শহীদ মো: শহিদুল ইসলাম
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার আজিমপুর গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া মো: শহিদুল ইসলাম মাত্র ১৩ বছরেই কর্মজীবনে নেমেছিলেন। চামড়ার গুদাম থেকে শুরু করে নানা দোকানে শ্রম দিয়ে পরিবারের ভরসা হয়ে ওঠেন। মানসিকভাবে অসুস্থ পিতার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি স্বপ্ন দেখতেন পাঁচ বছরের মধ্যেই পরিবারের দারিদ্র্য দূর করবেন। সাঈদী মুক্তি দাবির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়ে ২ মার্চ ২০১৩ পুলিশের গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। ছেলেকে হারিয়ে মা প্রতিদিন অজ্ঞান হয়ে পড়েন, আর পিতা আজও রাস্তায় বসে চকলেট হাতে তার ফেরার অপেক্ষায় থাকেন। শ্রমজীবী এই কিশোরের অসমাপ্ত স্বপ্ন আর তার পরিবারের কান্না আজো অন্যায়ের নির্মমতার নীরব সাক্ষ্য হয়ে আছে।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ মো: শহিদুল ইসলাম
চট্টগ্রাম
8
শহীদের মা বলেন, "ঐ দিন রাতে সে আমাকে জড়িয়ে ধরে হাসান-হোসেনের কাহিনী বলেছে। আমি জানি না, কেন আমার কলিজার টুকরোকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো? আল্লাহ তুমি জালিমদের বিচার কর।" এটি বলেই তিনি বারবার মূর্ছা যান। শহীদের বাবা কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ থাকায় ছেলে আসবে সেই আশায় পথ চেয়ে এখনও রাস্তার পাশে বসে থাকেন। ছেলে মারা যাওয়ার কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও পিতা ...একটি কৌটায় ছেলের জন্য চকলেট নিয়ে রাস্তার পাশে দিব্বি বসে প্রলাপ করতে থাকেন, "শহীদ বেড়াতে গেছে, চলে আসবে।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: শহিদুল ইসলাম চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানার আজিমপুর গ্রামে ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পিতা মো: আবু তাহের ও মাতা শামসুন্নাহারের চার সন্তানের মধ্যে ১ম সন্তান। ৪ ভাইয়ের সংসারে দরিদ্র পিতা-মাতা কোন রকমে সন্তানের লালন পালনে ব্যস্ত ছিলেন। পারেননি পড়ালেখার কোন ব্যবস্থা করতে। যার ফলে শহীদ মো: শহিদুল ইসলাম একটু বয়স হওয়ার পর পিতা তাকে চামড়ার গুদামে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করেছেন। তার বয়স মাত্র ১৩ বছর। তিনি চামড়ার গুদামে প্রাপ্ত মজুরি দিয়ে বাবাকে সহযোগিতা করতেন।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মৌলভী পাড়ার বাসিন্দা আবু তাহের তাঁর পিতা। মানসিক অপ্রকৃতস্থ পিতার রিক্সা চালিয়ে উপার্জিত অর্থই পরিবারের খরচ বহনের একমাত্র উপায়। অভাব অনটনের কারণে ৫ম শ্রেণীর পর আর লেখাপড়া করা সম্ভব হয়নি তাঁর। দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত পরিবারে সামান্য সচ্ছলতার মুখ দেখাতে অল্প বয়সেই নেমে পড়েন বেঁচে থাকার জীবনসংগ্রামে। হোটেল, চায়ের দোকানে, মুদির দোকানে, কাঠের দোকান যেখানেই পেরেছেন কাজ করে দু'মুঠো খাবার তুলে দিতে চেয়েছিলেন পিতা-মাতা আর ছোটভাইদের মুখে। পিতার অসুস্থতার কারণে তাঁর আয়ের ওপর পরিবারকে অনেকটাই নির্ভর করতে হতো। শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ার পর পরিবারে সচ্ছলতা আনয়নই তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল। দীপ্ত শপথও নিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের চরম আর্থিক অনটনের সময় পিতা যখন হতাশাগ্রস্ত, সেই সময়ে তিনি তার বাবাকে আশ্বস্ত করে বলেন, "বাবা আমাকে একটু সময় দাও, পাঁচটি বছর ধৈর্য ধরো, পরম করুণাময়ের দোহাই, আমি শহিদুল বেঁচে থাকতে তোমাদেরকে কোনে আর্থিক কষ্ট পেতে দিবো না।" তিনি অল্প বয়সী হলেও নিয়মিত নামাজ পড়তেন এবং বিভিন্ন ওয়াজ শুনতেন। তিনি ছিলেন আল্লামা সাঈদীর একজন ভক্ত। কিন্তু একটি ঘাতক বুলেট তার স্বপ্নকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দিলো। বন্ধ করে দিলো তাঁর ইচ্ছাগুলি বাস্তবে মেলে ধরার সবগুলো পথ। নিভিয়ে দিল এক জ্বলন্ত অগ্নিশিখা।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে সাতকানিয়ার সাধারণ লোকজন রাস্তায় গাছ ফেলে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ২ মার্চ ২০১৩ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সাতকানিয়া থানা পুলিশ সাতকানিয়া হাসমত আলীর দোকানের সামনে আরাকান সড়কে শান্তিপূর্ণ ব্যারিকেডের মধ্যে অতর্কিত গুলি চালায়। তখন অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন। শহীদ মো: শহিদুল ইসলামের বুকের ডান পাশে গুলি লেগে পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শাহাদৎ বরণ করেন। একই স্থানে শহীদ হন তিনজন। মাওলানা মোরশেদুল আলম তার জানাযার নামাজে ইমামতি করেন। জানাযায় প্রায় ৩ হাজার লোক অংশগ্রহণ করেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে সাতকানিয়ার সাধারণ লোকজন রাস্তায় গাছ ফেলে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ২ মার্চ ২০১৩ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সাতকানিয়া থানা পুলিশ সাতকানিয়া হাসমত আলীর দোকানের সামনে আরাকান সড়কে শান্তিপূর্ণ ব্যারিকেডের মধ্যে অতর্কিত গুলি চালায়। ২০ ফেব্রুয়ারি কর্মক্ষেত্র থেকে কিছুদিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন প্রিয় মা-বাবাকে এক নজর দেখার উদ্দেশ্য। কিন্তু মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে অন্যায় রায় শুনে তিনি নিজেকে স্থির রাখতে। পারেননি। ২ মার্চ, ২০১৩ তিনি যখন কর্মক্ষেত্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, ঠিক সেই সময়েই সাঈদী মুক্তি আন্দোলনের এক বিশাল মিছিল এসে অগ্রসর হচ্ছিল। ব্যক্তিগত কাজ, পরিবার সবকিছু ভুলে গিয়ে দুনিয়ার প্রতি সামান্যটুকু মায়া ত্যাগ করে তিনি অংশ নেন মিছিলে, শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে তোলেন রাজপথ। এক পর্যায়ে ঘাতকের বুলেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাড়া দেন আল্লাহর ডাকে জান্নাত প্রাপ্তির সন্ধানে। ঘটনাস্থলেই তিনজন শহীদ হন এবং অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন। পরের দিনের জাতীয় পত্রিকাসমূহে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আসে। দৈনিক আমার দেশ, ৩ মার্চ, ২০১৩ নিউজ করে; সাতকানিয়ায় নিহত ৩। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জামায়াত-শিবির কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষে দুই জামায়াত কর্মী ও এক এলডিপি কর্মী নিহত হয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। শনিবার সকাল দশটার সময় সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হাসমত আলী সিকদারের দোকান এলাকায় পুলিশি ও বিজিবির যৌথ হামলায় তিনজন নিহত হন। নিহতরা হচ্ছেন-ছদাহা আজিমপুর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে জামায়াতকর্মী শহীদুল ইসলাম (১৮), একই ইউনিয়নের ছোট ঢেমশা গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে আবু তাহের (৩০) ও সিকদারপাড়ার সৈয়দ আহমদের ছেলে এলডিপি কর্মী ওসমান গনি (৩৩)। একই ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ হাসপাতালেও অভিযান চালিয়েছে। পুলিশের গুলিতে তিন ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় সাতকানিয়ার সবকটি ইউনিয়নে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াত-শিবির।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামায়াতকর্মীরা বৃহস্পতিবার থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে। অবরোধ তুলে দেয়ার চেষ্টা করলে জামায়াতকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। গতকাল সকাল দশটার সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ আবদুল মালেক মেম্বারের ব্রিকফিল্ড এলাকায় গিয়ে অবরোধ সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করলে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদুল ইসলাম নিহত হয়। একই সময় গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে আবু তাহের (৩০), কেরানীহাটস্থ আশ শেফা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও ওসমান গনিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেয়ার পথে মারা যায়। একই ঘটনায় মোহাম্মদ রফিক (৩২) সহ আরও অন্তত ১৫-১৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়। সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, এই আন্দোলনে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরাও যুক্ত হয়েছে। ফলে আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ এখন আর জামায়াত-শিবিরের হাতে নেই। নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে যাতকানিয়ার কেরানীহাট থেকে লোহাগাড়ার চুনতি পর্যন্ত প্রায় বিশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিদ্যুতের খুঁটি, অহরহ গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখে জামায়াত শিবির নেতাকর্মীরা। পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা রাত্রের বেলায় বুলডোজার দিয়ে গাছের গুঁড়ি সরিয়ে নিলেও ভোরে আবার তা রাস্তায় তুলে দেয় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় গ্রামবাসীও। বিকাল পাঁচটায় সাতকানিয়ায় অবস্থানরত চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সড়ক অবরোধ তুলে নেয়ার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহত শহীদুল ইসলাম ও আবু তাহেরের লাশ দাফন করা হয়েছে। ওছমানের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করার কথা রয়েছে। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো মুহূর্তে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির ও এলাকাবাসীর ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে এমনটাই ধারণা সচেতন মহলের।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের মায়ের কথা: শহীদের মা বলেন, আমরা গরিব মানুষ। ওর বাবা কোন রকমে রিক্সা চালিয়ে সংসার চালায়। সে যে মজুরি পেত সবটুকু এনে তার বাবাকে দিতো। এঐ দিন রাতে সে আমার কাছে ছিল এবং রাতে শুয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে হাসান-হোসেনের কাহিনী বলেছে। আমি জানি না, কেন আমার কলিজার টুকরোকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো? হয়তো দুনিয়ার আদালতে বিচার পাবো না, তবে ফরিয়াদ জানাই-আল্লাহ তুমি জালিমদের বিচার কর।" এটি বলেই তিনি বারবার মূর্ছা যান।
শহীদের বাবার কথা: কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ থাকায় ছেলে আসবে সেই আসায় পথ চেয়ে এখনও রাস্তার পাশে বসে থাকে শহীদুল ইসলামের পিতা আবু তাহের। ছেলে মারা যাওয়ার কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও পিতা এখনও ছেলের মৃত্যুকে কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। একটি কোনাটায় ছেলের জন্য চকলেট নিয়ে রাস্তার পাশে দিব্বি বসে প্রলাপ করতে থাকেন, "শহীদ বেড়াতে গেছে, চলে আসবে। কিছুক্ষণ পর হুঁশ ফিরে এলে বলেন, পুলিশ আমার ছেলেকে মেরেছে। আমি পুলিশকে মেরে ফেলব। তারা আমার ছেলের কলিজা খেয়েছে। আমি তাদের কলিজা খাব" বলে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন তিনি। শহীদের বাবা বলেন আমার ছেলে চলে গেছে। আমি তাদেরকে বলেছি তোমরা আমার বুকে গুলি করে মেরে ফেল। আমিও মরতে রাজি আছি। আল্লাহ তুমি আমার ছেলেকে শহীদ হিসেবে কবুল কর।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: শহিদুল ইসলাম। পেশাঃ দোকান কর্মচারী ও মজুরি।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ২০০০ইং, ১৩ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০২ মার্চ '১৩, বুকে গুলিবিদ্ধ।
শাহাদাতের তারিখ: ০২ মার্চ '১৩ সকাল ১১টা। স্থান। সাতকানিয়া। দাফন করা হয়: নিজ পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: আজিমপুর, ডাকঘর। খরাইয়া নগর, থানা: সাতকানিয়া, জেলা: চট্টগ্রাম।
পিতা: মো: আবু তাহের, ৪৪ বছর, রিক্সাচালক।
মাতা: শামসুন্নাহার, ৪০ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা। মাটির দেয়াল দিয়ে তৈরি ছোট ঘর। নিজের কোন আবাদি জমি নেই, পিতা রিক্সা চালিয়ে সংসার চালান।
ভাই- বোনের বিবরণ। শহীদ মো: শহীদুল ইসলাম। এমাইয়েন হাসান রবি, ২য় শ্রেণী। এরশাদ, শিশু ওয়ান। তারেক, ৪ বছর।
বায়োগ্রাফি-১: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার আজিমপুর গ্রামে ২০০০ সালে জন্ম নেওয়া মো: শহিদুল ইসলাম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেই অল্প বয়সে চামড়ার গুদামে কাজ শুরু করেছিলেন। মাত্র ১৩ বছরের এই শ্রমজীবী কিশোর পরিবারের সচ্ছলতার স্বপ্ন বুকে নিয়ে বাবার চিকিৎসা ও সংসারের ভার সামলাতেন। ২ মার্চ ২০১৩ সাঈদী মুক্তির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যোগ দিলে পুলিশি গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন। ছেলেকে হারিয়ে মা প্রতিদিন মূর্ছা যান আর মানসিকভাবে অসুস্থ বাবা এখনও রাস্তার ধারে বসে চকলেট হাতে তার ফেরার অপেক্ষায় থাকেন। পরিশ্রমী, ধর্মপ্রাণ এই কিশোরের অপূর্ণ স্বপ্ন আজ অন্যায়ের নির্মমতার নীরব সাক্ষী হয়ে আছে।
বায়োগ্রাফি-২: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার আজিমপুর গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া মো: শহিদুল ইসলাম মাত্র ১৩ বছরেই কর্মজীবনে নেমেছিলেন। চামড়ার গুদাম থেকে শুরু করে নানা দোকানে শ্রম দিয়ে পরিবারের ভরসা হয়ে ওঠেন। মানসিকভাবে অসুস্থ পিতার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি স্বপ্ন দেখতেন পাঁচ বছরের মধ্যেই পরিবারের দারিদ্র্য দূর করবেন। সাঈদী মুক্তি দাবির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়ে ২ মার্চ ২০১৩ পুলিশের গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। ছেলেকে হারিয়ে মা প্রতিদিন অজ্ঞান হয়ে পড়েন, আর পিতা আজও রাস্তায় বসে চকলেট হাতে তার ফেরার অপেক্ষায় থাকেন। শ্রমজীবী এই কিশোরের অসমাপ্ত স্বপ্ন আর তার পরিবারের কান্না আজো অন্যায়ের নির্মমতার নীরব সাক্ষ্য হয়ে আছে।
চট্টগ্রাম
8
শহীদের মা বলেন, "ঐ দিন রাতে সে আমাকে জড়িয়ে ধরে হাসান-হোসেনের কাহিনী বলেছে। আমি জানি না, কেন আমার কলিজার টুকরোকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো? আল্লাহ তুমি জালিমদের বিচার কর।" এটি বলেই তিনি বারবার মূর্ছা যান। শহীদের বাবা কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ থাকায় ছেলে আসবে সেই আশায় পথ চেয়ে এখনও রাস্তার পাশে বসে থাকেন। ছেলে মারা যাওয়ার কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও পিতা ...একটি কৌটায় ছেলের জন্য চকলেট নিয়ে রাস্তার পাশে দিব্বি বসে প্রলাপ করতে থাকেন, "শহীদ বেড়াতে গেছে, চলে আসবে।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: শহিদুল ইসলাম চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানার আজিমপুর গ্রামে ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পিতা মো: আবু তাহের ও মাতা শামসুন্নাহারের চার সন্তানের মধ্যে ১ম সন্তান। ৪ ভাইয়ের সংসারে দরিদ্র পিতা-মাতা কোন রকমে সন্তানের লালন পালনে ব্যস্ত ছিলেন। পারেননি পড়ালেখার কোন ব্যবস্থা করতে। যার ফলে শহীদ মো: শহিদুল ইসলাম একটু বয়স হওয়ার পর পিতা তাকে চামড়ার গুদামে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করেছেন। তার বয়স মাত্র ১৩ বছর। তিনি চামড়ার গুদামে প্রাপ্ত মজুরি দিয়ে বাবাকে সহযোগিতা করতেন।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মৌলভী পাড়ার বাসিন্দা আবু তাহের তাঁর পিতা। মানসিক অপ্রকৃতস্থ পিতার রিক্সা চালিয়ে উপার্জিত অর্থই পরিবারের খরচ বহনের একমাত্র উপায়। অভাব অনটনের কারণে ৫ম শ্রেণীর পর আর লেখাপড়া করা সম্ভব হয়নি তাঁর। দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত পরিবারে সামান্য সচ্ছলতার মুখ দেখাতে অল্প বয়সেই নেমে পড়েন বেঁচে থাকার জীবনসংগ্রামে। হোটেল, চায়ের দোকানে, মুদির দোকানে, কাঠের দোকান যেখানেই পেরেছেন কাজ করে দু'মুঠো খাবার তুলে দিতে চেয়েছিলেন পিতা-মাতা আর ছোটভাইদের মুখে। পিতার অসুস্থতার কারণে তাঁর আয়ের ওপর পরিবারকে অনেকটাই নির্ভর করতে হতো। শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ার পর পরিবারে সচ্ছলতা আনয়নই তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল। দীপ্ত শপথও নিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের চরম আর্থিক অনটনের সময় পিতা যখন হতাশাগ্রস্ত, সেই সময়ে তিনি তার বাবাকে আশ্বস্ত করে বলেন, "বাবা আমাকে একটু সময় দাও, পাঁচটি বছর ধৈর্য ধরো, পরম করুণাময়ের দোহাই, আমি শহিদুল বেঁচে থাকতে তোমাদেরকে কোনে আর্থিক কষ্ট পেতে দিবো না।" তিনি অল্প বয়সী হলেও নিয়মিত নামাজ পড়তেন এবং বিভিন্ন ওয়াজ শুনতেন। তিনি ছিলেন আল্লামা সাঈদীর একজন ভক্ত। কিন্তু একটি ঘাতক বুলেট তার স্বপ্নকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দিলো। বন্ধ করে দিলো তাঁর ইচ্ছাগুলি বাস্তবে মেলে ধরার সবগুলো পথ। নিভিয়ে দিল এক জ্বলন্ত অগ্নিশিখা।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে সাতকানিয়ার সাধারণ লোকজন রাস্তায় গাছ ফেলে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ২ মার্চ ২০১৩ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সাতকানিয়া থানা পুলিশ সাতকানিয়া হাসমত আলীর দোকানের সামনে আরাকান সড়কে শান্তিপূর্ণ ব্যারিকেডের মধ্যে অতর্কিত গুলি চালায়। তখন অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন। শহীদ মো: শহিদুল ইসলামের বুকের ডান পাশে গুলি লেগে পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শাহাদৎ বরণ করেন। একই স্থানে শহীদ হন তিনজন। মাওলানা মোরশেদুল আলম তার জানাযার নামাজে ইমামতি করেন। জানাযায় প্রায় ৩ হাজার লোক অংশগ্রহণ করেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে সাতকানিয়ার সাধারণ লোকজন রাস্তায় গাছ ফেলে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ২ মার্চ ২০১৩ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সাতকানিয়া থানা পুলিশ সাতকানিয়া হাসমত আলীর দোকানের সামনে আরাকান সড়কে শান্তিপূর্ণ ব্যারিকেডের মধ্যে অতর্কিত গুলি চালায়। ২০ ফেব্রুয়ারি কর্মক্ষেত্র থেকে কিছুদিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন প্রিয় মা-বাবাকে এক নজর দেখার উদ্দেশ্য। কিন্তু মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে অন্যায় রায় শুনে তিনি নিজেকে স্থির রাখতে। পারেননি। ২ মার্চ, ২০১৩ তিনি যখন কর্মক্ষেত্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, ঠিক সেই সময়েই সাঈদী মুক্তি আন্দোলনের এক বিশাল মিছিল এসে অগ্রসর হচ্ছিল। ব্যক্তিগত কাজ, পরিবার সবকিছু ভুলে গিয়ে দুনিয়ার প্রতি সামান্যটুকু মায়া ত্যাগ করে তিনি অংশ নেন মিছিলে, শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে তোলেন রাজপথ। এক পর্যায়ে ঘাতকের বুলেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাড়া দেন আল্লাহর ডাকে জান্নাত প্রাপ্তির সন্ধানে। ঘটনাস্থলেই তিনজন শহীদ হন এবং অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন। পরের দিনের জাতীয় পত্রিকাসমূহে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আসে। দৈনিক আমার দেশ, ৩ মার্চ, ২০১৩ নিউজ করে; সাতকানিয়ায় নিহত ৩। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জামায়াত-শিবির কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষে দুই জামায়াত কর্মী ও এক এলডিপি কর্মী নিহত হয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। শনিবার সকাল দশটার সময় সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হাসমত আলী সিকদারের দোকান এলাকায় পুলিশি ও বিজিবির যৌথ হামলায় তিনজন নিহত হন। নিহতরা হচ্ছেন-ছদাহা আজিমপুর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে জামায়াতকর্মী শহীদুল ইসলাম (১৮), একই ইউনিয়নের ছোট ঢেমশা গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে আবু তাহের (৩০) ও সিকদারপাড়ার সৈয়দ আহমদের ছেলে এলডিপি কর্মী ওসমান গনি (৩৩)। একই ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ হাসপাতালেও অভিযান চালিয়েছে। পুলিশের গুলিতে তিন ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় সাতকানিয়ার সবকটি ইউনিয়নে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াত-শিবির।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামায়াতকর্মীরা বৃহস্পতিবার থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে। অবরোধ তুলে দেয়ার চেষ্টা করলে জামায়াতকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। গতকাল সকাল দশটার সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ আবদুল মালেক মেম্বারের ব্রিকফিল্ড এলাকায় গিয়ে অবরোধ সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করলে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শহীদুল ইসলাম নিহত হয়। একই সময় গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে আবু তাহের (৩০), কেরানীহাটস্থ আশ শেফা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও ওসমান গনিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেয়ার পথে মারা যায়। একই ঘটনায় মোহাম্মদ রফিক (৩২) সহ আরও অন্তত ১৫-১৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়। সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, এই আন্দোলনে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরাও যুক্ত হয়েছে। ফলে আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ এখন আর জামায়াত-শিবিরের হাতে নেই। নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে যাতকানিয়ার কেরানীহাট থেকে লোহাগাড়ার চুনতি পর্যন্ত প্রায় বিশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিদ্যুতের খুঁটি, অহরহ গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখে জামায়াত শিবির নেতাকর্মীরা। পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা রাত্রের বেলায় বুলডোজার দিয়ে গাছের গুঁড়ি সরিয়ে নিলেও ভোরে আবার তা রাস্তায় তুলে দেয় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় গ্রামবাসীও। বিকাল পাঁচটায় সাতকানিয়ায় অবস্থানরত চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সড়ক অবরোধ তুলে নেয়ার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহত শহীদুল ইসলাম ও আবু তাহেরের লাশ দাফন করা হয়েছে। ওছমানের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করার কথা রয়েছে। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো মুহূর্তে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির ও এলাকাবাসীর ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে এমনটাই ধারণা সচেতন মহলের।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের মায়ের কথা: শহীদের মা বলেন, আমরা গরিব মানুষ। ওর বাবা কোন রকমে রিক্সা চালিয়ে সংসার চালায়। সে যে মজুরি পেত সবটুকু এনে তার বাবাকে দিতো। এঐ দিন রাতে সে আমার কাছে ছিল এবং রাতে শুয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে হাসান-হোসেনের কাহিনী বলেছে। আমি জানি না, কেন আমার কলিজার টুকরোকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো? হয়তো দুনিয়ার আদালতে বিচার পাবো না, তবে ফরিয়াদ জানাই-আল্লাহ তুমি জালিমদের বিচার কর।" এটি বলেই তিনি বারবার মূর্ছা যান।
শহীদের বাবার কথা: কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ থাকায় ছেলে আসবে সেই আসায় পথ চেয়ে এখনও রাস্তার পাশে বসে থাকে শহীদুল ইসলামের পিতা আবু তাহের। ছেলে মারা যাওয়ার কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও পিতা এখনও ছেলের মৃত্যুকে কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। একটি কোনাটায় ছেলের জন্য চকলেট নিয়ে রাস্তার পাশে দিব্বি বসে প্রলাপ করতে থাকেন, "শহীদ বেড়াতে গেছে, চলে আসবে। কিছুক্ষণ পর হুঁশ ফিরে এলে বলেন, পুলিশ আমার ছেলেকে মেরেছে। আমি পুলিশকে মেরে ফেলব। তারা আমার ছেলের কলিজা খেয়েছে। আমি তাদের কলিজা খাব" বলে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন তিনি। শহীদের বাবা বলেন আমার ছেলে চলে গেছে। আমি তাদেরকে বলেছি তোমরা আমার বুকে গুলি করে মেরে ফেল। আমিও মরতে রাজি আছি। আল্লাহ তুমি আমার ছেলেকে শহীদ হিসেবে কবুল কর।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: শহিদুল ইসলাম। পেশাঃ দোকান কর্মচারী ও মজুরি।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ২০০০ইং, ১৩ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০২ মার্চ '১৩, বুকে গুলিবিদ্ধ।
শাহাদাতের তারিখ: ০২ মার্চ '১৩ সকাল ১১টা। স্থান। সাতকানিয়া। দাফন করা হয়: নিজ পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: আজিমপুর, ডাকঘর। খরাইয়া নগর, থানা: সাতকানিয়া, জেলা: চট্টগ্রাম।
পিতা: মো: আবু তাহের, ৪৪ বছর, রিক্সাচালক।
মাতা: শামসুন্নাহার, ৪০ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা। মাটির দেয়াল দিয়ে তৈরি ছোট ঘর। নিজের কোন আবাদি জমি নেই, পিতা রিক্সা চালিয়ে সংসার চালান।
ভাই- বোনের বিবরণ। শহীদ মো: শহীদুল ইসলাম। এমাইয়েন হাসান রবি, ২য় শ্রেণী। এরশাদ, শিশু ওয়ান। তারেক, ৪ বছর।
বায়োগ্রাফি-১: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার আজিমপুর গ্রামে ২০০০ সালে জন্ম নেওয়া মো: শহিদুল ইসলাম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেই অল্প বয়সে চামড়ার গুদামে কাজ শুরু করেছিলেন। মাত্র ১৩ বছরের এই শ্রমজীবী কিশোর পরিবারের সচ্ছলতার স্বপ্ন বুকে নিয়ে বাবার চিকিৎসা ও সংসারের ভার সামলাতেন। ২ মার্চ ২০১৩ সাঈদী মুক্তির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যোগ দিলে পুলিশি গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন। ছেলেকে হারিয়ে মা প্রতিদিন মূর্ছা যান আর মানসিকভাবে অসুস্থ বাবা এখনও রাস্তার ধারে বসে চকলেট হাতে তার ফেরার অপেক্ষায় থাকেন। পরিশ্রমী, ধর্মপ্রাণ এই কিশোরের অপূর্ণ স্বপ্ন আজ অন্যায়ের নির্মমতার নীরব সাক্ষী হয়ে আছে।
বায়োগ্রাফি-২: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার আজিমপুর গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া মো: শহিদুল ইসলাম মাত্র ১৩ বছরেই কর্মজীবনে নেমেছিলেন। চামড়ার গুদাম থেকে শুরু করে নানা দোকানে শ্রম দিয়ে পরিবারের ভরসা হয়ে ওঠেন। মানসিকভাবে অসুস্থ পিতার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি স্বপ্ন দেখতেন পাঁচ বছরের মধ্যেই পরিবারের দারিদ্র্য দূর করবেন। সাঈদী মুক্তি দাবির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়ে ২ মার্চ ২০১৩ পুলিশের গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। ছেলেকে হারিয়ে মা প্রতিদিন অজ্ঞান হয়ে পড়েন, আর পিতা আজও রাস্তায় বসে চকলেট হাতে তার ফেরার অপেক্ষায় থাকেন। শ্রমজীবী এই কিশোরের অসমাপ্ত স্বপ্ন আর তার পরিবারের কান্না আজো অন্যায়ের নির্মমতার নীরব সাক্ষ্য হয়ে আছে।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍