শহীদ সাজু ইসলাম
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ সাজু ইসলাম
পিতার নাম: মোক্তার হোসেন
মাতার নাম: আমেনা বেগম
জন্ম তারিখ: ১৯৯৬ সালের ১লা জুন
ভাই বোন: তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট
স্থায়ী ঠিকানা: লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সোহাগপুর বাংলাবাড়ি
সাংগঠনিক মান: সাথী
সর্বশেষ পড়ালেখা: পাটগ্রাম পৌর টেকনিক্যাল কলেজ ১ম বর্ষ
শাহাদাতের স্থান: রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
পিতার নাম: মোক্তার হোসেন
মাতার নাম: আমেনা বেগম
জন্ম তারিখ: ১৯৯৬ সালের ১লা জুন
ভাই বোন: তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট
স্থায়ী ঠিকানা: লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সোহাগপুর বাংলাবাড়ি
সাংগঠনিক মান: সাথী
সর্বশেষ পড়ালেখা: পাটগ্রাম পৌর টেকনিক্যাল কলেজ ১ম বর্ষ
শাহাদাতের স্থান: রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ সাজু ইসলাম ১৯৯৬ সালের ১লা জুন লালমনির হাটের পাটগ্রাম উপজেলার সোহাগপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা-মাতার ৩ সন্তানের মধ্যে তিনি সবার ছোট। ২ ভাই ও ১ বোন এবং কৃষক পিতা-মাতা সংসারে থেকে শহীদ সাজু অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বাবা সাধারণ কৃষক হওয়ার কারণে পড়ালেখার খরচই বহন করতে অনেক কষ্ট হত। তাই শহীদ সাজুকে তার নিজের লেখাপড়ার খরচের জন্য বাড়িতে প্রায় সময় কঠোর পরিশ্রম করে বাড়ির কাজ করতেন। তিনি এইচ এস সি ১ম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
১২.১২.১৩ তারিখে পাটগ্রাম পৌরসভার সরেয় বাজার রেল লাইনের পার্শ্বে হরতাল সমর্থনে মিছিল করার জন্য উপস্থিত হওয়া মাত্রই পুলিশ, বিজিবি ও আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীরা অপর দিক থেকে এসে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। সংঘর্ষ চলার একপর্যায়ে সকাল ৮.৩০ টায় শহীদ সাজু গুলিবিদ্ধ হন। গুলিতে তার পেটের নাড়ি ভুড়ি বের হয়ে যায় এবং চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে এম্বুলেন্স যোগে রংপুর মেডিকেলে পাঠালে মেডিকেল গেটে সকাল ১১.৩০টায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন। ১৬.১২.১৩ তারিখ পোস্টমর্টেমের পর সন্ধ্যা ৬ টায় লাশ পাটগ্রাম পৌঁছে। রাত ৮.৩০ টায় জানাজার শেষে পাটগ্রাম পৌরসভা সোহাগপুর বাংলাবাড়ি বাড়ির পার্শ্বে পারিবারিক কবর স্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শহীদ সাজুর শহীদ হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা ছিল। মাঝে মাঝে বাবা-মা ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে তাকে আবদ্ধ করে রাখতেন কিন্তু তার পরেও শহীদ সাজু ইসলাম যে কোন ভাবেই হোক প্রোগামে উপস্থিত হতেন। তিনি মায়ের কাছে মাঝে মাঝে বলতেন মা আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেন আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হতে পারি।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
১২.১২.১৩ তারিখ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার অবৈধ ট্রাইবুনাল কর্তৃক দেয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রতিবাদে ১৫.১২.১৩ তারিখ দেশব্যাপী হরতালের আহবান করে জামায়াতে ইসলামী। ১৫ ডিসেম্বর সকাল ৭ টায় খানা সভাপতি মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পাটগ্রাম পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের সরেয় বাজারে রেল লাইনের পার্শ্বে হরতাল সমর্থনে মিছিল বের করে। মিছিলের উপর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সহ পুলিশ ও বিজিবি নির্বিচারে গুলি চালায়। এলাকাবাসী সমবেত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, ফলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ৮.৩০ টায় শহীদ সাজু ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলি তার পেটে লেগে অপর পাশ দিয়ে বের হয়ে যায় এবং চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক এম্বুলেন্স যোগে রংপুর মেডিকেলে নেয়া হলে মেডিকেল গেটে সকাল ১১.৩০ টায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন। এছাড়াও আরো ১০/১৫ জন ভাই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গুরুতর আহত হন। জনগণের প্রতিরোধ মুখর অবস্থা দেখে দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ১৪৪ ধারা জারি করেন এবং প্রশাসন ও আওয়ামীলীগকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন।
সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের বিবরন।
পাটগ্রাম পশ্চিম সাথী শাখার পৌর পূর্ব উপশাখার সেক্রেটারী পাটগ্রাম ও সর্বশেষ পৌর টেকনিক্যাল কলেজ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। শহীদ সাজু ইসলাম ভাই স্থানীয় শিবিরের দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে। দাওয়াত পেয়ে ২০০৯ সালের প্রথম দিকে সমর্থক হন এবং ২০১১ সালে সাথী শপথ নেন।
আপনজনদের কথা
মাতা। আমার সাজু সব সময় আমাকে বলত মা তুমি আমার জন্য দোয়া কর আমি যেন আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হতে পারি।
পিতা: সাজু আমার কলিজার টুকরাও নাই আমার কিছু নাই। জানাজার পূর্বে তিনি বলেন আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন সে যেন জান্নাতবাসি হয়।
ভাই-বোন। ভাই বলেন আমাকে ভাইয়া বলে আর কে ডাকবে। একমাত্র বোন ছোট ভাইকে হারিয়ে শোকে
পাথর হয়ে গেছেন।
এলাকাবাসী: সাজু এলাকার সকলের অতি প্রিয় ছিল। আমরা সাজু ভাইয়ের শহীদি মর্যাদা এবং জান্নাত কামনা করি।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
"পাটগ্রামে সংঘর্ষে আ. লীগ, শিবির নেতাসহ নিহত ৪" শিরোনামে দৈনিক প্রথম আলোর নিউজ-পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার সরেয়ার বাজার এলাকায় আজ রোববার পৃথক সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ নেতা এবং উপজেলা শিবিরের সভাপতিসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন শিবিরের মনিরুল ইসলাম, আবদুর রহিম ও সাজু মিয়া। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতা মিন্টু।
তমির উদ্দিনের ছেলে মনিরুল পাটগ্রাম উপজেলা শিবিরের সভাপতি। পাটগ্রাম সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন তিনি। করিম আলীর ছেলে আবদুর রহিমও শিবিরকর্মী বলে জানা গেছে। সাজু মিয়ার বাবার নাম মোক্তার আলী। তিনিও শিবিরকর্মী বলে দাবি করেছে পুলিশ। মিন্টু পাটগ্রাম পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক।
এদিকে এ ঘটনার জেরে পাটগ্রাম উপজেলায় আজ রাত ১১টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল হক। বিকেলে তা মাইকিং করে জানানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, কাদের মোল্লার ফাঁসির প্রতিবাদে ডাকা হরতালে আজ সকাল সাতটার দিকে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার সরেয় বাজার এলাকায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী আঞ্চলিক মহাসড়কে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা গাড়ি ভাঙচুর করেন। এরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে শটগানের গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজন মারা যান। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মনিরুল ও আবদুর রহিমের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা পি কে দাস। তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগেই একজন মারা গেছেন। আরেকজন মারা গেছেন চিকিৎসাধীন অবস্থায়।
আহত অবস্থায় সাজু মিয়াকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপপরিচালক গোলাম মোস্তফা।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব হোসেন জানিয়েছেন, সংঘর্ষে গুরুতর আহত দুজনকে
হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে ওই দুজন মারা গেছেন কি না, তা জানাতে পারেননি তিনি।
এক নজরে শহীদ সাজু ইসলাম
পুরো নাম।: সাজু ইসলাম
পিতার নাম: মোক্তার হোসেন
মাতার নাম: আমেনা বেগম
জন্ম তারিখ: ১৯৯৬ সালের ১লা জুন
ভাই বোন: তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট
স্থায়ী ঠিকানা: লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সোহাগপুর বাংলাবাড়ি
সাংগঠনিক মান: সাথী
সর্বশেষ পড়ালেখা: পাটগ্রাম পৌর টেকনিক্যাল কলেজ ১ম বর্ষ
শাহাদাতের স্থান: রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান:
১২.১২.১৩ তারিখে পাটগ্রাম পৌরসভার সরেয় বাজার রেল লাইনের পার্শ্বে হরতাল সমর্থনে মিছিল করার জন্য উপস্থিত হওয়া মাত্রই পুলিশ, বিজিবি ও আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীরা অপর দিক থেকে এসে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। সংঘর্ষ চলার একপর্যায়ে সকাল ৮.৩০ টায় শহীদ সাজু গুলিবিদ্ধ হন। গুলিতে তার পেটের নাড়ি ভুড়ি বের হয়ে যায় এবং চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে এম্বুলেন্স যোগে রংপুর মেডিকেলে পাঠালে মেডিকেল গেটে সকাল ১১.৩০টায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন। ১৬.১২.১৩ তারিখ পোস্টমর্টেমের পর সন্ধ্যা ৬ টায় লাশ পাটগ্রাম পৌঁছে। রাত ৮.৩০ টায় জানাজার শেষে পাটগ্রাম পৌরসভা সোহাগপুর বাংলাবাড়ি বাড়ির পার্শ্বে পারিবারিক কবর স্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শহীদ সাজুর শহীদ হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা ছিল। মাঝে মাঝে বাবা-মা ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে তাকে আবদ্ধ করে রাখতেন কিন্তু তার পরেও শহীদ সাজু ইসলাম যে কোন ভাবেই হোক প্রোগামে উপস্থিত হতেন। তিনি মায়ের কাছে মাঝে মাঝে বলতেন মা আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেন আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হতে পারি।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ:
১২.১২.১৩ তারিখ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার অবৈধ ট্রাইবুনাল কর্তৃক দেয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রতিবাদে ১৫.১২.১৩ তারিখ দেশব্যাপী হরতালের আহবান করে জামায়াতে ইসলামী। ১৫ ডিসেম্বর সকাল ৭ টায় খানা সভাপতি মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পাটগ্রাম পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের সরেয় বাজারে রেল লাইনের পার্শ্বে হরতাল সমর্থনে মিছিল বের করে। মিছিলের উপর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সহ পুলিশ ও বিজিবি নির্বিচারে গুলি চালায়। এলাকাবাসী সমবেত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, ফলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ৮.৩০ টায় শহীদ সাজু ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলি তার পেটে লেগে অপর পাশ দিয়ে বের হয়ে যায় এবং চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক এম্বুলেন্স যোগে রংপুর মেডিকেলে নেয়া হলে মেডিকেল গেটে সকাল ১১.৩০ টায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন। এছাড়াও আরো ১০/১৫ জন ভাই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গুরুতর আহত হন। জনগণের প্রতিরোধ মুখর অবস্থা দেখে দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ১৪৪ ধারা জারি করেন এবং প্রশাসন ও আওয়ামীলীগকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন।
সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের বিবরন।
পাটগ্রাম পশ্চিম সাথী শাখার পৌর পূর্ব উপশাখার সেক্রেটারী পাটগ্রাম ও সর্বশেষ পৌর টেকনিক্যাল কলেজ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। শহীদ সাজু ইসলাম ভাই স্থানীয় শিবিরের দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে। দাওয়াত পেয়ে ২০০৯ সালের প্রথম দিকে সমর্থক হন এবং ২০১১ সালে সাথী শপথ নেন।
আপনজনদের কথা
মাতা। আমার সাজু সব সময় আমাকে বলত মা তুমি আমার জন্য দোয়া কর আমি যেন আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হতে পারি।
পিতা: সাজু আমার কলিজার টুকরাও নাই আমার কিছু নাই। জানাজার পূর্বে তিনি বলেন আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন সে যেন জান্নাতবাসি হয়।
ভাই-বোন। ভাই বলেন আমাকে ভাইয়া বলে আর কে ডাকবে। একমাত্র বোন ছোট ভাইকে হারিয়ে শোকে
পাথর হয়ে গেছেন।
এলাকাবাসী: সাজু এলাকার সকলের অতি প্রিয় ছিল। আমরা সাজু ভাইয়ের শহীদি মর্যাদা এবং জান্নাত কামনা করি।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
"পাটগ্রামে সংঘর্ষে আ. লীগ, শিবির নেতাসহ নিহত ৪" শিরোনামে দৈনিক প্রথম আলোর নিউজ-পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার সরেয়ার বাজার এলাকায় আজ রোববার পৃথক সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ নেতা এবং উপজেলা শিবিরের সভাপতিসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন শিবিরের মনিরুল ইসলাম, আবদুর রহিম ও সাজু মিয়া। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতা মিন্টু।
তমির উদ্দিনের ছেলে মনিরুল পাটগ্রাম উপজেলা শিবিরের সভাপতি। পাটগ্রাম সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন তিনি। করিম আলীর ছেলে আবদুর রহিমও শিবিরকর্মী বলে জানা গেছে। সাজু মিয়ার বাবার নাম মোক্তার আলী। তিনিও শিবিরকর্মী বলে দাবি করেছে পুলিশ। মিন্টু পাটগ্রাম পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক।
এদিকে এ ঘটনার জেরে পাটগ্রাম উপজেলায় আজ রাত ১১টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল হক। বিকেলে তা মাইকিং করে জানানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, কাদের মোল্লার ফাঁসির প্রতিবাদে ডাকা হরতালে আজ সকাল সাতটার দিকে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার সরেয় বাজার এলাকায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী আঞ্চলিক মহাসড়কে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা গাড়ি ভাঙচুর করেন। এরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে শটগানের গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজন মারা যান। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মনিরুল ও আবদুর রহিমের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা পি কে দাস। তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগেই একজন মারা গেছেন। আরেকজন মারা গেছেন চিকিৎসাধীন অবস্থায়।
আহত অবস্থায় সাজু মিয়াকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপপরিচালক গোলাম মোস্তফা।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব হোসেন জানিয়েছেন, সংঘর্ষে গুরুতর আহত দুজনকে
হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে ওই দুজন মারা গেছেন কি না, তা জানাতে পারেননি তিনি।
এক নজরে শহীদ সাজু ইসলাম
পুরো নাম।: সাজু ইসলাম
পিতার নাম: মোক্তার হোসেন
মাতার নাম: আমেনা বেগম
জন্ম তারিখ: ১৯৯৬ সালের ১লা জুন
ভাই বোন: তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট
স্থায়ী ঠিকানা: লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সোহাগপুর বাংলাবাড়ি
সাংগঠনিক মান: সাথী
সর্বশেষ পড়ালেখা: পাটগ্রাম পৌর টেকনিক্যাল কলেজ ১ম বর্ষ
শাহাদাতের স্থান: রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল