শহীদ মো: জুয়েল রানা
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ মোঃ জুয়েল রানা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারের মেধাবী কিশোর। যার স্বপ্ন ছিল আলেম হয়ে সমাজকে আলোকিত করা। মাত্র ১৩ বছর বয়সেই তিনি ছাত্রশিবিরের সমর্থক হিসেবে নিয়মিত নামাজ, কুরআন-হাদিস অধ্যয়ন এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নিয়ে বেড়ে উঠছিলেন। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদী সাহেবের রায়ের প্রতিবাদে জনতার মিছিলে যোগ দিলে পুলিশের গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। পরদিন তার লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়, আর লাশ দাবি করতে গেলে বড় ভাই জিয়ারুলকে উল্টো হত্যা মামলায় পাঁচ মাস জেল খাটতে হয়। এক কিশোরের এই নির্মম পরিণতি শুধু একটি পরিবারের নয় পুরো অঞ্চলের বিবেককে নাড়িয়ে দেওয়া একটি অবিচারের প্রতীক হয়ে আজও স্মরণীয়।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ মো: জুয়েল রানা
গাইবান্ধা-২
"শোকে পাথর বাবা-মাকে সান্ত্বনা দিতে 'প্রতিবাদ নয় শুধু লাশটা চাই' দাবি নিয়ে বড় ভাই জিয়ারুল কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েছিল। পুলিশ এই ধৃষ্টতার! জন্য উল্টো তাকেই গ্রেফতার করে এবং আদরের ছোট ভাইয়ের হত্যা মামলার আসামি করে জেলে পাঠায়। বেচারা। জিয়ারুল এই সভ্যদেশে ভাইয়ের লাশ চাওয়ার অপরাধে পাঁচ মাস জেল খাটলো। এতদিনে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন হওয়া আদরের ছোটভাই জুয়েল রানা এই বসুধার মাটির সাথে একাকার হয়ে গেছে। হায় আফসোস। মা বাবাকে তাদের কলিজার টুকরার লাশতো দূরের কথা, তার ঠিকানাটাও সে দিতে পারলো না।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: জুয়েল রানা ২০০০ সালে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তালুক-বেলকা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিতা খোকা মিয়া ও মাতা জুলেখা বেগমের চার সন্তানের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন। তাদের বাড়ি-জমিজমা তিস্তার ১০/১২ ভাঙনের পর একেবারে হৃতদরিদ্র হয়ে যায়। পিতা-মাতা অভাবী সংসারে অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে বড় ২ ছেলেকে পড়লেখা করাতে পারেননি। তাদের আশা ছিল তৃতীয় সন্তানকে শিক্ষিত করে তুলবেন। এজন্য প্রাথমিক সমাপনীর পর ভর্তি করিয়েছিলেন পঞ্চানন্দ দাখিল মাদ্রাসায়। তিনিও পড়ালেখায় বেশ ভাল ছিলেন। তার স্বপ্ন ছিল বড় হলে আলেম হবেন। তিনি ছাত্রশিবিরের কর্মী ছিলেন। নিয়মিত নামাজ ও কুরআন হাদিস পড়তেন। কিন্তু আলেম সমাজের বিরুদ্ধে সরকারের আচরণ সর্বোপরি আল্লামা সাঈদী সাহেবের অন্যায় রায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সে চলে যান মহান প্রভুর সান্নিধ্যে।
২. বাবা মার জুয়েল হলো বেওয়ারিশ লাশ
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মাওলানা সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে হাজার হাজার জনতা সুন্দরগঞ্জ এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল বের করে। মিছিল সুন্দরগঞ্জ শহরে প্রবেশ করলে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি করে। প্রায় ৫০ জনের মত গুলিবিদ্ধ হয়। শহীদ জুয়েল রানা গুলিবিদ্ধ হয়ে সেখানেই লুটিয়ে পড়েন। পুলিশ তার লাশ থানায় নিয়ে যায় এবং গাইবান্ধা মর্গে পাঠায়। সবার অগোচরে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে গাইবান্ধার কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করে। শোকে পাথর বাবা-মাকে সান্ত্বনা দিতে 'প্রতিবাদ নয় শুধু লাশটা চাই' দাবি নিয়ে বড় ভাই জিয়ারুল কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েছিল। পুলিশ এই ধৃষ্টতার। জন্য উল্টো তাকেই গ্রেফতার করে এবং আদরের ছোট ভাইয়ের হত্যা মামলার আসামি করে জেলে পাঠায়। বেচারা! জিয়ারুল এই সভ্যদেশে ভাইয়ের লাশ চাওয়ার অপরাধে পাঁচ মাস জেল খাটলো। এতদিনে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন হওয়া আদরের ছোটভাই জুয়েল রানা এই বসুধার মাটির সাথে একাকার হয়ে গেছে। হায় আফসোস। মা বাবাকে তাদের কলিজার টুকরার লাশতো দূরের কথা, তার ঠিকানাটাও সে দিতে পারলো না।
৩. চাঁদের অপর পিঠ
২৮শে ফ্রেব্রুয়ারি ২০১৩। এর কয়েক দিন আগ থেকে মোফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কথিত মামলার রায় হবার ঘোষণায় এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। সেদিন সকাল হতে না হতেই বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ সুন্দরগঞ্জ সদরে আসে। এরই মধ্যে দুপুরের দিকে সাঈদী সাহেবের ফাঁসির রায় ঘোষণা হলে চতুর্দিক থেকে হাজার হাজার জনতা রাস্তায় নেমে আসে এবং রায়ের প্রতিবাদে শ্লোগান দিতে থাকে। জাতীয় মিডিয়া সুন্দরগঞ্জের সেদিনের ঘটনার শুধু একটি দিক একপাক্ষিকভাবে ঢালাও প্রকাশ করেছে। 'পুলিশের ওপর জনতার বর্বরতম হামলা'। কিন্তু চাঁদের অপর পিঠটা আর দেখায়নি। সেদিন জনতা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে সুন্দরগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে। শহরে প্রবেশ করলে পুলিশ বিনা উসকানিতে গুলি করলে জুয়েল রানা শহীদ হয় এবং অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়। শহীদদের লাশ পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। শহীদদের লাশ তার স্বজনরা আনতে গেলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে এবং হত্যা মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে।
দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা ১ মার্চ, ২০১৩ নিউজ করে; সাঈদীর ফাঁসির রায় শোনামাত্র হার্টঅ্যাটাকে প্রবীণ কলেজ অধ্যক্ষের মৃত্যু। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সকাল থেকেই সুন্দরগঞ্জ ডি ডব্লিউ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বজলুর রশিদ টেলিভিশনে সকাল থেকেই সাঈদীর রায় দেখছিলেন। শেষ মুহূর্তে এসে ফাঁসির আদেশ দেয়া মাত্রই তিনি সেখানে হার্টঅ্যাটাক করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর প্রবীণ এ শিক্ষাবিদকে দেখতে হাসপাতালে ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ। এটিই ছিল সেদিনকার জনতার সেন্টিমেন্ট।
জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদন্ডের রায় হওয়ার পর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবির ও তার সমমনারা বিক্ষোভ করেছে। সুন্দরগঞ্জ থানার সামনে পুলিশের গুলিতে অজ্ঞাত ২ ব্যক্তি নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে। বামনডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ি, রেলস্টেশন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির অফিস ও মুক্তিযোদ্ধা অফিসে বিক্ষুব্ধ জনতা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। এসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাধলে জনতার লাঠির আঘাতে ৩ পুলিশ নিহত এবং অপর ২ পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছে। নিহত ৩ পুলিশ কনস্টেবলের নাম বাবলু, নাদিম ও হযরত। আগুন নেভাতে দমকল বাহিনী কাজ করছে। সুন্দরগঞ্জের বেলকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জহুরুলের চাতালে, সুন্দরগঞ্জ-বামনডাঙ্গা সড়কের কদমতলী এলাকায় এবং বিশ্ব রোডের নান্টুর ইটের ভাটার সামনে সড়ক অবরোধ করে সকল ধরনের যানচলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই সড়ক ২টিতে প্রায় শতাধিক গাছ কেটে রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়।
৪. মায়ের আর্তি, বাবা যাল্লা
৩টায় রায় ঘোষণার পরপরই এটা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। দরিদ্র বাবা জমিতে পেঁয়াজ নিড়ানিতে ব্যস্ত ছিলেন। শহীদ জুয়েল রানা বাড়িতে তার মাকে হাতের ঘড়ি এবং মোবাইল জমা দিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণ করে। তার এসব তোড়জোড় দেখে স্নেহময়ী মা সাঈদীর মুক্তির বিষয়টি গুরুত্ব দিলেও মা হিসেবে ছেলেকে বলেছিলেন, 'বাবা যান্না (বাবা যাসনে)। ছেলে মাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিল, মা ছোট বড় সবাই যাচ্ছে। মা আজকে স্বপ্নে দেখে, তার ছেলে রাস্তা দিয়ে খালি গায়ে হেঁটে যায়। তার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসে।
হয়তো জনম দুঃখিনী মাকে সান্তনা দিতে চায়, দ্যাখো আমার শরীরে কোন আঘাত নেই, আমি তোমার সেই ছোট্ট ছেলেটি আছি।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মোঃ জুয়েল রানা,
পেশা: ছাত্র।
সাংগঠনিক মান: সমর্থক বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ২০.০১.২০০০, বয়স ১৩ বছর।
আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, গুলিবিদ্ধ হন।
শাহাদাতের তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩।
স্থান: গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা। দাফন করা হয়: গাইবান্ধা কেন্দ্রীয় গোরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: তালুক-বেলকা, ডাকঘর: সুন্দরগঞ্জ, থানা: সুন্দরগঞ্জ, জেলা: গাইবান্ধা।
পিতা: মো: খোকা মিয়া, ৫৫ বছর, কৃষিকাজ করেন।
মাতা: মোসা: জুলেখা বেগম, ৪৫ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: একটি টিনের ঘর, নিজেদের সামান্য কৃষিজমি আছে তা থেকে সংসার চলে।
ভাই-বোনের বিবরণ: মো: জিয়ারুল ইসলাম, ২৭ বছর, মনিহারী ব্যবসা করেন। জিল্লুর রহমান, ২২ বছর, কৃষি কাজ করেন, খুকি আক্তার, ১১ বছর, ৩য় শ্রেণিতে পড়ে।
গাইবান্ধা-২
"শোকে পাথর বাবা-মাকে সান্ত্বনা দিতে 'প্রতিবাদ নয় শুধু লাশটা চাই' দাবি নিয়ে বড় ভাই জিয়ারুল কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েছিল। পুলিশ এই ধৃষ্টতার! জন্য উল্টো তাকেই গ্রেফতার করে এবং আদরের ছোট ভাইয়ের হত্যা মামলার আসামি করে জেলে পাঠায়। বেচারা। জিয়ারুল এই সভ্যদেশে ভাইয়ের লাশ চাওয়ার অপরাধে পাঁচ মাস জেল খাটলো। এতদিনে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন হওয়া আদরের ছোটভাই জুয়েল রানা এই বসুধার মাটির সাথে একাকার হয়ে গেছে। হায় আফসোস। মা বাবাকে তাদের কলিজার টুকরার লাশতো দূরের কথা, তার ঠিকানাটাও সে দিতে পারলো না।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: জুয়েল রানা ২০০০ সালে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তালুক-বেলকা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিতা খোকা মিয়া ও মাতা জুলেখা বেগমের চার সন্তানের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন। তাদের বাড়ি-জমিজমা তিস্তার ১০/১২ ভাঙনের পর একেবারে হৃতদরিদ্র হয়ে যায়। পিতা-মাতা অভাবী সংসারে অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে বড় ২ ছেলেকে পড়লেখা করাতে পারেননি। তাদের আশা ছিল তৃতীয় সন্তানকে শিক্ষিত করে তুলবেন। এজন্য প্রাথমিক সমাপনীর পর ভর্তি করিয়েছিলেন পঞ্চানন্দ দাখিল মাদ্রাসায়। তিনিও পড়ালেখায় বেশ ভাল ছিলেন। তার স্বপ্ন ছিল বড় হলে আলেম হবেন। তিনি ছাত্রশিবিরের কর্মী ছিলেন। নিয়মিত নামাজ ও কুরআন হাদিস পড়তেন। কিন্তু আলেম সমাজের বিরুদ্ধে সরকারের আচরণ সর্বোপরি আল্লামা সাঈদী সাহেবের অন্যায় রায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সে চলে যান মহান প্রভুর সান্নিধ্যে।
২. বাবা মার জুয়েল হলো বেওয়ারিশ লাশ
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মাওলানা সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে হাজার হাজার জনতা সুন্দরগঞ্জ এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল বের করে। মিছিল সুন্দরগঞ্জ শহরে প্রবেশ করলে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি করে। প্রায় ৫০ জনের মত গুলিবিদ্ধ হয়। শহীদ জুয়েল রানা গুলিবিদ্ধ হয়ে সেখানেই লুটিয়ে পড়েন। পুলিশ তার লাশ থানায় নিয়ে যায় এবং গাইবান্ধা মর্গে পাঠায়। সবার অগোচরে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে গাইবান্ধার কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করে। শোকে পাথর বাবা-মাকে সান্ত্বনা দিতে 'প্রতিবাদ নয় শুধু লাশটা চাই' দাবি নিয়ে বড় ভাই জিয়ারুল কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েছিল। পুলিশ এই ধৃষ্টতার। জন্য উল্টো তাকেই গ্রেফতার করে এবং আদরের ছোট ভাইয়ের হত্যা মামলার আসামি করে জেলে পাঠায়। বেচারা! জিয়ারুল এই সভ্যদেশে ভাইয়ের লাশ চাওয়ার অপরাধে পাঁচ মাস জেল খাটলো। এতদিনে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন হওয়া আদরের ছোটভাই জুয়েল রানা এই বসুধার মাটির সাথে একাকার হয়ে গেছে। হায় আফসোস। মা বাবাকে তাদের কলিজার টুকরার লাশতো দূরের কথা, তার ঠিকানাটাও সে দিতে পারলো না।
৩. চাঁদের অপর পিঠ
২৮শে ফ্রেব্রুয়ারি ২০১৩। এর কয়েক দিন আগ থেকে মোফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কথিত মামলার রায় হবার ঘোষণায় এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। সেদিন সকাল হতে না হতেই বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ সুন্দরগঞ্জ সদরে আসে। এরই মধ্যে দুপুরের দিকে সাঈদী সাহেবের ফাঁসির রায় ঘোষণা হলে চতুর্দিক থেকে হাজার হাজার জনতা রাস্তায় নেমে আসে এবং রায়ের প্রতিবাদে শ্লোগান দিতে থাকে। জাতীয় মিডিয়া সুন্দরগঞ্জের সেদিনের ঘটনার শুধু একটি দিক একপাক্ষিকভাবে ঢালাও প্রকাশ করেছে। 'পুলিশের ওপর জনতার বর্বরতম হামলা'। কিন্তু চাঁদের অপর পিঠটা আর দেখায়নি। সেদিন জনতা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে সুন্দরগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে। শহরে প্রবেশ করলে পুলিশ বিনা উসকানিতে গুলি করলে জুয়েল রানা শহীদ হয় এবং অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়। শহীদদের লাশ পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। শহীদদের লাশ তার স্বজনরা আনতে গেলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে এবং হত্যা মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে।
দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা ১ মার্চ, ২০১৩ নিউজ করে; সাঈদীর ফাঁসির রায় শোনামাত্র হার্টঅ্যাটাকে প্রবীণ কলেজ অধ্যক্ষের মৃত্যু। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সকাল থেকেই সুন্দরগঞ্জ ডি ডব্লিউ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বজলুর রশিদ টেলিভিশনে সকাল থেকেই সাঈদীর রায় দেখছিলেন। শেষ মুহূর্তে এসে ফাঁসির আদেশ দেয়া মাত্রই তিনি সেখানে হার্টঅ্যাটাক করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর প্রবীণ এ শিক্ষাবিদকে দেখতে হাসপাতালে ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ। এটিই ছিল সেদিনকার জনতার সেন্টিমেন্ট।
জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদন্ডের রায় হওয়ার পর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবির ও তার সমমনারা বিক্ষোভ করেছে। সুন্দরগঞ্জ থানার সামনে পুলিশের গুলিতে অজ্ঞাত ২ ব্যক্তি নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে। বামনডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ি, রেলস্টেশন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির অফিস ও মুক্তিযোদ্ধা অফিসে বিক্ষুব্ধ জনতা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। এসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাধলে জনতার লাঠির আঘাতে ৩ পুলিশ নিহত এবং অপর ২ পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছে। নিহত ৩ পুলিশ কনস্টেবলের নাম বাবলু, নাদিম ও হযরত। আগুন নেভাতে দমকল বাহিনী কাজ করছে। সুন্দরগঞ্জের বেলকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জহুরুলের চাতালে, সুন্দরগঞ্জ-বামনডাঙ্গা সড়কের কদমতলী এলাকায় এবং বিশ্ব রোডের নান্টুর ইটের ভাটার সামনে সড়ক অবরোধ করে সকল ধরনের যানচলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই সড়ক ২টিতে প্রায় শতাধিক গাছ কেটে রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়।
৪. মায়ের আর্তি, বাবা যাল্লা
৩টায় রায় ঘোষণার পরপরই এটা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। দরিদ্র বাবা জমিতে পেঁয়াজ নিড়ানিতে ব্যস্ত ছিলেন। শহীদ জুয়েল রানা বাড়িতে তার মাকে হাতের ঘড়ি এবং মোবাইল জমা দিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণ করে। তার এসব তোড়জোড় দেখে স্নেহময়ী মা সাঈদীর মুক্তির বিষয়টি গুরুত্ব দিলেও মা হিসেবে ছেলেকে বলেছিলেন, 'বাবা যান্না (বাবা যাসনে)। ছেলে মাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিল, মা ছোট বড় সবাই যাচ্ছে। মা আজকে স্বপ্নে দেখে, তার ছেলে রাস্তা দিয়ে খালি গায়ে হেঁটে যায়। তার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসে।
হয়তো জনম দুঃখিনী মাকে সান্তনা দিতে চায়, দ্যাখো আমার শরীরে কোন আঘাত নেই, আমি তোমার সেই ছোট্ট ছেলেটি আছি।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মোঃ জুয়েল রানা,
পেশা: ছাত্র।
সাংগঠনিক মান: সমর্থক বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ২০.০১.২০০০, বয়স ১৩ বছর।
আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, গুলিবিদ্ধ হন।
শাহাদাতের তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩।
স্থান: গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা। দাফন করা হয়: গাইবান্ধা কেন্দ্রীয় গোরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: তালুক-বেলকা, ডাকঘর: সুন্দরগঞ্জ, থানা: সুন্দরগঞ্জ, জেলা: গাইবান্ধা।
পিতা: মো: খোকা মিয়া, ৫৫ বছর, কৃষিকাজ করেন।
মাতা: মোসা: জুলেখা বেগম, ৪৫ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: একটি টিনের ঘর, নিজেদের সামান্য কৃষিজমি আছে তা থেকে সংসার চলে।
ভাই-বোনের বিবরণ: মো: জিয়ারুল ইসলাম, ২৭ বছর, মনিহারী ব্যবসা করেন। জিল্লুর রহমান, ২২ বছর, কৃষি কাজ করেন, খুকি আক্তার, ১১ বছর, ৩য় শ্রেণিতে পড়ে।