হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মো: ফজলুর রহমান
শহীদ মো: ফজলুর রহমান

শহীদ মো: ফজলুর রহমান

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

মুন্সীগঞ্জের বাটেরচরের ধর্মনিষ্ঠ পরিবারে জন্ম নেওয়া ফজলুর রহমান ছিলেন সত্য, ন্যায্যতা ও জ্ঞান-সাধনায় গড়ে ওঠা এক উদীয়মান আলেম।
শিক্ষা ও চরিত্রে তাঁর মেধা, নিষ্ঠা এবং নেতৃত্বের গুণ তাঁকে ছাত্রসংগঠন, মাদ্রাসা শিক্ষা ও লেখনীর ক্ষেত্রে এক সংযত ও দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল।
সমাজের কল্যাণে কাজ করা এবং মানুষের হৃদয়ে আলোর দিশা ছড়ানোই ছিল তাঁর জীবনের প্রধান অঙ্গীকার।
এক অস্থির দুপুরে সত্যের পক্ষে উচ্চারিত কণ্ঠ তাঁর জীবনের শেষ সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠে, যেখানে সাহসিকতা ছিল তাঁর একমাত্র পরিচয়।
সবাইকে ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রতি গভীর আনুগত্য তাঁকে আজও স্মরণীয় করে রেখেছে এক অনমনীয় চরিত্রের মানুষ হিসেবে।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

ফজলুর রহমান
ঢাকা-১
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: ফজলুর রহমান ১ অক্টোবর ১৯৮৬ইং সালে মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার বাটেরচর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তারা ৪ ভাই ২ বোন। ভাইদের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তার বাবা ছিলেন একজন আলেমে দ্বীন। মা কুরআনের হাফেজা। বাবা-মা তাদের সন্তানদেরকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করে আলেমে দ্বীন হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। আশা ছিল যে, তারা দেশ ও জাতি গঠনের লক্ষ্যে আমৃত্যু কাজ করে যাবেন। শহীদ মো: ফজলুর রহমান ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী। মৃত্যুকালে তিনি তাজকিয়াতুল উম্মাহ মাদ্রাসা, ঢাকা এর শিক্ষক ও হোস্টেল সুপার ছিলেন। তিনি একজন ভাল লেখকও ছিলেন। শহীদ হবার আগে তিনি চারটি বই লিখে গেছেন। এর মধ্য থেকে দুটি বই প্রকাশের অপেক্ষায়। বইগুলো হলো: "রিযিকের পেরেশানি আল্লাহর উপর ছেড়ে দিন" এবং "যাদের সাথে দেখা করা হারাম"। তিনি খুবই মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তিনি ২০০৭ সালের কামিল পরীক্ষায় তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা থেকে ৯৩১ নম্বর পেয়ে মাদ্রাসা বোর্ডে সপ্তম স্থান অধিকার করেছিলেন। তার স্বপ্ন ছিল তিনি একজন বড় আলেম ও লেখক হবেন। দেশ ও জাতির খেদমত করবেন। কিন্তু স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের ঘাতকেরা তার সে স্বপ্নকে ভেঙে খান খান করে দেয়। সকলের মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে স্লোগানরত অবস্থায় মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে ইহধাম ত্যাগ করেন তিনি। তিনি ছাত্রসংহঠনের সদস্য ছিলেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
দিনটি ছিল ৮ মার্চ ২০১৩। সেদিন ছিল প্রখ্যাত মোফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে তথাকথিত যুদ্ধাপরাধ মামলার ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে এবং আল্লাহ, রাসূল (সাঃ), রাসূলের পরিবার ও ইসলামের বিরুদ্ধে অবমাননা ও কটূক্তিকারী নাস্তিকদের ফাঁসির দাবিতে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ পরিষদের ডাকে বাদ জুমআ জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেটে পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ। জুমআর নামাজের আগেই মসজিদের সকল গেটে আওয়ামী সন্ত্রাসী পুলিশ বাহিনী ব্যাপক তল্লাশির মাধ্যমে মুসল্লিদের মাঝে আতংক সৃষ্টি করে। নামাজের পর মসজিদের উত্তর গেইটে যথারীতি বিক্ষোভ মিছিল শুরু করার প্রস্তুতি নিলে পুলিশ তাতে বাধা দিয়ে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। তখন মুসল্লিরা লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল থেকে বাঁচার জন্য আশপাশের বিভিন্ন বিল্ডিংয়ে আশ্রয় নেন। তখন পুলিশও গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন বিল্ডিংয়ে অভিযান চালায়। পুলিশি গ্রেফতার থেকে বাঁচার জন্য শহীদ মো: ফজলুর রহমান পাশের এক বিল্ডিংয়ের ১৩ তলার ছাদে আশ্রয় নিলে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাকে প্রচণ্ড মারধরের পর ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেয়। এতে করে তিনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা আব্দুল মালেক। জানাযায় এক হাজারের অধিক লোক উপস্থিত ছিলেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
দিনটি ছিল ৮ মার্চ ২০১৩। সেদিন ছিল প্রখ্যাত মোফাস্সিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে তথাকথিত যুদ্ধাপরাধ মামলার ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে এবং আল্লাহ, রাসূল (সা:), রাসূলের পরিবার ও ইসলামের বিরুদ্ধে অবমাননা ও কটুক্তিকারী নাস্তিকদের ফাঁসির দাবিতে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ পরিষদের ডাকে বাদ জুমআ জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেটে পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ। জুমআর নামাজের আগেই মসজিদের সকল গেটে আওয়ামী সন্ত্রাসী পুলিশ বাহিনী ব্যাপক তল্লাশির মাধ্যমে মুসল্লিদের মাঝে আতংক সৃষ্টি করে। নামাজের পর মসজিদের উত্তর গেটে যথারীতি বিক্ষোভ মিছিল শুরু করার প্রস্তুতি নিলে পুলিশ তাতে বাধা দিয়ে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। তখন মুসল্লিরা লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল থেকে বাঁচার জন্য আশপাশের বিভিন্ন বিল্ডিংয়ে আশ্রয় নেন। তখন পুলিশও গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন বিল্ডিংয়ে অভিযান চালায়। পুলিশি গ্রেফতার থেকে বাঁচার জন্য শহীদ মো: ফজলুর রহমান পাশের এক বিল্ডিংয়ের ১৩ তলার ছাদে আশ্রয় নিলে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাকে প্রচণ্ড মারধরের পর ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেয়। এতে করে তিনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন।
৪. শহীদের লেখনী
মো: ফজলুর রহমান শহীদ হবার আগে চারটি বই লিখে গেছেন। এর মধ্য থেকে দুটি বই প্রকাশের অপেক্ষায়। প্রকাশিতব্য বইগুলো হলো:
১. রিখিকের পেরেশানি আল্লাহর উপর ছেড়ে দিন
২. যাদের সাথে দেখা করা হারাম।
৫. বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা :টিনের ঘর।নিজেদের তেমন কোন জমি নেই।ভাইদের শিক্ষকতায় পরিবার চলে।
৬. পরিবারের জন্য যা করণীয় এককালীন পারিবারিক অবস্থা মোটামুটি ভাল। বৃদ্ধ মায়ের নিয়মিত খোঁজখবর নেয়া দরকার।
৮. ব্যক্তিগত তথ্য
নাম: শহীদ মো: ফজলুর রহমান (০৫৮), জেলা: মুন্সীগঞ্জ।
জন্ম তারিখ: ০১.১০.১৯৮৬ ইং।
ঘটনাকালীন বসবাসের ঠিকানা: ৪০, দক্ষিণ বাসাবো, তাজকিয়াতুল উম্মাহ মাদ্রাসার হোস্টেল সুপার
আহত ও শাহাদাতের তারিখ: ০৮ মার্চ ২০১৩।
আহতের ধরন ও পরবর্তী অবস্থা। পুলিশ ১৩ তলা বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে ফেলে দিলে ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন।
জানাজার ইমামের নাম ও উপস্থিতি: বড় ভাই হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান, উপস্থিতি ১৫০০ জন।
পিতার নাম: মাওলানা মো: তুহা, মৃত্যুর তারিখ: ২১.০৩.২০১২ইং, পেশা: চাকুরীজীবী ছিলেন।
মাতার নাম: হাফেজা শাফিয়া বেগম।
বয়স ও পেশা : ৬৭ বছর, গৃহিণী।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম। বাটেরচর, ডাকঘর: মধ্য বাটেরচর, থানা: গজারিয়া, জেলা: মুন্সীগঞ্জ
পরিবারের আয়ের উৎস: ভাইদের শিক্ষকতা।
বর্তমানে যোগাযোগের ঠিকানা আন নাবিল সায়েন্টিফিক ক্যাডেট মাদ্রাসা, বাড়ি-১/বি, রোড-১২, নিকুঞ্জ-২, খিলক্ষেত, ঢাকা।
ভাই-বোনের বিবরণ: হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান-মুন্সীগঞ্জ আলিম মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক। মাওলানা মোঃ লোকমান-মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক, মাওলানা মোঃ সোলায়মান-মাদ্রাসার শিক্ষক,
শহীদ মো: ফজলুর রহমান-তাজকিয়াতুল উম্মাহ মাদ্রাসা, ঢাকা এর শিক্ষক ও হোস্টেল সুপার ছিলেন। দুই বোন-বিবাহিতা।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍