হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / ডাঃ ফয়েজ আহমদ
ডাঃ ফয়েজ আহমদ

ডাঃ ফয়েজ আহমদ

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ ডা. ফয়েজ আহমেদ
পিতার নাম: মৃত জয়নাল আবেদীন
মাতার নাম: মৃত আমেনা বেগম
স্ত্রীর নাম: মারজিয়া ফয়েজ
জন্ম তারিখ: ১৯৪৬ সাল
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: ৭নং লামচরের রসুলপুর, ডাকঘর: লামচর, থানা: রামগঞ্জ, জেলা: লক্ষ্মীপুর
শিক্ষাগত যোগ্যতা: ডাক্তার (এম.বি.বি.এস)
আহত হওয়ার তারিখ: ১৪.১২.২০১৩

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন: ১৯৪৬ সালে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার ৭নং লামচরের রসুলপুর গ্রামের জয়নাল আবেদিন ভাট বাড়ির নিজ পিত্রালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মৃত জয়নাল আবেদিন ও মাতার নাম মৃত আমেনা বেগম। কৃষক পরিবারের সন্তান হলেও তাঁর বড় ভাই মকবুল আহমেদ এবং বড় বোনের প্রচেষ্টায় তিনি শিক্ষিত হিসেবে গড়ে ওঠেন। তাঁর জন্মের কিছু দিন পরেই তাঁর মাতা মৃত্যুবরণ করলে তাঁর বড় বোন তাঁর ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন।
ছাত্র জীবন: মায়ের মৃত্যুর পর তিনি তার বড় বোনের বাড়িতে থেকে পড়ালেখা শুরু করেন। তিনি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের গৃদকালিন্দিয়া স্কুলে প্রাথমিক পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে তাঁর বড় ভাই মকবুল আহমেদ তাঁকে ষাটের দশকে ঢাকা নিয়ে আসেন এবং পুরান ঢাকার ওয়েস্টিন স্কুল এন্ড কলেজে ভর্তি করিয়ে দেন। সেখান থেকে মাধ্যমিক পাশের পর তিনি ভর্তি হন তৎকালীন জগন্নাথ কলেজে। সেখানে উচ্চমাধ্যমিক পাশের পর তিনি নারায়ণগঞ্জের তোলারাম কলেজ হতে ডিগ্রি পাশ করেন। পরবর্তী কালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজেও ভর্তি হন এবং ডাক্তারি (এম.বি.বি.এস) পাশ করেন। পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষায় বিদেশ গমন করেন এবং বাবার মৃত্যুর খবর শুনে তিনি সপরিবারে দেশে ফিরে আসেন।
পারিবারিক ও বৈবাহিক জীবন: ডাক্তারি পাশ করার পর তিনি পারিবারিকভাবে ১৯৮০ সালে মারজিয়া বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। মারজিয়া বেগম তখন ইডেন মহিলা কলেজ হতে কেমিস্ট্রিতে অনার্স সম্পন্ন করার পর মাস্টার্সে অধ্যয়নরত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ৮ জনের একজন ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্যা এবং মহিলা সংগঠনের কুমিল্লা অঞ্চলের দায়িত্বশীলা।
ব্যক্তিগত জীবনে ডাঃ ফয়েজ আহমদ ২ ছেলে ও ২ মেয়ের জনক ছিলেন:
বড় ছেলে: ডাঃ হাসান-উল-বান্না (৩৩); কুমিল্লা মেডিকেল হতে এম.বি.বি.এস পাশ করে এফ.আর.সি.এস পাশ করেন। বর্তমানে সার্জারিতে এফ.সি.পি.এস (শেষ পর্ব) এ অধ্যয়নরত এবং ইবনে সিনা হাসপাতালে কর্মরত।
২য় পুত্র: বেলাল আহমেদ (৩২); আই.আই.ইউ.সি ঢাকা ক্যাম্পাস হতে বিএসসি ইন সি.এস.ই সম্পন্ন করেন। বর্তমানে একটি টেকনিক্যাল কলেজে শিক্ষকতা ও ব্যবসা করছেন।
বড় মেয়ে: সালেহা কাউসার (২৯); আই.আই.ইউ.সি চট্টগ্রাম সিটি ক্যাম্পাস হতে ইংলিশে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। (গৃহিণী)
ছোট মেয়ে: উজমা কাউসার (২৬); মানারাত ইউনিভার্সিটি হতে ফার্মাসিতে অনার্স এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি হতে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। (ফার্মাসিস্ট)

সামাজিক ও কর্মজীবন
বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় তিনি সেখানে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দেশে ফিরে ১৯৮৮ সালে লক্ষ্মীপুরে 'কাউসার ক্লিনিক' প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে তিনি ও আরও কিছু চিকিৎসক মিলে লক্ষ্মীপুরের প্রথম প্রাইভেট কোম্পানি ও হাসপাতাল 'লক্ষ্মীপুর আধুনিক হাসপাতাল প্রাইভেট (লিঃ)' প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এই হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।
এছাড়াও তিনি একে একে প্রতিষ্ঠা করেন:
হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্টের অধীনে লক্ষ্মীপুর পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ।
হলিহার্ট ফাউন্ডেশনের অধীনে হলিহার্ট স্কুল এন্ড কলেজ।
নিরাপদ গ্রুপের অধীনে নিরাপদ ফুডস লিঃ ও নিরাপদ আবাসন লিঃ।
আয়েশা (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসা।
তিনি বায়োফার্মা গ্রুপসহ আরও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন।
চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি তিনি এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান ও মসজিদ উন্নয়নের জন্য ব্যাপক সহযোগিতা করেন।

সাংগঠনিক জীবন
ছাত্রজীবন থেকেই ইসলামী আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকলেও মূলত ২০০০ সালের দিকে তিনি সক্রিয় হন। তিনি প্রথমে অফিসার্স ইউনিটের দায়িত্ব পালন করেন, পরবর্তীতে ওয়ার্ড নাযেম ও পৌরসভা দায়িত্ব পান। এরপর তিনি জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এবং সর্বশেষ লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনি তাঁর নিজের বাসার ৩য় তলা মহিলা সংগঠনকে ওয়াকফ করে দেন এবং নিচ তলা জেলা জামায়াতের অফিসের জন্য ছেড়ে দেন।

যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৩ রাতে র‍্যাবের পোশাক পরা ও র‍্যাবের গাড়ি বহর নিয়ে একটি দল ডাঃ ফয়েজ আহমদের বাসায় যায়। শহীদের স্ত্রী মারজিয়া ফয়েজ জানান, রাত ১২টার সময় তারা বাসার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ডাঃ ফয়েজকে আটক করে বাসার ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি করে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। রাত ১টা ৪০ মিনিটে সদর হাসপাতালের নিচে তাঁর লাশ ফেলে রেখে যাওয়া হয়। লাশের মাথায় ও পায়ে আঘাত এবং গুলির চিহ্ন ছিল।

শহীদের আপনজনদের কথা
কারাবন্দী মজলুম জননেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ডাঃ ফয়েজের শাহাদাতের খবর শুনে শোকাতুর হয়ে পড়েন। তিনি বলেন— "ফয়েজ ভাই এর সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো, শুধু লক্ষ্মীপুর নয়, বরং গোটা অঞ্চলের ইসলামী আন্দোলন প্রসারের ক্ষেত্রে পিলারের ভূমিকা পালন করেছেন।" তিনি আরও জানান, যখনই তিনি লক্ষ্মীপুর যেতেন, ফয়েজ ভাইয়ের বাসাতেই থাকতেন।

এক নজরে শহীদ ডা. ফয়েজ আহমেদ
শহীদের নাম: ডা. ফয়েজ আহমেদ
পিতার নাম: মৃত জয়নাল আবেদীন
মাতার নাম: মৃত আমেনা বেগম
স্ত্রীর নাম: মারজিয়া ফয়েজ
জন্ম তারিখ: ১৯৪৬ সাল
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: ৭নং লামচরের রসুলপুর, ডাকঘর: লামচর, থানা: রামগঞ্জ, জেলা: লক্ষ্মীপুর
শিক্ষাগত যোগ্যতা: ডাক্তার (এম.বি.বি.এস)
আহত হওয়ার তারিখ: ১৪.১২.২০১৩

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍