হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মুজাহিদুল ইসলাম
শহীদ মুজাহিদুল ইসলাম

শহীদ মুজাহিদুল ইসলাম

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের পূর্ব কিসমত জাফরাবাদে জন্ম নেওয়া শহীদ মুজাহিদুল ইসলাম ছিলেন এক মেধাবী, ভদ্র ও পরহেজগার ছাত্র। যিনি দাখিল থেকে এইচএসসি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে উজ্জ্বল ফলাফল করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন। সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা এ তরুণ ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের শান্ত স্বভাবের এক নিবেদিত সাথী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১২, ক্যাম্পাসে সহিংস রাজনৈতিক হামলায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার মৃত্যু পরিবার, সহপাঠী ও এলাকার মানুষের হৃদয়ে গভীর শোকের স্রোত বয়ে আনে; সবাই হারায় এক সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ, এক আদর্শবান নীরব সংগ্রামীকে।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মুজাহিদুল ইসলাম
মিরসরাই, চট্টগ্রাম
১১

"নিহত মুজাহিদের বাবা মোহাম্মদ হুমায়ুন কেঁদে কেঁদে বলেন, 'আমার ছেলে ১৫ দিন আগে বাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। গত মঙ্গলবার রাতে তার সাথে আমার সর্বশেষ কথা হয়। তিনি বলেন, সে আমাকে বলে তার ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য সেন্টমার্টিন যেতে হবে। তাই কিছু টাকা চেয়েছিল এবং তা ১৭ফেব্রুয়ারির মধ্যে পাঠাতে বলে। আমি ছেলের জন্য পোস্ট অফিসের মাধ্যমে টাকা পাঠাই। কিন্তু টাকা তো আমার ছেলে পাবে না। টাকা পাওয়ার আগে সে আমাকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চলে গেল। তিনি আরো বলেন, যারা আমার বুকের ধনকে অন্যায়ভাবে খুন করেছে আমি আল্লাহর কাছে তাদের বিচার চাই। আল্লাহই তাদের বিচার করবেন।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মুজাহিদুল ইসলাম চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই থানার পূর্ব কিসমত জাফরাবাদ গ্রামে ১৯৯৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। প্রবাসী পিতা হুমায়ুন কবির ও মাতা ছকিনা বেগমের পাঁচ ছেলে-মেয়ের ভিতর দ্বিতীয় সন্তান। এলাকার পরিচিত এ আলেম পরিবারে জন্ম নেয় এ সন্তান। পিতামাতা ইসলাম প্রতিষ্ঠার অগ্রণী সৈনিক হবে এ লালিত স্বপ্ন থেকে ফুটফুটে সন্তানটির নাম রাখেন 'মুজাহিদ'। মায়ের স্নেহে ধীরে-ধীরে বেড়ে ওঠে মুজাহিদ। মিরসরাই এর ভাল মাদ্রাসা হিসাবে পরিচিত 'সুফিয়া নুরিয়া ফাজিল মাদ্রাসা' পড়ালেখার হাতে-খড়ি। এ মাদ্রাসা থেকেই ২০০৭ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ২০০৯ সালে চট্টগ্রামের বিখ্যাত কলেজ 'চট্টগ্রাম কলেজ' থেকে এ গ্রেডে এইচএসসি পাস করে ২০১০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স এ ভর্তি হন। শাহাদাতের সময় তিনি এ প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
০৮ ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উপর হামলা চালালে মুজাহিদ মারাত্মক আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন।
৩. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শহীদ মুজাহিদুল ইসলাম ছিলেন শান্ত স্বভাবের। ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাথী। শাহাদাতের তামান্নায় তিনি ছিলেন বিভোর। শাহাদাত লাভের পূর্বে তিনি ঘটনাস্থল থেকে একটুও পিছপা হননি। শাহাদাতের আগ পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তপ্ত ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করে নিজেকে সাহসী সৈনিকের ভূমিকায় উত্তীর্ণ করেছিলেন
৪. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
এ সরকারের আমলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের উপর চলে চরম নির্যাতন। বিভিন্ন নির্যাতনের বিরুদ্ধে ৮ ফেব্রুয়ারি'১২ সংগঠন ঘোষিত 'প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয় বেলা আড়াইটায় ক্যাম্পাসের ১ নং গেটে। মিছিল চলাকালীন অতর্কিত হামলা করে যৌথভাবে পুলিশ ও ছাত্রলীগ। ঘটনাস্থলে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে ছটফট করতে থাকেন মুজাহিদ। মানবতার দুশমনেরা এ অবস্থায়ই তাকে একের পর এক ছুরিকাঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে মরে গেছে মনে করে তাকে ফেলে রেখে চলে যায়। এ সময়ে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসার সময়ে পথেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
পরদিন ৯ ফেব্রুয়ারি'১২ সকাল ১০ টার দিকেপুলিশ বেষ্টিত অবস্থায় তাকে তার গ্রামের বাড়ি মিরসরাই নিয়ে যাওয়া হয় এবং কড়া পুলিশ পাহারায় ঘোষিত সময়ের আগেই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা পূর্ব অবস্থায় তার সঙ্গীদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস যেন ভারী হয়ে ওঠে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে চিরশয্যায় শায়িত হন ইসলামী আন্দোলনের অগ্র মুজাহিদ 'শহীদ মুজাহিদুল ইসলাম'। আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদা দান করুন আমীন। পরের দিনের জাতীয় দৈনিক সমূহে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রতিবেদন আসে। ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দৈনিক সংগ্রাম লিখে;
চবি ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা। ছাত্র-ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ শিবির নেতাকে নৃশংসভাবে খুন করেছে ছাত্রলীগ

চট্টগ্রাম অফিস ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারো ইসলামী ছাত্রশিবিরের
দুই নেতাকর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। তারা পুলিশের সামনে লাঠিসোটা, লোহার রড, হকিস্টিক, রামদা নিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় তাণ্ডব চালিয়ে রণক্ষেত্রে পরিণত করে পুরো ক্যাম্পাস এলাকা। পিটিয়ে-কুপিয়ে, গুলি করে ও ইটের আঘাতে ছাত্রশিবিরের অন্তত ২০ নেতাকর্মীকে এবং ইটের আঘাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো: নাসিম হাসানকে আহত করেছে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। ছাত্রলীগ ক্যাডাররা পুলিশের সামনে লাঠি-সোটা, লোহার রড, হকিস্টিক, রামদা নিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় তান্ডবে অংশ নিলেও পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক ছিল বলে সাধারণ ছাত্ররা অভিযোগ করেছে। এ সময় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা কয়েকবার গুলী বর্ষণ করে। অথচ ক্যাম্পাস থেকে উল্টো ছাত্রশিবিরের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গতকাল বুধবার সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিবিরকর্মী আজাদকে কুপিয়ে আহত করে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। এর প্রতিবাদ করতেই ছাত্রলীগ ক্যাডাররা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক ছাত্রবাসে অবস্থানরত ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী ও সাধারণ ছাত্রদের ওপর। ছাত্রলীগের হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের সাথে দফায়-দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলায় নিহতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও শিবিরকর্মী মুজাহিদ উল্লাহ ও ইংরেজি চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মাসুদ বিন হাবিব। মাসুদ বিন হাবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হল শাখার শিবির সেক্রেটারি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘটিত ছাত্র সংঘর্ষ ও উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে ছাত্রদের এবং আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিবিরকর্মীরা দর্শকসারিতে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান দেখছিল। এসময় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা তাদের ওপর হামলা করে চারজনকে আহত করে। এ নিয়ে গত মঙ্গলবারও ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছিল। ইসলামের ইতিহাস বিভাগের নবীন বরণ অনুষ্ঠানের দাওয়াত নিয়ে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এ সময় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা শিবিরকর্মী আজাদসহ দুইজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এর প্রতিবাদ করায় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের তাণ্ডবে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের সাধারণ শিক্ষার্থীরাসহ শিবিরকর্মীরা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এ সময় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা গুলি ছোড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। ছাত্রলীগের ক্যাডারদের হামলায় এ সময় গুরুতর আহত মুজাহিদকে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আর মাসুদকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি বদিউল আলম জানান, মাসুদ বিন হাবিব সোহরাওয়াদী হল শাখার ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক। আর মুজাহিদ শিবিরের সাথী।
পুলিশ জানায়, আহত ১১ ছাত্রকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। দুপুরে প্রক্টর নাসিম হাসান সংঘর্ষ থামাতে গেলে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা তাঁকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। এতে তিনি মুখে আঘাত পান। পরে তাঁকে পুলিশের গাড়িতে করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, পুলিশের সহযোগিতায় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা দফায়-দফায় ছাত্রশিবির নেতাকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। আগ্নেয়াস্ত্র, রড, লাঠি, রাম দাসহ নানা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়। হকিস্টিক ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কলা অনুষদের শিবির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আনোয়ার এবং বাংলা তৃতীয় বর্ষের ছাত্র নাঈমসহ অন্তত ২০ নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করে। তাদেরকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, "ইসলামের ইতিহাস বিভাগে নবীনবরণের দাওয়াতপত্র বিলি করতে শিবির কর্মীরা গেলে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের বাধা দেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর উভয়পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরো সাত শিক্ষার্থী। এরা হলো- ইমাদ আহমদ, ফাহাদ, রায়হান কবির, আনোয়ার হোসেন, নাঈম, সাঈদুল ইসলাম ও আবুল কালাম আজাদ। ঘটনার পরপরই ক্যাম্পাস থেকে শিবিরের ১১ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
শহীদ মুজাহিদের বাড়িতে শোকের মাতম
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সাথে সংঘর্ষে নিহত হওয়া শিবিরকর্মী মুজাহিদুল ইসলাম জাহেদের বাড়িতে চলছে এখন শোকের মাতম। পরিবারের মেধাবী ছেলেটিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে মা ছকিনা বেগম ও বাবা মোহাম্মদ হুমায়ুন। ছেলেকে নিয়ে বুকভরা স্বপ্ন ছিল তাদের। লেখা পড়া শেষ করে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়বে এবং সংসারের হাল ধরবে। কিন্তু বিধিবাম তাদের বুকে লালন করা স্বপ্নের অপমৃত্যু হল গতকাল বুধবার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষে নিহত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিবিরের সাথী জাহেদ। নিহত জাহেদ মিরসরাই উপজেলার ৯ নম্বর মিরসরাই সদর ইউনিয়নের পূর্ব কিছমত জাফরাবাদ গ্রামের মোহাম্মদ হুমায়ুনের পুত্র। ৩ ভাই ২ বোনের মধ্যে জাহেদ ছিলেন দ্বিতীয়। মান্দার বাড়িয়া মাদ্রাসা থেকে ৫ম শ্রেণী পাস করার পর সুফিয়া নুরিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেন। দাখিলে তিনি গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে। এরপর চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হন।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নিহত জাহেদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় অন্যরকম দৃশ্য। মেধাবী শিক্ষার্থী জাহেদকে হারিয়ে শুধু তার মা, বাবা নয় পাড়া প্রতিবেশী সবার চোখ থেকে অঝোরে অশ্রু ঝরছে। সবার একটাই প্রশ্ন এত ভালো ছেলে কিভাবে অকালেই চলে গেল। যার সাথে কোন দিন কারো বিরোধ ছিল না। কিন্তু এলাকার ভদ্র, নম্র ছেলেকে কেন প্রাণ দিতে হল ঘাতকদের হাতে।
নিহত মুজাহিদের বাবা মোহাম্মদ হুমায়ুন কেঁদে কেঁদে বলেন, 'আমার ছেলে ১৫ দিন আগে বাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। গত মঙ্গলবার রাতে তার সাথে আমার সর্বশেষ কথা হয়। তিনি বলেন, সে আমাকে তার ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য সেন্টমার্টিন যেতে হবে। তাই কিছু টাকা চেয়েছিল। এবং তা ১৭ফেব্রুয়ারির মধ্যে পাঠাতে বলে। আমি ছেলের জন্য পোস্ট অফিসের মাধ্যমে টাকা পাঠাই। কিন্তু টাকা তো আমার ছেলে পাবে না। টাকা পাওয়ার আগে সে আমাকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চলে গেল। আমি তাকে বারবার বলি দেশের পরিস্থিতি ভাল নয়, তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। তাই বাড়িতে চলে আসতে। সে পরিস্থিতি ভাল এবং কোন সমস্যা হবে না বলে আমাকে জানায়। তিনি আরো বলেন, যারা আমার বুকের ধনকে অন্যায়ভাবে খুন করেছে আমি আল্লাহর কাছে তাদের বিচার চাই। আল্লাহই তাদের বিচার করবেন।
জাহেদের শিক্ষক মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, 'জাহেদ খুব ভালো ও মেধাবী ছাত্র ছিল। সে কারো সাথে কোনদিন খারাপ আচরণ করেনি। কিন্তু কেন হায়েনারা তাকে খুন করল বুঝতে পারছি না। জাহেদের মা কোন কথা বলছে না। ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তিনি।
৫. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের চাচা এবং আত্মীয় স্বজনদের মতে মুজাহিদ ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, ব্যবহারে অমায়িক। তার মতো আদর্শবান নামাজি ছাত্র অত্র এলাকায় পাওয়া কঠিন ছিল।
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মুজাহিদুল ইসলাম (১২১)। পেশা: ছাত্র।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০১ জানুয়ারি '৯৩, ১৯ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৮ ফেব্রুয়ারি '১২.
চ.বি ছাত্রলীগের হামলায় মারাত্মক আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন।
শাহাদাতের তারিখ: ০৮ ফেব্রুয়ারি '১২। স্থান: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। দাফন করা হয়: পারিবারিক
কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: পূর্ব কিসমত জাফরাবাদ, ডাকঘর: কিসমত জাফরাবাদ, থানা: মিরসরাই, জেলা: চট্টগ্রাম।
পিতা: হুমায়ুন কবির, ৬৬ বছর, পেশা কৃষি।
মাতা: ছকিনা বিগম, ৫০ বছর, পেশা গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: পাকা বিল্ডিং বাড়ি। চাষাবাদের কৃষিজমি আছে। বাড়িতে ঘরভাড়া পায় এবং বাজারে দোকান আছে। ইতালি প্রবাসী বড় ছেলের আয়ে সংসার চলে।
ভাই-বোনের বিবরণ: মাজহারুল ইসলাম, ২৫ বছর, ইতালি প্রবাসী। মুজাহিদুল ইসলাম, শহীদ। সাইফুল ইসলাম, আই.কম দ্বিতীয় বর্ষ, নিজামপুর সরকারি কলেজ। হাসিনা আক্তার, এইচ,এস, সি পাস, বিবাহিতা। তাসনিয়া নওশীন তাশফী, ৬ষ্ঠ শ্রেণী, শাহ আউরিয়া মাদ্রাসা।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍