হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মোঃ শামীম হোসেন
শহীদ মোঃ শামীম হোসেন

শহীদ মোঃ শামীম হোসেন

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ মোঃ শামিম হোসেন
পিতার নাম: মোঃ ইকবাল হোসেন
পিতার পেশা ও বয়স: কৃষি, বয়স- ৬০ বছর।
মাতার নাম: মোছাঃ ছফুরা বেগম
মাতার পেশা ও বয়স: গৃহিণী, ৫১ বছর
জন্ম তারিখ: ২৩/০৮/১৯৯৩ সাল
স্থায়ী ঠিকানা
গ্রাম- জলাটুল, ডাকঘর- কড়ই মাদ্রাসা
আহত হওয়ার তারিখ
থানা- জয়পুরহাট সদর, জেলা- জয়পুরহাট।
আহতের ধরণ ও পরবর্তী অবস্থা: ১৫ ডিসেম্বর/১৩
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: পেটের ডান পাশে গুলি লেগে বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে যায় , ১৫ ডিসেম্বর-১৩, সন্ধ্যা- ৭,০০ ঘটিকা।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মোঃ শামীম হোসেন ২৮/০৮/১৯৯৩ সনে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা-মাতার ৩ (তিন) সন্তানের মধ্যে ২য় সন্তান। তিনি হাতিগাড়া দাখিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণীতে পড়ালেখা করতেন এবং একজন শিবিরের কর্মী ছিল। অষ্টম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় তার ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। ক্যান্সার চিকিৎসার কারনে দীর্ঘ দিন পড়া লেখা বন্ধ থাকে।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
'ঘটনাস্থল হালট্টিগ্রাম' শহীদের নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ১/২ (অর্থ) কিলোমিটার দূরে। ১৫ডিসেম্বর-১৩ তথাকথিত বিচারের নামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছিল। হরতাল কর্মসূচীতে অংশ নেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে শহীদ শামিম আসেন। হরতাল চালাকালে স্থানীয় হালমীগ্রামে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি কর্তৃক অভিযানের সময় গ্রামবাসীরা শক্তিশালী প্রতিরোধ করলে যৌথবাহিনী নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে। তাদের গুলিতে মোঃ শামিম হোসেন গুলিবিদ্ধ হন।
১৫ ডিসেম্বর'১৩ বিকেল ৪.০০ ঘটিকার সময় গুলিবিদ্ধ হবার পর স্থানীয়রা জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে সন্ধ্যা ৭.০০ ঘটিকায় শাহাদাত বরণ করেন।। তুলাট মাঠে শহীদের জানাজা নামাজ পড়ানো হয়। জলাটুল পারিবারিক কবরস্থানে শহীদ শামীম হোসেনকে দাফন করা হয়।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শাহাদাতের আগে তিনি ঈমানের তাগিদেই ইসলামী আন্দোলন করতে জামায়াত-শিবিরের কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করতেন। শহীদ শামিম সর্বদায় তার মা বাবাকে বলতো আমি শহীদ হতে চাই। ঘটনার দিন কর্মসূচীতে আসার সময় বাবা-মাকে বলে এসেছেন- আমি শহীদ হওয়ার জন্য যাচ্ছি। মহান আল্লাহ তার মনের ইচ্ছা পূরণ করেছেন।
সামগ্রীক ঘটনার বিবরণ।
১৫ডিসেম্বর-১৩ তথাকথিত বিচারের নামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ছিল।
অত্র এলাকার ইসলামী আন্দোলনের সকল কর্মসূচীই জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরানাপৈল ইউনিয়নের হালয়ী মোড় থেকে শুরু হত। ইসলামী আন্দোলন করার অপরাধে এবং কাদের মোল্লা'র ফাঁসির প্রতিবাদে হরতাল, অবরোধ কর্মসূচী পালন করায় সময় গত ১৫ ডিসেম্বর-১৩ইং স্থানীয় হালরীগ্রামে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি কর্তৃক যৌথ অভিযান শুরু করে। বিকাল ৪টায় তখন আশেপাশের সকল গ্রামের হাজার হাজার মানুষ একত্র হয়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানে তীব্র প্রতিরোধের গড়ে তোলে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ফাঁসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে থাকে। এ সময় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিপি নির্বিচারে শত-শত রাউন্ড টিয়ারসেল ও গুলিবর্ষণ করতে থাকে। সাথে সরকারী দলের লোকেরাও উস্কানী দিতে থাকে। যৌথ বাহিনীর তাণ্ডবে ঘটনাস্থলেই ০৩জন শহীদ হয়।
১৬ ডিসেম্বর ২০১৩, দৈনিক আমার দেশ-এ প্রচারিত সংবাদ মারফত জানা যায়- জয়পুরহাট শহরের হালুটি বাজারে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের ২ কর্মীসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
গতকাল বিকেলে সদর উপজেলার পুরানপৈল হালুটি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সদর উপজেলার জলাকুল গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে শিবিরকর্মী শামীম এবং হালুটি গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে জামায়াতকর্মী ফিরোজ ও একই গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের ছেলে ইনসান আলী। প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, গতকাল দুপুর আড়াইটায় জামায়াত-শিবিরকর্মীরা হরতালের সমর্থনে সদর উপজেলার পুরানাপৈল বাজারের কাছে পাকুড়তলী নামক স্থানে রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে জয়পুরহাট-হিলি সড়ক অবরোধ করে পিকেটিং করতে থাকে। এ সময় পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে জামায়াত-শিবিরকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। জামায়াত-শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে চারটি ককটেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ জামায়াত-শিবিরকর্মীদের লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা রাস্তা থেকে সরে যায়।
পুলিশ তখন অতিরিক্ত ফোর্স তলব করে। এরপর পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ২২ গাড়ি র‍্যাব-বিজিবি ও পুলিশ পুরানপৈল ইউনিয়নের দন্তপুর, হালুটি, তুলাট, জলাটুল ও হাতীগাড়া এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করে। এ সময় হাজার হাজার গ্রামবাসী লাঠিসোটা, দা-বঁটি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে এসে পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাবের ওই দলকে চারদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলে।
তখন গ্রামবাসীকে লক্ষ্য করে পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাব সদস্যরা নির্বিচারে শত শত গুলিবর্ষণ করে।
তুলাট গ্রামের আবদুল জব্বার জানান, র‍্যাব-পুলিশ সাধারণ মানুষের ওপর নিষ্ঠুরভাবে গুলি করেছে। ঘণ্টাব্যাপী নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনায় হালুটি গ্রামের রেজওয়ান, রিয়াজুল, হানজালা, শামিম, রবিউল, হাতীগাড়া গ্রামের মাহমুদুল হাসান, খবির উদ্দীন, মনসুর রহমান, ফিরোজ হোসেন, ইনসান আলী, আবদুর রহমান মেম্বার ও তাঁর ছেলে সুজন, হাতীগাড়া গ্রামের এনামুল, তুলাট গ্রামের ভ্যানচালক শাকিলসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ জলাটুল গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে শিবিরকর্মী শামিম ও তুলাট গ্রামের ভ্যানচালক ফিরোজ হোসেন মারাত্মক আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে শামিম ও হাসপাতালে ভর্তি করার পর ফিরোজ মারা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী বেলাল হোসেন জানান, বাড়ির উঠানে কর্মরত দন্তপুর গ্রামের আবু সালেহের স্ত্রী রাজিয়া বেগমের পেটে গুলি লাগে, এমনকি মাঠে কর্মরত কৃষকদেরও লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে পুলিশ।
আপনজনদের কথা
শহীদ শামিমের মা, বাবা, ভাই এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শামিম সর্বদায় মানুষকে বলতো- এমন কি আমাদের সবাইকে বলত- আমি শহীদ হতে চাই। আল্লাহ যেন আমাকে শহীদ হবার সুযোগ দান করেন। শহীদের গর্বিত মা, বাবা। ক্যান্সারে আমাদের সন্তান মৃত্যু বরণ না করে শহীদ হওয়ায় আমরা গর্বিত, ও কলিজার টুকরো কে হারিয়ে মর্মাহত। আল্লাহ যেন শামিমকে জান্নাতবাসী করেন।
শহীদের ডাই। শহীদের ভাই বলেছেন আমি গর্বিত এজন্য যে আমি এখন শহীদের ভাই।
ভাই-বোনের বিবরণ
১. মোঃ আব্দুল মোমেন (ভাই), পেশা
২. মোছাঃ শিল্পী আক্তার, গৃহিণী
এক নজরে শহীদ মোঃ শামিম হোসেন
শহীদের নাম: শহীদ মোঃ শামিম হোসেন
পিতার নাম: মোঃ ইকবাল হোসেন
পিতার পেশা ও বয়স: কৃষি, বয়স- ৬০ বছর।
মাতার নাম: মোছাঃ ছফুরা বেগম
মাতার পেশা ও বয়স: গৃহিণী, ৫১ বছর
জন্ম তারিখ: ২৩/০৮/১৯৯৩ সাল
স্থায়ী ঠিকানা
গ্রাম- জলাটুল, ডাকঘর- কড়ই মাদ্রাসা
আহত হওয়ার তারিখ
থানা- জয়পুরহাট সদর, জেলা- জয়পুরহাট।
আহতের ধরণ ও পরবর্তী অবস্থা: ১৫ ডিসেম্বর/১৩
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: পেটের ডান পাশে গুলি লেগে বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে যায় , ১৫ ডিসেম্বর-১৩, সন্ধ্যা- ৭,০০ ঘটিকা।