হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মুহাম্মদ শিহাব উদ্দীন নিজামী
শহীদ মুহাম্মদ শিহাব উদ্দীন নিজামী

শহীদ মুহাম্মদ শিহাব উদ্দীন নিজামী

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের পূর্ব ডোমখালী গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম মাওলানা মুহাম্মদ শিহাব উদ্দীন নিজামী। তিনি ছিলেন সীতাকুণ্ড বগাচতর মাদরাসার নিবেদিতপ্রাণ প্রভাষক যিনি শিক্ষাদান, মসজিদ-মাদরাসার খেদমত ও ইসলামী কর্মকাণ্ডে ছিলেন সবার ভরসার মানুষ। ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারে তিনি ৫ মে ২০১৩ হেফাজতের সমাবেশে যোগ দেন এবং পুলিশের গুলিতে সেদিনই মৃত্যুবরণ করেন। জীবদ্দশায় তিনি বলেছিলেন ‘দ্বীন কায়েম না করে ফিরব না’; আর সেই অঙ্গীকারের পথেই তার মৃত্যু ঘিরে সৃষ্টি হয় শোকের ঢল। পরিবার-পরিজনের সীমাহীন কষ্টের মাঝেও এলাকাবাসী আজও তাকে স্মরণ করে সত্য, সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে। তার প্রস্থান শুধু একটি পরিবারের ভরসা হারানো নয়, বরং এক নিবেদিত শিক্ষক ও কর্মঠ মানুষের নীরব বিদায়।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মুহাম্মদ শিহাব উদ্দীন নিজামী
চট্টগ্রাম
১০

"শহীদি মৃত্যুর স্বাদ নিয়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন মিরসরাইর বাসিন্দা সীতাকুণ্ড বগাচতর মাদরাসার প্রভাষক মাওলানা শিহাব উদ্দিন। জীবিত অবস্থায় তিনি শহীদ হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। ঢাকা যাওয়ার আগে দ্বীন কায়েম না করে ফিরবেন না বলে বিদায় নিয়ে গিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে।"

১. শহীদের পরিচিতি
মুহাম্মদ শিহাব উদ্দীন নিজামী চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই থানার পূর্ব ডোমখালী গ্রামে ১৯৬৩ সনে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মুহাম্মদ শামসুল হক ও মাতা আনোয়ারুলে নেছার সাত সন্তানের মধ্যে ৪র্থ সন্তান মুহাম্মদ শিহাব উদ্দীন নিজামী। ৩ ভাই ৪ বোনের সংসারে দরিদ্র পিতামাতা কোন রকম সন্তানের মুখে দুটো অন্ন এবং কাপড়ের ব্যবস্থা করতেই ব্যতিব্যস্ত ছিলেন। পারেননি পড়ালেখার ভাল কোন ব্যবস্থা করতে। তিনি স্ত্রী ও বৃদ্ধ পিতামাতার দেখাশুনা করতেন। তিনি তার স্ত্রী রিনা আক্তার এবং চার সন্তান রেখে যান।

২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
০৫ মে ১৩ সনে হেফাজতের সমাবেশে যোগদান করেন। প্রথমে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আহত হয়ে পড়ে যান। পরবর্তীতে মেডিক্যাল নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত বলে ঘোষণা করেন। এভাবেই তিনি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেলেন।

৩. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শাহাদাতের পূর্বে তিনি ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধবাদীদের চোখের কাটা ছিলেন। তিনি এলাকায় ইসলামী সকল কাজ-কর্মে যোগদান করতেন। মসজিদ ও মাদ্রাসার খেদমতে তিনি সব সময় লেগে থাকতেন। এলাকার সবাই তাকে ভালবাসতো।

৪. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
০৫.০৫.১৩ তারিখের সমাবেশে ঘোষণা শোনার পর থেকে তিনি ঢাকা আসার জন্য প্রস্তুতি নেন। সারাদিন। রাত এটাই ভাবতেন। তিনি কখন ঢাকা আসবেন। তিনি ঢাকা আসলেন এবং হেফাজতের সমাবেশে যোগদান করলেন। সকাল থেকে সুন্দর সমাবেশ হলো। কিন্তু আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি সৈয়দ আশরাফ হুমকি দিলেন, কোন লোক মতিঝিলে থাকতে পারবে না। এই ঘোষণা পেয়ে আওয়ামী পুলিশ বাহিনী নির্বিচারে গুলি করে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে। তার মধ্যে মুহাম্মদ শিহাব উদ্দীন শাহাদাত বরণ করেন। দুই দিন পর বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত নিউজ আসে। ৭ মে, ২০১৩ দৈনিক আমার দেশ রিপোর্ট করে।
হেফাজতের ঢাকা অবরোধ: পুলিশের গুলিতে নিহত দু'শহীদের লাশ মিরসরাই ও কলাপাড়ায় দাফন
ডেস্ক রিপোর্ট: হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত দু'শহীদের লাশ তাদের গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মাওলানা শিহাব উদ্দিনের লাশ দাফন শেষ হয়েছে। এদিকে গতকাল বরিশালের কলাপাড়ার ইব্রাহিমের লাশ দাফন শেষ হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
চট্টগ্রাম ব্যুরো: শহীদ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে মিরসরাইর মাওলানা শিহাব উদ্দিনের। আল্লাহ ও মহানবীর
অবমাননাকারী নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসিসহ ১৩ দফা দাবি আদায়ে রাস্তায় নামা অন্য অনেকের মতোই শহীদি কাফেলায় নাম লিখিয়েছেন তিনি। শহীদি মৃত্যুর স্বাদ নিয়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন মিরসরাইর বাসিন্দা সীতাকুণ্ড বগাচতর মাদরাসার প্রভাষক মাওলানা শিহাব উদ্দীন (৫০)। জীবিত অবস্থায় তিনি শহীদ হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। ঢাকা যাওয়ার আগে দ্বীন কায়েম না করে ফিরবেন না বলে বিদায় নিয়ে গিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার ঢাকায় হেফাজতের সমাবেশে যোগ দিতে গিয়েছিলেন শিহাব উদ্দীন। পুলিশের গুলিতে মারা যান তিনি। ঢাকায় দুপুরে পল্টন এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে শিহাব মারা যান। পরে তার লাশ নিজ বাড়িতে আনা হয়। গতকাল বিকালে নিজ গ্রামে জানাজা শেষে তার লাশ দাফন করা হয়েছে। বগাচতর মাদরাসার অধ্যক্ষ সলিম উল্লাহ জানান, মাওলানা শিহাব উদ্দীন ১৯৮৫ সাল থেকে এখানে শিক্ষকতা করে আসছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি মিরসরাই ডোমখালী মুরাদপুর গ্রামে। তার ৩ ছেলে ২ মেয়ে আছে। তার মৃত্যুতে বগাচতর মাদরাসায় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকেরা মাদরাসায় শিহাবের জানাজার আয়োজন করতে চাইলে প্রশাসন বাধা দেয় বলে জানা যায়। এদিকে তার গ্রামের বাড়িতে শত শত মানুষের ঢল নামে। অবশেষে নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে দাফন করা হয় মাওলানা শিহাবকে। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, মাওলানা শিহাব বেশ কয়েক মাস ধরে সীতাকুন্ডে হেফাজতের শহীদি স্কোয়াডের সদস্যদের নাম সংগ্রহ করছিলেন। নামের তালিকায় তিনি নিজের নাম, স্ত্রী ও তার ৩ ছেলের নামও লিখে রেখেছিলেন। এভাবেই তিনি শহীদি মৃত্যুর ইচ্ছা পোষণ করে হেফাজতের কর্মসূচিগুলো পালন করে আসছিলেন।

৫. শহীদের আপন জনদের কথা
তিনি একজন ইসলামী আন্দোলনের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। তার সাথে কাউকে তুলনা করা চলে না। তিনি একজন অমায়িক ব্যক্তি ছিলেন। তার ব্যবহার খুব ভাল ছিল।

৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মুহাম্মদ শিহাব উদ্দীন নিজামী (১২০)। পেশা: ক্ষুদ্র ব্যবসা।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০৭.০৫.১৯৬৩, ৫০ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৫ মে ২০১৩, গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন।
শাহাদাতের তারিখ: ০৫ মে ২০১৩, রাত ১১ টা। স্থান: শাপলা চত্বর, ঢাকা। দাফন করা হয়। পারিবারিক কবরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: পূর্ব ডোমখালী, থানা: মিরসরাই, জেলা: চট্টগ্রাম।
পিতা: মুহাম্মদ শামসুল হক, মৃত।
মাতা: আনোয়ারুন নেছা, মৃত।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: চারপাশে বাঁশের বেড়া এবং উপরে টিনের ছাউনি একটি ঘর আছে। উপার্জন করার কেউ নেই। চাষাবাদের জমি নেই।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: রিনা আক্তার, সন্তান: মোর্শেদা আক্তার, বিবাহিতা, গৃহিণী। আঃ রহমান শরিফ, ডিপ্লোমা ইন: চট্টগ্রাম পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট। আব্দুস ছালাম শহীদ, আলিম, সীতাকুণ্ড আলিয়া মাদ্রাসা। সুমাইয়া আক্তার, নুরুল উলুম ইদ্রীসিয়া দাখিল মাদ্রাসা।
ভাই-বোনের বিবরণ: ফাতিমা বেগম, বিবাহিতা। নুরুল মোস্তফা, কৃষি। জায়েদা বেগম, বিবাহিতা। মুহাম্মদ শিহাব উদ্দীন নিজামী, শহীদ। নুরুন্নবী, প্রবাসী। রইসা আক্তার, বিবাহিতা, রিজিয়া আক্তার, বিবাহিতা।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍