শহীদ মোঃ আবু সাঈদ
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ মোঃ আবু সাঈদ পাবনার সাঁথিয়ার তেথুলিয়া গ্রামের এক শ্রমজীবী মানুষ। যার জীবন গড়ে উঠেছিল পরিশ্রম, বিশ্বাস ও দায়িত্ববোধের নির্মল মাটিতে। মাছ ব্যবসা ও নসিমন চালিয়ে চার কন্যা ও পরিবারকে টিকিয়ে রাখা এই মানুষটি ছিলেন স্থানীয়ভাবে পরিচিত এক শান্ত-স্বভাব, ন্যায়পরায়ণ কর্মী। ২০১৩ সালে দলীয় হরতালের দিনে ও পরদিন ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন। মাথা, চোখ ও শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি হাসপাতালের পথেই মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু পরিবার ও স্থানীয় সমাজে ন্যায়বোধ, অধিকার এবং মানবিক মর্যাদার প্রশ্নে গভীর আলোড়ন তোলে এক সাধারণ মানুষের গল্পকে পরিণত করে এক অনুচ্চারিত প্রতিরোধের প্রতীকে।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ মোঃ আবু সাঈদ
পাবনা-৩
"আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠাই ছিলো তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। সে লক্ষ্যে তিনি অবিচল থেকে বাতিলের আক্রমণে মৃত্যুবরণ করেন। আমি আশা করি মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতের মেহমান করেছেন এবং তার রেখে যাওয়া ৪ কন্যাকে নিয়ে কিয়ামত দিবসে জান্নাতের সিঁড়িতে আমাদের সঙ্গে তার দেখা হবে।" শহীদের স্ত্রী
শহীদের পরিচিতি
পিতা-মাতার ৮ (আট) সন্তানের মধ্যে চতুর্থ সন্তান শহীদ মোঃ আবু সাঈদ ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে পাবনা জেলাধীন সাঁথিয়া উপজেলার তেথুলিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। অভাবের সংসার হওয়ায় পিতা-মাতা সন্তানদের জন্য দু'বেলা দু'মুঠো খাবার যোগাড় করতেই ব্যস্ত ছিলেন। পারেননি তাদের পড়ালেখার কোন ব্যবস্থা করতে। তাইতো শহীদ মোঃ আবু সাঈদ প্রাথমিকের গণ্ডিও পেরোতে পারেননি। পিতার সাথে ধরতে হয়েছে সংসারের হাল। ৪ কন্যার পিতা শহীদ দীর্ঘ দিন ধরে সাঁথিয়াসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে মাছ ব্যবসা করে ও নসিমন চালিয়ে সংসার চালাতেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতার কাছে মাছ বিক্রির পাওনা টাকা আদায়ের জন্য গেলে টাকা না দিয়ে উল্টো জামায়াত করার কারণে অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ করে। শহীদ আবু সাঈদ তার প্রতিবাদ করার হেমার দিয়ে মাথা, চোখ ও লিঙ্গে আঘাত করে। মারাত্মক আহত অবস্থায় হাসপাতাল নেয়ার পথে শহীদ হন তিনি।
ঘটনার সামগ্রীক বিবরণ:
২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ১৪ জুলাই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আজমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত ৯০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ প্রত্যাখ্যান করে দেশব্যাপী হরতালের আহবান করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ১৬ জুলাই হরতালের দ্বিতীয় দিন শহীদ আবু সাঈদ সাঁথিয়া-বেড়া আঞ্চলিক মহাসড়কে পিকেটিং-এ অংশ নেন। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সেদিনই তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করে ব্যার্থ হয়। পরের দিন ১৭ জুলাই মাগরিবের নামাজ জামায়াতে আদায় করে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতার নিকট মাছ বিক্রির পাওনা টাকা চাইতে গেলে, টাকা না দিয়ে উল্টা তাকে জামায়াত করার কারণে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। শহীদ আবু সাঈদ এর প্রতিবাদ করায় হেমার দিয়ে তার মাথা, চোখ ও লিঙ্গে আঘাত করে। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন এবং রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে ৪ কন্যা, স্ত্রী ও বাবা-মা রেখে দুনিয়া ছেড়ে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে শহীদি মিছিলে সামিল হন।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া/ অনভূতি
শহীদের স্ত্রী জানান, আমার স্বামী আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়েছেন। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠাই ছিলো তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। সে লক্ষ্যে তিনি অবিচল থেকে বাতিলের আক্রমণে শাহাদাতবরণ করেন। আমি আশা করি মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের মেহমান করেছেন এবং তাঁর রেখে যাওয়া চার কন্যাকে নিয়ে কিয়ামত দিবসে জান্নাতের সিঁড়িতে আমাদের সঙ্গে তাঁর দেখা হবে।
সন্তানদের বিবরণ
মোছা: বিথী, বয়স ১৮ বছর, এইচএসসি পাশ, বিবাহিতা
মোছা: যুথি, বয়স ১২ বছর, চতুর্থ শ্রেণি, তেথুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়
মোছা: জুঁই, বয়স ছয় বছর, শিশু শ্রেণি, তেঘুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়
মোছা: মিথিলা, বয়স চার বছর
একনজরে শহীদ আবু সাঈদ
নাম: আবু সাঈদ
পিতার নাম: মৃত ওয়াহেদ আলী
মাতার নাম: ওমেনা খাতুন, বয়স ৬৫, বয়সজনিত কারণে অক্ষম।
স্ত্রীর নাম: আয়মালা খাতুন, পেশা গৃহিণী
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: তেথুলিয়া, ডাকঘর: নন্দনপুর, থানা- সাঁথিয়া, জেলা- পাবনা।
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
আহত হওয়ার তারিখ: ১৭ জুলাই ২০১৩, বাদ মাগরিব
শাহাদাতের তারিখ: ১৭ জুলাই ২০১৩
জানাজা। তেথুলিয়া হাইস্কুল মাঠে,
ভাই-বোন: পাঁচ ভাই তিন বোনের মধ্যে চতুর্থ
সন্তান: চার মেয়ে
পাবনা-৩
"আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠাই ছিলো তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। সে লক্ষ্যে তিনি অবিচল থেকে বাতিলের আক্রমণে মৃত্যুবরণ করেন। আমি আশা করি মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতের মেহমান করেছেন এবং তার রেখে যাওয়া ৪ কন্যাকে নিয়ে কিয়ামত দিবসে জান্নাতের সিঁড়িতে আমাদের সঙ্গে তার দেখা হবে।" শহীদের স্ত্রী
শহীদের পরিচিতি
পিতা-মাতার ৮ (আট) সন্তানের মধ্যে চতুর্থ সন্তান শহীদ মোঃ আবু সাঈদ ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে পাবনা জেলাধীন সাঁথিয়া উপজেলার তেথুলিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। অভাবের সংসার হওয়ায় পিতা-মাতা সন্তানদের জন্য দু'বেলা দু'মুঠো খাবার যোগাড় করতেই ব্যস্ত ছিলেন। পারেননি তাদের পড়ালেখার কোন ব্যবস্থা করতে। তাইতো শহীদ মোঃ আবু সাঈদ প্রাথমিকের গণ্ডিও পেরোতে পারেননি। পিতার সাথে ধরতে হয়েছে সংসারের হাল। ৪ কন্যার পিতা শহীদ দীর্ঘ দিন ধরে সাঁথিয়াসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে মাছ ব্যবসা করে ও নসিমন চালিয়ে সংসার চালাতেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতার কাছে মাছ বিক্রির পাওনা টাকা আদায়ের জন্য গেলে টাকা না দিয়ে উল্টো জামায়াত করার কারণে অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ করে। শহীদ আবু সাঈদ তার প্রতিবাদ করার হেমার দিয়ে মাথা, চোখ ও লিঙ্গে আঘাত করে। মারাত্মক আহত অবস্থায় হাসপাতাল নেয়ার পথে শহীদ হন তিনি।
ঘটনার সামগ্রীক বিবরণ:
২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ১৪ জুলাই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আজমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত ৯০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ প্রত্যাখ্যান করে দেশব্যাপী হরতালের আহবান করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ১৬ জুলাই হরতালের দ্বিতীয় দিন শহীদ আবু সাঈদ সাঁথিয়া-বেড়া আঞ্চলিক মহাসড়কে পিকেটিং-এ অংশ নেন। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সেদিনই তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করে ব্যার্থ হয়। পরের দিন ১৭ জুলাই মাগরিবের নামাজ জামায়াতে আদায় করে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতার নিকট মাছ বিক্রির পাওনা টাকা চাইতে গেলে, টাকা না দিয়ে উল্টা তাকে জামায়াত করার কারণে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। শহীদ আবু সাঈদ এর প্রতিবাদ করায় হেমার দিয়ে তার মাথা, চোখ ও লিঙ্গে আঘাত করে। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন এবং রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে ৪ কন্যা, স্ত্রী ও বাবা-মা রেখে দুনিয়া ছেড়ে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে শহীদি মিছিলে সামিল হন।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া/ অনভূতি
শহীদের স্ত্রী জানান, আমার স্বামী আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়েছেন। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠাই ছিলো তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। সে লক্ষ্যে তিনি অবিচল থেকে বাতিলের আক্রমণে শাহাদাতবরণ করেন। আমি আশা করি মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের মেহমান করেছেন এবং তাঁর রেখে যাওয়া চার কন্যাকে নিয়ে কিয়ামত দিবসে জান্নাতের সিঁড়িতে আমাদের সঙ্গে তাঁর দেখা হবে।
সন্তানদের বিবরণ
মোছা: বিথী, বয়স ১৮ বছর, এইচএসসি পাশ, বিবাহিতা
মোছা: যুথি, বয়স ১২ বছর, চতুর্থ শ্রেণি, তেথুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়
মোছা: জুঁই, বয়স ছয় বছর, শিশু শ্রেণি, তেঘুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়
মোছা: মিথিলা, বয়স চার বছর
একনজরে শহীদ আবু সাঈদ
নাম: আবু সাঈদ
পিতার নাম: মৃত ওয়াহেদ আলী
মাতার নাম: ওমেনা খাতুন, বয়স ৬৫, বয়সজনিত কারণে অক্ষম।
স্ত্রীর নাম: আয়মালা খাতুন, পেশা গৃহিণী
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: তেথুলিয়া, ডাকঘর: নন্দনপুর, থানা- সাঁথিয়া, জেলা- পাবনা।
সাংগঠনিক মান: কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
আহত হওয়ার তারিখ: ১৭ জুলাই ২০১৩, বাদ মাগরিব
শাহাদাতের তারিখ: ১৭ জুলাই ২০১৩
জানাজা। তেথুলিয়া হাইস্কুল মাঠে,
ভাই-বোন: পাঁচ ভাই তিন বোনের মধ্যে চতুর্থ
সন্তান: চার মেয়ে
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍