শহীদ মোঃ আবু তাহের
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ছোট ঢেমশা গ্রামে ১৯৮৩ সালে জন্ম নেওয়া মোঃ আবু তাহের জীবনের অভাব-সংগ্রাম সঙ্গী করেই ডেকোরেটরের হেল্পারি করে পরিবার চালাতেন। সাধারণ, শান্ত স্বভাবের এই মানুষটি মাওলানা সাঈদীর মুক্তির দাবিতে গড়ে ওঠা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে ২ মার্চ ২০১৩ পুলিশি গুলিতে ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর নিষ্পাপ জীবনের বিনিময়ে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ মা, ভবিষ্যৎহারা স্ত্রী, আর বাবাকে ডাকার বয়সেই বাবাকে হারানো দুই বছরের শিশু। সমাজের প্রান্তে বাস করা একজন পরিশ্রমী মানুষের এই অপূর্ণ গল্প আজ অন্যায়ের নির্মম প্রতিচ্ছবি হয়ে রয়ে গেছে।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ মোঃ আবু তাহের
চট্টগ্রাম
৩
প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে তাঁর মা এখন শোকে মুহ্যমান। বাকরুদ্ধ হয়ে অশ্রুনয়নে তাকিয়ে থাকেন সবার দিকে। ব্যথিত হৃদয়ে তাঁর একটিমাত্র জিজ্ঞাসা, কী কারণে তাঁর কলিজার টুকরাকে গুলি করে হত্যা করা হলো, শহীদের স্ত্রীর কথা: "আমার স্বামী তো কোনোদিন কাউকে কষ্ট দেয়নি। তাহলে তাঁকে এভাবে হত্যা করলো কেন? আমার মাসুম সন্তানকে আমি কি বুঝ দেবো? সে কাকে তার প্রিয় বাবা বলে ডাকবে?"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: আবু তাহের চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানার ছোট ঢেমশা গ্রামে ১৯৮৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পিতা মৃত আঃ রশিদ ও মাতা আমেনা খাতুনের পাঁচ সন্তানের মধ্যে ২য় সন্তান। ৩ ভাই ২ বোনের সংসারে দরিদ্র পিতা-মাতা কোন রকমে সন্তানের নিয়ে পরিবার চালাতে ব্যস্ত ছিলেন। পারেননি তাদের পড়ালেখার কোন ভাল ব্যবস্থা করতে। শারীরিক সামর্থ্যবান হওয়ার পর থেকে অন্যের ডেকোরেটরের হেল্পারি করাই ছিল শহীদ মো: আবু তাহেরের পেশা। ১ সন্তানের পিতা শহীদ আবু তাহের দীর্ঘদিন থেকে ডেকোরেটরের হেল্পারি করে স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মার দেখাশুনা করতেন। তার এ ক্ষুদ্র আয়ের ওপর ভিত্তি করেই সংসার পরিচালিত হতো। কিন্তু স্বৈরাচারের ঘাতক বুলেট পিতা-মাতার সেবা করারও সুযোগ দেয়নি তাকে। সবার মায়াজাল ছিন্ন করে তিনি পাড়ি জমালেন মহান রবের দরবারে।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে সাতকানিয়ার সাধারণ লোকজন রাস্তায় গাছ ফেলে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ২ মার্চ ২০১৩ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সাতকানিয়া থানা পুলিশ সাতকানিয়া হাসমত আলীর দোকানের সামনে আরাকান সড়কে শান্তিপূর্ণ ব্যারিকেডের মধ্যে অতর্কিত গুলি চালায়। তখন অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন। শহীদ মো: আবু তাহেরের ডান চোখের উপরে গুলি লেগে পেছন দিয়ে মগজসহ বেরিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শাহাদৎ বরণ করেন তিনি। একই স্থানে তিনজন শহীদ হন। মাওলানা মাহমুদুল হক তার জানাযার নামাজে ইমামতি করেন। জানাযার নামাজে প্রায় চার হাজার লোক অংশগ্রহণ করেন।
৩. শাহাদাতের বিস্তারিত বিবরণ
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে সাতকানিয়ার সাধারণ লোকজন রাস্তায় গাছ ফেলে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ২ মার্চ ২০১৩ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সাতকানিয়া থানা পুলিশ সাতকানিয়া হাসমত আলীর দোকানের সামনে আরাকান সড়কে শান্তিপূর্ণ ব্যারিকেডের মধ্যে অতর্কিত গুলি চালায়। এ বিস্তারিত নিউজ পরের দিনের পত্রিকাসমূহে প্রচারিত হয়। দৈনিক আমার দেশ, ৩ মার্চ, ২০১৩ নিম্নোক্ত নিউজ করে;
সাতকানিয়ায় নিহত ৩ দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জামায়াত-শিবির কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষে দুই জামায়াত কর্মী ও এক এলডিপি কর্মী নিহত হয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। শনিবার সকাল দশটার সময় সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হাসমত আলী সিকদারের দোকান এলাকায় পুলিশি ও বিজিবির যৌথ হামলায় তিনজন নিহত হন। নিহতরা হচ্ছেন-ছদাহা আজিমপুর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে জামায়াতকর্মী শহীদুল ইসলাম (১৮), একই ইউনিয়নের ছোট ঢেমশা গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে আবু তাহের (৩০) ও সিকদারপাড়ার সৈয়দ আহমদের ছেলে এলডিপি কর্মী ওসমান গনি (৩৩)। একই ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ হাসপাতালেও অভিযান চালিয়েছে। পুলিশের গুলিতে তিন ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় সাতকানিয়ার সবকটি ইউনিয়নে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াত-শিবির।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামায়াতকর্মীরা বৃহস্পতিবার থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে। অবরোধ তুলে দেয়ার চেষ্টা করলে জামায়াতকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। গতকাল সকাল দশটার সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ আবদুল মালেক মেম্বারের ব্রিকফিল্ড এলাকায় গিয়ে অবরোধ সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করলে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদুল ইসলাম নিহত হয়। একই সময় গুলিতে গুরুতর আহত হয় আবু তাহের (৩০), কেরানীহাটস্থ আশ শেফা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও ওসমান গনিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেয়ার পথে মারা যায়। একই ঘটনায় মোহাম্মদ রফিক (৩২) সহ আরও অন্তত ১৫-১৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়। সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, এই আন্দোলনে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরাও যুক্ত হয়েছে। ফলে আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ এখন আর জামায়াত-শিবিরের হাতে নেই। নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে সাতকানিয়ার কেরানীহাট থেকে লোহাগাড়ার চূর্নতি পর্যন্ত প্রায় বিশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিদ্যুতের খুঁটি, অহরহ গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখে জামায়াত শিবির নেতাকর্মীরা। পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা রাতের বেলায় বুলডোজার দিয়ে গাছের গুঁড়ি সরিয়ে নিলেও ভোরে আবার তা রাস্তায় তুলে দেয় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় গ্রামবাসীও।
বিকাল পাঁচটায় সাতকানিয়ায় অবস্থানরত চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সড়ক অবরোধ তুলে নেয়ার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহত শহীদুল ইসলাম ও আবু তাহেরের লাশ দাফন করা হয়েছে। ওছমানের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করার কথা রয়েছে। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো মুহূর্তে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির ও এলাকাবাসীর ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে এমনটাই ধারণা সচেতন মহলের।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের মায়ের কথা: প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে তাঁর মা এখন শোকে মুহ্যমান। বাকরুদ্ধ হয়ে অশ্রুনয়নে তাকিয়ে থাকেন সবার দিকে। ব্যথিত হৃদয়ে তাঁর একটিমাত্র জিজ্ঞাসা, কী কারণে তাঁর কলিজার টুকরাকে গুলি করে হত্যা করা হলো, তার কোন অপরাধ থাকলে তার বিচার করতো, কিন্তু এমন নির্দয়ভাবে হত্যা করা হলো কেন? তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার আল্লাহর কাছেই অর্পণ করেন এবং যে কোরআনকে সম্মান করতে তার ছেলে শহীদ হয়েছেন, সে উদ্দেশ্য যাতে সফল হয় সে কামনাই করেন।
শহীদের স্ত্রীর কথা: "আমার স্বামী তো কোনোদিন কাউকে কষ্ট দেয়নি। তাহলে তাঁকে এভাবে হত্যা করলো কেন? আমার মাসুম সন্তানকে আমি কি বুঝ দেবো? সে কাকে তার প্রিয় বাবা বলে ডাকবে?" তিনি বিচারের ভার আল্লাহর হাতেই ন্যস্ত করেন।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মোঃ আবু তাহের (০৭৭)। পেশা: দোকান কর্মচারী
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০১.০১.১৯৮৩, ৩০ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০২ মার্চ '১৩ ইং, ডান চোখের উপরে গুলিবিদ্ধ।
শাহাদাতের তারিখ: ০২ মার্চ '১৩ সকাল ১১ টা। স্থান: সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম। দাফন করা হয়: নিজ পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: ছোট ঢেমশা, ডাকঘর: করিয়ানগর, থানা: সাতকানিয়া, জেলা: চট্টগ্রাম।
পিতা: মৃত আঃ রশিদ।
মাতা: আমেনা খাতুন, বয়স ৬২ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: টিনের তৈরি বাড়িঘর বাঁশ দিয়ে ঘেরা। নিজের কোন আবাদি জমি নেই, বর্তমানে ভাইয়ের ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সংসার চলছে।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: রোজিনা আক্তার মুন্নি। সন্তান: আব্দুর রহমান, বয়স ২ বছর।
ভাই-বোনের বিবরণ: আবুল কালাম, প্রবাসী। আবু তাহের, শহীদ, দোকান কর্মচারী। হোসনা আজার, মৃত। শাহিনা আক্তার, বিবাহিতা। আবু সৈয়দ।।
চট্টগ্রাম
৩
প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে তাঁর মা এখন শোকে মুহ্যমান। বাকরুদ্ধ হয়ে অশ্রুনয়নে তাকিয়ে থাকেন সবার দিকে। ব্যথিত হৃদয়ে তাঁর একটিমাত্র জিজ্ঞাসা, কী কারণে তাঁর কলিজার টুকরাকে গুলি করে হত্যা করা হলো, শহীদের স্ত্রীর কথা: "আমার স্বামী তো কোনোদিন কাউকে কষ্ট দেয়নি। তাহলে তাঁকে এভাবে হত্যা করলো কেন? আমার মাসুম সন্তানকে আমি কি বুঝ দেবো? সে কাকে তার প্রিয় বাবা বলে ডাকবে?"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: আবু তাহের চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানার ছোট ঢেমশা গ্রামে ১৯৮৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পিতা মৃত আঃ রশিদ ও মাতা আমেনা খাতুনের পাঁচ সন্তানের মধ্যে ২য় সন্তান। ৩ ভাই ২ বোনের সংসারে দরিদ্র পিতা-মাতা কোন রকমে সন্তানের নিয়ে পরিবার চালাতে ব্যস্ত ছিলেন। পারেননি তাদের পড়ালেখার কোন ভাল ব্যবস্থা করতে। শারীরিক সামর্থ্যবান হওয়ার পর থেকে অন্যের ডেকোরেটরের হেল্পারি করাই ছিল শহীদ মো: আবু তাহেরের পেশা। ১ সন্তানের পিতা শহীদ আবু তাহের দীর্ঘদিন থেকে ডেকোরেটরের হেল্পারি করে স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মার দেখাশুনা করতেন। তার এ ক্ষুদ্র আয়ের ওপর ভিত্তি করেই সংসার পরিচালিত হতো। কিন্তু স্বৈরাচারের ঘাতক বুলেট পিতা-মাতার সেবা করারও সুযোগ দেয়নি তাকে। সবার মায়াজাল ছিন্ন করে তিনি পাড়ি জমালেন মহান রবের দরবারে।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে সাতকানিয়ার সাধারণ লোকজন রাস্তায় গাছ ফেলে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ২ মার্চ ২০১৩ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সাতকানিয়া থানা পুলিশ সাতকানিয়া হাসমত আলীর দোকানের সামনে আরাকান সড়কে শান্তিপূর্ণ ব্যারিকেডের মধ্যে অতর্কিত গুলি চালায়। তখন অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন। শহীদ মো: আবু তাহেরের ডান চোখের উপরে গুলি লেগে পেছন দিয়ে মগজসহ বেরিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শাহাদৎ বরণ করেন তিনি। একই স্থানে তিনজন শহীদ হন। মাওলানা মাহমুদুল হক তার জানাযার নামাজে ইমামতি করেন। জানাযার নামাজে প্রায় চার হাজার লোক অংশগ্রহণ করেন।
৩. শাহাদাতের বিস্তারিত বিবরণ
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে সাতকানিয়ার সাধারণ লোকজন রাস্তায় গাছ ফেলে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ২ মার্চ ২০১৩ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সাতকানিয়া থানা পুলিশ সাতকানিয়া হাসমত আলীর দোকানের সামনে আরাকান সড়কে শান্তিপূর্ণ ব্যারিকেডের মধ্যে অতর্কিত গুলি চালায়। এ বিস্তারিত নিউজ পরের দিনের পত্রিকাসমূহে প্রচারিত হয়। দৈনিক আমার দেশ, ৩ মার্চ, ২০১৩ নিম্নোক্ত নিউজ করে;
সাতকানিয়ায় নিহত ৩ দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জামায়াত-শিবির কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষে দুই জামায়াত কর্মী ও এক এলডিপি কর্মী নিহত হয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। শনিবার সকাল দশটার সময় সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হাসমত আলী সিকদারের দোকান এলাকায় পুলিশি ও বিজিবির যৌথ হামলায় তিনজন নিহত হন। নিহতরা হচ্ছেন-ছদাহা আজিমপুর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে জামায়াতকর্মী শহীদুল ইসলাম (১৮), একই ইউনিয়নের ছোট ঢেমশা গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে আবু তাহের (৩০) ও সিকদারপাড়ার সৈয়দ আহমদের ছেলে এলডিপি কর্মী ওসমান গনি (৩৩)। একই ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ হাসপাতালেও অভিযান চালিয়েছে। পুলিশের গুলিতে তিন ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় সাতকানিয়ার সবকটি ইউনিয়নে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াত-শিবির।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামায়াতকর্মীরা বৃহস্পতিবার থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে। অবরোধ তুলে দেয়ার চেষ্টা করলে জামায়াতকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। গতকাল সকাল দশটার সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ আবদুল মালেক মেম্বারের ব্রিকফিল্ড এলাকায় গিয়ে অবরোধ সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করলে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদুল ইসলাম নিহত হয়। একই সময় গুলিতে গুরুতর আহত হয় আবু তাহের (৩০), কেরানীহাটস্থ আশ শেফা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও ওসমান গনিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেয়ার পথে মারা যায়। একই ঘটনায় মোহাম্মদ রফিক (৩২) সহ আরও অন্তত ১৫-১৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়। সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, এই আন্দোলনে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরাও যুক্ত হয়েছে। ফলে আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ এখন আর জামায়াত-শিবিরের হাতে নেই। নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে সাতকানিয়ার কেরানীহাট থেকে লোহাগাড়ার চূর্নতি পর্যন্ত প্রায় বিশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিদ্যুতের খুঁটি, অহরহ গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখে জামায়াত শিবির নেতাকর্মীরা। পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা রাতের বেলায় বুলডোজার দিয়ে গাছের গুঁড়ি সরিয়ে নিলেও ভোরে আবার তা রাস্তায় তুলে দেয় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় গ্রামবাসীও।
বিকাল পাঁচটায় সাতকানিয়ায় অবস্থানরত চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সড়ক অবরোধ তুলে নেয়ার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহত শহীদুল ইসলাম ও আবু তাহেরের লাশ দাফন করা হয়েছে। ওছমানের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করার কথা রয়েছে। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো মুহূর্তে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির ও এলাকাবাসীর ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে এমনটাই ধারণা সচেতন মহলের।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের মায়ের কথা: প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে তাঁর মা এখন শোকে মুহ্যমান। বাকরুদ্ধ হয়ে অশ্রুনয়নে তাকিয়ে থাকেন সবার দিকে। ব্যথিত হৃদয়ে তাঁর একটিমাত্র জিজ্ঞাসা, কী কারণে তাঁর কলিজার টুকরাকে গুলি করে হত্যা করা হলো, তার কোন অপরাধ থাকলে তার বিচার করতো, কিন্তু এমন নির্দয়ভাবে হত্যা করা হলো কেন? তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার আল্লাহর কাছেই অর্পণ করেন এবং যে কোরআনকে সম্মান করতে তার ছেলে শহীদ হয়েছেন, সে উদ্দেশ্য যাতে সফল হয় সে কামনাই করেন।
শহীদের স্ত্রীর কথা: "আমার স্বামী তো কোনোদিন কাউকে কষ্ট দেয়নি। তাহলে তাঁকে এভাবে হত্যা করলো কেন? আমার মাসুম সন্তানকে আমি কি বুঝ দেবো? সে কাকে তার প্রিয় বাবা বলে ডাকবে?" তিনি বিচারের ভার আল্লাহর হাতেই ন্যস্ত করেন।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মোঃ আবু তাহের (০৭৭)। পেশা: দোকান কর্মচারী
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০১.০১.১৯৮৩, ৩০ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০২ মার্চ '১৩ ইং, ডান চোখের উপরে গুলিবিদ্ধ।
শাহাদাতের তারিখ: ০২ মার্চ '১৩ সকাল ১১ টা। স্থান: সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম। দাফন করা হয়: নিজ পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: ছোট ঢেমশা, ডাকঘর: করিয়ানগর, থানা: সাতকানিয়া, জেলা: চট্টগ্রাম।
পিতা: মৃত আঃ রশিদ।
মাতা: আমেনা খাতুন, বয়স ৬২ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: টিনের তৈরি বাড়িঘর বাঁশ দিয়ে ঘেরা। নিজের কোন আবাদি জমি নেই, বর্তমানে ভাইয়ের ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সংসার চলছে।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: রোজিনা আক্তার মুন্নি। সন্তান: আব্দুর রহমান, বয়স ২ বছর।
ভাই-বোনের বিবরণ: আবুল কালাম, প্রবাসী। আবু তাহের, শহীদ, দোকান কর্মচারী। হোসনা আজার, মৃত। শাহিনা আক্তার, বিবাহিতা। আবু সৈয়দ।।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍