হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মাহফুজুর রহমান সিকদার
শহীদ মাহফুজুর রহমান সিকদার

শহীদ মাহফুজুর রহমান সিকদার

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার তালগাঁও-এ জন্ম নেওয়া মাহফুজুর রহমান সিকদার ছিলেন এক অমায়িক, প্রখর মেধাসম্পন্ন ধর্মপ্রাণ কর্মী। যিনি শিক্ষকতার মতো কোমল ভাষায় মানুষকে ইসলামের পথে আহ্বান করতেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি দ্বীনি আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং সমাজে শান্তি, ন্যায় ও শিষ্টাচারের প্রচারেই তার সময় ব্যয় হতো। ১ মার্চ ২০১৩, সাঈদীর রায়ের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে যোগ দিলে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। সিলেট ওসমানী মেডিক্যালে ২০ দিনের চিকিৎসা শেষে ২১ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মা আজও কবরের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করেন “আমার নিরপরাধ ছেলের অপরাধটা কী ছিল?” আর সেই প্রশ্নই তার জীবনের অবদান ও ত্যাগকে আরও গভীরভাবে স্মরণ করায়।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মাহফুজুর রহমান সিকদার
চট্টগ্রাম
৮

"শহীদ মাহফুজুর রহমান শাহাদাত বরণের পর থেকে তার মা এখন পর্যন্ত ছেলের মৃত্যুর কথা ভুলতে পারছেন না। তিনি প্রায়ই বলেন, 'আমি প্রায় সময় আমার ছেলের কবরে গিয়ে তার সাথে দেখা করি। এখনো আমার বুঝে আসছে না কি অপরাধে আমার এই নিরপরাধ ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।"

১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মাহফুজুর রহমান সিকদার চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানার তালগাঁও গ্রামে ১৯৬৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম হাফেজুর রহমান সিকদার ও মাতা নুরুন্নাহার বেগম। এর সাত সন্তানের ভিতর তিনি অন্যতম। তিনি যেখানেই থাকতেন দ্বীনি আন্দোলনের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সহিত আদায় করতেন। তার মেধ্য ছিল প্রখর। তার মেধা খাটিয়ে তিনি মানুষকে ইসলামের পথে আহবান করতেন। তার ব্যবহার ছিল অমায়িক। তিনি মিষ্টি ভাষায় সবার সাথে কথা বলতেন।

২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ সালে বিশ্ববরেণ্য মুফাসিসরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পরদিন বাদ জুমা বিক্ষোভ মিছিলে অংশ গ্রহণ করলে মাহফুজুর রহমান পুলিশের গুলিতে মারাত্মক ভাবে আহত হন। আহত অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ মার্চ ৬.৩০ মিনিটের দিকে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চিরকালের জন্য বিদায় নেন।

৩. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
ছাত্র বয়সে সাতাকানিয়া সরকারি কলেজে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী ছিলেন। তিনি ছাত্র বয়স থেকে শাহাদাতের পূর্ব পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের সামগ্রিক কাজে সক্রিয় ছিলেন।

৪. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২০১৩ সলের ২৮ ফেব্রুয়ারী বিশ্ববরেণ্য মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর এ দেশের তাওহীদি জনত বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারই অংশ হিসেবে ১ মার্চ বাদ জুমা বিক্ষোভমিছিলের ডাক দেওয়া হয়। শহীদ মাহফুজুর রহমান দ্বীনি তাগিদে সে মিছিলে শরিক হলে পুলিশ কর্তৃক মাথা ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিক্যালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ দিন পর ২১ মার্চ তিনি শাহাদাত বরণ করেন। শাহাদাতের দিন রাত ১০ টার দিকে সিলেটে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পর দিন ২২ মার্চ দুপুর ১২টার দিকে সাতকানিয়া লোহাগাড়া ১৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আ.ন.ম. শামসুল ইসলাম এমপির ইমামতিতে গ্রামের বাড়ি তালগাঁওয়ে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাপন করা হয়।

৫. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের মা: শহীদ মাহফুজুর রহমান শাহদাত বরণের পর থেকে তার মা এখন পর্যন্ত ছেলের মৃত্যুর কথা ভুলতে পারছেন না। আমি প্রায় সময় আমার ছেলের কবরে গিয়ে তার সাথে দেখা করি। এখনো আমার বুঝে আসছে না কী অপরাধে আমার এই নিরপরাধ ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।

৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মাহফুজুর রহমান সিকদার
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০১.০৬.১৯৬৩ইং, বয়স প্রায় ৫১ বছর।
আহত হওয়ার তারিখ: ০১.০৩.২০১৩
শাহাদাতের তারিখ: ২১ মার্চ সন্ধ্যা ৬ টা ৩০ মিনিটে,
শাহাদাতের স্থান: সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ মার্চ ৬.৩০ মিনিটের দিকে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চিরকালের জন্য বিদায় নেন।
দাফন করা হয়: স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- তালগাও, ইউনিয়ন-১নং চরতী, ডাকঘর-১নং চরতী, থানা-সাতকানিয়া, জেলা-চট্টগ্রাম।
পিতা: মরহুম হাফেজুর রহমান সিকদার, ইউপি সদস্য ছিলেন, মৃত্যু-২৮.১২.১৯৯২।
মাতা: নুরুন্নাহার বেগম, বয়স প্রায় ৭৭ বছর, গৃহিণী
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: বাড়ির ঘর চারপাশে মাটির দেয়াল এবং উপরে টিনের ছাউনি বিশিষ্ট ৫টি রুম।
দুই ভাই বিদেশে চাকুরী করেন। দুই ভাই বাংলাদেশে বেসরকারি চাকুরী করেন।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী:
ভাই-বোনের বিবরণ: মাহফুজুর রহমান সিকদার-শহীদ। হাসনা হেনা বেগম- বিবাহিতা, গৃহিণী। হাবিবুর রহমান-চাকুরিজীবী। মাও: আতাউর রহমান-প্রবাসী। মাহমুদুর রহমান-প্রবাসী। মুরশেদুর রহমান- ব্যাংকে চাকুরীরত। নাছিমা আক্তার ইয়াছমিন-বিবাহিতা, গৃহিণী।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍