেছে। ঘণ্টাব্যাপী নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনায় হালুটি গ্রামের রেজওয়ান, রিয়াজুল, হানজালা, শামিম, রবিউল, হাতীগাড়া গ্রামের মাহমুদুল হাসান, খবির উদ্দীন, মনসুর রহমান, ফিরোজ হোসেন, ইনসান আলী, আবদুর রহমান মেম্বার ও তাঁর ছেলে সুজন, হাতীগাড়া গ্রামের এনামুল, তুলাট গ্রামের ভ্যানচালক শাকিলসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ জলাটুল গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে শিবিরকর্মী শামিম ও তুলাট গ্রামের ভ্যানচালক ফিরোজ হোসেন মারাত্মক আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে শামিম ও হাসপাতালে ভর্তি করার পর ফিরোজ মারা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী বেলাল হোসেন জানান, বাড়ির উঠানে কর্মরত দন্তপুর গ্রামের আবু সালেহের স্ত্রী রাজিয়া বেগমের পেটে গুলি লাগে। এমনকি মাঠে কর্মরত কৃষকদেরও লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে পুলিশ।
আপনজনদের কথা
শহীদ ইনসান আলীর পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইনসান আলী সর্বদায় শহীদ হতে চাইত।
শহীদের গর্বিত মা বলেন। আমার সন্তান ইসলামী আন্দোলন তথা ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথী ছিল। তার শহীদ হওয়ায় বাসনা আল্লাহ যেন পূর্ণ করেছেন। কলিজার টুকরো সন্তানকে হারিয়ে এখন খনিকের জন্য হলেও নিজেকে সামলাতে পারছি না। আল্লাহ যেন ইনসান আলীকে জান্নাতবাসী করেন।
এক নজরে শহীদ মোঃ ইনসান আলী
শহীদের নাম: শহীদ মোঃ ইনসান আলী
পিতার নাম: মরহুম মোঃ মোসলেম হোসেন
মাতার নাম: মোছাঃ রিনা বেগম
বয়স ও পেশা: গৃহিণী, ৪০ বছর।
জন্ম তারিখ: ১২/০৮/১৯৯৮ সাল
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- হালরী, ডাকঘর- পুরানপৈল
খানা- জয়পুরহাট সদর, জেলা- জয়পুরহাট।
আহত হওয়ার তারিখ: ১৫ ডিসেম্বর/১৩
আহতের ধরণ ও পরবর্তী অবস্থা
ডান হাতের কব্জী ও বুকে গুলি লেগে ও পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়।
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ১৫ ডিসেম্বর-১৩, সন্ধ্যা- ৭.০০ ঘটিকা।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান।
'ঘটনা স্থল হালটীগ্রাম' শহীদের বাড়ির পাশেই। ১৫ডিসেম্বর-১৩ তথাকথিত বিচারের নামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছিল। হরতাল কর্মসূচীতে অংশ নেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে শহীদ ইনসান আলী আসেন। হরতাল চালাকালে স্থানীয় হালটীগ্রামে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি কর্তৃক অভিযানের সময় গ্রামবাসীরা শক্তিশালী প্রতিরোধ করলে যৌথবাহিনী নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। তাদের গুলিতে মোঃ ইনসান আলী গুলিবিদ্ধ হন।
১৫ ডিসেম্বর'১৩ বিকেল ৪.০০ ঘটিকার সময় গুলিবিদ্ধ হবার পর স্থানীয়রা জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে সন্ধ্যা ৭.০০ ঘটিকায় শাহাদাত বরণ করেন। তুলাট মাঠে শহীদের জানাজা নামাজ পড়ানো হয়। হালড়ী পারিবারিক কবরস্থানে ইনসান আলীকে দাফন করা হয়।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শাহাদাতের আগে তিনি ঈমানের তাগিদেই ইসলামী আন্দোলন করতে জামায়াত, শিবির কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করতেন। ইনসান আলী সর্বদায় শহীদ হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেন এবং ঘটনার আগের দিন নিজ টেবিলে পড়ালেখার করার সময় তার বন্ধুকে বলেছিলেন- আমি কাল থেকে আর প্রাইভেট পড়তে যাবো না। ঘটনার দিন নিজ বাড়ীতে দুপুরের খাবার খেয়ে কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে শাহাদাত বরণ করেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
১৫ডিসেম্বর-১৩ তথাকথিত বিচারের নামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ছিল।
অত্র এলাকার ইসলামী আন্দোলনের সকল কর্মসূচীই জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরানাপৈল ইউনিয়নের হালটি মোড় থেকে শুরু হত। ইসলামী আন্দোলন করার অপরাধে এবং কাদের মোল্লা'র ফাঁসির প্রতিবাদে হরতাল, অবরোধ কর্মসূচী পালন করায় সময় ১৫ ডিসেম্বর ২০১৩ ইং স্থানীয় হালমীগ্রামে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি কর্তৃক যৌথ অভিযান শুরু করে। বিকাল ৪টায় তখন আশেপাশের সকল গ্রামের হাজার হাজার মানুষ একত্র হয়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানে তীব্র প্রতিরোধের গড়ে তোলে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ফাঁসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে থাকে। এ সময় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ, র্যাব, বিজিপি নির্বিচারে শত-শত রাউন্ড টিয়ারসেল ও গুলি বর্ষণ করতে থাকে। সাথে সরকারী দলের লোকেরাও উস্কানী দিতে থাকে। যৌথ বাহিনীর তাণ্ডবে ঘটনাস্থলেই ০৩জন শহীদ হয়।
১৬ ডিসেম্বর ২০১৩, দৈনিক আমার দেশ-এ প্রচারিত সংবাদ মারফত জানা যায়- জয়পুরহাট শহরের হালুটি বাজারে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের ২ কর্মীসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
গতকাল বিকেলে সদর উপজেলার পুরানাপুল হালুটি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সদর উপজেলার জলাকুল গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে শিবিরকর্মী শামীম এবং হালুমি গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে জামায়াতকর্মী ফিরোজ ও একই গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের ছেলে ইনসান আলী। প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, দুপুর আড়াইটায় জামায়াত-শিবিরকর্মীরা হরতালের সমর্থনে সদর উপজেলার পুরানাপৈল বাজারের কাছে পাকুড়তলী নামক স্থানে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে জয়পুরহাট-হিলি সড়ক অবরোধ করে পিকেটিং করতে থাকে। এ সময় পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে জামায়াত-শিবিরকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। জামায়াত-শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে চারটি ককটেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ জামায়াত-শিবিরকর্মীদের লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা রাস্তা থেকে সরে যায়।
পুলিশ তখন অতিরিক্ত ফোর্স তলব করে। এরপর পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ২২ গাড়ি র্যাব-বিজিবি ও পুলিশ পুরানপৈল ইউনিয়নের দন্তপুর, হালুটি, তুলাট, জলাটুল ও হাতীগাড়া এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করে। এ সময় হাজার হাজার গ্রামবাসী লাঠিসোটা, দা-বঁটি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে এসে পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবের ওই দলকে চারদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলে।
তখন গ্রামবাসীকে লক্ষ্য করে পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা নির্বিচারে শত শত গুলিবর্ষণ করে।
তুলটি গ্রামের আবদুল জব্বার জানান, র্যাব-পুলিশ সাধারণ মানুষের ওপর নিষ্ঠুরভাবে গুলি করেছে। ঘণ্টাব্যাপী নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনায় হালুটি গ্রামের রেজওয়ান, রিয়াজুল, হানজালা, শামিম, রবিউল, হাতীগাড়া গ্রামের মাহমুদুল হাসান, খবির উদ্দীন, মনসুর রহমান, ফিরোজ হোসেন, ইনসান আলী, আবদুর রহমান মেম্বার ও তাঁর ছেলে সুজন, হাতীগাড়া গ্রামের এনামুল, তুলাট গ্রামের ভ্যানচালক শাকিলসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ জলাটুল গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে শিবিরকর্মী শামিম ও তুলাট গ্রামের ভ্যানচালক ফিরোজ হোসেন মারাত্মক আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে শামিম ও হাসপাতালে ভর্তি করার পর ফিরোজ মারা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী বেলাল হোসেন জানান, বাড়ির উঠানে কর্মরত দন্তপুর গ্রামের আবু সালেহের স্ত্রী রাজিয়া বেগমের পেটে গুলি লাগে। এমনকি মাঠে কর্মরত কৃষকদেরও লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে পুলিশ।
আপনজনদের কথা
শহীদ ইনসান আলীর পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইনসান আলী সর্বদায় শহীদ হতে চাইত।
শহীদের গর্বিত মা বলেন। আমার সন্তান ইসলামী আন্দোলন তথা ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথী ছিল। তার শহীদ হওয়ায় বাসনা আল্লাহ যেন পূর্ণ করেছেন। কলিজার টুকরো সন্তানকে হারিয়ে এখন খনিকের জন্য হলেও নিজেকে সামলাতে পারছি না। আল্লাহ যেন ইনসান আলীকে জান্নাতবাসী করেন।
এক নজরে শহীদ মোঃ ইনসান আলী
শহীদের নাম: শহীদ মোঃ ইনসান আলী
পিতার নাম: মরহুম মোঃ মোসলেম হোসেন
মাতার নাম: মোছাঃ রিনা বেগম
বয়স ও পেশা: গৃহিণী, ৪০ বছর।
জন্ম তারিখ: ১২/০৮/১৯৯৮ সাল
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- হালরী, ডাকঘর- পুরানপৈল
খানা- জয়পুরহাট সদর, জেলা- জয়পুরহাট।
আহত হওয়ার তারিখ: ১৫ ডিসেম্বর/১৩
আহতের ধরণ ও পরবর্তী অবস্থা
ডান হাতের কব্জী ও বুকে গুলি লেগে ও পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়।
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ১৫ ডিসেম্বর-১৩, সন্ধ্যা- ৭.০০ ঘটিকা।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍