হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ রেজাউল হায়াত রোমান
শহীদ রেজাউল হায়াত রোমান

শহীদ রেজাউল হায়াত রোমান

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের দক্ষিণ ঘোড়ামারায় জন্ম নেওয়া রেজাউল হায়াত রোমান ছিলেন ১৬ বছরের এক পরহেযগার ছাত্র। যার চরিত্রের কেন্দ্রে ছিল ইমান, সাহস আর আত্মত্যাগের তীব্র আকাঙ্ক্ষা। পিতার ভাষায় তাহাজ্জুদের অন্ধকারে তিনি আল্লাহর কাছে শাহাদাতের জন্য কাঁদতেন এবং ঈমানের দাবিকে কর্মেই রূপ দিতে চেয়েছিলেন। ৩১ মার্চ ২০১৩, কেন্দ্রীয় নেতার গ্রেফতারের প্রতিবাদে বার আউলিয়া মোড়ে শান্তিপূর্ণ অবরোধে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। মুহূর্তেই একটি বেপরোয়া ট্রাক তার জীবন কেড়ে নেয়। তার সহপাঠীদের স্মৃতিতে রোমান রয়ে গেছে ‘প্রথম শহীদ হওয়ার অঙ্গীকার’ পূরণ করা সেই দৃঢ়চেতা কিশোর হিসেবে। তার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারকে বিপর্যস্ত করেনি, বরং এলাকার মানুষের চোখে ন্যায় ও বিশ্বাসের পথে দাঁড়ানো এক তরুণের অটুট আদর্শকে চিরস্মরণীয় করে গেছে।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ রেজাউল হায়াত রোমান
চট্টগ্রাম
৬

পিতা বলেন, "রোমান সবসময় শাহাদাতের তামান্না পোষণ করত। শাহাদাতের এক মাস পূর্বে এক রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে কান্নাকাটির সময় আমি এবং তার মায়ের ঘুম ভেঙে যায়। সে তখন আল্লাহর কাছে শাহাদাতের জন্য দোয়া করছিল খুব আকুতি ভরে। আমাকে সে প্রায়ই বলত, আমি যা বুঝি- এই মুহূর্তে ঈমানের দাবি হচ্ছে জিহাদে অংশগ্রহণ করা, বসে থাকার কোন সুযোগ নেই।" মসজিদের ইমাম বলেন, 'একদিন সে আমাকে বলেছিল, আল্লাহ যেন মাওলানা সাঈদীর ফাঁসির পূর্বেই আমাকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন।"

১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ রেজাউল হায়াত রোমান চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড উপজেলার দক্ষিণ ঘোড়ামারা গ্রামে ১৯৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পিতা আইয়্যুব আলী ও মাতা রেজিয়া বেগমের চার সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান। দরিদ্র পিতা আইয়্যুব আলী তার চার সন্তানকে পড়া-লেখা করিয়ে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের নিরাপত্তা প্রহরীর দায়িত্ব পালন করছেন। পিতা-মাতা স্বপ্ন দেখছিলেন যে, তাদের সন্তানেরা আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সংসারের পাশাপাশি দেশ ও জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য হাল ধরবে। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণ ও স্বৈরশাসন দরিদ্র পিতা-মাতার সে স্বপ্নকে ভেঙে খান খান করে দেয়।

২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
৩১শে মার্চ ২০১৩ খেলার মাঠ থেকে বিকাল ৪.১৫টায় কেন্দ্রীয় সভাপতির গ্রেফতারের সংবাদ শুনে তাৎক্ষণিকভাবে ছোট কুমিরায় ৪.৪৫টায় মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। মিছিল শেষে সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে আসেন। এশার নামাজ শেষে অবচেতন মনে মসজিদে আগত সকল এলাকাবাসীর কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে বিদায় নিয়ে আসার পর দ্বিতীয় কর্মসূচীর খবর পান। তাৎক্ষণিক সংবাদ পেয়ে রাত ১১টায় বার আউলিয়া মোড়ে সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য বাড়ি হতে ৮.৩০টায় বেরিয়ে পড়েন। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির এক ফাঁকে তার সহপাঠী সাইফুলকে বলেছিলেন, যদি এই বার আউলিয়ায় কেউ প্রথম শহীদ হয় তবে আমিই হব প্রথম শহীদ। রাত ১১.১৫টায় অবরোধ শুরু হলে হঠাৎ একটি বেপরোয়া ট্রাকের চাপায় সবার প্রিয় রোমান ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন। তার সম্পূর্ণ মস্তক ট্রাকের আঘাতে থেঁতলে যায়।
১ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে তার জানাযার নামাজে ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আমীর আলহাজ্জ মাওলানা আমিরুজ্জামান। জানাযায় ২ হাজারের অধিক মানুষের উপস্থিতি ছিল।

৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
৩১শে মার্চ ২০১৩ খেলার মাঠ থেকে বিকাল ৪.১৫টায় কেন্দ্রীয় সভাপতির গ্রেফতারের সংবাদ শুনে তাৎক্ষণিকভাবে ছোট কুমিরায় ৪.৪৫টায় মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। মিছিল শেষে সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে আসেন। এশার নামাজ শেষে অবচেতন মনে মসজিদে আগত সকল এলাকাবাসীর কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে বিদায় নিয়ে আসার পর দ্বিতীয় কর্মসূচির খবর পান। তাৎক্ষণিক সংবাদ পেয়ে রাত ১১টায় বার আউলিয়া মোড়ে সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য বাড়ি হতে ৮.৩০টায় বেরিয়ে পড়েন। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির এক ফাঁকে তার সহপাঠী সাইফুলকে বলেছিলেন, যদি এই বার আউলিয়ায় কেউ প্রথম শহীদ হয় তবে আমিই হব প্রথম শহীদ। রাত ১১.১৫টায় অবরোধ শুরু হলে হঠাৎ একটি বেপরোয়া ট্রাকের চাপায় প্রিয় ভাই রোমান ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন। তার সম্পূর্ণ মস্তক ট্রাকের আঘাতে থেঁতলে যায়।
এ সময় প্রিয় বন্ধু সাইফুল তাকে কল করছিল। আর মোবাইলের রিংটোনে তার শাহাদাতের মহিমার গান "মানবতা দিকে দিকে কাঁদছে... শোকের পাথর বুকে বাঁধছে..." বাজছিল।

৪. শহীদের আপনজনদের কথা
পিতার কথা। সে সবসময় শাহাদাতের তামান্না পোষণ করত। শাহাদাতের এক মাস পূর্বে এক রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে কান্নাকাটির সময় আমি এবং তার মায়ের ঘুম ভেঙে যায়। সে তখন আল্লাহর কাছে শাহাদাতের জন্য দোয়া করছিল খুব আকুতিভরে। আমাকে সে প্রায়ই বলত, আমি যা বুঝি- এই মুহূর্তে ঈমানের দাবি হচ্ছে জিহাদে অংশগ্রহণ করা, বসে থাকার কোন সুযোগ নেই।
মসজিদের ইমাম: একদিন সে আমাকে বলেছিল, আল্লাহ যেন মাওলানা সাঈদীর ফাঁসির পূর্বেই আমাকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন।
এলাকাবাসীর মন্তব্য। সে সবার কাছে প্রিয় ও পরিচিত মুখ ছিল। সে খুবই পরহেযগার ছেলে ছিল। নিয়মিত নামাজ আদায় করত। গত রমজানে সে ই'তেকাফ করেছিল। তার ব্যবহার ছিল খুবই অমায়িক। সে কখনো কারো মনে কষ্ট দিত না। তাকে হারিয়ে এলাকাবাসী হারালো একজন নিয়মিত মুসল্লি।

৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ রেজাউল হায়াত রোমান। পেশা। ছাত্র।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৯৭ ইং, ১৬ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ৩১শে মার্চ ২০১৩ ইং, সড়ক অবরোধের সময় একটি বেপরোয়া ট্রাক চাপা দেয়।
শাহাদাতের তারিখ: ৩১শে মার্চ ২০১৩ ইং, রাত ১১:৩০টা স্থান: বার আউলিয়া মোড়। দাফন করা হয় নিজ পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: দক্ষিণ ঘোড়ামারা, ডাকঘর: আই,আই,ইউ,সি, থানা: সীতাকুন্ড, জেলা: চট্টগ্রাম।
পিতা: আইয়ুব আলী, ৫১ বছর, নিরাপত্তা প্রহরী, আইআইইউসি, চট্টগ্রাম।
মাতা: রেজিয়া বেগম, ৪২ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: ২ শতকের ওপর একটি কাঁচা বসতবাড়ি। এই ২ শতক ছাড়া নিজেদের আর কোন জায়গা-জমি নেই।
ভাই-বোনের বিবরণ: আলী হাসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, চট্টগ্রাম কলেজ-এ রাষ্ট্রবিজ্ঞান অনার্স ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত। সংগঠনের সাথী। শহীদ রেজাউল হায়াত রোমান, এইচএসসি ১ম বর্ষ, বিজয় স্মরণী ডিগ্রি কলেজ, ভাটিয়ারি, চট্টগ্রাম। সংগঠনের সাথী। নুরুল হায়াত লিমন, কুমিরা আবাসিক উচ্চবিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। সংগঠনের কর্মী। মিশকাত (একমাত্র ছোট বোন), তৃতীয় শ্রেণী দক্ষিণ ঘোড়ামারা প্রাইমারি বিদ্যালয়।


📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍