হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মো: মেসবাহুর রহমান
শহীদ মো: মেসবাহুর রহমান

শহীদ মো: মেসবাহুর রহমান

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার দরিদ্র পরিবারের সন্তান মো: মেসবাহুর রহমান অল্প বয়সে টেম্পো চালিয়েই সংসারের হাল ধরেছিলেন। মাওলানা দেলোয়ার হেসেন সাঈদী’র রায়ের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ মিছিলে যোগ দিলে আমিরাবাদ কাঁচাবাজার এলাকায় পুলিশ-ছাত্রলীগের গুলিতে তিনি নিহত হন। মাত্র ১৪ বছরের এই কিশোরের মৃত্যু এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের তৈরি করে এবং পরদিন জাতীয় দৈনিকে খবর হিসেবে প্রকাশিত হয়। পরিবারের ভাষ্যে, মেসবাহ ইসলামের প্রতি ভালোবাসা ও ন্যায়বোধ থেকেই জীবন উৎসর্গ করেছেন।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মো: মেসবাহুর রহমান
চট্টগ্রাম
১
"সাঈদী সাহেবের রায়ের কথা শুনে শহীদ মেসবাহ বলেছেন, 'মাওলানা সাঈদীর ফাঁসি দিবে আর আমরা বসে থাকবো তা কেমন করে হয়।' তাই বাবা শোকে পাথর হয়েও বলেন, 'আমার ছেলে ইসলামের জন্য জীবন দিয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তাকে যেন আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেন।"

১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মেসবাহুর রহমান চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার গোলামনবী হাজীপাড়া গ্রামে ১৯৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোঃ বাদশা মিয়া ও মাতা রশিদা বেগমের সাত সন্তানের মধ্যে ৩য় ছিলেন তিনি। ৪ ভাই ৩ বোনের সংসারে দরিদ্র পিতা-মাতা কোন রকমে সন্তানদের অন্ন-বস্ত্রের ব্যবস্থা করেছিলেন। তাই পারেননি পড়ালেখার ভাল কোন ব্যবস্থা করতে। অল্প বয়সে শহীদ মেসবাহুর রহমান তাই পিতাকে সহযোগিতার জন্য বেছে নিয়েছিলেন টেম্পো চালানোর কাজ। মাত্র ১৪ বছর বয়সে টেম্পো চালিয়ে রোজগার করে পরিবারকে সহযোগিতা করতেন তিনি।

২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় শোনার পরই দুপুরে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে আমিরাবাদের দিকে যাচ্ছিল। সেই মিছিলে মেসবাহুর রহমান শরিক ছিলেন। আমিরাবাদ কাঁচাবাজারের সামনে পুলিশ দাঁড়ানো ছিল। পুলিশের পেছনেই ছিল ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। তারা পুলিশকে উস্কে দিচ্ছিল গুলি করার জন্য। ছাত্রলীগের জোরাজুরি ও কিছু পুলিশের অতি উৎসাহের কারণে তারা মিছিলে গুলি করলে শহীদ মেসবাহুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। সেখান থেকে ১০/১২ বছরের একটি ছেলে তাকে উঠিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে ডাক্তার দেখতে দেখতে তিনি শাহাদৎ বরণ করেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে লাশ আসরের সময় বাসায় নিয়ে আসা হয়। বাদ এশা জানাযার নামাজ পড়ান মাওলানা ফারুক হোসাইন, প্রায় দেড় হাজার লোক জানাজায় অংশগ্রহণ করে। নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। রক্তাক্ত পোশাকে গোসল ছাড়াই তাকে দাফন করা হয় নিজ এলাকার কবরস্থানে।

৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে রায় শোনার পরই বিক্ষুদ্ধ জনতা শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে আমিরাবাদের দিকে যাচ্ছিল। সেই মিছিলে মেসবাহুর রহমান শরিক ছিলেন। ছাত্রলীগের জোরাজুরি ও কিছু পুলিশের অতি উৎসাহের কারণে তারা মিছিলে গুলি করলে শহীদ মেসবাহুর রহমান
গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। এ বিষয়ে বিস্তারিত নিউজ আসে পরের দিনের জাতীয় দৈনিক সমূহে। দৈনিক সংগ্রাম ১ মার্চ, ২০১৩ নিম্নোক্ত নিউজ করে।
"লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় গণবিস্ফোরণ ঘটেছে। এ সময় বিক্ষুদ্ধ জনতার ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগ, যুবলীগ নির্বিচারে গুলি চালালে ঘটনাস্থলে মিজবাহ নামে এক জামায়াত কর্মী নিহত ও ৮ জন গুলিবিদ্ধ হন।
পুলিশ জানায়, বিক্ষোভকারীদের হামলায় ওসি মোহাম্মদ শাহজাহান ও এস,আই শরীফুলসহ ৩ পুলিশ আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতের বাড়ি আমিরাবাদ ইউনিয়নের মাস্টার হাট এলাকায়। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় সাঈদীর রায়ের খবর প্রকাশের পর পরই বিক্ষুব্ধ জনতা চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক ও অভ্যন্তরীণ সকল সড়ক অবরোধ করে। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ লাঠি-সোটা নিয়ে রাজপথে নেমে আসে। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা লোহাগাড়া বটতলী মোটর স্টেশনের ১০টি মার্কেটে আগুন দেয়। এছাড়া অন্তত ৩০টি গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুর করা হয়েছে। দুপুর থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মোটর স্টেশনে ব্যাপক বিক্ষোভ করে জনতা। সন্ধ্যা ৭টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহসড়কের কাঠ, টায়ার, বিদ্যুতের খুঁটি জ্বলছে। পুরো এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন সময় আরো বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। এদিকে নিহত জামায়াত কর্মী মিজবাহুর রহমানের প্রথম নামাযে জানাযা বৃহস্পতিবার রাত ৮ টায় অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।"
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের বাবার কথা: তার বাবা সন্তান হারিয়ে মর্মাহত। তিনি বলেন আমার সন্তান নিষ্পাপ। সে কোন অন্যায় করেনি। সে সাঈদী সাহেবের ওয়াজ শুনতো। সে তাকে দেখেছে। সাঈদী সাহেবের রায়ের কথা শুনে শহীদ মেসবাহ বলেছেন, 'মাওলানা সাঈদীর ফাঁসি দিবে আর আমরা বসে থাকবো তা কেমন করে হয়।' তাই বাবা শোকে পাথর হয়েও বলেন, 'আমার ছেলে ইসলামের জন্য জীবন দিয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তাকে যেন আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেন।'

৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: মেসবাহুর রহমান। পেশা: টেম্পো চালক।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৯৯ সাল, ১৪ বছর। আহত হওয়ার তারিখ। ২৮ ফেব্রুয়ারি '১৩, তলপেটে গুলিবিদ্ধ।
শাহাদাতের তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি '১৩, স্থান: আমিরাবাদ কাঁচাবাজারের সামনে, লোহাগাড়া।
দাফন করা হয়: নিজ এলাকার পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গোলামনবী হাজীপাড়া, ডাকঘর: মাস্টারহাট, থানা: লোহাগাড়া, জেলা: চট্টগ্রাম।
পিতা: মোঃ বাদশা মিয়া, বয়স: ৫২ বছর, পেশা: ছোট পানের দোকানি।
মাতা: রশিদা বেগম, ৪০ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: নিজ জমির উপরে একটি ছোট আধাপাকা বাড়ি, সেখানেই শহীদের বাবা পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। নিজেদের কোন আবাদি জমি নেই। ছোট পানের দোকান এখন একমাত্র আয়ের উৎস।
ভাই-বোনের বিবরণ: তহিদুল ইসলাম, দোকান কর্মচারী। শহিদুল ইসলাম, প্রবাসী। শহীদ মেসবাহুর রহমান (শহীদ), টেম্পো চালক। তামান্না আক্তার, বিবাহিতা। নাদিয়া আক্তার, দশম শ্রেণী। জানিয়া আক্তার, দশম শ্রেণী। মিনহাজ, তৃতীয় শ্রেণী।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍