শহীদ মোস্তফা মনজিলুর রহমান
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ মোস্তফা মনজিলুর রহমান, গাইবান্ধা সদরের মিরপুর গ্রামে জন্মানো এক তরুণ সংগঠক। গাইবান্ধা সদর উপজেলার ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি ও পরে জামায়াতের কর্মী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। দেশব্যাপী উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ রাতে তিনি গোবিন্দগঞ্জের একটি স্কুল ভবন থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। পরিবারের অভিযোগ গ্রেফতারের পর কাছ থেকে গুলিতে তার মৃত্যু ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এক কন্যা সন্তানের জনক মোস্তফা মনজিল স্থানীয় ইসলামী সংগঠনে দায়িত্বশীলতা ও সামাজিক সম্পৃক্ততার জন্য পরিচিত ছিলেন।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ মোস্তফা মনজিলুর রহমান
গাইবান্ধা-৯
"সত্য প্রতিষ্ঠার এ সংগ্রামে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে শহীদ হয়ে যাবো তবুও বাতিলকে মেনে নেবো না।"
শহীদের পরিচিতি
শহীদ মোস্তফা মনজিলুর রহমান ১৯৮৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলায় সাহাপাড়া ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনে শহীদদের মধ্যে মোস্তফা মনজিলুর রহমান গাইবান্ধা জেলার প্রথম শহীদ। পিতা মো. জসিজার রহমান সরকার এবং মাতা মোছা, রেজিয়া রহমান (মরিয়ম)-এর চার সন্তানের মধ্যে মোস্তফা মনজিল সকলের ছোট। মোস্তফা মনজিল গাইবান্ধা সদর উপজেলার ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি ছিলেন। শিবিরের সাথী থাকা অবস্থায় তিনি জামায়াতে যোগ দেন এবং শহীদ হওয়ার আগ পর্যন্ত সাহাপাড়া ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। শাহাদাতকালে তিনি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কর্মী ছিলেন। মাকছুরা আতকিয়া নাজনিন নামে তাঁর পাঁচ বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ মঙ্গলবার রাত বারোটার দিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের তালুক কানুপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর স্কুল এন্ড কলেজের একটি কক্ষ থেকে পলাতক অবস্থায় মোস্তফা মনজিল ও রূপককে গ্রেফতার করে মনজিলকে কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
পরিবেশ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। সারাদেশে ২০ দলীয় ঐক্যজোটের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই অবৈধ সরকার পুলিশ ও র্যাব দিয়ে বিরোধী দলের উপর দমন নিপীড়ন চালায়। কে বা কারা গাড়ী পুড়িয়েছে, সেই মিথ্যা অভিযোগ মোস্তফা মঞ্জিলের প্রতি আনা হয়। স্থানীয় আওয়ামীলীগের চাপে এবং প্রশাসনের নোংরা মন মানসিকতায় মোস্তফা মঞ্জিলকে ক্রসফায়ার দেয়া হয়।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২০ দলীয় জোটের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে স্তিমিত করার লক্ষ্যে অবৈধ সরকারের প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা নানা রকম মিথ্যা মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের সক্রিয় কর্মীদের হয়রানি করে আসছিল। এমনই একটি হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা পেট্রোল দিয়ে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় শহীদ মোস্তফা মনজিলকে এবং এ মামলার কারণে মোস্তফা মনজিল পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, মঙ্গলবার রাতে মোস্তফা মনজিল ও রূপক নামের এক জামায়াত কর্মী গ্রেফতারের ভয়ে গোবিন্দগঞ্জের তালুক কানুপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর স্কুল এন্ড কলেজের একটি রুমে আশ্রয় নেয়। ওই স্কুলের নাইটগার্ড শফিকুল ইসলাম ছিলেন মোস্তফা মনজিলের পরিবারের আত্মীয়।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে র্যাব গিয়ে প্রথমে শফিকুল ইসলামকে আটক করে। এরপর তাকে বেদম মারপিট করে মনজিল ও রুপকের সন্ধান চায়। এক পর্যায়ে শফিকুল ইসলাম নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাকে গাছের নীচে ফেলে রেখে র্যাব স্কুলের রুমের তালা ভেঙ্গে তল্লাশি চালিয়ে মনজিল ও রুপককে আটক করে মারপিট করে।
এরপর তাদেরকে তুলসী ঘাটের বুড়িরভিটা এলাকায় নিয়ে গিয়ে বন্দুক ও পেট্রোল বোমা হাতে তুলে দিয়ে প্রথমে ছবি তোলে। পরে র্যাব মনজিলকে খুব কাছে থেকে গুলি করে হত্যা করে।
আপনজনদের কথা
মোস্তফা মনজিলের স্ত্রী উলফাত বেগম অভিযোগ করে বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ মঙ্গলবার রাতে আমার স্বামী মোস্তফা মনজিল ও রূপক নামের এক জামায়াত কর্মী গ্রেফতারের ভয়ে গোবিন্দগঞ্জের তালুক কানুপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর স্কুল এন্ড কলেজের একটি রুমে আশ্রয় নেয়। ওই স্কুলের নাইটগার্ড শফিকুল ইসলাম ছিলেন আমার পরিবারের আত্মীয়।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে র্যাব গিয়ে প্রথমে শফিকুল ইসলামকে আটক করে। এরপর তাকে বেদম মারপিট করে মনজিল ও রুপকের সন্ধান চায়। এক পর্যায়ে শফিকুল ইসলাম নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাকে গাছের নীচে ফেলে রেখে র্যাব স্কুলের রুমের তালা ভেঙ্গে তল্লাশি চালিয়ে মনজিল ও রুপককে আটক করে মারপিট করে।
এরপর তাদেরকে তুলসী ঘাটের বুড়িরভিটা এলাকায় নিয়ে গিয়ে বন্দুক ও পেট্রোল বোমা হাতে তুলে দিয়ে প্রথমে ছবি তোলে। পরে র্যাব আমার স্বামী মনজিলকে খুব কাছে থেকে গুলি করে হত্যা করে। তিনি দাবি করেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এজন্য সরকারের কাছে বিচারও দাবি করেন তিনি। মনজিলের পিতা জসিজার রহমান সরকার জানান, আমার ছেলে নির্দোষ। সে কোন অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। তার যদি কোন দোষ থাকতো তা হলে আইনের মাধ্যমে তার সাজা হতো। কিন্তু সেটা র্যাব করতে দেয় নি। তিনি এই হত্যাকান্ডের জন্য আন্তর্জাতিক সকল মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শহীদ মোস্তফা মনজিলের এক দায়িত্বশীল লিখেছেন- "বেশভূষায় অতি সাধারণ; কিন্তু পরিচ্ছন্ন, অতিশয় বাকপটু হলেও বাহুল্যবর্জিত, সদা কর্মচঞ্চল, চটপটে, লক্ষ্যে অবিচল, কর্মে দৃঢ় প্রত্যয়ী, দুরদৃষ্টি সম্পন্ন, সিদ্ধান্তে আপোষহীন, ঈমানের দীপ্তিতে দীপ্তমান ও বলীয়ান একরাশভারী মানুষের বাস্তব প্রতিচ্ছবি ছিলেন শহীদ মোস্তফা মঞ্জিল। এমন ক্ষণজন্মা প্রবাদ পুরুষের আর্বিভাব সচরাচর দেখা যায় না। হয়তো হয়ে থাকে নিতান্ত কালের পরিক্রমায়; কাদাচিৎ। তারা আসেন ঘোর অন্ধকারে প্রদীপ জ্বালাতে; আলোকিত করতে। পালাবদলের খেলায় তারা আবারও বিদায় নেন। কর্মে, গরিমায় ও আদর্শে মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকেন যুগ হতে যুগান্তরে। এমনই এক কালজয়ী ব্যক্তিত্ব ছিলেন শহীদ মোস্তফা মঞ্জিল। আর জীবনের শেষ পর্যন্ত তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ছিলেন আপোষহীন, নিরলস ও ক্লান্তিহীন তিনি আত্মভোলা মানুষকে দীনে হকের প্রতি আহ্বান এবং আল্লাহর জমীনে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। তিনি নিজের জীবন ও দুনিয়াবি সকল লোভ-লালসার উর্দ্ধে থেকে দীন প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। আর মু'মিনের আসল সাফল্য তো এখানেই। পবিত্র কালামে হাকীমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, 'নিঃসন্দেহে আল্লাহ মু'মিনদের নিকট থেকে তাদের প্রাণ ও তাদের ধন-সম্পদকে জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন। তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে, যাতে তারা হত্যা করে এবং নিহত হয়ে যায়। এর দরুণ (জান্নাত প্রদানের) সত্য অঙ্গীকার করা হয়েছে তাওরাতে, ঈঞ্জিলে এবং কুরআনে: আর নিজের অঙ্গীকার পালনে আল্লাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর অন্য কে আছে? অতএব তোমরা আনন্দ করতে থাকো তোমাদের এই ক্রয়বিক্রয়ের উপর যা তোমরা সম্পাদন করেছ। আর এটা হচ্ছে মহা সাফল্য।' (সূরা আত তাওবা-১১১)।
মূলত তার এই মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমেই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য আগামী দিনের পথচলাটা সহজ হতে সহজতর হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে ত্যাগ ও কুরবানীর তামান্না। শহীদ মোস্তফা মঞ্জিলসহ শহীদানের রক্তে ইসলামী আন্দোলনের জন্য বাংলাদেশের জমিন সিক্ত ও উর্বর হয়ে ওঠেছে। তাই এই জমীনে ফসল ফলানো এবং তা গড়ে তুলে ন্যায় ইনসাফের ভিত্তিতে দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার দায়িত্ব এখন আমাদের। তাই শহীদানের স্বপ্নের সমাজ বিনির্মাণ ও অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত কার দায়িত্ব আপনার আমার সকলের। মূলত শহীদরা চিরঞ্জীব। তাদের কোন মৃত্যু নেই। তারাই আল্লাহর কাছে অধিক মর্যাদাবান ব্যক্তি। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সূরা আল বাকারার ১৫৪ নং আয়াতে ঘোষণা করেছেন, "আল্লাহর পথে যারা নিহত হন তাদের তোমরা মৃত্যু বলো না। বরং তারাই হচ্ছে জীবিত। কিন্তু তোমরা তা বোঝ না।" হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, "যে কোন ক্ষত আল্লাহর রাহে পৌছে, কিয়ামাতের দিন ক্ষতিগ্রস্থ মুজাহিদ এমনমু'মিনদের নিকট থেকে তাদের প্রাণ ও তাদের ধন-সম্পদকে জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন। তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে, যাতে তারা হত্যা করে এবং নিহত হয়ে যায়। এর দরুণ (জান্নাত প্রদানের) সত্য অঙ্গীকার করা হয়েছে তাওরাতে, ঈঞ্জিলে এবং কুরআনে: আর নিজের অঙ্গীকার পালনে আল্লাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর অন্য কে আছে? অতএব তোমরা আনন্দ করতে থাকো তোমাদের এই ক্রয়বিক্রয়ের উপর যা তোমরা সম্পাদন করেছ। আর এটা হচ্ছে মহা সাফল্য।' (সূরা আত তাওবা-১১১)।
মূলত তার এই মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমেই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য আগামী দিনের পথচলাটা সহজ হতে সহজতর হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে ত্যাগ ও কুরবানীর তামান্না। শহীদ মোস্তফা মঞ্জিলসহ শহীদানের রক্তে ইসলামী আন্দোলনের জন্য বাংলাদেশের জমিন সিক্ত ও উর্বর হয়ে ওঠেছে। তাই এই জমীনে ফসল ফলানো এবং তা গড়ে তুলে ন্যায় ইনসাফের ভিত্তিতে দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার দায়িত্ব এখন আমাদের। তাই শহীদানের স্বপ্নের সমাজ বিনির্মাণ ও অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত কার দায়িত্ব আপনার আমার সকলের। মূলত শহীদরা চিরঞ্জীব। তাদের কোন মৃত্যু নেই। তারাই আল্লাহর কাছে অধিক মর্যাদাবান ব্যক্তি। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সূরা আল বাকারার ১৫৪ নং আয়াতে ঘোষণা করেছেন, "আল্লাহর পথে যারা নিহত হন তাদের তোমরা মৃত্যু বলো না। বরং তারাই হচ্ছে জীবিত। কিন্তু তোমরা তা বোঝ না।" হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, "যে কোন ক্ষত আল্লাহর রাহে পৌছে, কিয়ামাতের দিন ক্ষতিগ্রস্থ মুজাহিদ এমন অবস্থায় আগমন করবে যে, তার ক্ষত হতে রক্ত করবে। রক্তের রং তো (বাহ্যত) রক্তের মত হবে, কিন্তু তার গন্ধ হবে কস্তুরীর মত।" (বুখারী ও মুসলিম)।
তার সাথে কতবার সাক্ষাৎ হয়েছে তা হাতে গুনে বলা বেশ কষ্টকরই। তার সাথে আমার অতি অন্তরঙ্গ সম্পর্ক না থাকলেও তাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল আমার। কিন্তু আমি তার সাহসিকতা দেখে অভিভূত হয়ে পড়েছি। তিনি কথাবার্তায় ও সিদ্ধান্তে বেশ কুলীন প্রকৃতির।
এছাড়াও কেন্দ্রে বিভিন্ন কর্মসূচী ও মিছিলে তার সাথে যাওয়ার সুযোগ আমার হয়েছিল। সাধারণত এরূপ কর্মসূচীতে গেলে অনেকের মনে হয় কি হবে কি হবে! কিন্তু মোস্তফা মঞ্জিল ছিলেন এক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যতিক্রম। তার মাঝে দেখেছি কি করতে পারবো এই চিন্তা। তাকে কখনো আবেগতাড়িত হতে দেখা যায়নি। তার প্রতিটি কথার মধ্যেই প্রত্যয়ী ভাব লক্ষ্য করা যেতো। তার তেজস্বীতা দেখে মনে হতো তিনি কখনোঅবস্থায় আগমন করবে যে, তার ক্ষত হতে রক্ত করবে। রক্তের রং তো (বাহ্যত) রক্তের মত হবে, কিন্তু তার গন্ধ হবে কস্তুরীর মত।" (বুখারী ও মুসলিম)।
তার সাথে কতবার সাক্ষাৎ হয়েছে তা হাতে গুনে বলা বেশ কষ্টকরই। তার সাথে আমার অতি অন্তরঙ্গ সম্পর্ক না থাকলেও তাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল আমার। কিন্তু আমি তার সাহসিকতা দেখে অভিভূত হয়ে পড়েছি। তিনি কথাবার্তায় ও সিদ্ধান্তে বেশ কুলীন প্রকৃতির।
এছাড়াও কেন্দ্রে বিভিন্ন কর্মসূচী ও মিছিলে তার সাথে যাওয়ার সুযোগ আমার হয়েছিল। সাধারণত এরূপ কর্মসূচীতে গেলে অনেকের মনে হয় কি হবে কি হবে! কিন্তু মোস্তফা মঞ্জিল ছিলেন এক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যতিক্রম। তার মাঝে দেখেছি কি করতে পারবো এই চিন্তা। তাকে কখনো আবেগতাড়িত হতে দেখা যায়নি। তার প্রতিটি কথার মধ্যেই প্রত্যয়ী ভাব লক্ষ্য করা যেতো। তার তেজস্বীতা দেখে মনে হতো তিনি কখনো পরাভূত হবার নন। শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছে। চির উন্নত রেখেই হাসিমুখে শাহাদাতকে বরণ করে নিয়েছেন। এতে বতিল পরাভূত হয়েছে। তাই হয়তো তাকে নিয়ে তখন থেকেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। কথিত ক্রসফায়ারের নামে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। যার সমাপ্তি ঘটেছিল ২০১৫ সালে ১৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে। একটি স্বর্ণোজ্জল ইতিহাসের পরিসমাপ্তি ঘটেছিল সেই দিনই।"
জানাযার স্থান
গাইবান্ধা সদরের মিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শহীদ মোস্তফা মঞ্জিলের নামাযের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন তার গর্বিত পিতা জসিজার রহমান। জানাযা শেষে বিষ্ণপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তার জানাযায় সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে। জানাযায় শহীদের পিতা বলেন, আমার ছেলে দীনের পথে শহীদ হয়েছে। সে জন্য আমি দুঃখিত নই। আমি দীনের কাজে সবাইকে শরীক করার আহ্বান জানাই। আশা করি প্রিয় শহীদ সন্তানের সাথে জান্নাতে দেখা হবে।
এক নজরে শহীদ মোস্তফা মনজিলুর রহমান
নাম: মোস্তফা মনজিলুর রহমান
পিতা: মোঃ জসিজার রহমান (মাস্টার)
মাতা: মোছাঃ রেজিয়া রহমান (মরিয়ম)
ঠিকানা: বিষ্ণুপুর, গাইবান্ধা সদর, গাইবান্ধা।
স্ত্রীর নাম: উলফাত বেগম
জন: ০১/০২/১৯৮৫
সাংগঠনিক মান: সাথী (ছাত্র সংগঠন), জামায়াত কর্মী (বিদায়কালীন)
পড়াশুনা: শিক্ষার্থী (সম্মান অধ্যয়নরত)
শাহাদাতের তারিখ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তুলশিঘাট এর বুড়ির ঘর নামক স্থানে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
আঘাতের ধরন: বুক দিয়ে গুলি ঢুকে পিট দিয়ে বের হয় ও মাথায় গুলি করা হয়।
পারিবারিক পরিচিতি: তিন ভাই এক বোন। ভাই ও বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। ভাইয়েরা হলেন- ভাই মো: শামসুজ্জোহা, মো: ফারুকুল ইসলাম ফারুক ও বোন রাহনুির বেগম স্মৃতি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ: তিনি স্থানীয় শিক্ষপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক পড়ালেখা শেষ। করেন এবং সর্বশেষ তিনি গাইবান্ধা সরকারী কলেজে অধ্যয়নরত ছিলেন।
দায়িত্ব পালন: তিনি প্রথমে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী ছিলেন এবং সদর উপজেলার সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে জামায়াত ইসলামীতে যোগ দিলে তিনি কর্মী ও নিজ ইউনিয়ন ৪নং সাহাপাড়ায় প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
অবসর মুহূর্তে: বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখতেন।
গাইবান্ধা-৯
"সত্য প্রতিষ্ঠার এ সংগ্রামে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে শহীদ হয়ে যাবো তবুও বাতিলকে মেনে নেবো না।"
শহীদের পরিচিতি
শহীদ মোস্তফা মনজিলুর রহমান ১৯৮৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলায় সাহাপাড়া ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনে শহীদদের মধ্যে মোস্তফা মনজিলুর রহমান গাইবান্ধা জেলার প্রথম শহীদ। পিতা মো. জসিজার রহমান সরকার এবং মাতা মোছা, রেজিয়া রহমান (মরিয়ম)-এর চার সন্তানের মধ্যে মোস্তফা মনজিল সকলের ছোট। মোস্তফা মনজিল গাইবান্ধা সদর উপজেলার ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি ছিলেন। শিবিরের সাথী থাকা অবস্থায় তিনি জামায়াতে যোগ দেন এবং শহীদ হওয়ার আগ পর্যন্ত সাহাপাড়া ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। শাহাদাতকালে তিনি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কর্মী ছিলেন। মাকছুরা আতকিয়া নাজনিন নামে তাঁর পাঁচ বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ মঙ্গলবার রাত বারোটার দিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের তালুক কানুপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর স্কুল এন্ড কলেজের একটি কক্ষ থেকে পলাতক অবস্থায় মোস্তফা মনজিল ও রূপককে গ্রেফতার করে মনজিলকে কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
পরিবেশ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। সারাদেশে ২০ দলীয় ঐক্যজোটের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই অবৈধ সরকার পুলিশ ও র্যাব দিয়ে বিরোধী দলের উপর দমন নিপীড়ন চালায়। কে বা কারা গাড়ী পুড়িয়েছে, সেই মিথ্যা অভিযোগ মোস্তফা মঞ্জিলের প্রতি আনা হয়। স্থানীয় আওয়ামীলীগের চাপে এবং প্রশাসনের নোংরা মন মানসিকতায় মোস্তফা মঞ্জিলকে ক্রসফায়ার দেয়া হয়।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২০ দলীয় জোটের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে স্তিমিত করার লক্ষ্যে অবৈধ সরকারের প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা নানা রকম মিথ্যা মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের সক্রিয় কর্মীদের হয়রানি করে আসছিল। এমনই একটি হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা পেট্রোল দিয়ে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় শহীদ মোস্তফা মনজিলকে এবং এ মামলার কারণে মোস্তফা মনজিল পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, মঙ্গলবার রাতে মোস্তফা মনজিল ও রূপক নামের এক জামায়াত কর্মী গ্রেফতারের ভয়ে গোবিন্দগঞ্জের তালুক কানুপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর স্কুল এন্ড কলেজের একটি রুমে আশ্রয় নেয়। ওই স্কুলের নাইটগার্ড শফিকুল ইসলাম ছিলেন মোস্তফা মনজিলের পরিবারের আত্মীয়।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে র্যাব গিয়ে প্রথমে শফিকুল ইসলামকে আটক করে। এরপর তাকে বেদম মারপিট করে মনজিল ও রুপকের সন্ধান চায়। এক পর্যায়ে শফিকুল ইসলাম নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাকে গাছের নীচে ফেলে রেখে র্যাব স্কুলের রুমের তালা ভেঙ্গে তল্লাশি চালিয়ে মনজিল ও রুপককে আটক করে মারপিট করে।
এরপর তাদেরকে তুলসী ঘাটের বুড়িরভিটা এলাকায় নিয়ে গিয়ে বন্দুক ও পেট্রোল বোমা হাতে তুলে দিয়ে প্রথমে ছবি তোলে। পরে র্যাব মনজিলকে খুব কাছে থেকে গুলি করে হত্যা করে।
আপনজনদের কথা
মোস্তফা মনজিলের স্ত্রী উলফাত বেগম অভিযোগ করে বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ মঙ্গলবার রাতে আমার স্বামী মোস্তফা মনজিল ও রূপক নামের এক জামায়াত কর্মী গ্রেফতারের ভয়ে গোবিন্দগঞ্জের তালুক কানুপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর স্কুল এন্ড কলেজের একটি রুমে আশ্রয় নেয়। ওই স্কুলের নাইটগার্ড শফিকুল ইসলাম ছিলেন আমার পরিবারের আত্মীয়।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে র্যাব গিয়ে প্রথমে শফিকুল ইসলামকে আটক করে। এরপর তাকে বেদম মারপিট করে মনজিল ও রুপকের সন্ধান চায়। এক পর্যায়ে শফিকুল ইসলাম নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাকে গাছের নীচে ফেলে রেখে র্যাব স্কুলের রুমের তালা ভেঙ্গে তল্লাশি চালিয়ে মনজিল ও রুপককে আটক করে মারপিট করে।
এরপর তাদেরকে তুলসী ঘাটের বুড়িরভিটা এলাকায় নিয়ে গিয়ে বন্দুক ও পেট্রোল বোমা হাতে তুলে দিয়ে প্রথমে ছবি তোলে। পরে র্যাব আমার স্বামী মনজিলকে খুব কাছে থেকে গুলি করে হত্যা করে। তিনি দাবি করেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এজন্য সরকারের কাছে বিচারও দাবি করেন তিনি। মনজিলের পিতা জসিজার রহমান সরকার জানান, আমার ছেলে নির্দোষ। সে কোন অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। তার যদি কোন দোষ থাকতো তা হলে আইনের মাধ্যমে তার সাজা হতো। কিন্তু সেটা র্যাব করতে দেয় নি। তিনি এই হত্যাকান্ডের জন্য আন্তর্জাতিক সকল মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শহীদ মোস্তফা মনজিলের এক দায়িত্বশীল লিখেছেন- "বেশভূষায় অতি সাধারণ; কিন্তু পরিচ্ছন্ন, অতিশয় বাকপটু হলেও বাহুল্যবর্জিত, সদা কর্মচঞ্চল, চটপটে, লক্ষ্যে অবিচল, কর্মে দৃঢ় প্রত্যয়ী, দুরদৃষ্টি সম্পন্ন, সিদ্ধান্তে আপোষহীন, ঈমানের দীপ্তিতে দীপ্তমান ও বলীয়ান একরাশভারী মানুষের বাস্তব প্রতিচ্ছবি ছিলেন শহীদ মোস্তফা মঞ্জিল। এমন ক্ষণজন্মা প্রবাদ পুরুষের আর্বিভাব সচরাচর দেখা যায় না। হয়তো হয়ে থাকে নিতান্ত কালের পরিক্রমায়; কাদাচিৎ। তারা আসেন ঘোর অন্ধকারে প্রদীপ জ্বালাতে; আলোকিত করতে। পালাবদলের খেলায় তারা আবারও বিদায় নেন। কর্মে, গরিমায় ও আদর্শে মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকেন যুগ হতে যুগান্তরে। এমনই এক কালজয়ী ব্যক্তিত্ব ছিলেন শহীদ মোস্তফা মঞ্জিল। আর জীবনের শেষ পর্যন্ত তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ছিলেন আপোষহীন, নিরলস ও ক্লান্তিহীন তিনি আত্মভোলা মানুষকে দীনে হকের প্রতি আহ্বান এবং আল্লাহর জমীনে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। তিনি নিজের জীবন ও দুনিয়াবি সকল লোভ-লালসার উর্দ্ধে থেকে দীন প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। আর মু'মিনের আসল সাফল্য তো এখানেই। পবিত্র কালামে হাকীমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, 'নিঃসন্দেহে আল্লাহ মু'মিনদের নিকট থেকে তাদের প্রাণ ও তাদের ধন-সম্পদকে জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন। তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে, যাতে তারা হত্যা করে এবং নিহত হয়ে যায়। এর দরুণ (জান্নাত প্রদানের) সত্য অঙ্গীকার করা হয়েছে তাওরাতে, ঈঞ্জিলে এবং কুরআনে: আর নিজের অঙ্গীকার পালনে আল্লাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর অন্য কে আছে? অতএব তোমরা আনন্দ করতে থাকো তোমাদের এই ক্রয়বিক্রয়ের উপর যা তোমরা সম্পাদন করেছ। আর এটা হচ্ছে মহা সাফল্য।' (সূরা আত তাওবা-১১১)।
মূলত তার এই মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমেই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য আগামী দিনের পথচলাটা সহজ হতে সহজতর হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে ত্যাগ ও কুরবানীর তামান্না। শহীদ মোস্তফা মঞ্জিলসহ শহীদানের রক্তে ইসলামী আন্দোলনের জন্য বাংলাদেশের জমিন সিক্ত ও উর্বর হয়ে ওঠেছে। তাই এই জমীনে ফসল ফলানো এবং তা গড়ে তুলে ন্যায় ইনসাফের ভিত্তিতে দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার দায়িত্ব এখন আমাদের। তাই শহীদানের স্বপ্নের সমাজ বিনির্মাণ ও অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত কার দায়িত্ব আপনার আমার সকলের। মূলত শহীদরা চিরঞ্জীব। তাদের কোন মৃত্যু নেই। তারাই আল্লাহর কাছে অধিক মর্যাদাবান ব্যক্তি। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সূরা আল বাকারার ১৫৪ নং আয়াতে ঘোষণা করেছেন, "আল্লাহর পথে যারা নিহত হন তাদের তোমরা মৃত্যু বলো না। বরং তারাই হচ্ছে জীবিত। কিন্তু তোমরা তা বোঝ না।" হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, "যে কোন ক্ষত আল্লাহর রাহে পৌছে, কিয়ামাতের দিন ক্ষতিগ্রস্থ মুজাহিদ এমনমু'মিনদের নিকট থেকে তাদের প্রাণ ও তাদের ধন-সম্পদকে জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন। তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে, যাতে তারা হত্যা করে এবং নিহত হয়ে যায়। এর দরুণ (জান্নাত প্রদানের) সত্য অঙ্গীকার করা হয়েছে তাওরাতে, ঈঞ্জিলে এবং কুরআনে: আর নিজের অঙ্গীকার পালনে আল্লাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর অন্য কে আছে? অতএব তোমরা আনন্দ করতে থাকো তোমাদের এই ক্রয়বিক্রয়ের উপর যা তোমরা সম্পাদন করেছ। আর এটা হচ্ছে মহা সাফল্য।' (সূরা আত তাওবা-১১১)।
মূলত তার এই মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমেই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য আগামী দিনের পথচলাটা সহজ হতে সহজতর হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে ত্যাগ ও কুরবানীর তামান্না। শহীদ মোস্তফা মঞ্জিলসহ শহীদানের রক্তে ইসলামী আন্দোলনের জন্য বাংলাদেশের জমিন সিক্ত ও উর্বর হয়ে ওঠেছে। তাই এই জমীনে ফসল ফলানো এবং তা গড়ে তুলে ন্যায় ইনসাফের ভিত্তিতে দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার দায়িত্ব এখন আমাদের। তাই শহীদানের স্বপ্নের সমাজ বিনির্মাণ ও অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত কার দায়িত্ব আপনার আমার সকলের। মূলত শহীদরা চিরঞ্জীব। তাদের কোন মৃত্যু নেই। তারাই আল্লাহর কাছে অধিক মর্যাদাবান ব্যক্তি। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সূরা আল বাকারার ১৫৪ নং আয়াতে ঘোষণা করেছেন, "আল্লাহর পথে যারা নিহত হন তাদের তোমরা মৃত্যু বলো না। বরং তারাই হচ্ছে জীবিত। কিন্তু তোমরা তা বোঝ না।" হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, "যে কোন ক্ষত আল্লাহর রাহে পৌছে, কিয়ামাতের দিন ক্ষতিগ্রস্থ মুজাহিদ এমন অবস্থায় আগমন করবে যে, তার ক্ষত হতে রক্ত করবে। রক্তের রং তো (বাহ্যত) রক্তের মত হবে, কিন্তু তার গন্ধ হবে কস্তুরীর মত।" (বুখারী ও মুসলিম)।
তার সাথে কতবার সাক্ষাৎ হয়েছে তা হাতে গুনে বলা বেশ কষ্টকরই। তার সাথে আমার অতি অন্তরঙ্গ সম্পর্ক না থাকলেও তাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল আমার। কিন্তু আমি তার সাহসিকতা দেখে অভিভূত হয়ে পড়েছি। তিনি কথাবার্তায় ও সিদ্ধান্তে বেশ কুলীন প্রকৃতির।
এছাড়াও কেন্দ্রে বিভিন্ন কর্মসূচী ও মিছিলে তার সাথে যাওয়ার সুযোগ আমার হয়েছিল। সাধারণত এরূপ কর্মসূচীতে গেলে অনেকের মনে হয় কি হবে কি হবে! কিন্তু মোস্তফা মঞ্জিল ছিলেন এক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যতিক্রম। তার মাঝে দেখেছি কি করতে পারবো এই চিন্তা। তাকে কখনো আবেগতাড়িত হতে দেখা যায়নি। তার প্রতিটি কথার মধ্যেই প্রত্যয়ী ভাব লক্ষ্য করা যেতো। তার তেজস্বীতা দেখে মনে হতো তিনি কখনোঅবস্থায় আগমন করবে যে, তার ক্ষত হতে রক্ত করবে। রক্তের রং তো (বাহ্যত) রক্তের মত হবে, কিন্তু তার গন্ধ হবে কস্তুরীর মত।" (বুখারী ও মুসলিম)।
তার সাথে কতবার সাক্ষাৎ হয়েছে তা হাতে গুনে বলা বেশ কষ্টকরই। তার সাথে আমার অতি অন্তরঙ্গ সম্পর্ক না থাকলেও তাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল আমার। কিন্তু আমি তার সাহসিকতা দেখে অভিভূত হয়ে পড়েছি। তিনি কথাবার্তায় ও সিদ্ধান্তে বেশ কুলীন প্রকৃতির।
এছাড়াও কেন্দ্রে বিভিন্ন কর্মসূচী ও মিছিলে তার সাথে যাওয়ার সুযোগ আমার হয়েছিল। সাধারণত এরূপ কর্মসূচীতে গেলে অনেকের মনে হয় কি হবে কি হবে! কিন্তু মোস্তফা মঞ্জিল ছিলেন এক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যতিক্রম। তার মাঝে দেখেছি কি করতে পারবো এই চিন্তা। তাকে কখনো আবেগতাড়িত হতে দেখা যায়নি। তার প্রতিটি কথার মধ্যেই প্রত্যয়ী ভাব লক্ষ্য করা যেতো। তার তেজস্বীতা দেখে মনে হতো তিনি কখনো পরাভূত হবার নন। শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছে। চির উন্নত রেখেই হাসিমুখে শাহাদাতকে বরণ করে নিয়েছেন। এতে বতিল পরাভূত হয়েছে। তাই হয়তো তাকে নিয়ে তখন থেকেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। কথিত ক্রসফায়ারের নামে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। যার সমাপ্তি ঘটেছিল ২০১৫ সালে ১৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে। একটি স্বর্ণোজ্জল ইতিহাসের পরিসমাপ্তি ঘটেছিল সেই দিনই।"
জানাযার স্থান
গাইবান্ধা সদরের মিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শহীদ মোস্তফা মঞ্জিলের নামাযের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন তার গর্বিত পিতা জসিজার রহমান। জানাযা শেষে বিষ্ণপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তার জানাযায় সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে। জানাযায় শহীদের পিতা বলেন, আমার ছেলে দীনের পথে শহীদ হয়েছে। সে জন্য আমি দুঃখিত নই। আমি দীনের কাজে সবাইকে শরীক করার আহ্বান জানাই। আশা করি প্রিয় শহীদ সন্তানের সাথে জান্নাতে দেখা হবে।
এক নজরে শহীদ মোস্তফা মনজিলুর রহমান
নাম: মোস্তফা মনজিলুর রহমান
পিতা: মোঃ জসিজার রহমান (মাস্টার)
মাতা: মোছাঃ রেজিয়া রহমান (মরিয়ম)
ঠিকানা: বিষ্ণুপুর, গাইবান্ধা সদর, গাইবান্ধা।
স্ত্রীর নাম: উলফাত বেগম
জন: ০১/০২/১৯৮৫
সাংগঠনিক মান: সাথী (ছাত্র সংগঠন), জামায়াত কর্মী (বিদায়কালীন)
পড়াশুনা: শিক্ষার্থী (সম্মান অধ্যয়নরত)
শাহাদাতের তারিখ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তুলশিঘাট এর বুড়ির ঘর নামক স্থানে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
আঘাতের ধরন: বুক দিয়ে গুলি ঢুকে পিট দিয়ে বের হয় ও মাথায় গুলি করা হয়।
পারিবারিক পরিচিতি: তিন ভাই এক বোন। ভাই ও বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। ভাইয়েরা হলেন- ভাই মো: শামসুজ্জোহা, মো: ফারুকুল ইসলাম ফারুক ও বোন রাহনুির বেগম স্মৃতি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ: তিনি স্থানীয় শিক্ষপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক পড়ালেখা শেষ। করেন এবং সর্বশেষ তিনি গাইবান্ধা সরকারী কলেজে অধ্যয়নরত ছিলেন।
দায়িত্ব পালন: তিনি প্রথমে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী ছিলেন এবং সদর উপজেলার সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে জামায়াত ইসলামীতে যোগ দিলে তিনি কর্মী ও নিজ ইউনিয়ন ৪নং সাহাপাড়ায় প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
অবসর মুহূর্তে: বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখতেন।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍