শহীদ সাদেক হোসেন সাদ্দাম
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ সাদেক হোসেন সাদ্দাম
• পিতা: জাহাঙ্গীর আলম
• মাতা: রেহানা বেগম
• জন্ম: ১৯৯২
• ঠিকানা: গ্রাম- আন্দিরপাড়া, উপজেলা- সোনাইমুড়ি, জেলা- নোয়াখালী
• সর্বশেষ পড়ালেখা: নবম শ্রেণী
• পেশা: মুদি দোকানে চাকরি
• ভাই-বোনের সংখ্যা: দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে সবার বড়
• সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
• কিভাবে শহীদ হলেন: ২য় দফা উপজেলা নির্বাচনে ছাত্রলীগ নান্দিয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে প্রতিহতের সময় ছাত্রলীগ ও পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।
• শাহাদাতের তারিখ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
• পিতা: জাহাঙ্গীর আলম
• মাতা: রেহানা বেগম
• জন্ম: ১৯৯২
• ঠিকানা: গ্রাম- আন্দিরপাড়া, উপজেলা- সোনাইমুড়ি, জেলা- নোয়াখালী
• সর্বশেষ পড়ালেখা: নবম শ্রেণী
• পেশা: মুদি দোকানে চাকরি
• ভাই-বোনের সংখ্যা: দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে সবার বড়
• সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
• কিভাবে শহীদ হলেন: ২য় দফা উপজেলা নির্বাচনে ছাত্রলীগ নান্দিয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে প্রতিহতের সময় ছাত্রলীগ ও পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।
• শাহাদাতের তারিখ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
মাত্র নবম শ্রেণী পড়ুয়া শহীদ সাদেক হোসেন সাদ্দাম ছিলেন ঢাকার একটি মুদি দোকানের কর্মচারী। তিনি তাঁর ছোট ভাইকে বলতেন, কখনো নামাজ কাজা করবি না। প্রতিদিন দুইবার করে ছোটভাইকে ফোন দিয়ে বাবা-মার খবর নিতেন।
জন্ম: ১৯৯২, শাহাদাতবরণ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
শহীদের পরিচিতি
নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের আন্দিরপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শহীদ সাদেক হোসেন সাদ্দাম। দরিদ্র পিতার দুই ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে সাদ্দাম ছিলেন সবার বড়। তাঁর পিতার নাম জাহাঙ্গীর আলম, মায়ের নাম: রেহানা বেগম। দরিদ্র পিতা জাহাঙ্গীর আলম খোকন একজন দিনমজুর কৃষক। ছেলেকে লেখাপড়া করানোর স্বপ্ন থাকলেও অর্থের অভাবে তাঁর সেই ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে যায়। নবম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেই বন্ধ হয়ে যায় সাদ্দামের শিক্ষাজীবন। ঢাকায় এসে একটি মুদি দোকানে চাকরি নেন তিনি। স্বপ্ন ছিল বিদেশ গিয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক বড় বোনকে বিয়ে দিবেন, সুন্দর একটি ঘর নির্মাণ করবেন বসবাসের জন্য। মা-বাবা, ভাই-বোন নিয়ে সুন্দর-স্বচ্ছল সংসার গড়ে তুলবেন। এইসব ইচ্ছাকে অপূর্ণ রেখেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবেদিত প্রাণ কর্মী।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ছিল দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচন। এই নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কেন্দ্র দখলের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ সাহাব উদ্দীনের পক্ষে ভোটারদের কোড নাম্বার বের করে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছিলেন শহীদ সাদেক হোসেন সাদ্দাম। দুপুর ১টার দিকে পুলিশের সহায়তায় ছাত্রলীগের একদল সন্ত্রাসী এসে নান্দিয়াপাড়া ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে স্থানীয় জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কঠোর প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়ে পুলিশ ও ছাত্রলীগ গুলি চালাতে শুরু করে। এক পর্যায়ে পুলিশের একটি গুলি এসে শহীদ সাদেক হোসেন সাদ্দামের ডান পাঁজর দিয়ে ঢুকে বাম পাঁজর দিয়ে বের হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয় জনতা তাকে জনুদপুর ক্লিনিকে নিয়ে যায়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কেমন ছিলেন শহীদ সাদ্দাম
শহীদ সাদেক হোসেন সাদ্দাম ছিলেন ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রমী। পঞ্চম শ্রেণী পাস করার পর থেকেই শুরু হয় তাঁর কর্মজীবন। স্কুল থেকে ফিরে তিনি অন্যদের বাড়িতে অথবা জমিতে কাজ করতেন। নিজের উপার্জন দিয়ে ওই বয়সে ছোট ভাইয়ের পড়ার খরচও চালাতেন তিনি। মাঝে মাঝে ছোট ভাইকে নতুন জামাও কিনে দিতেন। নিজের ছোট ভাইকে নামাজের প্রতি তাগাদা দিতেন। তিনি ইসলামী আন্দোলনকে ভালোবাসতেন নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি। নবম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার পর তিনি যখন দেখলেন, তাঁর পিতার পক্ষে সংসার চালানো অনেক বেশি কঠিন হয়ে যাচ্ছে, তখনই তিনি পড়াশোনা ছেড়ে আয়-রোজগার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ঢাকায় মুদি দোকানে চাকরি নিয়ে শুরু করেন কর্মজীবন। এসময় তিনি প্রতিদিন দু'বার করে ছোট ভাইকে ফোন করে বাবা-মা ও বোনদের খবর নিতেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচন প্রথম দফা সম্পন্ন হওয়ার পর দেখা গেল সারাদেশে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের জয়-জয়কার। দ্বিতীয়-দফা নির্বাচনে তাই সরকারী দল সরাসরি হস্তক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেদিন দ্বিতীয় দফার নির্বাচন চলছিল, সকাল থেকে জনগণ ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করে। সরকারী দল এতে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। চোখের সামনে নিজেদের নিশ্চিত পরাজয় তাঁরা মেনে নিতে পারে না। ফলে পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় তাঁরা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা চালায়। জনগণ তাদের প্রতিরোধ করে। প্রতিরোধ করতে গিয়েই পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন শহীদ সাদেক হোসেন সাদ্দাম। আরও দুইজন গুলিবিদ্ধ হন এবং ৭ জন মারাত্মকভাবে আহত হন।
আপনজনদের কথা
শহীদের ছোট ভাই বলেন, আমার ভাই কতটা ভাল মানুষ ছিলেন বলে বুঝানো কষ্টকর। তিনি খুবই ভালো ছিলেন। নিয়মিত নামাজ পড়তেন। আমাকে বলতেন কখনো নামাজ কাজা করবি না। নির্বাচনের দু'তিন দিন আগে একদিন আমি ফজরের নামাজ পড়তে পারিনি। তিনি আমাকে ডেকে বুঝালেন, নামাজ কাজা করা কোনোভাবেই ঠিক না। যেকোনো পরিস্থিতিতে নামাজ আদায় করতে হবে। ঢাকায় মুদি দোকানে চাকরি নেওয়ার পর প্রতিদিন দু'বার করে তিনি আমাকে ফোন করে বাড়ির খবর নিতেন। আব্বা-আম্মার খবর নিতেন।
পারিবারিক অবস্থা
সাদেক হোসেন সাদ্দামের শাহাদাতের পর দরিদ্র শহীদ পরিবারটি অনেক বেশি দুরাবস্থায় পর্যবসিত হয়। শহীদের পিতা একই মাসের ৩০ অক্টোবর ইন্তেকাল করেন। বৃদ্ধা মা অসুস্থ, ছোট ভাই রঙ মিস্ত্রীর কাজ করে সংসার পরিচালনা করছেন।
ভাই-বোনদের বিবরণ
১। রিয়াদ হোসেন- ছোট ভাই- রঙ মিস্ত্রি। ২। সুমি আক্তার- গৃহিণী। ৩। মুন্নি আক্তার- গৃহিণী।
এক নজরে শহীদ সাদেক হোসেন সাদ্দাম
• নাম: শহীদ সাদেক হোসেন সাদ্দাম
• পিতা: জাহাঙ্গীর আলম
• মাতা: রেহানা বেগম
• জন্ম: ১৯৯২
• ঠিকানা: গ্রাম- আন্দিরপাড়া, উপজেলা- সোনাইমুড়ি, জেলা- নোয়াখালী
• সর্বশেষ পড়ালেখা: নবম শ্রেণী
• পেশা: মুদি দোকানে চাকরি
• ভাই-বোনের সংখ্যা: দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে সবার বড়
• সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
• কিভাবে শহীদ হলেন: ২য় দফা উপজেলা নির্বাচনে ছাত্রলীগ নান্দিয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে প্রতিহতের সময় ছাত্রলীগ ও পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।
• শাহাদাতের তারিখ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍