হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মোঃ ইব্রাহিম খলিল
শহীদ মোঃ ইব্রাহিম খলিল

শহীদ মোঃ ইব্রাহিম খলিল

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ ইব্রাহিম খলিল, জন্ম ১৯৮৫ সালে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার তেগাছিয়া গ্রামে, ছিলেন বরিশাল বিএম কলেজের গণিত বিভাগের মেধাবী মাস্টার্স পরীক্ষার্থী। শৈশব থেকেই নম্র স্বভাব, ধর্মনিষ্ঠ জীবনযাপন ও দায়িত্বশীলতায় তিনি ছিলেন পরিবারের ভরসা। ৫ মে ২০১৩, বায়তুল মোকাররমের উত্তাল মুহূর্তে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে তিনি প্রাণ হারান। তাঁর মৃত্যু পরিবার, সহপাঠী ও গ্রামের মানুষের হৃদয়ে গভীর বেদনার পাশাপাশি ন্যায়ের দাবিকে আরও দৃঢ় করে তোলে। তরুণ এই ছাত্রের জীবন ও শাহাদাত আজও স্মরণ করিয়ে দেয় আদর্শের পথে অটল থাকার শক্তি।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ ইব্রাহিম খলিল
পটুয়াখালী-১
"শহীদের পিতা মৌলভী আবদুর রশিদ খান জানিয়েছেন, তার ছেলে বরিশাল বিএম কলেজের পরীক্ষার্থী ছিল। ছোট বেলা থেকেই ইব্রাহিম নামাজ পড়তো এবং ইসলামের নিয়মনীতি মেনে ইসলামী জীবন যাপন করতো। ঘটনার দিন রাতে ইব্রাহিমের সাথে থাকা সহপাঠীরা ফোন করে ওর শহীদ হওয়ার খবর দেয়।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মোঃ ইব্রাহিম খলিল পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার তেগাছিয়া গ্রামে ১৯৮৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৌলভী আবদুর রশিদ খান ও মাতা মরহুমা হালিমা খাতুনের ছয় সন্তানের মধ্যে সবার বড়। তিনি বরিশাল বি এম কলেজে গণিত বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদের মধ্যে একজন ঢাকায় সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। অন্যরা সবাই লেখাপড়া করছেন। ৪ ভাই জন্ম নেয়ার পর তার মা মারা যান। পরে পিতা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সে মায়ের ঘরে দু'ভাই জন্ম নেয়।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
৫ মে ২০১৩ইং, বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট, ঢাকা। ঘটনা রাত আনুমানিক ৮:৩০ মিনিটে পুলিশের গুলিতে বুকে, পিঠে ও পাঁজরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাত বরণ করেন।
৩. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
হেফাজতে ইসলামের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরের প্রোগ্রামে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। মিছিলের তিনি অংশ গ্রহণ করেন। সেখানেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
৪. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
আল্লাহ তায়ালা, রাসূল (সা:) ও ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্লগে নাস্তিকরা অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার প্রতিবাদে ৫ মে হেফাজতে ইসলাম সমাবেশ কর্মসূচি দিয়েছিল। ওইদিন পুলিশ প্রশাসন হেফাজতের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচিতে গুলি চালায়। এতে ইব্রাহিম খলিলসহ অনেক মুসুল্লি ও ইসলামপ্রিয় মানুষ শাহাদাত বরণ করেন। আহত হয় হাজার হাজার ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দসহ আলেম ওলামা। ২দিন পর বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত নিউজ আসে। ৭ মে, ২০১৩ দৈনিক আমার দেশ রিপোর্ট করে।
হেফাজতের ঢাকা অবরোধ: পুলিশের গুলিতে নিহত দুই'শহীদের লাশ মিরসরাই ও কলাপাড়ায় দাফন
ডেস্ক রিপোর্ট:
হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত দুই'শহীদে লাশ তাদের গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মাওলানা শিহা উদ্দিনের লাশ দাফন শেষ হয়েছে। এদিকে গতকাল পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ইব্রাহিমের লাশ দাফন শে হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।

বরিশাল অফিস:
ঢাকায় হেফাজতের কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে নিহত হলেন ইব্রাহিম নামের এ হেফাজত কর্মী। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ইব্রাহিম বিএম কলেজের গণিত বিভাগে মাস্টার্স শে পর্বের ছাত্র। ইব্রাহিমের লাশ গতকাল সকালে পটুয়াখালীর পৌঁছলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন নেতাকর্মীরা। নগরী কাউনিয়াস্থ বেগম ফজিলাতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে ইব্রাহিমের জানাজা শেষে তার লা অ্যাম্বুলেন্সযোগে গ্রামের বাড়ি কলাপাড়ায় পাঠানো হয়।
এরপর হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভ মিছিল থেকে নতুন বাজার এলাকা ১টি বাস ও ৩টি অটো রিকশা ভাঙচুর করা হয়। ভাঙচুরের সময় পুলিশের ধাওয়ায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যা মিছিলটি। এ সময় ৩ নেতাকর্মী আহত হয়।
এদিকে রাতে বরিশালের গৌরনদীর ভুরঘাটা ও আগৈলঝাড়ায় দুটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। হেফাজতের কর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানায় স্থানীয় প্রশাসন। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটন এড়াতে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন মাদরাসা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও মোড়ে পুলিশ-র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে
৫. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের পিতা মৌলভী আবদুর রশিদ খান জানিয়েছেন, তার ছেলে বরিশাল বিএম কলেজে মাস্টার্স পরীক্ষার্থী ছিল। বরিশালেই থাকতো। ছোট বেলা থেকেই ইব্রাহম নামাজ পড়তো এবং ইসলামে নিয়মনীতি মেনে ইসলামী জীবন যাপন করতো। ঘটনার দিন রাতে ইব্রাহিমের সাথে থাকা সহপাঠীরা ফো করে ওর এক ভাইয়ের কাছে শহীদ হওয়ার খবর দেয়। ও পরে আমাকে জানায়। পরের দিন ৬ মে লা বাড়িতে পৌঁছে এবং দাফন করা হয়। এর আগে বরিশালেও তার নামাজে জানাযা হয়।
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ ইব্রাহিম খলিল (১১৩),
পেশা: ছাত্র।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০৫.০৬.১৯৮৫ ইং বয়স ২৯ বছর।
আহত হওয়ার তারিখ: ০৫.০৫.১৩
শাহাদাতের তারিখ: ০৫.০৫.১৩ রাত ৮.৩০টা।
স্থান: বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে। দাফন করা হয়: পারিবারিক গোরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম-তেগাছিয়া, ইউনিয়ন-তেগাছিয়া, ডাকঘর-কলাপাড়া, থানা-কলাপাড়া, জেলা-পটুয়াখালী।
পিতা: মৌলভী আব্দুর রশিদ, কৃষি কাজ ও ইমামতি করেন।
মাতা: মৃত হালিমা খাতুন।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: বাড়ির চারপাশে দেয়াল ও উপরে টিন সেড। চাষাবাদের অল্প কিছু জমি আছে। ছোট ভাই সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে চাকুরী করেন।
ভাই-বোনের বিবরণ: মোঃ নিজাম-ঢাকায় গার্মেন্টস কর্মী। সাদ্দাম-বরিশাল পলিটেকনিক কলেজে অধ্যয়নরত। ইসমাইল-চরমোনাই মাদরাসা কওমি মাদরাসায় অধ্যয়নরত। ইউসুফ-মহিপুর কওমি মাদরাসায় অধ্যয়নরত। মোঃ শফিকুল-তেগাছিয়া, মিঠাগঞ্জ হাফিজিয়া মাদরাসায় অধ্যয়নরত।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍