হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মনিরুল ইসলাম
শহীদ মনিরুল ইসলাম

শহীদ মনিরুল ইসলাম

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ মনিরুল ইসলাম
পিতার নাম: কমর উদ্দিন
মাতার নাম: মরিয়াম বেগম
জন্ম তারিখ: ৩০ নভেম্বর ১৯৮২
ভাই বোন: পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ এবং একমাত্র ভাই
স্থায়ী ঠিকানা: লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম পৌরসভার শিলেরডাঙ্গার ৪নং ওয়ার্ড
সাংগঠনিক মান: সাথী
সর্বশেষ পড়ালেখা: পাটগ্রাম সরকারি কলেজের বি.বি.এ ২য় বর্ষ
শাহাদাতের স্থান: পাটগ্রামে কর্মসূচী পালনকালে পুলিশ রাইফেল দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মোঃ মনিরুল ইসলাম ১৯৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা-মাতার ৫ সন্তানের মধ্যে চতুর্থ। ১ ভাই ও ৪ বোনের সংসারে দরিদ্র পিতা-মাতা কোন রকম সন্তানের মুখে দুটো খাবার তুলে দিতে ব্যস্ত ছিলেন। শহীদ মনিরুল নিজে টিউশনি করে এবং সাংগঠনিক সহযোগিতা নিয়ে বি বি এ ২য় বর্ষে পড়ালেখা করতেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান।
ঘটনা স্থল শহীদের নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে। ১২.১২.১৩ তারিখে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার তথাকথিত অবৈধ ট্রাইবুনাল কর্তৃক ফাঁসি কার্যকরের প্রতিবাদে ১৫.১২.১৩ তারিখে দেশব্যাপী হরতালের আহবান করে জামায়াতে ইসলামী। কর্মসূচি পালনের জন্য ১৫ ডিসেম্বর সকাল ৭ টায় থানা সভাপতি মনিরুল ইসলাম নেতা কর্মীদের নিয়ে পাটগ্রাম পৌরসভার সরেয় বাজার রেল লাইনের পার্শ্বে হরতালের সমর্থনে মিছিল করার উদ্দেশ্যে উপস্থিত হওয়া মাত্রই পুলিশ, বিজিবি ও আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীরা অপর দিক থেকে এসে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে। সংঘর্ষ চলার একপর্যায়ে সকাল ৮.৩০ টায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আহত মনিরুল ইসলামকে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশ লাঠি এবং রাইফেল দিয়ে পিটিয়ে জখম করে এবং পা দিয়ে লাথি দিয়ে বুক থেকে গলা পর্যন্ত থেতলে দেয়। এ অবস্থায় সকাল ৯ টায় তিনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন। পুলিশ লাশ নিয়ে যায় এবং পাটগ্রাম উপজেলা হাসপাতালে পোস্টমর্টেমের পরে রাত ৮.৩০ টায় পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে। ১৬.১২.১৩ তারিখ সকাল ১০ টায় জানাজা শেষে পাটগ্রাম পৌরসভা কোটতলী ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন বাড়ির পার্শ্বে কবর স্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শহীদ মনিরুল ইসলাম ছিলেন জেলা ও খানার জামায়াত-শিবিরের একজন গ্রহণযোগ্য এবং ভালবাসার মত দায়িত্বশীল। প্রায় সব কর্মসূচিতেই তিনিই নেতৃত্ব দিতেন। তাঁর মাঝে শহীদী আকাঙ্ক্ষা ছিল প্রবল। তিনি মোবাইলে ওয়েলকাম টিউন ব্যবহার- "ঈমানের পথে অবিচল থেকে আমার মরণ যেন হয়", তিনি ফেসবুক ব্যবহার করতেন তার আইডির নাম ছিল "শহীদি তামান্না"। শহীদ হওয়ার দিন সকাল ৮.২০ টায় তিনি জেলা সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলামকে ফোন করে বলেন- ভাই পুলিশ আজ আমাদেরকে কোন কারণ ছাড়াই গুলি করছে আমাদের জন্য দোয়া করেন, এর মাত্র কয়েক মিনিট পরেই তিনি শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেন। তিনি সর্বশেষ জেলা বৈঠকে এসে গোসল করার জন্য কলেজ শাখার সাথী নুরুল হক সরকারের সাবান নিতে গিয়ে বলেন- দেন ভাই দেন, আর হয়ত কোন দিন সাবান নেব না।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ।
১২.১২.১৩ তারিখ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার অবৈধ ট্রাইবুনাল কর্তৃক দেয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রতিবাদে ১৫.১২.১৩ তারিখ দেশব্যাপী হরতালের আহবান করে জামায়াতে ইসলামী। ১৫ ডিসেম্বর সকাল ৭ টায় খানা সভাপতি মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পাটগ্রাম পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের সরেয় বাজারে রেল লাইনের পার্শ্বে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করেন। মিছিলের উপর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সহ পুলিশ ও বিজিবি নির্বিচারে গুলি চালায়। এলাকাবাসী সমবেত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, ফলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ৮.১৫ টায় শহীদ মনিরুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলি তার বুকের বাম পার্শ্বে লেগে পিঠ দিয়ে বের হয়ে যায় আর রক্ত করতে থাকে। এ সময় আওয়ামী সন্ত্রাসী এবং পুলিশ লাঠি ও রাইফেল দিয়ে আরো আঘাত করে এবং পা দিয়ে অসংখ্য লাথি মেরে তার বুক থেতলে দেয়। অতঃপর বিনা চিকিৎসায় পুলিশ তাকে গাড়িতে ফেলে রাখে। ফলে সকাল ৯ টায় তিনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন। এছাড়াও ১০/১৫ জন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গুরুতর আহত হন। অবশেষে জনগণের তীব্র প্রতিরোধের মুখে দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ১৪৪ ধারা জারি করেন এবং প্রশাসন ও আওয়ামীলীগকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন।
সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের বিবরণ।
পৌর সেক্রেটারী ও সভাপতি, সরকারী কলেজ সভাপতি, খানা সেক্রেটারী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সর্বশেষ পাটগ্রাম পশ্চিম সাথী শাখার খানা সভাপতি। শহীদ মনিরুল লালমনিরহাট জেলার টর্নেডো শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্য থাকাকালীন শিবিরের দাওয়াত পেয়ে ২০০৫ সালে সমর্থক হয়। ২৩.১১.১১ তারিখ সাথী শপথ নেন। তিনি পাঠচক্রের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং সদস্য প্রার্থী হওয়ার জন্য চেষ্টারত ছিলেন।
আপনজনদের কথা
পিতা। আমার ছেলের জন্য দোয়া করবে আল্লাহ যেন তাকে শহীদ হিসাবে কবুল করেন।
মাতা। আমার ছেলে আল্লাহর দ্বীনের জন্য শহীদ হয়েছে তোমরা সাবধানে থেকে তার রেখে যাওয়া কাজ চালিয়ে যাবে।
শহীদের দায়িত্বশীল। আমরা গর্বিত এজন্য যে আমরা এখন শহীদের ভাই। আমাদের প্রিয় থানা সভাপতি শহীদ হওয়ায় মানুষের কাছে বিচার চেয়ে লাভ নেই, বরং আল্লাহর কাছে ভাই হত্যার বিচার চাই।
প্রতিবেশী কমিশনার রতন ও আব্দুল মালেক। খুব ভালো ছেলে ছিল মনিরুল। নিয়মিত মুসুল্লি, রোজাদার,
এবং সৎ মানুষ ছিল।
এলাকাবাসী: গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শহীদ মনিরুল ইসলামকে তুলতে গিয়ে শহীদ হন আব্দুর রহিম। তাঁর বাড়িতে সে দিন সকালে ঠাণ্ডা ভাত খেয়ে হরতালের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেন। এলাকার সকলে তার শহীদি মর্যাদা কামনা করেন।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
লালমনিরহাটে সংঘর্ষ। দুই শিবির কর্মী নিহত শিরোনামে বিবিসি বাংলা নিম্মোক্ত সংবাদ পরিবেশন করে-বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে পুলিশের সাথে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদেরসংঘর্ষে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছে। আজ রবিবার হরতাল চলাকালে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে এই সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন নিহতদের মধ্যে একজন উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি মনিরুল ইসলাম এবং আরেকজন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী আব্দুর রহিম।
পুলিশ বলছে হরতালের শুরুতে আজ সকাল সাতটার দিকে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জামায়াত ইসলামীর ডাকে আজ সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দলটির নেতা আবদুল কাদের মোল্লাকে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর দলটি এই কর্মসূচি দেয়।
জামায়াত বলছে, সরকারের পরিকল্পনায় মি. মোল্লাকে 'নৃশংস ও নির্মমভাবে হত্যা' করা হয়েছে এবং এরই প্রতিবাদে তাদের এই কর্মসূচি।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন আজ পাটগ্রামে হরতালের স্বপক্ষে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা মিছিল বের করে এবং কয়েকটি যানবাহনে আগুন দেবার চেষ্টা করে।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বিবিসিকে জানিয়েছেন হরতাল সমর্থকরা গাড়িতে আগুন দেবার চেষ্টা করলে পুলিশ ও বিজিবির সাথে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।
এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয় বলে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন। সংঘর্ষে আহত দুইজন হাসপাতালে নেবার পর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তারা পুলিশের গুলিতে মারা গেছে। কিনা সে বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করেনি।
অপর বর্ণনায় স্থানীয় হাসপাতালের ডাক্তারদের বরাত দিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, নিহত একজন পুলিশের গুলিতে এবং অন্যজন সংঘর্ষের সময় হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে। ডাক্তারদের বরাত দিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন একজনের দেহে গুলির চিহ্ন দেখা গেলেও অন্যজনের দেহে কোন গুলির চিহ্ন দেখা যায়নি।
পুলিশ বলছে যে জায়গাটিতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে সেখানে প্রতিটি হরতালে অবরোধের সময় রাস্তায় নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয় এবং গাড়ি ভাংচুর করা হয়।
সে রকম একটি পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে আজ ভোর চারটার দিকে পুলিশ ও বিজিবি পাটগ্রামের সেই এলাকায় যায়।
সকালের দিকে হরতাল সমর্থকরা যানবাহন ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করলে সংঘর্ষের শুরু হয়।
কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর ওয়েবসাইটে গতকাল দেয়া এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ বলেন জামায়াতে ইসলামীকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য সরকার একের পর এক জামায়াত নেতৃবৃন্দকে 'হত্যা' করছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা:
এসএসসি, ব্যবসায় শিক্ষা, ২০০৭, ফলাফল- ৩.৬৩, পাটগ্রাম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়
এইচএসসি, ব্যবসায় শিক্ষা, ২০১০, ফলাফল- ৪.৫৮, কারিগরি টেকনিক্যাল কলেজ
বিবিএ ২য় বর্ষ, পাটগ্রাম সরকারী কাজী জসিমউদ্দিন আব্দুল গনি কলেজ
ভাই-বোন বিবরণঃ
১. মোছাঃ লাইলী বেগম, ৪০ বছর, বিবাহিত, স্বামী দিনমজুর।
২. মোছাঃ লাভলী বেগম, ৩২ বছর, বিবাহিত, স্বামী কাঠমিস্ত্রি।
৩. মোছাঃ শিউলী বেগম, ২৭ বছর, বিবাহিত, স্বামী বীজ কারখানার চাকরী করে। ৪.
মোছাঃ শিল্পী খাতুন, ১৫ বছর, টাকার অভাবে অন্যের বাড়িতে থেকে কাজ করে বড় হয়েছে
৫. মোছাঃ লিমা খাতুন (ভাগনী), ১৭ বছর, বড় বোনের ২ জায়গায় বিবাহ হওয়ায় তার প্রথম স্বামীর সন্তান
এক নজরেশহীদ মনিরুল ইসলাম
পুরো নাম: শহীদ মনিরুল ইসলাম
পিতার নাম: কমর উদ্দিন
মাতার নাম: মরিয়াম বেগম
জন্ম তারিখ: ৩০ নভেম্বর ১৯৮২
ভাই বোন: পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ এবং একমাত্র ভাই
স্থায়ী ঠিকানা: লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম পৌরসভার শিলেরডাঙ্গার ৪নং ওয়ার্ড
সাংগঠনিক মান: সাথী
সর্বশেষ পড়ালেখা: পাটগ্রাম সরকারি কলেজের বি.বি.এ ২য় বর্ষ
শাহাদাতের স্থান: পাটগ্রামে কর্মসূচী পালনকালে পুলিশ রাইফেল দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে