শহীদ মো: ফরিদুল ইসলাম
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ মোঃ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরগঞ্জের হুড়াভায়াখী গ্রামের এক পরিশ্রমী কাঠমিস্ত্রি। যিনি অভাবের জীবন সত্ত্বেও ধর্মীয় অনুশাসন, মাহফিল ও সামাজিক দায়িত্ববোধে ছিলেন গভীরভাবে সম্পৃক্ত। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে তিনি শুধু রোজগারই করতেন না, ছোট ভাইয়ের পড়ালেখার খরচও তার হাতে তুলে দিতেন নিঃস্বার্থভাবে। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদী সাহেবের রায়ের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে জনতার সাথে এগোতেই পুলিশের গুলিতে তিনি আহত হন এবং পরে থানার ভেতর নির্মম নির্যাতনে প্রাণ হারান। তার লাশও পরিবারকে না দিয়ে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। এটি একটি অবিচার, যা আজও সেই গ্রামের মানুষের স্মৃতিতে ক্ষতের মতো রয়ে গেছে। ফরিদুলের মৃত্যু সাধারণ মানুষের প্রতিবাদী চেতনা এবং রাষ্ট্রীয় অন্যায়ের ভয়াবহ পরিণতির একটি জ্বলজ্বলে দলিল হয়ে আছে।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ মো: ফরিদুল ইসলাম
গাইবান্ধা-৩
"ওরা তিনজন বাপবেটা সুন্দরগঞ্জ মিছিলে গিয়েছিল সাইকেল চালিয়ে। পারিবারিকভাবেই তারা ছিল ইসলাম, ইসলামি আন্দোলন এবং সাঈদী সাহেবের ভক্ত। বাবার ইচ্ছা ছিল তার সন্তানকে তিনি বিয়ে করাবেন। ...মা তার সন্তানকে ভুলতে পারেনা স্বপ্নে দেখে-রক্তাক্ত পোশাকপরা তার কলিজার টুকরা ফরিদুল তার সামনে এসেছে, মাকে বলছে, 'মা আমি মিছিলে গিয়েছিলাম, আমি শহীদ হয়েছি।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মোঃ ফরিদুল ইসলাম গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হুড়াভায়াখী গ্রামে ১৯৯১ ইং সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পিতা আজগর আলী ও মাতা ফুলমতি বেগমের দুই সন্তানের মধ্যে প্রথম। অভাবের কারণে পিতা-মাতা তার লেখাপড়ার ব্যবস্থা করতে পারেননি। ফলে তিনি পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়া-লেখা করার পর আর সামনে অগ্রসর হতে পারেননি। নিজে পড়া লেখা করতে না পারলেও তিনি তার ইন্টারমিডিয়েটে পড়া ছোট ভাইয়ের ব্যাপারে খুবই যত্নবান ছিলেন। কাঠমিস্ত্রির কাজ করে প্রতিদিন ২৫০/৩০০ টাকা পেতেন। তাই দিয়েই তার সংসার চলতো। তিনি সাংসারিক কাজের পাশাপাশি দ্বীনি কাজও করতেন। বিশেষ করে দ্বীনি মাহফিলে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। মাওলানা সাঈদী সাহেবের ওয়াজ নিয়মিত শুনতেন। তাইতো আল্লামা সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে অন্যায় রায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে চলে যান মহান প্রভুর সান্নিধ্যে।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মাওলানা সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে হাজার হাজার জনতা সুন্দরগঞ্জ এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল বের করে। শহীদ ফরিদুল ইসলাম মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। মিছিল সুন্দরগঞ্জ শহরে প্রবেশ করলে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে প্রায় ৫০ জনের মত গুলিবিদ্ধ হয়। শহীদ ফরিদুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে সেখানেই লুটিয়ে পড়েন। পুলিশ আহতাবস্থায় তাকে থানায় নিয়ে যায় এবং থানার ভেতরে তাকে মারধর করে এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে লাশ আনতে গেলে তাদের নামে মামলা করে এবং লাশ গাইবান্ধা মর্গে পাঠায়। অতঃপর সবার অগোচরে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে গাইবান্ধার কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করে। এভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২৮শে ফ্রেব্রুয়ারি ২০১৩। এর কয়েক দিন আগ থেকে মোফাস্স্সিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কথিত মামলার রায় হবার ঘোষণায় এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন চলছিল। সেদিন সকাল হতে না হতেই বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ সুন্দরগঞ্জ সদরে আসে। এরই মধ্যে দুপুরের দিকে সাঈদী সাহেবের ফাঁসির রায় ঘোষণা হলে চতুর্দিক থেকে হাজার হাজার জনতা রাস্তায় নেমে আসে এবং রায়ের প্রতিবাদে স্লোগান দিতে থাকে। জাতীয় মিডিয়া সুন্দরগঞ্জের সেদিনের ঘটনার শুধু একটি দিক এক পাক্ষিকভাবে ঢালাও প্রকাশ করেছে। 'পুলিশের ওপর জনতার বর্বরতম হামলা'। কিন্তু চাঁদের অপর পিঠটা আর দেখায়নি। সেদিন জনতা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে সুন্দরগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে। শহরে প্রবেশ করলে পুলিশ বিনা উস্কানিতে গুলি করলে ফরিদুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশ আহতাবস্থায় তাকে থানায় নিয়ে যায় এবং পিটিয়ে মেরে ফেলে। শহীদের লাশ তার স্বজনরা আনতে গেলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে এবং হত্যা মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে।
দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা ১ মার্চ, ২০১৩ নিউজ করে:
সাঈদীর ফাঁসির রায় শোনামাত্র হার্টঅ্যাটাকে প্রবীণ কলেজ অধ্যক্ষের মৃত্যু। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সকাল থেকেই সুন্দরগঞ্জ ডি ডব্লিউ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বজলুর হক সরকার টেলিভিশনে সকাল থেকেই সাঈদীর রায় দেখছিলেন। শেষ মুহূর্তে এসে ফাঁসির আদেশ দেয়া মাত্রই তিনি সেখানে হার্টঅ্যাটাক করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর প্রবীণ এ শিক্ষাবিদকে দেখতে হাসপাতালে ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ। পরদিন রাজারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাজার হাজার মানুষ জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাজেদুর রহমান
জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদন্ডের রায় হওয়ার পর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবির ও তার সমমনারা বিক্ষোভ করেছে। সুন্দরগঞ্জ থানার সামনে পুলিশের গুলিতে অজ্ঞাত ২ ব্যক্তি নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে। বামনডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ি, রেলস্টেশন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির অফিস ও মুক্তিযোদ্ধা অফিসে বিক্ষুব্ধ জনতা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। এসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাধলে জনতার লাঠির আঘাতে ৩ পুলিশ নিহত এবং অপর ২ পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছে। নিহত ৩ পুলিশ কনস্টেবলের নাম বাবলু, নাদিম ও হযরত। আগুন নেভাতে দমকল বাহিনী কাজ করছে। সুন্দরগঞ্জের বেলকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জহুরুলের চাতালে, সুন্দরগঞ্জ-বামনডাঙ্গা সড়কের কদমতলী এলাকায় এবং বিশ্ব রোডের নান্টুর ইটের ভাটার সামনে সড়ক অবরোধ করে সকল ধরনের যানচলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই সড়ক ২টিতে প্রায় শতাধিক গাছ কেটে রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়।
৪. বাবা-মার আহাজারি
২৮ ফেব্রুয়ারি সকালেও ওরা তিনজন বাপবেটা সুন্দরগঞ্জ মিছিলে গিয়েছিল সাইকেল চালিয়ে। পারিবারিকভাবেই-তারা ছিল ইসলাম, ইসলামি আন্দোলন এবং সাঈদী সাহেবের ভক্ত। বাবার ইচ্ছা ছিল তার সন্তানকে তিনি বিয়ে করাবেন। মা তার সন্তানকে ভুলতে পারে না স্বপ্নে দেখে-রক্তাক্ত পোশাকপরা তার কলিজার টুকরা ফরিদুল তার সামনে এসেছে, মাকে বলছে, 'মা আমি মিছিলে গিয়েছিলাম, আমি শহীদ হয়েছি।"
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: ফরিদুল ইসলাম (০৩৯),
পেশা: কাঠমিস্ত্রি।
সাংগঠনিক মান: সমর্থক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জন্য তারিখ ও বয়স: ০২,০৪,১৯৮১, বয়স ৩২ বছর।
আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হলে পুলিশ গ্রেফতার করে তাকে থানায় নিয়ে যায় এবং থানার ভিতর পিটিয়ে মেরে ফেলে।
শাহাদাতের তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, স্থান: গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানা। দাফন করা হয়: গাইবান্ধায় কেন্দ্রীয় গোরস্থানে পুলিশ হেফাজতে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: হুড়াভায়াখাঁ, ডাকঘর: সুন্দরগঞ্জ, থানা: সুন্দরগঞ্জ, জেলা: গাইবান্ধা
পিতা: মো: আজগর আলী, ৫২ বছর, কৃষিকাজ করেন।
মাতার নাম: মোসা: ফুলমতি বেগম, ৪৫ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: ১টি টিনের ঘর আছে এবং ৪৫ শতাংশ কৃষিজমি আছে। এর আয় থেকে কোন রকমে সংসার চলতো।
ভাই-বোনের বিবরণ: আশরাফুল ইসলাম, বয়স ১৮ বছর, ছাত্র, দ্বাদশ শ্রেণী।
গাইবান্ধা-৩
"ওরা তিনজন বাপবেটা সুন্দরগঞ্জ মিছিলে গিয়েছিল সাইকেল চালিয়ে। পারিবারিকভাবেই তারা ছিল ইসলাম, ইসলামি আন্দোলন এবং সাঈদী সাহেবের ভক্ত। বাবার ইচ্ছা ছিল তার সন্তানকে তিনি বিয়ে করাবেন। ...মা তার সন্তানকে ভুলতে পারেনা স্বপ্নে দেখে-রক্তাক্ত পোশাকপরা তার কলিজার টুকরা ফরিদুল তার সামনে এসেছে, মাকে বলছে, 'মা আমি মিছিলে গিয়েছিলাম, আমি শহীদ হয়েছি।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মোঃ ফরিদুল ইসলাম গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হুড়াভায়াখী গ্রামে ১৯৯১ ইং সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পিতা আজগর আলী ও মাতা ফুলমতি বেগমের দুই সন্তানের মধ্যে প্রথম। অভাবের কারণে পিতা-মাতা তার লেখাপড়ার ব্যবস্থা করতে পারেননি। ফলে তিনি পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়া-লেখা করার পর আর সামনে অগ্রসর হতে পারেননি। নিজে পড়া লেখা করতে না পারলেও তিনি তার ইন্টারমিডিয়েটে পড়া ছোট ভাইয়ের ব্যাপারে খুবই যত্নবান ছিলেন। কাঠমিস্ত্রির কাজ করে প্রতিদিন ২৫০/৩০০ টাকা পেতেন। তাই দিয়েই তার সংসার চলতো। তিনি সাংসারিক কাজের পাশাপাশি দ্বীনি কাজও করতেন। বিশেষ করে দ্বীনি মাহফিলে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। মাওলানা সাঈদী সাহেবের ওয়াজ নিয়মিত শুনতেন। তাইতো আল্লামা সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে অন্যায় রায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে চলে যান মহান প্রভুর সান্নিধ্যে।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মাওলানা সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে হাজার হাজার জনতা সুন্দরগঞ্জ এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল বের করে। শহীদ ফরিদুল ইসলাম মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। মিছিল সুন্দরগঞ্জ শহরে প্রবেশ করলে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে প্রায় ৫০ জনের মত গুলিবিদ্ধ হয়। শহীদ ফরিদুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে সেখানেই লুটিয়ে পড়েন। পুলিশ আহতাবস্থায় তাকে থানায় নিয়ে যায় এবং থানার ভেতরে তাকে মারধর করে এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে লাশ আনতে গেলে তাদের নামে মামলা করে এবং লাশ গাইবান্ধা মর্গে পাঠায়। অতঃপর সবার অগোচরে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে গাইবান্ধার কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করে। এভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২৮শে ফ্রেব্রুয়ারি ২০১৩। এর কয়েক দিন আগ থেকে মোফাস্স্সিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কথিত মামলার রায় হবার ঘোষণায় এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন চলছিল। সেদিন সকাল হতে না হতেই বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ সুন্দরগঞ্জ সদরে আসে। এরই মধ্যে দুপুরের দিকে সাঈদী সাহেবের ফাঁসির রায় ঘোষণা হলে চতুর্দিক থেকে হাজার হাজার জনতা রাস্তায় নেমে আসে এবং রায়ের প্রতিবাদে স্লোগান দিতে থাকে। জাতীয় মিডিয়া সুন্দরগঞ্জের সেদিনের ঘটনার শুধু একটি দিক এক পাক্ষিকভাবে ঢালাও প্রকাশ করেছে। 'পুলিশের ওপর জনতার বর্বরতম হামলা'। কিন্তু চাঁদের অপর পিঠটা আর দেখায়নি। সেদিন জনতা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে সুন্দরগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে। শহরে প্রবেশ করলে পুলিশ বিনা উস্কানিতে গুলি করলে ফরিদুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশ আহতাবস্থায় তাকে থানায় নিয়ে যায় এবং পিটিয়ে মেরে ফেলে। শহীদের লাশ তার স্বজনরা আনতে গেলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে এবং হত্যা মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে।
দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা ১ মার্চ, ২০১৩ নিউজ করে:
সাঈদীর ফাঁসির রায় শোনামাত্র হার্টঅ্যাটাকে প্রবীণ কলেজ অধ্যক্ষের মৃত্যু। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সকাল থেকেই সুন্দরগঞ্জ ডি ডব্লিউ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বজলুর হক সরকার টেলিভিশনে সকাল থেকেই সাঈদীর রায় দেখছিলেন। শেষ মুহূর্তে এসে ফাঁসির আদেশ দেয়া মাত্রই তিনি সেখানে হার্টঅ্যাটাক করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর প্রবীণ এ শিক্ষাবিদকে দেখতে হাসপাতালে ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ। পরদিন রাজারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাজার হাজার মানুষ জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাজেদুর রহমান
জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদন্ডের রায় হওয়ার পর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবির ও তার সমমনারা বিক্ষোভ করেছে। সুন্দরগঞ্জ থানার সামনে পুলিশের গুলিতে অজ্ঞাত ২ ব্যক্তি নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে। বামনডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ি, রেলস্টেশন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির অফিস ও মুক্তিযোদ্ধা অফিসে বিক্ষুব্ধ জনতা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। এসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাধলে জনতার লাঠির আঘাতে ৩ পুলিশ নিহত এবং অপর ২ পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছে। নিহত ৩ পুলিশ কনস্টেবলের নাম বাবলু, নাদিম ও হযরত। আগুন নেভাতে দমকল বাহিনী কাজ করছে। সুন্দরগঞ্জের বেলকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জহুরুলের চাতালে, সুন্দরগঞ্জ-বামনডাঙ্গা সড়কের কদমতলী এলাকায় এবং বিশ্ব রোডের নান্টুর ইটের ভাটার সামনে সড়ক অবরোধ করে সকল ধরনের যানচলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই সড়ক ২টিতে প্রায় শতাধিক গাছ কেটে রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়।
৪. বাবা-মার আহাজারি
২৮ ফেব্রুয়ারি সকালেও ওরা তিনজন বাপবেটা সুন্দরগঞ্জ মিছিলে গিয়েছিল সাইকেল চালিয়ে। পারিবারিকভাবেই-তারা ছিল ইসলাম, ইসলামি আন্দোলন এবং সাঈদী সাহেবের ভক্ত। বাবার ইচ্ছা ছিল তার সন্তানকে তিনি বিয়ে করাবেন। মা তার সন্তানকে ভুলতে পারে না স্বপ্নে দেখে-রক্তাক্ত পোশাকপরা তার কলিজার টুকরা ফরিদুল তার সামনে এসেছে, মাকে বলছে, 'মা আমি মিছিলে গিয়েছিলাম, আমি শহীদ হয়েছি।"
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: ফরিদুল ইসলাম (০৩৯),
পেশা: কাঠমিস্ত্রি।
সাংগঠনিক মান: সমর্থক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জন্য তারিখ ও বয়স: ০২,০৪,১৯৮১, বয়স ৩২ বছর।
আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হলে পুলিশ গ্রেফতার করে তাকে থানায় নিয়ে যায় এবং থানার ভিতর পিটিয়ে মেরে ফেলে।
শাহাদাতের তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, স্থান: গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানা। দাফন করা হয়: গাইবান্ধায় কেন্দ্রীয় গোরস্থানে পুলিশ হেফাজতে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: হুড়াভায়াখাঁ, ডাকঘর: সুন্দরগঞ্জ, থানা: সুন্দরগঞ্জ, জেলা: গাইবান্ধা
পিতা: মো: আজগর আলী, ৫২ বছর, কৃষিকাজ করেন।
মাতার নাম: মোসা: ফুলমতি বেগম, ৪৫ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: ১টি টিনের ঘর আছে এবং ৪৫ শতাংশ কৃষিজমি আছে। এর আয় থেকে কোন রকমে সংসার চলতো।
ভাই-বোনের বিবরণ: আশরাফুল ইসলাম, বয়স ১৮ বছর, ছাত্র, দ্বাদশ শ্রেণী।