শহীদ মো আকতার কামাল সাগর
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ১৯৮৪ সালে জন্ম নেওয়া মো: আকতার কামাল সাগর দারিদ্র্যকে সঙ্গী করেই দোকানকর্মী হিসেবে জীবনের পথ চলা শুরু করেছিলেন। পরিবারের অভাব ঘোচাতে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। সাঈদী রায়ের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত মিছিলে অংশ নেওয়ার পর পুলিশি নির্যাতনে গুরুতর আহত হয়ে ১ মার্চ ২০১৩ তিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যালে শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দিশেহারা পরিবার এখনো জীবন-সংগ্রামে লড়াই করছে, আর ছোট ভাই তাকে মনে করেন নিজের শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে বড় অবলম্বন।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ মো: আকতার কামাল সাগর
চট্টগ্রাম
২
শহীদের বাবা এখন কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। তিনি এক চোখে অপারেশন করেছেন কিন্তু তার সমগ্র দুনিয়াই আজ অন্ধকার.... ছোট ভাইয়ের প্রতিক্রিয়া: 'আমার ভাইয়াকে ছাড়া পড়াশুনার কথা চিন্তাও করতে পারি না। আমি যার কল্যাণে এস.এস.সিতে ভাল রেজাল্ট করলাম সে কিনা এখন জান্নাতের বাগানে। এই ভাল রেজাল্টের কথা কাকে শুনাব? আমি এখন কলেজে কিভাবে ভর্তি হব? লেখাপড়ার খরচ কে চালাবে?' বলতে বলতে দু'চোখ বেয়ে অশ্রুর ধারা গড়িয়ে পড়ে।
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ আকতার কামাল সাগর চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থানার রশিদের ঘোনা গ্রামে ১৯৮৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পিতা মোঃ আবুল কাশেম ও মাতা মমতাজ বেগমের ছয় সন্তানের মধ্যে ২য় সন্তান। ২ ভাই ৪ বোনের সংসারে দরিদ্র পিতা-মাতা কোন রকম সন্তানের অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করতেই গলদঘর্ম হয়ে যেতেন। ছেলেরা পড়ালেখায় আগ্রহী থাকলেও অভাবের কারণে তাদের পড়ালেখা সম্ভবপর হয়নি। অভাব যখন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যায় তখন বাধ্য হয়েই এস.এস.সি পরীক্ষার পর ভাগ্যান্বেষে বেরিয়ে পড়েন বাড়ি থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার জেলার চকরিয়াতে, সেখানে তিনি একটি দোকানের কর্মচারী হিসেবে চাকুরী করতেন। কিন্তু এতেও ভালভাবে সংসার না চলায় তিনি বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। পাসপোর্টও তৈরি করেছিলেন বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতিস্বরূপ। কিন্তু তার বিদেশে যাওয়া আর হলো না, হলো না অসহায় বাবা মাকে ভরণপোষণ করার ইচ্ছা পূরণ।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে মিছিল হয়। শহীদ মো: আকতার কামাল সাগর ঐ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। ঐ দিন সন্ধ্যায় তিনি দোকানে ছিলেন। দোকানের সামনে থেকে চকরিয়া থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে বেদম পিটিয়ে আহত করে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়। পরে লোকজন ধরাধরি করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ মার্চ ২০১৩ তারিখে বিকাল ৪টার দিকে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হাসপাতাল থেকে তার লাশ বাসায় পৌঁছে। ২ মার্চ তারিখ সকাল ১১ টায় রশিদের ঘোনা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা পড়ান মাওলানা জালাল উদ্দিন, প্রায় ১০ হাজার লোক জানাজায় অংশগ্রহণ করে। জানাযার নামাজ শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
৩. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের বাবার কথাঃ তার বাবা এখন কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, আমার ছেলে ছিল খুবই আনুগত্যশীল। আমি তেমন কোন কাজ-কর্ম করতে পারি না। সে আমাকে সহযোগিতা করতো। সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো। সবাইকে নামাজের জন্য ডাকতো। আমি দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন।
ছোট ভাইয়ের প্রতিক্রিয়া
'আমার ভাইয়াকে ছাড়া পড়াশুনার কথা চিন্তাও করতে পারি না। আমি যার কল্যাণে এস.এস.সিতে ভাল রেজাল্ট করলাম সে কিনা এখন জান্নাতের বাগানে। এই ভাল রেজাল্টের কথা কাকে শুনাব? আমি এখন কলেজে কিভাবে ভর্তি হব? লেখাপড়ার খরচ কে চালাবে?' বলতে বলতে দুচোখ বেয়ে অশ্রুর ধারা গড়িয়ে পড়ে।
৪. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: আকতার কামাল সাগর। পেশা: দোকানের কর্মচারী।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৮৪ সাল, ২৯ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি '১৩, পুলিশের বেধড়ক পিটুনিতে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত হয়, কক্সবাজার জেলার চকরিয়াতে।
শাহাদাতের তারিখ: ১ মার্চ '১৩, বিকাল ৫টা স্থান: চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে। দাফন করা হয়: পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: রশিদের ঘোনা, ডাকঘর: চুনতী, থানা: লোহাগাড়া, জেলা: চট্টগ্রাম।
পিতা: মোঃ আবুল কাশেম, ৬০ বছর।
মাতা: মমতাজ বেগম, ৫০ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: পাহাড়ের ওপর মাটির তৈরি একটি ঘর। নিজের কোন আবাদি জমি নেই। বর্তমানে কোন রকমে অন্যের সহযোগিতায় সংসার চলছে।
ভাই-বোনের বিবরণ: নাছিমা আক্তার, বিবাহিতা। আকতার কামাল সাগর, শহীদ, দোকান কর্মচারী। মর্জিনা বেগম, বিবাহিতা। জান্নাতুল ফেরদৌসী, বিবাহিতা। মাহমুদুল ইসলাম, এসএসসি ফলপ্রার্থী। আসমাউল হুসনা, দশম শ্রেণী।
চট্টগ্রাম
২
শহীদের বাবা এখন কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। তিনি এক চোখে অপারেশন করেছেন কিন্তু তার সমগ্র দুনিয়াই আজ অন্ধকার.... ছোট ভাইয়ের প্রতিক্রিয়া: 'আমার ভাইয়াকে ছাড়া পড়াশুনার কথা চিন্তাও করতে পারি না। আমি যার কল্যাণে এস.এস.সিতে ভাল রেজাল্ট করলাম সে কিনা এখন জান্নাতের বাগানে। এই ভাল রেজাল্টের কথা কাকে শুনাব? আমি এখন কলেজে কিভাবে ভর্তি হব? লেখাপড়ার খরচ কে চালাবে?' বলতে বলতে দু'চোখ বেয়ে অশ্রুর ধারা গড়িয়ে পড়ে।
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ আকতার কামাল সাগর চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থানার রশিদের ঘোনা গ্রামে ১৯৮৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পিতা মোঃ আবুল কাশেম ও মাতা মমতাজ বেগমের ছয় সন্তানের মধ্যে ২য় সন্তান। ২ ভাই ৪ বোনের সংসারে দরিদ্র পিতা-মাতা কোন রকম সন্তানের অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করতেই গলদঘর্ম হয়ে যেতেন। ছেলেরা পড়ালেখায় আগ্রহী থাকলেও অভাবের কারণে তাদের পড়ালেখা সম্ভবপর হয়নি। অভাব যখন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যায় তখন বাধ্য হয়েই এস.এস.সি পরীক্ষার পর ভাগ্যান্বেষে বেরিয়ে পড়েন বাড়ি থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার জেলার চকরিয়াতে, সেখানে তিনি একটি দোকানের কর্মচারী হিসেবে চাকুরী করতেন। কিন্তু এতেও ভালভাবে সংসার না চলায় তিনি বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। পাসপোর্টও তৈরি করেছিলেন বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতিস্বরূপ। কিন্তু তার বিদেশে যাওয়া আর হলো না, হলো না অসহায় বাবা মাকে ভরণপোষণ করার ইচ্ছা পূরণ।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে মিছিল হয়। শহীদ মো: আকতার কামাল সাগর ঐ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। ঐ দিন সন্ধ্যায় তিনি দোকানে ছিলেন। দোকানের সামনে থেকে চকরিয়া থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে বেদম পিটিয়ে আহত করে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়। পরে লোকজন ধরাধরি করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ মার্চ ২০১৩ তারিখে বিকাল ৪টার দিকে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হাসপাতাল থেকে তার লাশ বাসায় পৌঁছে। ২ মার্চ তারিখ সকাল ১১ টায় রশিদের ঘোনা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা পড়ান মাওলানা জালাল উদ্দিন, প্রায় ১০ হাজার লোক জানাজায় অংশগ্রহণ করে। জানাযার নামাজ শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
৩. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের বাবার কথাঃ তার বাবা এখন কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, আমার ছেলে ছিল খুবই আনুগত্যশীল। আমি তেমন কোন কাজ-কর্ম করতে পারি না। সে আমাকে সহযোগিতা করতো। সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো। সবাইকে নামাজের জন্য ডাকতো। আমি দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন।
ছোট ভাইয়ের প্রতিক্রিয়া
'আমার ভাইয়াকে ছাড়া পড়াশুনার কথা চিন্তাও করতে পারি না। আমি যার কল্যাণে এস.এস.সিতে ভাল রেজাল্ট করলাম সে কিনা এখন জান্নাতের বাগানে। এই ভাল রেজাল্টের কথা কাকে শুনাব? আমি এখন কলেজে কিভাবে ভর্তি হব? লেখাপড়ার খরচ কে চালাবে?' বলতে বলতে দুচোখ বেয়ে অশ্রুর ধারা গড়িয়ে পড়ে।
৪. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: আকতার কামাল সাগর। পেশা: দোকানের কর্মচারী।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৮৪ সাল, ২৯ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ২৮ ফেব্রুয়ারি '১৩, পুলিশের বেধড়ক পিটুনিতে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত হয়, কক্সবাজার জেলার চকরিয়াতে।
শাহাদাতের তারিখ: ১ মার্চ '১৩, বিকাল ৫টা স্থান: চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে। দাফন করা হয়: পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: রশিদের ঘোনা, ডাকঘর: চুনতী, থানা: লোহাগাড়া, জেলা: চট্টগ্রাম।
পিতা: মোঃ আবুল কাশেম, ৬০ বছর।
মাতা: মমতাজ বেগম, ৫০ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: পাহাড়ের ওপর মাটির তৈরি একটি ঘর। নিজের কোন আবাদি জমি নেই। বর্তমানে কোন রকমে অন্যের সহযোগিতায় সংসার চলছে।
ভাই-বোনের বিবরণ: নাছিমা আক্তার, বিবাহিতা। আকতার কামাল সাগর, শহীদ, দোকান কর্মচারী। মর্জিনা বেগম, বিবাহিতা। জান্নাতুল ফেরদৌসী, বিবাহিতা। মাহমুদুল ইসলাম, এসএসসি ফলপ্রার্থী। আসমাউল হুসনা, দশম শ্রেণী।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍