শহীদ মো: ফরিদুল ইসলাম
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
আওয়ামী লীগ ও পুলিশের হামলায় এলাকার হাজার হাজার জনতা শক্ত বাধার প্রাচীর গড়ে তুললে ধাওয়া পালটা ধাওয়া চলতে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ মুহুর্মুহুভাবে প্রায় ১৪৩ রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ২ নিহত হয়।"
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ মো: ফরিদুল ইসলাম
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: ফরিদুল ইসলাম ১৯৯৪ ইং সালে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার কল্যাণপুর সর্বতুলসী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের ৫ বছরের মাথায় তার পিতা ১৯৯৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। পিতা মরহুম আব্দুল মজিদ ও মাতা ফরিদা বেগমের দুই সন্তানের মধ্য তিনি প্রথম। বৃদ্ধা মা কোন রকম চরকায় সুতা কেটে তাদেরকে বড় করে তোলেন। শহীদ মো: ফরিদুল এর স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে একখণ্ড জমি কিনে নিজে একটি বাড়ি করবেন এবং মায়ের মুখে হাসি ফুটাবেন। কিন্তু হাসির পরিবর্তে মায়ের চোখে রেখে গেলেন শুধু পানি আর পানি। আর ছোট বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী বোনটিকে করে গেলেন একেবারে অসহায়।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৯ মার্চ ২০১৩ইং তারিখে স্থানীয় সরকারদলীয় এমপি আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের নেতৃত্বে আওয়ামী সন্ত্রাসী পুলিশ ও বিজিবি এক সাথে সর্বতুলসী গ্রামে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের উদ্দেশ্যে নিরীহ মানুষদের উপর আক্রমণ চালায়। গ্রামবাসীরা তাদের আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শহীদ মো: ফরিদুল ইসলাম গ্রামবাসীর সাথে এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে সন্ত্রাসী পুলিশ বিজিবি টিকতে না পেরে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় এবং ফরিদুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২৯ মার্চ ২০১৩ইং তারিখে আনুমানিক বেলা ১১টায় স্থানীয় সরকারদলীয় এমপি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস দলীয় ক্যাডার পুলিশ ও বিজিবিকে সাথে নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে। যদিও এলাকাটি উপজেলা সদর থেকে দূরে তথাপি সেখানে তাদের আলাদা নজর, কারণ সে এলাকায় সাঈদী ভক্ত আন্দোলনকারীরা এত ঐক্যবদ্ধ যে কোন সময়ে প্রশাসনের লোকেরা প্রবেশ করতে পারে না। ফলে এমপি নিজে নেতৃত্ব দিয়ে সেখানে তাদেরকে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তারা বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকি প্রদান করে, ফলে এলাকার
লোকেরা একপর্যায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাদের প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা মিলে গুলি চালিয়ে ফরিদুল ইসলাম ও ইউনুস আলীকে সেখানে হত্যা করে। পরের দিনের জাতীয় দৈনিকে এ সম্পর্কিত বিশদ রিপোর্ট আসে। দৈনিক সংগ্রাম ৩০ মার্চ ২০১৩ রিপোর্ট করে;
গ্রামবাসীদের প্রতিরোধের মুখে হাজার হাজার পুলিশ-র্যাব বিজিবির আসামি ধরা অভিযান
চাঁপাই ও বেলকুচিতে পুলিশ আ'লীগের গুলিতে ৫ জন নিহত গুলিবিদ্ধ শতাধিক
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: পুলিশের গুলিতে নিহত (বাম থেকে) অলিউল্লাহ, মতিউর রহমান মতি ও রবিউল ইসলাম রবু, সিরাজগঞ্জ: বেলকুচিতে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত শিবিরকর্মী ইউনুস ও জামায়াত কর্মী ফরিদুল ইসলাম
সংগ্রাম রিপোর্ট: চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিরস্ত্র জনতার ওপর পুলিশের গুলিতে ৩ জন নিহত ও শতাধিক গুলিবিদ্ধ এবং বেলকুচিতে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের গুলিতে আরো ২ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছে। বেলকুচিতে ১৪৩ রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ ও বেলকুচি সংবাদদাতা: বেলকুচিতে আওয়ামীলীগ-পুলিশের গুলিতে ২ জন নিহত হয়েছে।
বিটিভি ও মাইটিভির সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। নিহতরা হলেন বেলকুচি উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে ৯ম শ্রেণীর ছাত্র কল্যাণপুর ইউনিট ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউনুস আলী (১৪) ও সর্বতুলশী গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে, কল্যাণপুর ইউনিট জামায়াতের সেক্রেটারি ফরিদুল ইসলাম (২২)। আহতদের মধ্যে বিটিভি'র সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করার পর তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পুলিশ প্রায় ১৪৩ রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত ৩ মার্চ হরতাল চলাকালে আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি আটকের জন্য প্রাণী ও মৎস্য সম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস পুলিশকে নির্দেশ দিলে পুলিশ ৪-৫ হোন্ডাযোগে সিভিলে গতকাল সকাল সাড়ে ৮ দিকে বেলকুচি থানা পুলিশ ধুকুরিয়া বেড়া মবুপুর গ্রামে গিয়ে জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমানকে আটক করে। খবর পেয়ে এলাকাবাসী লাঠিসোটা নিয়ে এগিয়ে আসলে পুলিশ দ্রুত আসামিসহ থানায় চলে আসে। পুলিশ ফিরে এসে গ্রামবাসীর ঐক্য দেখে অপারগতা প্রকাশ করলে মন্ত্রী নিজে ও তার ছেলে মিঠু বিশ্বাস, আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে অবতীর্ণ হয়। তারা অতর্কিতভাবে গুলিবর্ষণ করতে করতে আগাতে থাকে। তাদের অবিরাম গুলিবর্ষণে অন্তত ৩০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে নেয়ার পথে জামায়াত ও শিবিরের ২ জন শাহাদাতবরণ করেন। এ ঘটনার পর গ্রামবাসী নারী-পুরুষ কল্যানপুর মাঠে সমবেত হয় ও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাদের প্রতিরোধের মুখে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পিছু হঠতে বাধ্য হয়। আওয়ামী লীগ ও পুলিশের হামলায় এলাকার হাজার হাজার জনতা শক্ত বাধার প্রাচীর গড়ে তুললে ধাওয়া পালটা ধাওয়া চলতে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ মুহুর্মুহুভাবে প্রায় ১৪৩ রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়। অবশ্য ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর আলম নিহত দু'জনকেই তাদের কর্মী বলে দাবি করেন। ঘটনাস্থলে বিটিভি'র জেলা
সংবাদ প্রতিনিধি গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী ও মাই টিভির জেলা প্রতিনিধি রহমত আলী আহত হন। এ ছাড়াও কোরবান আলী, রতন আলী, বাবু ইসলামসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়। বর্তমানে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করায় সিরাজগঞ্জ থেকে র্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় ২ সাংবাদিককে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করায় সিরাজগঞ্জে কর্মরত সকল সাংবাদিক তীর্ব প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ দিকে বিনা উস্কানিতে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে পুলিশ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করে পাখির মতো মানুষ হত্যার প্রতিবাদে জেলা জামায়াতের আমীর এডভোকেট আব্দুল লতিফ ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম, বেলকুচি আমীর নুরুন্নবী সরকার, সেক্রেটারি আরিফুল ইসলাম সোহেল এক যুক্ত বিবৃতি দিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, রক্ত ঝরিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না। এ ঘটনার পর হাজার হাজার মানুষ কল্যাণপুরে সমবেত হয় এবং বিক্ষোভ করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।
৪. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: ফরিদুল ইসলাম (১০৭)
পেশা: ব্যবসা (মুদি দোকান)
জন্ম তারিখ ও বয়স: ২৫.০১.১৯৯৪ বয়স ১৯ বছর।
আহত হওয়ার তারিখ: ২৯.০৩.২০১৩
শাহাদাতের তারিখ: ২৯.০৩.২০১৩, দুপুর ১২টা।
স্থান: ঘটনাস্থলেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
দাফন করা হয়: কল্যাণপুর-সর্বতুলসী গোরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- কল্যাণপুর সর্বতুলসী, ইউনিয়ন-ধুকুরিয়া বেড়া, ডাকঘর- কল্যাণপুর বাজার, থানা- বেলকুচি, জেলা-সিরাজগঞ্জ।
পিতা: মৃত আব্দুল মজিদ।
মাতা: ফরিদা বেগম, বয়স ৫৫ বছর, চরকাতে সুতা কাটেন।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: তাদের ঘড়বাড়ি নেই। ফরিদুল ইসলামের একমাত্র চাচাত মামার বাড়িতে আশ্রিতা হিসেবে বৃদ্ধা মা বোনকে নিয়ে বসবাস করে। চরকিতে সুতা কেটে সামান্য আয় দিয়ে পরিবার চলে।
ভাই-বোনের বিবরণ: শহীদ মো: ফরিদুল ইসলাম। ডলি খাতুন-৬ষ্ঠ শ্রেণী।
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: ফরিদুল ইসলাম ১৯৯৪ ইং সালে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার কল্যাণপুর সর্বতুলসী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের ৫ বছরের মাথায় তার পিতা ১৯৯৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। পিতা মরহুম আব্দুল মজিদ ও মাতা ফরিদা বেগমের দুই সন্তানের মধ্য তিনি প্রথম। বৃদ্ধা মা কোন রকম চরকায় সুতা কেটে তাদেরকে বড় করে তোলেন। শহীদ মো: ফরিদুল এর স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে একখণ্ড জমি কিনে নিজে একটি বাড়ি করবেন এবং মায়ের মুখে হাসি ফুটাবেন। কিন্তু হাসির পরিবর্তে মায়ের চোখে রেখে গেলেন শুধু পানি আর পানি। আর ছোট বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী বোনটিকে করে গেলেন একেবারে অসহায়।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৯ মার্চ ২০১৩ইং তারিখে স্থানীয় সরকারদলীয় এমপি আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের নেতৃত্বে আওয়ামী সন্ত্রাসী পুলিশ ও বিজিবি এক সাথে সর্বতুলসী গ্রামে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের উদ্দেশ্যে নিরীহ মানুষদের উপর আক্রমণ চালায়। গ্রামবাসীরা তাদের আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শহীদ মো: ফরিদুল ইসলাম গ্রামবাসীর সাথে এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে সন্ত্রাসী পুলিশ বিজিবি টিকতে না পেরে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় এবং ফরিদুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২৯ মার্চ ২০১৩ইং তারিখে আনুমানিক বেলা ১১টায় স্থানীয় সরকারদলীয় এমপি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস দলীয় ক্যাডার পুলিশ ও বিজিবিকে সাথে নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে। যদিও এলাকাটি উপজেলা সদর থেকে দূরে তথাপি সেখানে তাদের আলাদা নজর, কারণ সে এলাকায় সাঈদী ভক্ত আন্দোলনকারীরা এত ঐক্যবদ্ধ যে কোন সময়ে প্রশাসনের লোকেরা প্রবেশ করতে পারে না। ফলে এমপি নিজে নেতৃত্ব দিয়ে সেখানে তাদেরকে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তারা বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকি প্রদান করে, ফলে এলাকার
লোকেরা একপর্যায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাদের প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা মিলে গুলি চালিয়ে ফরিদুল ইসলাম ও ইউনুস আলীকে সেখানে হত্যা করে। পরের দিনের জাতীয় দৈনিকে এ সম্পর্কিত বিশদ রিপোর্ট আসে। দৈনিক সংগ্রাম ৩০ মার্চ ২০১৩ রিপোর্ট করে;
গ্রামবাসীদের প্রতিরোধের মুখে হাজার হাজার পুলিশ-র্যাব বিজিবির আসামি ধরা অভিযান
চাঁপাই ও বেলকুচিতে পুলিশ আ'লীগের গুলিতে ৫ জন নিহত গুলিবিদ্ধ শতাধিক
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: পুলিশের গুলিতে নিহত (বাম থেকে) অলিউল্লাহ, মতিউর রহমান মতি ও রবিউল ইসলাম রবু, সিরাজগঞ্জ: বেলকুচিতে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত শিবিরকর্মী ইউনুস ও জামায়াত কর্মী ফরিদুল ইসলাম
সংগ্রাম রিপোর্ট: চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিরস্ত্র জনতার ওপর পুলিশের গুলিতে ৩ জন নিহত ও শতাধিক গুলিবিদ্ধ এবং বেলকুচিতে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের গুলিতে আরো ২ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছে। বেলকুচিতে ১৪৩ রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ ও বেলকুচি সংবাদদাতা: বেলকুচিতে আওয়ামীলীগ-পুলিশের গুলিতে ২ জন নিহত হয়েছে।
বিটিভি ও মাইটিভির সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। নিহতরা হলেন বেলকুচি উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে ৯ম শ্রেণীর ছাত্র কল্যাণপুর ইউনিট ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউনুস আলী (১৪) ও সর্বতুলশী গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে, কল্যাণপুর ইউনিট জামায়াতের সেক্রেটারি ফরিদুল ইসলাম (২২)। আহতদের মধ্যে বিটিভি'র সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করার পর তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পুলিশ প্রায় ১৪৩ রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত ৩ মার্চ হরতাল চলাকালে আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি আটকের জন্য প্রাণী ও মৎস্য সম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস পুলিশকে নির্দেশ দিলে পুলিশ ৪-৫ হোন্ডাযোগে সিভিলে গতকাল সকাল সাড়ে ৮ দিকে বেলকুচি থানা পুলিশ ধুকুরিয়া বেড়া মবুপুর গ্রামে গিয়ে জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমানকে আটক করে। খবর পেয়ে এলাকাবাসী লাঠিসোটা নিয়ে এগিয়ে আসলে পুলিশ দ্রুত আসামিসহ থানায় চলে আসে। পুলিশ ফিরে এসে গ্রামবাসীর ঐক্য দেখে অপারগতা প্রকাশ করলে মন্ত্রী নিজে ও তার ছেলে মিঠু বিশ্বাস, আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে অবতীর্ণ হয়। তারা অতর্কিতভাবে গুলিবর্ষণ করতে করতে আগাতে থাকে। তাদের অবিরাম গুলিবর্ষণে অন্তত ৩০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে নেয়ার পথে জামায়াত ও শিবিরের ২ জন শাহাদাতবরণ করেন। এ ঘটনার পর গ্রামবাসী নারী-পুরুষ কল্যানপুর মাঠে সমবেত হয় ও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাদের প্রতিরোধের মুখে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পিছু হঠতে বাধ্য হয়। আওয়ামী লীগ ও পুলিশের হামলায় এলাকার হাজার হাজার জনতা শক্ত বাধার প্রাচীর গড়ে তুললে ধাওয়া পালটা ধাওয়া চলতে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ মুহুর্মুহুভাবে প্রায় ১৪৩ রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়। অবশ্য ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর আলম নিহত দু'জনকেই তাদের কর্মী বলে দাবি করেন। ঘটনাস্থলে বিটিভি'র জেলা
সংবাদ প্রতিনিধি গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী ও মাই টিভির জেলা প্রতিনিধি রহমত আলী আহত হন। এ ছাড়াও কোরবান আলী, রতন আলী, বাবু ইসলামসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়। বর্তমানে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করায় সিরাজগঞ্জ থেকে র্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় ২ সাংবাদিককে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করায় সিরাজগঞ্জে কর্মরত সকল সাংবাদিক তীর্ব প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ দিকে বিনা উস্কানিতে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে পুলিশ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করে পাখির মতো মানুষ হত্যার প্রতিবাদে জেলা জামায়াতের আমীর এডভোকেট আব্দুল লতিফ ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম, বেলকুচি আমীর নুরুন্নবী সরকার, সেক্রেটারি আরিফুল ইসলাম সোহেল এক যুক্ত বিবৃতি দিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, রক্ত ঝরিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না। এ ঘটনার পর হাজার হাজার মানুষ কল্যাণপুরে সমবেত হয় এবং বিক্ষোভ করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।
৪. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: ফরিদুল ইসলাম (১০৭)
পেশা: ব্যবসা (মুদি দোকান)
জন্ম তারিখ ও বয়স: ২৫.০১.১৯৯৪ বয়স ১৯ বছর।
আহত হওয়ার তারিখ: ২৯.০৩.২০১৩
শাহাদাতের তারিখ: ২৯.০৩.২০১৩, দুপুর ১২টা।
স্থান: ঘটনাস্থলেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
দাফন করা হয়: কল্যাণপুর-সর্বতুলসী গোরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- কল্যাণপুর সর্বতুলসী, ইউনিয়ন-ধুকুরিয়া বেড়া, ডাকঘর- কল্যাণপুর বাজার, থানা- বেলকুচি, জেলা-সিরাজগঞ্জ।
পিতা: মৃত আব্দুল মজিদ।
মাতা: ফরিদা বেগম, বয়স ৫৫ বছর, চরকাতে সুতা কাটেন।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: তাদের ঘড়বাড়ি নেই। ফরিদুল ইসলামের একমাত্র চাচাত মামার বাড়িতে আশ্রিতা হিসেবে বৃদ্ধা মা বোনকে নিয়ে বসবাস করে। চরকিতে সুতা কেটে সামান্য আয় দিয়ে পরিবার চলে।
ভাই-বোনের বিবরণ: শহীদ মো: ফরিদুল ইসলাম। ডলি খাতুন-৬ষ্ঠ শ্রেণী।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍