শহীদ মাঈনুদ্দীন হাসান মুন্না
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ছমদর পাড়া থেকে উঠে আসা মাঈনুদ্দীন হাসান মুন্না ছিলেন এক অমায়িক, পরোপকারী তরুণ। চাকরি করে সংসার সামলাতেন, আবার নীরবে ইসলামী আন্দোলনের কাজে সহযোগিতা করতেন। রাজনৈতিক সহিংসতার চাপ বাড়লে তিনি গ্রাম ছেড়ে শহরে মামার বাসায় আশ্রয় নেন কিন্তু সেখানেও রক্ষা পাননি। ১৭ মার্চ ২০১৩, গভীর রাতে এক তল্লাশি অভিযানে পুলিশের হাতে তিনি নির্মম নির্যাতনের শিকার হন এবং চারতলা থেকে ফেলে দেওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় গ্রেফতার হন। পাঁচ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে ২৩ মার্চ হাসপাতালে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তার মৃত্যু দক্ষিণ চট্টগ্রামে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, নাগরিক নিরাপত্তাহীনতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে আরও প্রবলভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ মাঈনুদ্দীন হাসান মুন্না
চট্টগ্রাম
"অত্যন্ত অমায়িক ব্যবহারের অধিকারী ছিলেন মুন্না। হাজারো তরুণের মতো আওয়ামী সরকারের সন্ত্রাসের স্বীকার হয়ে গ্রাম ছেড়ে শহরে মামার আশ্রয়ে চলে আসেন। কিন্তু রক্ষা পেলেন না জনগণের অর্থে পোষা জনগণের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর হাত থেকে।"
১. শহীদের পরিচিতি
মাঈনুদ্দীন হাসান (মুন্না) চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানার ছমদর পাড়া গ্রামে ১৯৮৫ সালে জন্মগ্রহন করেন। পিতা আব্দুর রাহমান ও মাতা হোসনারা বেগম মিনুর পাঁচ সন্তানের ভিতর তিনি অন্যতম। তিনি এইচ.এস.সি পাস করার পর চাকুরী করে সংসারকে সহযোগিতা করতেন এবং ইসলামী আন্দোলনের কাজেও টাকা দিয়ে সহযোগিতা করতেন। তিনি সকলের কাছে একজন ভাল মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ইসলামী আন্দোলনের কাজে খুবই তৎপর ছিলেন। ০২ মার্চ ১৩ সালে সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর দীর্ঘ ৯ মাইল লং মার্চে হাজার হাজার নারী পুরুষের সাথে তিনিও যোগদান করেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
১৭ মার্চ ১৩ সালে রাত্রে ১২.৩০টা পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে নিহত শহীদ ভাইদের জেয়ারতে অংশগ্রহণের সময় সাবেক এমপি শহীদের মামা শাহজাহান চৌধুরীর গ্রেফতার করার জন্য রাহাত্তার পুল আবাসিক এলাকা পুলিশ, র্যাব যৌথ অভিযান চালায়। শাহজাহান চৌধুরীকে তল্লাশির নামে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। চৌধুরী সাহেবকে না পেয়ে তার সন্ধান দেওয়ার জন্য শহীদ মুন্নার সাথে পুলিশের ধ্বস্তাধস্তি হয়। বেধড়ক নির্যাতন করার পর তাকে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেয়। তখন তাকে গ্রেফতার করে। তখন তার হাত পা ও বুকে চরম ভাবে আঘাত প্রাপ্ত হন। পরবর্তী পর্যায়ে পাঁচ দিন পর হাসপাতালে শাহাদাত বরন করেণ। ২৩ মার্চ ২০১৩ ইং তারিখে তিনি হাসপাতালে শাহাদাত বরণ করেণ। ইন্না লিল্লাহি... রাজিউন।
৩. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
২৮ ফেব্রুয়ারি ১৩ আল্লামা হযরত মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় ঘোষণার পর হইতে চট্টগ্রাম মহানগরীর সমস্ত মিছিল ও সভাসমাবেশে যোগদান। বিশেষ করে দক্ষিণ চট্টগ্রামে অবরোধে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ। ০২.০৩.১৩ সালে সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর দীর্ঘ ৯ মাইল লং মার্চে হাজার হাজার নারী পুরুষের সাথে যোগদান।
৪. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
১৭ মার্চ ১৩ সালে রাত্রে ১২.৩০টা পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে নিহত শহীদ ভাইদের জেয়ারতে অংশগ্রহণের সময় সাবেক এমপি শহীদের মামা শাহজাহান চৌধুরীর গ্রেফতার করার জন্য রহাত্তারপুল সৌরভী আবাসিক এলাকা পুলিশ, র্যাব যৌথ অভিযান চালায়। শাহজাহান চৌধুরীকে তল্লাশির নামে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। চৌধুরী সাহেবকে না পেয়ে তার সন্ধান দেওয়ার জন্য শহীদ মুন্নার সাথে পুলিশের ধ্বস্তাধস্তি হয়। বেধড়ক নির্যাতন করার পর তাকে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেয়। তখন তাকে গ্রেফতার করে। তখন তার হাত পা ও বুকে চরম ভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরবর্তী পর্যায়ে পাঁচ দিন পর হাসপাতালে শাহাদাত বরন করেন। তার আহত এবং শাহাদাত হওয়ার খবর পরবর্তী দিনগুলিতে জাতীয় পত্রিকাসমূহে প্রকাশিত হয়। দৈনিক আমার দেশ ১৮ মার্চ, ২০১৩ লিখে:
অপরাধ 'জামায়াত নেতার ভাগ্নে': চট্টগ্রামে চারতলা থেকে ফেলে যুবককে পঙ্গু করে দিল পুলিশ
চট্টগ্রাম ব্যুরো
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর আমেরিকা প্রবাসী ভাইয়ের বাড়িতে তল্লাশির নামে পুলিশ ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তল্লাশির সময় শাহজাহান চৌধুরীর ভাগিনা মাঈনুদ্দিন হাসান মুন্নাকে ব্যাপক মারধরের পর ৪তলা ভবন থেকে নিচে ফেলে দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় পুলিশ সদস্যরা। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ার রাহাত্তারপুল সৌরভী আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে অভিযানে বাকলিয়া থানা পুলিশ নয়, জেলা পুলিশ অংশ নেয় বলে জানিয়েছেন বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
এদিকে মুমূর্ষু অবস্থায় আহত মুন্নাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার কোমরের পাঁজর ভেঙে গেছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
ওই ভবনের বাসিন্দা জাকেরা বেগম জানান, রাত আনুমানিক ১টার সময় পুলিশের বিশাল একটি দল বেশ কয়েকটি গাড়ি নিয়ে এসে গ্রিলের তালা ভেঙে শাহজাহান চৌধুরীর ছোট ভাই আমেরিকা প্রবাসী প্রকৌশলী শাহ আলম চৌধুরীর বাড়িতে হানা দিয়ে প্রতিটা কক্ষে তল্লাশির নামে ব্যাপক তান্ডব চালায়। একপর্যায়ে মুন্নাকে পেয়ে ব্যাপক মারধর করে ৪তলা থেকে নিচে ফেলে দেয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা মুন্নাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করলেও তাদের সে সুযোগ না দিয়ে ঘটনার অনেক পরে তাকে পুলিশ আটক করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
হাসপাতালে আহত মুন্না
এদিকে এক বিবৃতিতে শাহজাহান চৌধুরী পুলিশের এমন বর্বর ঘটনার তীর্ব নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং এ রকম ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত চিহ্নিত দলবাজ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শান্তির দাবি জানান।
দৈনিক সংগ্রাম ২৪ মার্চ, ২০১৩ লিখে:
“মাঈনুদ্দীন হাসান মুন্নার নামাজে জানাজাপূর্ব সমাবেশে শামসুল ইসলাম এমপি
অবিলম্বে শহীদ মুন্নার খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিদাবি”
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর ভাগিনা,
জামায়াত কর্মী মাঈনুদ্দীন হাসান মুন্না (২৭) পুলিশি আঘাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গত ১৩ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ২২ মার্চ রাত ১২টায় তিনি ইন্তিকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ রাহাত্তাপুল সৌরভী আবাসিক এলাকায় তার ভাইয়ের বাসায় অভিযান চলাকালে তাকে চারতলার ছাদ থেকে ফেলে দিলে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। মাঈনুদ্দীন হাসান মুন্না হত্যার প্রতিবাদে ১৮ দলীয় জোটের পক্ষ হতে ২৫ মার্চ বৃহত্তর চট্টগ্রামে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। শহীদ মাঈনুদ্দীন হাসান মুন্নার ১ম নামাযে জানাযা বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম প্যারেড মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। নামাযে জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর এবং চট্টগ্রাম-১৪, লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মাওলানা আ.ন.ম. শামসুল ইসলাম এমপি, সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর মুহাম্মদ জাফর সাদেক, উত্তর জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আমিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টির নগর সভাপতি আব্দুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) নগর আহবায়ক নুর মুহাম্মদ খান, বাংলাদেশ ন্যাপ নগর সভাপতি মুহাম্মদ ওসমান গণি সিকদার, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শেখ মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির নগর সেক্রেটারি মুহাম্মদ ইলিয়াছ, লেবার পার্টি নগর সভাপতি মুহাম্মদ আলাউদ্দিন, নগর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ, নগর উত্তর শিবিরের সভাপতি মসরুর হোসাইন, নগর দক্ষিণ শিবিরের সভাপতি মুহাম্মদ মহিউদ্দিন প্রমুখ। উক্ত নামাযে জানাযায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর আফসার উদ্দিন চৌধুরী, আইআইইউসির প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. আবু বকর রফিক আহমদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মুহাম্মদ ইসহাক, চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের এসিসটেন্ট সেক্রেটারি আ.জ.ম. ওবায়েদুল্লাহ ও অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, বিজেপির উত্তর জেলা আহবায়ক সৈয়দ মুহাম্মদ জুলকারনাইন, দক্ষিণ জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি এনামুল হক, বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোছাইনী, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ড. হেলাল উদ্দিন মুহাম্মদ নোমান প্রমুখ।
নামাযে জানাযা শেষে মরহুমের কফিন তার সাতকানিয়া উপজেলার ভোয়ালিয়া পাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সাতকানিয়া হাইস্কুল মাঠে বিকাল ৪টায় দ্বিতীয় নামাযে জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মরহুম মাঈনুদ্দিন হাসান মুন্নার কফিন তার গ্রামের বাড়ি পৌঁছলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
প্যারেড মাঠে জানাযাপূর্ব সমাবেশে নগর জামায়াতের আমীর মাওলানা শামসুল ইসলাম এমপি বলেন, মাঈনুদ্দীন হাসান মুন্নাকে পুলিশ পিটিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেয়, ফলে তার মৃত্যু ঘটে। এজন্য গ্রেফতার অভিযানে অংশগ্রহণকারী পুলিশই দায়ী। আমরা অবিলম্বে চিহ্নিত দায়ী পুলিশকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, পুলিশ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া ও বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গ্রেফতার অভিযানের নামে বাসায় বাসায় হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালাচ্ছে। এলাকার নিরীহ মানুষ, নারী-পুরুষ ও শিশুরাও নির্যাতন থেকে রেহাই পাচ্ছে না। পুরো গ্রামকে-গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা যখন এলাকা ছাড়া তখনই সরকারদলীয় ক্যাডারা হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালিয়ে উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা করছে। তিনি অবিলম্বে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগাড়া ও বাঁশখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত গণগ্রেফতার ও মিথ্যা মামলা দায়ের বন্ধ, গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
৫. শহীদের আপনজনদের কথা
স্কুলজীবন থেকে ছাত্র শিবিরের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। এলাকার মসজিদ মাদ্রাসার পাড়ার কেহ মৃত্যুবরণ করলে তার কবর খননসহ সকল ধর্মীয় কাজের সাথে নিজকে সম্পৃক্ত রাখতেন। অত্যন্ত অমায়িক ব্যবহারের অধিকারী ছিলেন মুন্না। হাজারো তরুণের মতো আওয়ামী সরকারের সন্ত্রাসের শিকার হয়ে গ্রাম ছেড়ে শহরে মামার আশ্রয়ে চলে আসেন। কিন্তু রক্ষা পেলেন না জনগণের অর্থে পোষা জনগণের নিরাপত্তায় নিয়োজিত। পুলিশ বাহিনীর হাত থেকে।
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মাঈনুদ্দীন হাসান মুন্না। পেশা: চাকুরিজীবী।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০৫.০৬.১৯৮৫ইং, বয়স প্রায় ২৮ বছর। আহত হওয়ার তারিখ:
১৭,০৩,২০১৩
শাহাদাতের তারিখ। ২৩.০৩.২০১৩ রাত ১২.৩০, স্থান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেন। দাফন করা হয়: পারিবারিক গোরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- জমদর পাড়া, ডাকঘর-সাতকানিয়া, থানা-সাতকানিয়া, জেলা- চট্টগ্রাম।
পিতা: আব্দুর রহমান, বয়স প্রায় ৬২ বছর, চাকুরী।
মাতা: হোসনারা বেগম মিনু, বয়স ৫২ বছর প্রায়, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: বাড়ির ঘর চারপাশে বাঁশের বেড়া ও উপরে টিন শেড। চাষাবাদের কোন জমিন নেই। বড় ভাইর ইনপুটের ব্যবসা আছে।
ভাই-বোনের বিবরণ: হাসনাত আব্দুল্লাহ হাই-চাকুরিজীবী। মুন্নী (ইসমত জাহান)-বিবাহিতা, গৃহিণী। নূসরত জাহান- বিবাহিতা, গৃহিণী। নাছরিন আক্তার-অবিবাহিতা।
চট্টগ্রাম
"অত্যন্ত অমায়িক ব্যবহারের অধিকারী ছিলেন মুন্না। হাজারো তরুণের মতো আওয়ামী সরকারের সন্ত্রাসের স্বীকার হয়ে গ্রাম ছেড়ে শহরে মামার আশ্রয়ে চলে আসেন। কিন্তু রক্ষা পেলেন না জনগণের অর্থে পোষা জনগণের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর হাত থেকে।"
১. শহীদের পরিচিতি
মাঈনুদ্দীন হাসান (মুন্না) চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানার ছমদর পাড়া গ্রামে ১৯৮৫ সালে জন্মগ্রহন করেন। পিতা আব্দুর রাহমান ও মাতা হোসনারা বেগম মিনুর পাঁচ সন্তানের ভিতর তিনি অন্যতম। তিনি এইচ.এস.সি পাস করার পর চাকুরী করে সংসারকে সহযোগিতা করতেন এবং ইসলামী আন্দোলনের কাজেও টাকা দিয়ে সহযোগিতা করতেন। তিনি সকলের কাছে একজন ভাল মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ইসলামী আন্দোলনের কাজে খুবই তৎপর ছিলেন। ০২ মার্চ ১৩ সালে সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর দীর্ঘ ৯ মাইল লং মার্চে হাজার হাজার নারী পুরুষের সাথে তিনিও যোগদান করেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
১৭ মার্চ ১৩ সালে রাত্রে ১২.৩০টা পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে নিহত শহীদ ভাইদের জেয়ারতে অংশগ্রহণের সময় সাবেক এমপি শহীদের মামা শাহজাহান চৌধুরীর গ্রেফতার করার জন্য রাহাত্তার পুল আবাসিক এলাকা পুলিশ, র্যাব যৌথ অভিযান চালায়। শাহজাহান চৌধুরীকে তল্লাশির নামে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। চৌধুরী সাহেবকে না পেয়ে তার সন্ধান দেওয়ার জন্য শহীদ মুন্নার সাথে পুলিশের ধ্বস্তাধস্তি হয়। বেধড়ক নির্যাতন করার পর তাকে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেয়। তখন তাকে গ্রেফতার করে। তখন তার হাত পা ও বুকে চরম ভাবে আঘাত প্রাপ্ত হন। পরবর্তী পর্যায়ে পাঁচ দিন পর হাসপাতালে শাহাদাত বরন করেণ। ২৩ মার্চ ২০১৩ ইং তারিখে তিনি হাসপাতালে শাহাদাত বরণ করেণ। ইন্না লিল্লাহি... রাজিউন।
৩. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
২৮ ফেব্রুয়ারি ১৩ আল্লামা হযরত মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় ঘোষণার পর হইতে চট্টগ্রাম মহানগরীর সমস্ত মিছিল ও সভাসমাবেশে যোগদান। বিশেষ করে দক্ষিণ চট্টগ্রামে অবরোধে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ। ০২.০৩.১৩ সালে সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর দীর্ঘ ৯ মাইল লং মার্চে হাজার হাজার নারী পুরুষের সাথে যোগদান।
৪. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
১৭ মার্চ ১৩ সালে রাত্রে ১২.৩০টা পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে নিহত শহীদ ভাইদের জেয়ারতে অংশগ্রহণের সময় সাবেক এমপি শহীদের মামা শাহজাহান চৌধুরীর গ্রেফতার করার জন্য রহাত্তারপুল সৌরভী আবাসিক এলাকা পুলিশ, র্যাব যৌথ অভিযান চালায়। শাহজাহান চৌধুরীকে তল্লাশির নামে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। চৌধুরী সাহেবকে না পেয়ে তার সন্ধান দেওয়ার জন্য শহীদ মুন্নার সাথে পুলিশের ধ্বস্তাধস্তি হয়। বেধড়ক নির্যাতন করার পর তাকে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেয়। তখন তাকে গ্রেফতার করে। তখন তার হাত পা ও বুকে চরম ভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরবর্তী পর্যায়ে পাঁচ দিন পর হাসপাতালে শাহাদাত বরন করেন। তার আহত এবং শাহাদাত হওয়ার খবর পরবর্তী দিনগুলিতে জাতীয় পত্রিকাসমূহে প্রকাশিত হয়। দৈনিক আমার দেশ ১৮ মার্চ, ২০১৩ লিখে:
অপরাধ 'জামায়াত নেতার ভাগ্নে': চট্টগ্রামে চারতলা থেকে ফেলে যুবককে পঙ্গু করে দিল পুলিশ
চট্টগ্রাম ব্যুরো
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর আমেরিকা প্রবাসী ভাইয়ের বাড়িতে তল্লাশির নামে পুলিশ ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তল্লাশির সময় শাহজাহান চৌধুরীর ভাগিনা মাঈনুদ্দিন হাসান মুন্নাকে ব্যাপক মারধরের পর ৪তলা ভবন থেকে নিচে ফেলে দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় পুলিশ সদস্যরা। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ার রাহাত্তারপুল সৌরভী আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে অভিযানে বাকলিয়া থানা পুলিশ নয়, জেলা পুলিশ অংশ নেয় বলে জানিয়েছেন বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
এদিকে মুমূর্ষু অবস্থায় আহত মুন্নাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার কোমরের পাঁজর ভেঙে গেছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
ওই ভবনের বাসিন্দা জাকেরা বেগম জানান, রাত আনুমানিক ১টার সময় পুলিশের বিশাল একটি দল বেশ কয়েকটি গাড়ি নিয়ে এসে গ্রিলের তালা ভেঙে শাহজাহান চৌধুরীর ছোট ভাই আমেরিকা প্রবাসী প্রকৌশলী শাহ আলম চৌধুরীর বাড়িতে হানা দিয়ে প্রতিটা কক্ষে তল্লাশির নামে ব্যাপক তান্ডব চালায়। একপর্যায়ে মুন্নাকে পেয়ে ব্যাপক মারধর করে ৪তলা থেকে নিচে ফেলে দেয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা মুন্নাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করলেও তাদের সে সুযোগ না দিয়ে ঘটনার অনেক পরে তাকে পুলিশ আটক করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
হাসপাতালে আহত মুন্না
এদিকে এক বিবৃতিতে শাহজাহান চৌধুরী পুলিশের এমন বর্বর ঘটনার তীর্ব নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং এ রকম ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত চিহ্নিত দলবাজ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শান্তির দাবি জানান।
দৈনিক সংগ্রাম ২৪ মার্চ, ২০১৩ লিখে:
“মাঈনুদ্দীন হাসান মুন্নার নামাজে জানাজাপূর্ব সমাবেশে শামসুল ইসলাম এমপি
অবিলম্বে শহীদ মুন্নার খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিদাবি”
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর ভাগিনা,
জামায়াত কর্মী মাঈনুদ্দীন হাসান মুন্না (২৭) পুলিশি আঘাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গত ১৩ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ২২ মার্চ রাত ১২টায় তিনি ইন্তিকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ রাহাত্তাপুল সৌরভী আবাসিক এলাকায় তার ভাইয়ের বাসায় অভিযান চলাকালে তাকে চারতলার ছাদ থেকে ফেলে দিলে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। মাঈনুদ্দীন হাসান মুন্না হত্যার প্রতিবাদে ১৮ দলীয় জোটের পক্ষ হতে ২৫ মার্চ বৃহত্তর চট্টগ্রামে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। শহীদ মাঈনুদ্দীন হাসান মুন্নার ১ম নামাযে জানাযা বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম প্যারেড মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। নামাযে জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর এবং চট্টগ্রাম-১৪, লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মাওলানা আ.ন.ম. শামসুল ইসলাম এমপি, সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর মুহাম্মদ জাফর সাদেক, উত্তর জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আমিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টির নগর সভাপতি আব্দুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) নগর আহবায়ক নুর মুহাম্মদ খান, বাংলাদেশ ন্যাপ নগর সভাপতি মুহাম্মদ ওসমান গণি সিকদার, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শেখ মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির নগর সেক্রেটারি মুহাম্মদ ইলিয়াছ, লেবার পার্টি নগর সভাপতি মুহাম্মদ আলাউদ্দিন, নগর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ, নগর উত্তর শিবিরের সভাপতি মসরুর হোসাইন, নগর দক্ষিণ শিবিরের সভাপতি মুহাম্মদ মহিউদ্দিন প্রমুখ। উক্ত নামাযে জানাযায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর আফসার উদ্দিন চৌধুরী, আইআইইউসির প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. আবু বকর রফিক আহমদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মুহাম্মদ ইসহাক, চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের এসিসটেন্ট সেক্রেটারি আ.জ.ম. ওবায়েদুল্লাহ ও অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, বিজেপির উত্তর জেলা আহবায়ক সৈয়দ মুহাম্মদ জুলকারনাইন, দক্ষিণ জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি এনামুল হক, বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোছাইনী, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ড. হেলাল উদ্দিন মুহাম্মদ নোমান প্রমুখ।
নামাযে জানাযা শেষে মরহুমের কফিন তার সাতকানিয়া উপজেলার ভোয়ালিয়া পাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সাতকানিয়া হাইস্কুল মাঠে বিকাল ৪টায় দ্বিতীয় নামাযে জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মরহুম মাঈনুদ্দিন হাসান মুন্নার কফিন তার গ্রামের বাড়ি পৌঁছলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
প্যারেড মাঠে জানাযাপূর্ব সমাবেশে নগর জামায়াতের আমীর মাওলানা শামসুল ইসলাম এমপি বলেন, মাঈনুদ্দীন হাসান মুন্নাকে পুলিশ পিটিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেয়, ফলে তার মৃত্যু ঘটে। এজন্য গ্রেফতার অভিযানে অংশগ্রহণকারী পুলিশই দায়ী। আমরা অবিলম্বে চিহ্নিত দায়ী পুলিশকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, পুলিশ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া ও বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গ্রেফতার অভিযানের নামে বাসায় বাসায় হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালাচ্ছে। এলাকার নিরীহ মানুষ, নারী-পুরুষ ও শিশুরাও নির্যাতন থেকে রেহাই পাচ্ছে না। পুরো গ্রামকে-গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা যখন এলাকা ছাড়া তখনই সরকারদলীয় ক্যাডারা হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালিয়ে উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা করছে। তিনি অবিলম্বে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগাড়া ও বাঁশখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত গণগ্রেফতার ও মিথ্যা মামলা দায়ের বন্ধ, গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
৫. শহীদের আপনজনদের কথা
স্কুলজীবন থেকে ছাত্র শিবিরের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। এলাকার মসজিদ মাদ্রাসার পাড়ার কেহ মৃত্যুবরণ করলে তার কবর খননসহ সকল ধর্মীয় কাজের সাথে নিজকে সম্পৃক্ত রাখতেন। অত্যন্ত অমায়িক ব্যবহারের অধিকারী ছিলেন মুন্না। হাজারো তরুণের মতো আওয়ামী সরকারের সন্ত্রাসের শিকার হয়ে গ্রাম ছেড়ে শহরে মামার আশ্রয়ে চলে আসেন। কিন্তু রক্ষা পেলেন না জনগণের অর্থে পোষা জনগণের নিরাপত্তায় নিয়োজিত। পুলিশ বাহিনীর হাত থেকে।
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মাঈনুদ্দীন হাসান মুন্না। পেশা: চাকুরিজীবী।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০৫.০৬.১৯৮৫ইং, বয়স প্রায় ২৮ বছর। আহত হওয়ার তারিখ:
১৭,০৩,২০১৩
শাহাদাতের তারিখ। ২৩.০৩.২০১৩ রাত ১২.৩০, স্থান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেন। দাফন করা হয়: পারিবারিক গোরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- জমদর পাড়া, ডাকঘর-সাতকানিয়া, থানা-সাতকানিয়া, জেলা- চট্টগ্রাম।
পিতা: আব্দুর রহমান, বয়স প্রায় ৬২ বছর, চাকুরী।
মাতা: হোসনারা বেগম মিনু, বয়স ৫২ বছর প্রায়, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: বাড়ির ঘর চারপাশে বাঁশের বেড়া ও উপরে টিন শেড। চাষাবাদের কোন জমিন নেই। বড় ভাইর ইনপুটের ব্যবসা আছে।
ভাই-বোনের বিবরণ: হাসনাত আব্দুল্লাহ হাই-চাকুরিজীবী। মুন্নী (ইসমত জাহান)-বিবাহিতা, গৃহিণী। নূসরত জাহান- বিবাহিতা, গৃহিণী। নাছরিন আক্তার-অবিবাহিতা।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍