শহীদ মো: আবু বকর সিদ্দিক পারভেজ
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
সীতাকুণ্ডের আমিরাবাদের শান্ত পরিমণ্ডলে বড় হয়ে ওঠা মো. আবু বকর সিদ্দিক পারভেজ ছিলেন কর্মে নিবেদিত এক সাধারণ ব্যবসায়ী। কিন্তু ন্যায়বোধে ছিলেন অসাধারণ। শহীদ রাসেলের হত্যার প্রতিবাদে ৭ আগস্ট ২০১৩ মিছিলে যোগ দিতে গিয়ে তিনি পুলিশের গুলিতে লুটিয়ে পড়েন। কালিমার শব্দ উচ্চারণ করতে করতে তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর ঠিক এক সপ্তাহ পর জন্ম নেয় তার তৃতীয় সন্তান, যে বাবার স্নেহ কেমন তা জানবে গল্পে গল্পে। এলাকার মানুষ আজও তাকে মনে রাখে সাহস, ন্যায্যতা ও ত্যাগের উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে। পারভেজের ত্যাগ যেন নীরব কথায় বলে অন্যায়ের সামনে দাঁড়ানো মানুষ কখনোই সাধারণ থাকে না।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ মো: আবু বকর সিদ্দিক পারভেজ
চট্টগ্রাম
১২
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আবু বকর সিদ্দীক পারভেজ নিজের মায়ের কথা ও দুই ছেলে ফাহাদ ও ইফাত কই বলেন এবং উচ্চস্বরে কালিমা পড়তে থাকেন। চিকিৎসকগণ রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে এম্বুলেন্সে চট্টগ্রামে নেয়ার পর ডাক্তাররা মৃত বলে ঘোষণা করেন, (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। পিতার শাহাদাতের ১ সপ্তাহের মাথায় ভূমিষ্ঠ হলো ৩য় সন্তান আরাফাত সিদ্দীকী জিহাদ। দেখা হল না জিহাদের চেহারা। সন্তানও কখনও দেখবে না পিতার চেহারা। শুনবে লোক মুখে; হয়তো দেখা হবে জান্নাতে। শহীদের মাতা বলেন, "আল্লাহ তুমি আমার ছেলেকে শহীদ হিসাবে কবুল করে নিও।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: আবু বকর সিদ্দিক পারভেজ চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানার আমিরাবাদ গ্রামে ১৯৭৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম হাজী জামাল উল্যাহ ও ৬৫ বছর বয়সী মাতা মোসা: ছালেহা খাতুন-এর ছয় ছেলেমেয়ের মধ্যে বড় সন্তান আবু বকর সিদ্দিক পারভেজ। তিনি অল্প কিছু পড়াশুনা শেষে ব্যবসায় নিয়োজিত হন। সর্বদা ইসলামের ডাকে তিনি ছুটে যেতেন। ছাত্রজীবন থেকেই ইসলামী আন্দোলনের সাথে ছিলেন। জামায়াতের একনিষ্ঠ কর্মী পারভেজ জুলুম নির্যাতনের প্রতিবাদে সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন। শাহাদাতকালীন সময়ে তিনি স্ত্রী কামরুন নাহার সূচী, গৃহিণী ও কায়সার সিদ্দিকী ফাহাদ, ৪র্থ শ্রেণী, আতহার সিদ্দিকী ইফাত (২ বছর), আরাফাত সিদ্দিকী জিহাদ (১ মাস, নবজাতক) নামক তিনজন সন্তান রেখে যান।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
৭ আগস্ট ২০১৩ তারিখ শহীদ আব্দুল্লাহ আল রাসেলের শাহাদাতের খবর শুনে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানানোর জন্য সীতাকুন্ড বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। উক্ত মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে আবু বকর সিদ্দিক বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক ভাবে আহত হন। তাকে দ্রুত সাথীরা ঠেলাগাড়িতে করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে এম্বুলেন্সে চট্টগ্রামে নেয়া হয়। চট্টগ্রামে নেয়ার পর ডাক্তাররা মৃত বলে ঘোষণা করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তারপর ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ মর্গে নেয়া হয়। পরদিন ময়না তদন্ত শেষে বিকাল ৩ টায় শহীদের কফিন সীতাকুন্ডে আনা হয়।
৩. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
২৮ রমজান ইফতারের পূর্বে বাড়িতে আগত মেহমানদের জন্য ইফতার সামগ্রী ক্রয়ের জন্য বাড়ির পাশে বড় দারোগার বাজারে গেলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আব্দুল্লাহ রাসেলকে সর্বপ্রথম রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং চাপাতি দিয়ে তার পায়ে কোপাতে থাকে। ফলে তিনি আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আহত অবস্থায় তাকে ওম করার উদ্দেশ্যে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার গর্তে সি এন জি আটকে গেলে রাস্তার উপর নামিয়ে চাপাতি, চাইনিজ কুঠার দিয়ে ২৫-৩০ জনের সন্ত্রাসী চক্র এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হাত ও পায়ের কব্জি ও গোড়ালি কেটে ফেলে। বুক ও মাথায় আঘাত করে। আব্দুল্লাহ আল রাসেলের শাহাদাতের খবর শুনে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানানোর জন্য নেতৃবৃন্দের আদেশে সীতাকুণ্ড বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশের জন্য একত্রিত হলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। তারপর মিছিল করতে চাইলে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। একাধিক ভাই গুলি বিদ্ধ হন। আবু বকর সিদ্দিক পারভেজ ভাই পেটে গুলি বিদ্ধ হন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
৪. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
আওয়ামী দুর্ধষ সন্ত্রাসীদের অতর্কিত ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আব্দুল্লাহ আল রাসেলের শহীদ হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক পড়লে আবু বকর সিদ্দিক পারভেজ বন্ধুর সাথে ইফতার করার পর শুনা মাত্রই বললো আমার বাবু ভাই শহীদ হয়েছে। আমিও আর থাকবো না শহীদ হবো। একথা বলতে বলতে দৌড়ে সীতাকুণ্ড বাজারে এসে মিছিলে শামিল হন। ক্রন্দনরত বিক্ষুদ্ধ তৌহিদী জনতা মিছিল করতে করতে সীতাকুন্ড দক্ষিণ বাইপাসের দিকে যাওয়ার সময় জেনারেল হাসপাতাল প্রাঃ লিঃ এর সামনে গেলে বর্তমান সরকারের পেটুয়া বাহিনী রক্তপিপাসু হায়েনা পুলিশেরা বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে সামনে গেলে পুলিশেরা উপর্যুপরি গুলি চালায়। গুলির মুখে পড়ে পারভেজ, সিহাব, লিটন, রানা। উপস্থিত সাঈদ, জনি, রুবেল, সালাম, আব্দুল্লাহ মেডিক্যাল নেয়ার পথে শাহাদাত বরন করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহী রাজেউন) গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আবু বকর সিদ্দীক পারভেজ নিজের মায়ের কথা ও দুই ছেলে ফাহাদ ও ইফাত কই বলেন? আর উচ্চস্বরে কালিমা পড়তে থাকেন। ঠেলাগাড়িতে করে সীতাকুন্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যান। চিকিৎসকগণ রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে এম্বুলেন্সে চট্টগ্রামে নেয়া হয়। চট্টগ্রামে নেওয়ার পর ডাক্তাররা মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেখা হল না ৩য় সন্তান আরাফাত সিদ্দীকী জিহাদের চেহারা। পিতার শাহাদাতের ১ সপ্তাহের মাথায় ভূমিষ্ট হলো জিহাদ। সন্তানেরও দেখা হবে না পিতার চেহারা। শুনবে লোক মুখে পিতার কাহিনী। হয়তো দেখা হবে জান্নাতে। তারপর ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ মর্গে নেয়া হয়। পরদিন ময়না তদন্ত শেষে বিকাল ৩ টায় শহীদের কফিন সীতাকুণ্ডে আনা হয়। সীতাকুন্ড পৌর ভবনের সামনে রাস্তার উপরে শহীদের জানাজা হয়। পরে গ্রামের বাড়ি পশ্চিম আমিরাবাবাদ দ্বিতীয় জানাজা শেষে পিতার সাথে চির শায়িত হন। চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও পুলিশকে আসামি করে থানায় ও কোর্টে মামলা করা হয়েছে। পরের দিনের জাতীয় দৈনিক সমূহে এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট আসে। ৮ আগস্ট ২০১৩ দৈনিক সংগ্রাম লিখে।
সীতাকুন্ডে যুবলীগের হামলা ও পুলিশের গুলিতে দুই জামায়াতকর্মী নিহত
সংগ্রাম ডেস্ক: গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলায় যুবলীগ সন্ত্রাসীদের হামলায় এবং পুলিশের গুলিতে দু'জন জামায়াত নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তারা হলেন আব্দুল্লাহ আল রাসেল (৩০) ও. মুহাম্মদ পারভেজ (২৮)। এই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কে দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
উপজেলার বড়দারোগাহাট এলাকায় যুবলীগের সন্ত্রাসীরা আব্দুল্লাহ আল রাসেল বাবুকে কুপিয়ে হত্যা করে। গতকাল ইফতারের আগ মুহূর্তে যুবলীগের সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করলে স্থানীয়রা বাবুকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত বাবু বড়দারোগাহাট ফেদায় নগর এলাকার মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের ছেলে। জামায়াত এই ঘটনার জন্য যুবলীগ সন্ত্রাসী হারুন বাহিনীকে দায়ী করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াত কর্মী বাবু বড়দারোগাহাট বাজার মসজিদে আসরের নামাজ পড়ে তার প্রয়োজনীয় কাজ সেরে মায়ের জন্য ইফতার সামগ্রী নিয়ে বাড়ির দিকে রওয়ানা হন। এসময় স্থানীয় যুবলীগের হারুন ও ইসলাম বাহিনীর সন্ত্রাসীরা তাকে ঘিরে ধরে ধারালো কিরিচ ও চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে বাজারে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা বাবুকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নেয়ার পথে রাত ৮টায় কর্নেলহাট এলাকায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার খবর পেয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বাবু হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে ৬০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় পুলিশের সাথে জামায়াত কর্মীদের সংঘর্ষ হয় এবং পুলিশের গুলিতে সোহাগ ও দিদারসহ ৬ জন জামায়াত কর্মী আহত হন। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ-যুবলীগ ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটে।
সীতাকুন্ড উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার রাত ১১টার দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয় বলে সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহম্মদ শাহীন ইমরান জানান।
ওদিকে আহত ৬ জামায়াত কর্মীর মধ্যে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। রাত ১১টার দিকে সীতাকুন্ড থেকে চমেক হাসপাতালে নেয়ার পথে মুহাম্মদ পারভেজ নামক জামায়াত কর্মীর মৃত্যু হয়। নিহত পারভেজের। বাড়ি আমিরাবাদ ইউনিয়নে বলে জানা গেছে।
৫. শহীদের আপনজনদের কথা
মাতা: "আল্লাহ তুমি আমার ছেলেকে শহীদ হিসাবে কবুল করে নিও।"
স্ত্রীর কথা। সব সময় শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন। ডাক্তার আনার জন্য বাইরে গিয়েছিলেন কিন্তু ফিরে আসলেন শহীদ হয়ে। যারা আমার সন্তানদের এতিম করেছে আল্লাহ যেন তাদের উপযুক্ত বিচার করেন।"
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: আবু বকর সিদ্দিক পারভেজ (১৩৫)।
পেশা: ব্যবসা
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১০.১২.১৯৭৭, ৩৬ বছর।
আহত হওয়ার তারিখ: ০৭,০৮.২০১৩ ইং, ২৮ রমজান, পেটে পুলিশের গুলিবিদ্ধ হন।
শাহাদাতের তারিখ: ০৭.০৮.২০১৩, রাত ৮.টা।
শাহাদাতের স্থান: চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।
দাফন করা হয়: পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম। আমিরাবাদ। ডাকঘর। সীতাকুন্ড, থানা। সীতাকুন্ড, জেলা: চট্টগ্রাম।
পিতা: মরহুম হাজী জামাল উল্যাহ, ৭৫ বছর বয়সে মারা যান।
মাতা: মোসা: ছালেহা খাতুন, ৬৫ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: পিতার রেখে যাওয়া একটি ইটের তৈরি ঘর। সামান্য কিছু জায়গা জমি আছে। ছোট ভাইয়ের ব্যবসা আছে।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: কামরুন নাহার সূচী, গৃহিণী। কায়সার সিদ্দিকী ফাহাদ, ৪র্থ শ্রেণী, সীতাকুন্ড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ। আতহার সিদ্দিকী ইফাত, ২ বছর। আরাফাত সিদ্দিকী জিহাদ, ১ মাস (নবজাতক)।
ভাই-বোনের বিবরণ: সেলিনা আক্তার, বিবাহিতা। শাহনাজ পারভীন, বিবাহিতা। আরিফ মহিউদ্দিন জাসেদ, দুবাই প্রবাসী। ফরিদা ইয়াসমিন রুমি, বিবাহিতা। মিনহাজ উদ্দিন জাবেদ, ব্যবসা।
চট্টগ্রাম
১২
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আবু বকর সিদ্দীক পারভেজ নিজের মায়ের কথা ও দুই ছেলে ফাহাদ ও ইফাত কই বলেন এবং উচ্চস্বরে কালিমা পড়তে থাকেন। চিকিৎসকগণ রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে এম্বুলেন্সে চট্টগ্রামে নেয়ার পর ডাক্তাররা মৃত বলে ঘোষণা করেন, (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। পিতার শাহাদাতের ১ সপ্তাহের মাথায় ভূমিষ্ঠ হলো ৩য় সন্তান আরাফাত সিদ্দীকী জিহাদ। দেখা হল না জিহাদের চেহারা। সন্তানও কখনও দেখবে না পিতার চেহারা। শুনবে লোক মুখে; হয়তো দেখা হবে জান্নাতে। শহীদের মাতা বলেন, "আল্লাহ তুমি আমার ছেলেকে শহীদ হিসাবে কবুল করে নিও।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: আবু বকর সিদ্দিক পারভেজ চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানার আমিরাবাদ গ্রামে ১৯৭৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম হাজী জামাল উল্যাহ ও ৬৫ বছর বয়সী মাতা মোসা: ছালেহা খাতুন-এর ছয় ছেলেমেয়ের মধ্যে বড় সন্তান আবু বকর সিদ্দিক পারভেজ। তিনি অল্প কিছু পড়াশুনা শেষে ব্যবসায় নিয়োজিত হন। সর্বদা ইসলামের ডাকে তিনি ছুটে যেতেন। ছাত্রজীবন থেকেই ইসলামী আন্দোলনের সাথে ছিলেন। জামায়াতের একনিষ্ঠ কর্মী পারভেজ জুলুম নির্যাতনের প্রতিবাদে সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন। শাহাদাতকালীন সময়ে তিনি স্ত্রী কামরুন নাহার সূচী, গৃহিণী ও কায়সার সিদ্দিকী ফাহাদ, ৪র্থ শ্রেণী, আতহার সিদ্দিকী ইফাত (২ বছর), আরাফাত সিদ্দিকী জিহাদ (১ মাস, নবজাতক) নামক তিনজন সন্তান রেখে যান।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
৭ আগস্ট ২০১৩ তারিখ শহীদ আব্দুল্লাহ আল রাসেলের শাহাদাতের খবর শুনে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানানোর জন্য সীতাকুন্ড বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। উক্ত মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে আবু বকর সিদ্দিক বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক ভাবে আহত হন। তাকে দ্রুত সাথীরা ঠেলাগাড়িতে করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে এম্বুলেন্সে চট্টগ্রামে নেয়া হয়। চট্টগ্রামে নেয়ার পর ডাক্তাররা মৃত বলে ঘোষণা করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তারপর ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ মর্গে নেয়া হয়। পরদিন ময়না তদন্ত শেষে বিকাল ৩ টায় শহীদের কফিন সীতাকুন্ডে আনা হয়।
৩. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
২৮ রমজান ইফতারের পূর্বে বাড়িতে আগত মেহমানদের জন্য ইফতার সামগ্রী ক্রয়ের জন্য বাড়ির পাশে বড় দারোগার বাজারে গেলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আব্দুল্লাহ রাসেলকে সর্বপ্রথম রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং চাপাতি দিয়ে তার পায়ে কোপাতে থাকে। ফলে তিনি আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আহত অবস্থায় তাকে ওম করার উদ্দেশ্যে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার গর্তে সি এন জি আটকে গেলে রাস্তার উপর নামিয়ে চাপাতি, চাইনিজ কুঠার দিয়ে ২৫-৩০ জনের সন্ত্রাসী চক্র এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হাত ও পায়ের কব্জি ও গোড়ালি কেটে ফেলে। বুক ও মাথায় আঘাত করে। আব্দুল্লাহ আল রাসেলের শাহাদাতের খবর শুনে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানানোর জন্য নেতৃবৃন্দের আদেশে সীতাকুণ্ড বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশের জন্য একত্রিত হলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। তারপর মিছিল করতে চাইলে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। একাধিক ভাই গুলি বিদ্ধ হন। আবু বকর সিদ্দিক পারভেজ ভাই পেটে গুলি বিদ্ধ হন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
৪. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
আওয়ামী দুর্ধষ সন্ত্রাসীদের অতর্কিত ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আব্দুল্লাহ আল রাসেলের শহীদ হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক পড়লে আবু বকর সিদ্দিক পারভেজ বন্ধুর সাথে ইফতার করার পর শুনা মাত্রই বললো আমার বাবু ভাই শহীদ হয়েছে। আমিও আর থাকবো না শহীদ হবো। একথা বলতে বলতে দৌড়ে সীতাকুণ্ড বাজারে এসে মিছিলে শামিল হন। ক্রন্দনরত বিক্ষুদ্ধ তৌহিদী জনতা মিছিল করতে করতে সীতাকুন্ড দক্ষিণ বাইপাসের দিকে যাওয়ার সময় জেনারেল হাসপাতাল প্রাঃ লিঃ এর সামনে গেলে বর্তমান সরকারের পেটুয়া বাহিনী রক্তপিপাসু হায়েনা পুলিশেরা বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে সামনে গেলে পুলিশেরা উপর্যুপরি গুলি চালায়। গুলির মুখে পড়ে পারভেজ, সিহাব, লিটন, রানা। উপস্থিত সাঈদ, জনি, রুবেল, সালাম, আব্দুল্লাহ মেডিক্যাল নেয়ার পথে শাহাদাত বরন করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহী রাজেউন) গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আবু বকর সিদ্দীক পারভেজ নিজের মায়ের কথা ও দুই ছেলে ফাহাদ ও ইফাত কই বলেন? আর উচ্চস্বরে কালিমা পড়তে থাকেন। ঠেলাগাড়িতে করে সীতাকুন্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যান। চিকিৎসকগণ রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে এম্বুলেন্সে চট্টগ্রামে নেয়া হয়। চট্টগ্রামে নেওয়ার পর ডাক্তাররা মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেখা হল না ৩য় সন্তান আরাফাত সিদ্দীকী জিহাদের চেহারা। পিতার শাহাদাতের ১ সপ্তাহের মাথায় ভূমিষ্ট হলো জিহাদ। সন্তানেরও দেখা হবে না পিতার চেহারা। শুনবে লোক মুখে পিতার কাহিনী। হয়তো দেখা হবে জান্নাতে। তারপর ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ মর্গে নেয়া হয়। পরদিন ময়না তদন্ত শেষে বিকাল ৩ টায় শহীদের কফিন সীতাকুণ্ডে আনা হয়। সীতাকুন্ড পৌর ভবনের সামনে রাস্তার উপরে শহীদের জানাজা হয়। পরে গ্রামের বাড়ি পশ্চিম আমিরাবাবাদ দ্বিতীয় জানাজা শেষে পিতার সাথে চির শায়িত হন। চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও পুলিশকে আসামি করে থানায় ও কোর্টে মামলা করা হয়েছে। পরের দিনের জাতীয় দৈনিক সমূহে এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট আসে। ৮ আগস্ট ২০১৩ দৈনিক সংগ্রাম লিখে।
সীতাকুন্ডে যুবলীগের হামলা ও পুলিশের গুলিতে দুই জামায়াতকর্মী নিহত
সংগ্রাম ডেস্ক: গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলায় যুবলীগ সন্ত্রাসীদের হামলায় এবং পুলিশের গুলিতে দু'জন জামায়াত নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তারা হলেন আব্দুল্লাহ আল রাসেল (৩০) ও. মুহাম্মদ পারভেজ (২৮)। এই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কে দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
উপজেলার বড়দারোগাহাট এলাকায় যুবলীগের সন্ত্রাসীরা আব্দুল্লাহ আল রাসেল বাবুকে কুপিয়ে হত্যা করে। গতকাল ইফতারের আগ মুহূর্তে যুবলীগের সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করলে স্থানীয়রা বাবুকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত বাবু বড়দারোগাহাট ফেদায় নগর এলাকার মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের ছেলে। জামায়াত এই ঘটনার জন্য যুবলীগ সন্ত্রাসী হারুন বাহিনীকে দায়ী করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াত কর্মী বাবু বড়দারোগাহাট বাজার মসজিদে আসরের নামাজ পড়ে তার প্রয়োজনীয় কাজ সেরে মায়ের জন্য ইফতার সামগ্রী নিয়ে বাড়ির দিকে রওয়ানা হন। এসময় স্থানীয় যুবলীগের হারুন ও ইসলাম বাহিনীর সন্ত্রাসীরা তাকে ঘিরে ধরে ধারালো কিরিচ ও চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে বাজারে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা বাবুকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নেয়ার পথে রাত ৮টায় কর্নেলহাট এলাকায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার খবর পেয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বাবু হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে ৬০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় পুলিশের সাথে জামায়াত কর্মীদের সংঘর্ষ হয় এবং পুলিশের গুলিতে সোহাগ ও দিদারসহ ৬ জন জামায়াত কর্মী আহত হন। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ-যুবলীগ ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটে।
সীতাকুন্ড উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার রাত ১১টার দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয় বলে সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহম্মদ শাহীন ইমরান জানান।
ওদিকে আহত ৬ জামায়াত কর্মীর মধ্যে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। রাত ১১টার দিকে সীতাকুন্ড থেকে চমেক হাসপাতালে নেয়ার পথে মুহাম্মদ পারভেজ নামক জামায়াত কর্মীর মৃত্যু হয়। নিহত পারভেজের। বাড়ি আমিরাবাদ ইউনিয়নে বলে জানা গেছে।
৫. শহীদের আপনজনদের কথা
মাতা: "আল্লাহ তুমি আমার ছেলেকে শহীদ হিসাবে কবুল করে নিও।"
স্ত্রীর কথা। সব সময় শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন। ডাক্তার আনার জন্য বাইরে গিয়েছিলেন কিন্তু ফিরে আসলেন শহীদ হয়ে। যারা আমার সন্তানদের এতিম করেছে আল্লাহ যেন তাদের উপযুক্ত বিচার করেন।"
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: আবু বকর সিদ্দিক পারভেজ (১৩৫)।
পেশা: ব্যবসা
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১০.১২.১৯৭৭, ৩৬ বছর।
আহত হওয়ার তারিখ: ০৭,০৮.২০১৩ ইং, ২৮ রমজান, পেটে পুলিশের গুলিবিদ্ধ হন।
শাহাদাতের তারিখ: ০৭.০৮.২০১৩, রাত ৮.টা।
শাহাদাতের স্থান: চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।
দাফন করা হয়: পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম। আমিরাবাদ। ডাকঘর। সীতাকুন্ড, থানা। সীতাকুন্ড, জেলা: চট্টগ্রাম।
পিতা: মরহুম হাজী জামাল উল্যাহ, ৭৫ বছর বয়সে মারা যান।
মাতা: মোসা: ছালেহা খাতুন, ৬৫ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: পিতার রেখে যাওয়া একটি ইটের তৈরি ঘর। সামান্য কিছু জায়গা জমি আছে। ছোট ভাইয়ের ব্যবসা আছে।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: কামরুন নাহার সূচী, গৃহিণী। কায়সার সিদ্দিকী ফাহাদ, ৪র্থ শ্রেণী, সীতাকুন্ড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ। আতহার সিদ্দিকী ইফাত, ২ বছর। আরাফাত সিদ্দিকী জিহাদ, ১ মাস (নবজাতক)।
ভাই-বোনের বিবরণ: সেলিনা আক্তার, বিবাহিতা। শাহনাজ পারভীন, বিবাহিতা। আরিফ মহিউদ্দিন জাসেদ, দুবাই প্রবাসী। ফরিদা ইয়াসমিন রুমি, বিবাহিতা। মিনহাজ উদ্দিন জাবেদ, ব্যবসা।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍