হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মো: ফোরকান চৌধুরী
শহীদ মো: ফোরকান চৌধুরী

শহীদ মো: ফোরকান চৌধুরী

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরে জন্ম নেওয়া মো: ফোরকান চৌধুরী ছিলেন একজন পরোপকারী ফার্মেসি ব্যবসায়ী, যিনি এলাকার বিচার-সালিস ও মানবসেবায় গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক অস্থিরতার বছরগুলোতে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে এসে ইসলামী মূল্যবোধে শান্ত জীবনযাপন করতেন। ১৯ মার্চ ২০১৩ ভোরে গ্রেফতার অভিযানের শব্দে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন; তিন ঘণ্টা পর তাকে পুকুরপাড়ে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আঘাতচিহ্ন না থাকায় স্বজনদের ধারণা তিনি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে নিহত হন। তার মৃত্যু একদিকে পরিবারকে অসহায় করে তোলে, অন্যদিকে এলাকায় ন্যায়, সেবা ও সততার প্রতীক হিসেবে তার স্মৃতিকে আরও দৃঢ় করে।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মো: ফোরকান চৌধুরী
ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম
৯

"তিনি অনেক আগে আওয়ামী লীগ করতেন। পরে আওয়ামী লীগ দলের প্রতি বিভিন্নভাবে ঘৃণ্য আসে। এই কারণে তিনি ঐ দল হতে পদত্যাগ করেন।...১৯ মার্চ ২০১৩ রাত ৩টায় গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ তার বাসায় যায়। তিনি পুলিশের আওয়াজ পেয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যান। এর পর তার কোন হদিস মিলল না। অনেক খোঁজাখুঁজি করে ৩ ঘন্টা পর তাকে পুকুর পাড়ে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল।"

১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: ফোরকান চৌধুরী চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানার কাঞ্চননগর গ্রামে ১৯৬৪ সলে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হাজী সামছুল আলম চৌধুরী ও মাতা আম্বিয়া খাতুনে নয় সন্তানের মধ্যে ৩য় সন্তান মোঃ ফোরকান চৌধুরী। ৫ ভাই ৪ বোনের সংসারে ধনাঢ্য পিতামাতা ভালভাবেই সন্তানদের বড় করে তোলেন। ফার্মেসির ব্যবসা ছিল তার পেশা। মাস শেষে ২০০০০ থেকে ৩০০০০ টাকা আয় ছিল। আরো অন্যান্য ব্যবসাও ছিল তার। বিভিন্ন ব্যবসার আয় দিয়েই পিতামাতার দেখাশুনা করতেন এবং সংসার পরিচালনা করতেন। শাহাদাতকালীন সময়ে তিনি তার বৃদ্ধ পিতা-মাতা এবং স্ত্রী নার্গিস আক্তার ও দুই ছেলে ও চার মেয়ে রেখে যান।

২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষের উপর নেমে আসে চরম। অত্যাচার ও নির্যাতন। এলাকার অনেক লোকের নাম তালিকা করে থানা পুলিশ। তার মধ্যে তারও নাম তালিকায় আছে বলে তিনি জানতে পারেন। ১৯ মার্চ ২০১৩ রাত ৩টায় গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ তার বাসায় যায় তিনি পুলিশের আওয়াজ পেয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যান। এর পর তার কোন হদিস মিলল না। অনেক খোঁজাখুঁজি করে ৩ ঘন্টা পর তাকে পুকুর পাড়ে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল। তার শরীরে তেমন কোন আঘাত পাওয়া গেল না। কিন্তু আত্মীয়-স্বজনরা ধারণা করছে, তাকে পুলিশ শ্বাসরুদ্ধ করে মেরে রেখে চলে যায়।

৩. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
তিনি অনেক আগে আওয়ামী লীগ করতেন। পরে আওয়ামী লীগ দলের প্রতি বিভিন্ন ভাবে ঘৃণা আসে। এই কারণে তিনি ঐ দল হতে পদত্যাগ করেন। পরে আর কোন রাজনীতিতে যোগদান করেননি। কিন্তু তিনি ইসলামী ভাবধারায় জীবন যাপন পরিচালনা করতেন। এলাকায় বিচার সালিসি করতেন। বিবাহশাদির জন্য ব্যবস্থা করতেন। অন্যায় পছন্দ করতেন না। বিভিন্ন মানুষকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করতেন। গরিব মানুষদেরকে টাকা করজে হাসানা দিয়ে সাহায্য করতেন। এক কথায় তিনি একজন ভাল মানুষ ছিলেন।

৪. শহীদের আপনজনদের কথা
তিনি একজন মানবসেবী ছিলেন। তার মাধ্যমে অনেক লোক উপকারভোগী হয়েছে। তিনি এলাকার বিবাহ থেকে শুরু করে সকল মানসেবায় জড়িত থাকতেন। তিনি আমাদের চৌধুরী বংশের একজন আদর্শ মানুষ ছিলেন।

৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: ফোরকান চৌধুরী। পেশা: ফার্মেসির ব্যবসা।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০৩.০৬.১৯৬৪ ইং, ৪৯ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ১৯ মার্চ ২০১৩, পুলিশ গ্রেফতার করতে যেয়ে তাকে আহত করে।
শাহাদাতের তারিখ: ১৯ মার্চ ২০১৩, রাত ৩ টা। স্থান: কাঞ্চন নগর। দাফন করা হয়: নিজ পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: কাঞ্চন নগর, ইউনিয়ন, কাঞ্চন নগর। থানা: ফটিকছড়ি, জেলা: চট্টগ্রাম।
পিতা: হাজী সামছুল আলম চৌধুরী, ৮০ বছর, ব্যবসা।
মাতা: আম্বিয়া খাতুন, ৬৫ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: বাড়িতে একটি পাকা বিল্ডিং আছে। উপার্জন করার কেউ নেই। চাচাদের খরচে সংসার চলে।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: নারগিস আক্তার চৌধুরী, ৪৫ বছর, গৃহিণী। সন্তান: মোসা: রেশমী আক্তার, বিবাহিত গৃহিণী। জিন্নাত আক্তার, বিবাহিত। জান্নাত আক্তার, এইচ.এস সি. ফটিকছড়ি ডিগ্রি কলেজ। মোঃ দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, ৯ম শ্রেণী, কাঞ্চন নগর হাট ইসলামিয় দাখিল মাদ্রাসা। জান্নাতুন নাঈম, ৬ষ্ঠ শ্রেণী, কাঞ্চন নগর হাট ইসলামিয় দাখিল মাদ্রাসা। মোঃ এমরান, ৪র্থ শ্রেণী, কাঞ্চন নগর হাট ইসলামিয় দাখিল মাদ্রাসা।
ভাই-বোনের বিবরণ: মোসা: রেনু আক্তার, বিবাহিতা। মোসা: হোসনা আক্তার, বিবাহিতা। মো: ফোরকান চৌধুরী, শহীদ। মোসা: বানু আক্তার, বিবাহিতা। মোঃ লোকমান চৌধুরী, ব্যবসা। মো: শাহজাহান চৌধুরী, ব্যবসা। মো: হান্নান চৌধুরী, ব্যবসা। জিয়াউদ্দীন চৌধুরী, ব্যবসা। মোসা: হাসিনা আক্তার, বিবাহিতা।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍