শহীদ এস এম শরিফুল ইসলাম
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ এস এম শরিফুল ইসলাম, জন্ম ১১ আগস্ট ১৯৭৩, পাবনা। তিনি একজন শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সমাজগঠনের নিরলস কর্মী, যিনি ছাত্রজীবন থেকেই নৈতিক উন্নয়ন, নেতৃত্ব ও সংগঠনী চর্চায় নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। আছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে দুইবার নির্বাচিত ইউপি সদস্য হিসেবে তিনি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, মসজিদ-মাদরাসা-স্কুলসহ সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। চরবলরামপুরে দাখিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠা এবং এলাকার শিক্ষাবঞ্চিতদের জন্য নিরব কাজ তাকে দ্রুতই মানুষের আস্থা ও জনপ্রিয়তার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। ন্যায় ও জনগণের অধিকারের পক্ষে তার সোচ্চার অবস্থান তাকে বহুবার হামলার মুখে ফেলে, যা শেষ পর্যন্ত ১৯ এপ্রিল ২০১৫ এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পরিণত হয়। স্ত্রী, এক ছেলে ও তিন কন্যাকে রেখে যাওয়া এই নিবেদিতপ্রাণ মানুষটি আজ সমাজে সত্য, দায়িত্ববোধ ও জনসেবার এক অমর প্রতীক হয়ে আছেন।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ এস এম শরিফুল ইসলাম
পাবনা-8
ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথী হিসেবে শপথ নিয়ে নিজের মান উন্নয়ন করেন এবং ইউনিয়ন সভাপতিসহ থানা শাখার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে পাবনা শহরস্থ আছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে দূর্নীতিমুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ গড়ার লক্ষ্যে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে ১৯৯৬ ও ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইউপি সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দীতা করে পরপর ২ বার নির্বাচিত হন
শহীদের পরিচিতি
পিতামাতার পাঁচ সন্তানের মধ্যে তৃতীয় সন্তান শহীদ এস এম শরিফুল ইসলাম। তিনি পাবনা জেলার সদর উপজেলার চরবলরামপুর গ্রামে ১৯৭৩ সালের ১১ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। দুই ভাই ও তিন বোনের অভাবের সংসার হওয়া সত্ত্বেও পিতামাতা ও অন্যান্য ভাইদের সঙ্গে জীবন সংগ্রামের পাশাপাশি নিজের লেখা-পড়া চালিয়ে গেছেন অব্যাহতভাবে। তাইতো শহীদ এস এম শরিফুল ইসলাম প্রাথমিক থেকেই একজন ভালোছাত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। এভাবে তিনি কৃতিত্বের সাথে এস এস সি, এইচ এস সি ও স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী হিসেবে শপথ নিয়ে নিজের মান উন্নয়ন করেন এবং ইউনিয়ন সভাপতিসহ থানা শাখার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে পাবনা শহরস্থ আছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে দুর্নীতিমুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ গড়ার লক্ষ্যে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে ১৯৯৬ ও ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইউপি সদস্যপদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে পরপর ২ বার নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি চরবলরামপুরে একটি দাখিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন ও সেখানেই শিক্ষক হিসেবে পুনরায় নিজের কর্মজীবন শুরু করেন। একাধারে তিনি এলাকার মসজিদ, মাদরাসা, গোরস্থান, হাই স্কুল, পাঠাগারসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছিলেন। তাই তাঁর জনপ্রিয়তা ছিলো আকাশচুম্বী। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন শাহাদাতের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত। শরীফুল ইসলাম স্ত্রী, ১ ছেলে এবং ৩ কন্যাকে নিয়ে দেখেছিলেন সুন্দর ভবিষ্যত গড়ার স্বপ্ন। কিন্তু দুর্বৃত্ত ও ফ্যাসিবাদের ঘাতকেরা তাঁর সে স্বপ্নকে ভেঙ্গে খান খান করে দেয়।
ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত নম্র, ভদ্র, সৎ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী, আমানতদার, উত্তম চরিত্র ও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার অধিকারী। তাইতো বাংলাদেশের জন্য অভিশাপ কুখ্যাত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী সরকার সমর্থিত সন্ত্রাসীদের অত্যাচার ও তাণ্ডবের প্রতিবাদে এলাকাবাসীকে নিয়ে বার বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন তিনি। আর সত্য ও ন্যায়ের পথের অকুতোভয় এ সৈনিক আওয়ামী সরকার সমর্থিত সন্ত্রাসীদের চাপাতির আঘাতে ঘটনাস্থলেই মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে ইহধাম ত্যাগ করেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
দিনটি ছিল ১৯ এপ্রিল ২০১৫। এশার নামাজ পড়ে শরিফুল ইসলাম ভাই সাধারণ মুসল্লিদের নিয়ে রাত ৯.০০ টার সময় চরবলরামপুর হাই স্কুল সংলগ্ন বাজারে চায়ের দোকানে চা পান করতে বসেন। এ সুযোগে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা প্রথমে গুলি করে এবং পরে চাপাতি দিয়ে মাথার বাম পার্শ্বে কানের উপরে উপর্যপুরি কুপিয়ে আহত করে। এতে এস এম শরিফুল ইসলাম মাথায় চাপাতির আঘাতে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন।
ঘটনার সামগ্রিক বিবরণ
দিনটি ছিল ১৯ এপ্রিল ২০১৫। এশার নামাজ পড়ে শরিফুল ইসলাম ভাই সাধারণ মুসল্লিদের নিয়ে রাত ৯,০০ টার সময় চরবলরামপুর হাই স্কুল সংলগ্ন বাজারে চায়ের দোকানে চা পান করতে বসেন। কিন্তু বাংলাদেশের অভিশাপ কুখ্যাত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী সরকার সমর্থিত সন্ত্রাসীদের অত্যাচার ও তাণ্ডবের প্রতিবাদে এলাকাবাসীকে নিয়ে বার বার প্রতিরোধ গড়ে তোলার কারণে সন্ত্রাসীরা বার বার হত্যা, লুট ও তাদের তাণ্ডবলীলায় বাধাগ্রস্থ হয়ে শরিফুল ইসলাম-এর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে এবং বেশ কয়েকবার তারা তাঁকে হত্যার উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হয়। শহীদ শরীফুল ইসলাম জামায়াত ঘোষিত সকল হরতাল, অবরোধসহ সকল কর্মসূচী পালনে এলাকার মানুষকে নিয়ে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়তেন বিধায় সন্ত্রাসীদের গায়ের জ্বালা আরও বহুগুণে বেড়ে যায়। এবারে তারা সরকার দলীয় গডফাদারদের আশ্বাস পেয়ে উপরোক্ত সময়ে চা পানের সময় প্রথমে গুলি করে এবং পরে চাপাতি দিয়ে মাথার বাম পার্শ্বে কানের উপরে কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করে। শহীদের জানাযার নামাজে ইমামতি করেন পাবনা ইসলামিয়া মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও জেলা জামায়াতের তালিমুল কুরআন ও মসজিদ মিশন বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস শাকুর। জানাযায় প্রায় ৫ হাজার লোক উপস্থিত হন।
আপনজনদের কথা
প্রতিবেশীর কথা: সে ছিল নিয়মিত নামাজী। তার মত ভাল লোক দ্বিতীয় জন পাওয়া দুষ্কর। সে ছিল সকল প্রকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী কন্ঠস্বর।
এলাকাবাসীর কথা: তিনি ছিলেন নম্র, ভদ্র, সৎ ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী। তিনি ছিলেন সকলের নিকট বিশ্বস্ততা ও আমানতদারীতার প্রতীক। তিনি যখন ইউপি মেম্বার ছিলেন দরিদ্র মানুষ তাদের আমানত ও অধিকার নিরাপদ মনে করতেন।
সংবাদ মাধ্যমে শহীদ এস এম শরিফুল ইসলামের শাহাদাতের খবর
২১ এপ্রিল ২০১৫, দৈনিক যুগান্তার 'পাবনায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে জামায়াত নেতা খুন' শিরোনামে নিম্মোক্ত খবর প্রচার করে-
পাবনা সদর উপজেলার ভাড়াড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামে শরিফুল ইসলাম (৪০) নামের জামায়াতের এক নেতা ও সাবেক ইউপি মেম্বারকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। নিহত শরিফুল রাতে এলাকার স্কুলমাঠে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের ক্রিকেট খেলা দেখছিলেন। তিনি পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের আদু প্রামাণিকের ছেলে ও ভাড়ারা ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চল জামায়াতের সহসভাপতি এবং সাবেক ইউপি মেম্বার।
জামায়াতের সদর উপজেলা আমীর মাওলানা আবদুল গাফফার খান জানান, শরিফুল মেম্বার বলরামপুর স্কুলমাঠে টেলিভিশনে সবার সঙ্গে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের ক্রিকেট খেলা দেখছিলেন। এ অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে ১০-১২ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী শরিফুলকে ঘিরে ধরে এবং তাকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে ফেলে রেখে যায়।
সন্তানদের বিবরণ
এস এম মঈনুল ইসলাম, ছাত্র- ১৭ বছর বয়স, আলিম ২য় বর্ষ, পাবনা ইসলামিয়া মাদরাসা
সুমাইয়া ফাহমিদা, ছাত্রী- ১৫ বছর বয়স, এইচ এস সি ১ম বর্ষ, দোগাছী কলেজ
সাদিয়া নাজনিন, ছাত্রী- ১২ বছর বয়স, ৮ম শ্রেণি, চরবলরামপুর দাখিল মাদরাসা
সাজিয়া শবনম, ছাত্রী- ১০ বছর বয়স, ৫ম শ্রেণি, চরবলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
একনজরে শহীদ এস এম শরিফুল ইসলাম
নাম: এস এম শরিফুল ইসলাম
পিতার নাম। মৃত আদু শেখ
মাতার নাম। মৃত আছিয়া খাতুন
জন্ম তারিখ: ১১/০৮/১৯৭৩
স্ত্রীর নাম: মরিয়ম জামিলা, বয়স- ৩৫, পেশা- গৃহিণী
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: চর বলরামপুর, ডাকঘর: ভাউডাঙ্গা, থানা- পাবনা সদর, জেলা- পাবনা।
সাংগঠনিক দায়িত্ব: ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
আহত হওয়ার তারিখ: ১৯ এপ্রিল ২০১৫
আহতের ধরন ও পরবর্তী অবস্থা। গুলি এবং মাথায় চাপাতির আঘাতে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন
শাহাদাতের তারিখ: ১৯ এপ্রিল ২০১৫
ভাই-বোন: তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে সবার বড়
সন্তান: এক ছেলে তিন মেয়ে
পাবনা-8
ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথী হিসেবে শপথ নিয়ে নিজের মান উন্নয়ন করেন এবং ইউনিয়ন সভাপতিসহ থানা শাখার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে পাবনা শহরস্থ আছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে দূর্নীতিমুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ গড়ার লক্ষ্যে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে ১৯৯৬ ও ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইউপি সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দীতা করে পরপর ২ বার নির্বাচিত হন
শহীদের পরিচিতি
পিতামাতার পাঁচ সন্তানের মধ্যে তৃতীয় সন্তান শহীদ এস এম শরিফুল ইসলাম। তিনি পাবনা জেলার সদর উপজেলার চরবলরামপুর গ্রামে ১৯৭৩ সালের ১১ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। দুই ভাই ও তিন বোনের অভাবের সংসার হওয়া সত্ত্বেও পিতামাতা ও অন্যান্য ভাইদের সঙ্গে জীবন সংগ্রামের পাশাপাশি নিজের লেখা-পড়া চালিয়ে গেছেন অব্যাহতভাবে। তাইতো শহীদ এস এম শরিফুল ইসলাম প্রাথমিক থেকেই একজন ভালোছাত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। এভাবে তিনি কৃতিত্বের সাথে এস এস সি, এইচ এস সি ও স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী হিসেবে শপথ নিয়ে নিজের মান উন্নয়ন করেন এবং ইউনিয়ন সভাপতিসহ থানা শাখার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে পাবনা শহরস্থ আছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে দুর্নীতিমুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ গড়ার লক্ষ্যে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে ১৯৯৬ ও ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইউপি সদস্যপদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে পরপর ২ বার নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি চরবলরামপুরে একটি দাখিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন ও সেখানেই শিক্ষক হিসেবে পুনরায় নিজের কর্মজীবন শুরু করেন। একাধারে তিনি এলাকার মসজিদ, মাদরাসা, গোরস্থান, হাই স্কুল, পাঠাগারসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছিলেন। তাই তাঁর জনপ্রিয়তা ছিলো আকাশচুম্বী। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন শাহাদাতের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত। শরীফুল ইসলাম স্ত্রী, ১ ছেলে এবং ৩ কন্যাকে নিয়ে দেখেছিলেন সুন্দর ভবিষ্যত গড়ার স্বপ্ন। কিন্তু দুর্বৃত্ত ও ফ্যাসিবাদের ঘাতকেরা তাঁর সে স্বপ্নকে ভেঙ্গে খান খান করে দেয়।
ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত নম্র, ভদ্র, সৎ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী, আমানতদার, উত্তম চরিত্র ও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার অধিকারী। তাইতো বাংলাদেশের জন্য অভিশাপ কুখ্যাত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী সরকার সমর্থিত সন্ত্রাসীদের অত্যাচার ও তাণ্ডবের প্রতিবাদে এলাকাবাসীকে নিয়ে বার বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন তিনি। আর সত্য ও ন্যায়ের পথের অকুতোভয় এ সৈনিক আওয়ামী সরকার সমর্থিত সন্ত্রাসীদের চাপাতির আঘাতে ঘটনাস্থলেই মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে ইহধাম ত্যাগ করেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
দিনটি ছিল ১৯ এপ্রিল ২০১৫। এশার নামাজ পড়ে শরিফুল ইসলাম ভাই সাধারণ মুসল্লিদের নিয়ে রাত ৯.০০ টার সময় চরবলরামপুর হাই স্কুল সংলগ্ন বাজারে চায়ের দোকানে চা পান করতে বসেন। এ সুযোগে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা প্রথমে গুলি করে এবং পরে চাপাতি দিয়ে মাথার বাম পার্শ্বে কানের উপরে উপর্যপুরি কুপিয়ে আহত করে। এতে এস এম শরিফুল ইসলাম মাথায় চাপাতির আঘাতে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন।
ঘটনার সামগ্রিক বিবরণ
দিনটি ছিল ১৯ এপ্রিল ২০১৫। এশার নামাজ পড়ে শরিফুল ইসলাম ভাই সাধারণ মুসল্লিদের নিয়ে রাত ৯,০০ টার সময় চরবলরামপুর হাই স্কুল সংলগ্ন বাজারে চায়ের দোকানে চা পান করতে বসেন। কিন্তু বাংলাদেশের অভিশাপ কুখ্যাত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী সরকার সমর্থিত সন্ত্রাসীদের অত্যাচার ও তাণ্ডবের প্রতিবাদে এলাকাবাসীকে নিয়ে বার বার প্রতিরোধ গড়ে তোলার কারণে সন্ত্রাসীরা বার বার হত্যা, লুট ও তাদের তাণ্ডবলীলায় বাধাগ্রস্থ হয়ে শরিফুল ইসলাম-এর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে এবং বেশ কয়েকবার তারা তাঁকে হত্যার উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হয়। শহীদ শরীফুল ইসলাম জামায়াত ঘোষিত সকল হরতাল, অবরোধসহ সকল কর্মসূচী পালনে এলাকার মানুষকে নিয়ে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়তেন বিধায় সন্ত্রাসীদের গায়ের জ্বালা আরও বহুগুণে বেড়ে যায়। এবারে তারা সরকার দলীয় গডফাদারদের আশ্বাস পেয়ে উপরোক্ত সময়ে চা পানের সময় প্রথমে গুলি করে এবং পরে চাপাতি দিয়ে মাথার বাম পার্শ্বে কানের উপরে কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করে। শহীদের জানাযার নামাজে ইমামতি করেন পাবনা ইসলামিয়া মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও জেলা জামায়াতের তালিমুল কুরআন ও মসজিদ মিশন বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস শাকুর। জানাযায় প্রায় ৫ হাজার লোক উপস্থিত হন।
আপনজনদের কথা
প্রতিবেশীর কথা: সে ছিল নিয়মিত নামাজী। তার মত ভাল লোক দ্বিতীয় জন পাওয়া দুষ্কর। সে ছিল সকল প্রকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী কন্ঠস্বর।
এলাকাবাসীর কথা: তিনি ছিলেন নম্র, ভদ্র, সৎ ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী। তিনি ছিলেন সকলের নিকট বিশ্বস্ততা ও আমানতদারীতার প্রতীক। তিনি যখন ইউপি মেম্বার ছিলেন দরিদ্র মানুষ তাদের আমানত ও অধিকার নিরাপদ মনে করতেন।
সংবাদ মাধ্যমে শহীদ এস এম শরিফুল ইসলামের শাহাদাতের খবর
২১ এপ্রিল ২০১৫, দৈনিক যুগান্তার 'পাবনায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে জামায়াত নেতা খুন' শিরোনামে নিম্মোক্ত খবর প্রচার করে-
পাবনা সদর উপজেলার ভাড়াড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামে শরিফুল ইসলাম (৪০) নামের জামায়াতের এক নেতা ও সাবেক ইউপি মেম্বারকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। নিহত শরিফুল রাতে এলাকার স্কুলমাঠে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের ক্রিকেট খেলা দেখছিলেন। তিনি পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের আদু প্রামাণিকের ছেলে ও ভাড়ারা ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চল জামায়াতের সহসভাপতি এবং সাবেক ইউপি মেম্বার।
জামায়াতের সদর উপজেলা আমীর মাওলানা আবদুল গাফফার খান জানান, শরিফুল মেম্বার বলরামপুর স্কুলমাঠে টেলিভিশনে সবার সঙ্গে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের ক্রিকেট খেলা দেখছিলেন। এ অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে ১০-১২ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী শরিফুলকে ঘিরে ধরে এবং তাকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে ফেলে রেখে যায়।
সন্তানদের বিবরণ
এস এম মঈনুল ইসলাম, ছাত্র- ১৭ বছর বয়স, আলিম ২য় বর্ষ, পাবনা ইসলামিয়া মাদরাসা
সুমাইয়া ফাহমিদা, ছাত্রী- ১৫ বছর বয়স, এইচ এস সি ১ম বর্ষ, দোগাছী কলেজ
সাদিয়া নাজনিন, ছাত্রী- ১২ বছর বয়স, ৮ম শ্রেণি, চরবলরামপুর দাখিল মাদরাসা
সাজিয়া শবনম, ছাত্রী- ১০ বছর বয়স, ৫ম শ্রেণি, চরবলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
একনজরে শহীদ এস এম শরিফুল ইসলাম
নাম: এস এম শরিফুল ইসলাম
পিতার নাম। মৃত আদু শেখ
মাতার নাম। মৃত আছিয়া খাতুন
জন্ম তারিখ: ১১/০৮/১৯৭৩
স্ত্রীর নাম: মরিয়ম জামিলা, বয়স- ৩৫, পেশা- গৃহিণী
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: চর বলরামপুর, ডাকঘর: ভাউডাঙ্গা, থানা- পাবনা সদর, জেলা- পাবনা।
সাংগঠনিক দায়িত্ব: ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
আহত হওয়ার তারিখ: ১৯ এপ্রিল ২০১৫
আহতের ধরন ও পরবর্তী অবস্থা। গুলি এবং মাথায় চাপাতির আঘাতে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন
শাহাদাতের তারিখ: ১৯ এপ্রিল ২০১৫
ভাই-বোন: তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে সবার বড়
সন্তান: এক ছেলে তিন মেয়ে
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍