শহীদ কামাল উদ্দীন
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
১৯৭১ সালের ১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার গারাংগিয়ায় জন্ম নেওয়া শহীদ কামাল উদ্দীন ছিলেন এক অস্বচ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠা পরিশ্রমী যুবক। যার জীবন গড়ে ওঠে সততা, শ্রম ও ইসলামি আদর্শের ওপর। ছোটবেলায় মাতৃহারা এই মানুষটি গ্রীল-ওয়ার্কশপ ব্যবসার পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী কার্যক্রমে নিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে রাতে ফেরার পথে অপহরণের পর বশির বাহিনীর হাতে তিনি নির্মমভাবে নিহত হন। পরদিন ডলু নদী থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার হলে এলাকায় শোকের ঢেউ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে জনজাগরণ সৃষ্টি হয়। কামাল উদ্দীন আজ সাতকানিয়ার মানুষের কাছে নৈতিক দৃঢ়তা ও আদর্শিক অটলতার প্রতীক।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ কামাল উদ্দীন
চট্টগ্রাম
১৫
শহীদের পরিচিতি
শহীদ কামাল উদ্দীন ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ তারিখে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার গারাংগিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা- মৃত মোঃ নুরুল ইসলাম ও মাতা মৃত শামসুন নাহার। একেবারে ছোট বেলায় তিনি মাতৃহারা হন। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। জামায়াতকর্মী কামাল হোসেন পেশায় গ্রীল ওয়ার্কশপের ব্যবসা করতেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে রাতে বাড়ি ফেরার পথে রূপকানিয়া গাছের বাগান এলাকা থেকে দুই বন্ধু আবদুল হাকিম ও কামাল উদ্দীনকে অপহরণের পর আবদুল হাকিমকে জবাই করে হত্যা করে বশির বাহিনীর প্রধান বশির ও তার ভাগিনা নেজাইম্যা ডাকাত। হত্যার পর লাশ গুম করে বশির বাহিনীর প্রধান বশির আহমদ ও তার ভাগিনা ডাকাত নেজাইম্যাসহ কয়েকজন। পরদিন সকাল ১০টার দিকে কামাল উদ্দীনের লাশ স্থানীয় হাতিয়ারকুল খালে ভাসতে দেখে লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২ সেপ্টেম্বর ২০১১ শুক্রবার। ঈদুল ফিতরের ৩য় দিন। সাতকানিয়ায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে ফেরার পথে রূপকানিয়া গাছের বাগান এলাকা থেকে জামায়াতের দু'জন কর্মী আব্দুল হাকিম ও কামাল উদ্দিনকে অপহরণ করে পৈশাচিকভাবে হত্যা করে। হত্যার পর লাশ গুম করে বশির বাহিনীর প্রধান বশির আহমদ ও তার ভাগিনা ডাকাত নেজাইম্যাসহ কয়েকজন। ৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে দক্ষিণ রূপকানিয়া গাছের বাগান এলাকা থেকে আবদুল হাকিমের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় জনতা। এ ব্যাপারে দৈনিক প্রথম আলো ৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ নিম্মোক্ত খবর প্রচার করে- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় গতকাল ৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ শনিবার আবদুল হাকিম (৪২) ওরফে পান হাকিম নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি কামাল উদ্দিন (৩৬) নামের তাঁর একজন ব্যবসায়িক অংশীদার নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, কামালকেও হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ হোসেন জানান, সকাল ১০টার দিকে কামাল উদ্দীনের লাশ স্থানীয় হাতিয়ারকুল খালে ভাসতে দেখে লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
৫ সেপ্টেম্বর ২০১১ দৈনিক সংগ্রামের খবর- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় দুই জামায়াতকর্মী অপহরণের পর এক জনের লাশ উদ্ধার করার ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে নিহতের ছোট ভাই আব্দুল জলিল। গতকাল দায়েরকৃত এ মামলায় আওয়ামী লীগের ক্যাডার বশির বাহিনীর প্রধান বশির আহমদ ও তার ভাগিনা ডাকাত নেজাইম্যাসহ ১৮ জনকে আসামী করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
গারাংগিয়ায় জামায়াতের প্রতিবাদ সমাবেশ।
সাতকানিয়ায় আওয়ামী সন্ত্রাসী কর্তৃক ২জন জামায়াত কর্মীকে অপহরণ করে হত্যার প্রতিবাদে ও অবিলম্বে খুনীদের গ্রেফতারের দাবীতে জামায়াতে ইসলামী পারাংগিয়া শাখার উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সমাবেশ মাওলানা ফৌজুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার নায়েবে আমীর মোহাম্মদ ইসহাক। উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন আমীর আবু তাহের, ইউনিয়ন সভাপতি অধ্যাপক আবু তাহের, ইউনিয়ন সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবুল কালাম প্রমুখ। সর্বশেষ ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার সময় ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার উত্তরে ডলু নদীতে ভাসমান অবস্থায় কামালের লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় জনতা থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সাতকানিয়া থানায় নিয়ে আসে।
তিনটি জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। সাতকানিয়া মডেল হাইস্কুল মাঠে প্রথম জানাযা। দ্বিতীয় জানাযা চট্টগ্রাম কাজেম আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং তৃতীয় জানাজা গারাংগিয়া মাদরাসার মাঠে।
৫ সেপ্টেম্বর ২০১১ দৈনিক সংগ্রামের খবর
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় দুই জামায়াতকর্মী অপহরণের পর এক জনের লাশ উদ্ধার করার ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে আবদুল হাকিমের ছোট ভাই আব্দুল জলিল। গতকাল দায়েরকৃত এ মামলায় আওয়ামী লীগের ক্যাডার বশির বাহিনীর প্রধান বশির আহমদ ও তার ভাগিনা ডাকাত নেজাইম্যাসহ ১৮জনকে আসামী করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। সাতকানিয়া উপজেলার দক্ষিণ রূপকানিয়ায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত শহীদ জামায়াত কর্মী আব্দুল হাকিমের জানাযা ৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ ইং তারিখ, সকাল সাড়ে সাতটায় চট্টগ্রাম কলেজ রোডস্থ কাজেম আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত জানাজায় ইমামতি করেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মফিজুর রহমান। জানাজাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার জাতীয় সংসদ সদস্য, চট্টগ্রাম মহানগরীর জামায়াত আমীর মাওলানা মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে ধ্বংস করে এই রাজনৈতিক হত্যাকান্ড করা হয়েছে। এই হত্যাকান্ড রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কর্মীদের হত্যা করে রাজনীতি ধ্বংস করা যায় না। জামায়াত কর্মী শহীদ আব্দুল হাকিমের ২য় নামাজে জানাযা সকাল-সাড়ে নয়টায় সাতকানিয়া হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত জানাজায় ইমামতি করেন মাওলানা আ.ন.ম. শামসুল ইসলাম এমপি। সাতকানিয়া হাইস্কুল মাঠে জানাজাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর আ ন ম শামসুল ইসলাম এমপি, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর অধ্যাপক জাফর সাদেক, বান্দরবান জেলা আমীর মাওলানা আব্দুস সালাম আজাদ, চট্টগ্রাম মহানগর শিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল, জামায়াত নেতা মুহাম্মদ ইসহাক, মাওলানা আবুল ফয়েজ, ডাঃ নুরুল হক, ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম, ডা. আব্দুল জলিল ও কলিম উল্লাহ। সমাবেশে মাওলানা শামসুল ইসলাম এমপি বলেন, জামায়াত কর্মী হাকিমের খুনী কারা তাদের সাতকানিয়ার মানুষ ভাল করেই চিনে।
সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, দুই জন মানুষ অপহরণের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তাদের উদ্ধারের জন্য চেষ্টা করেনি। পরের দিন সকালে একজনের লাশ উদ্ধার সম্ভব হলেও কামালের লাশটি পর্যন্ত এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তিনি খুনী বশির, তার ভাগিনা নেজাইম্যা ডাকাত ও বশির বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা ও অপর জামায়াত কর্মী কামালের লাশ উদ্ধার করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
এক নজরে শহীদ মো: কামাল উদ্দীন
নাম: মোঃ কামাল উদ্দীন
পিতার নাম: মৃত নুরুল ইসলাম
মাতার নাম: মৃত শামসুন নাহার
ঠিকানা: গ্রাম- গারাংগিয়া, ডাকঘর- গারাংগিয়া উপজেলা- সাতকানিয়া, জেলা- চট্টগ্রাম
শাহাদাতের তারিখ ও স্থান: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ ইং পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাশে ডলু নদী থেকে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
যে ঘটনায় শহীদ: অতর্কিতে হামলার পর জবাই করে হত্যা
কাদের দ্বারা আক্রান্ত: আওয়ামী লীগ
পারিবারিক অবস্থা: অস্বচ্ছল
ভাই বোন: দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রথম
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এসএসসি, বারোদুনা উচ্চবিদ্যালয়
জন্ম তারিখ: ০১ সেপ্টেম্বর ১৯৭১
সাংগঠনিক মান: জামায়াত কর্মী
সংগঠনের আসার ইতিহাস: গারাংগিয়া কামিল মাদরাসায় অধ্যায়নকালে ছাত্র সংগঠনের দাওয়াত পান এবং শাহাদাতের পূর্ব পর্যন্ত সংগঠনে সক্রিয় ছিলেন।
চট্টগ্রাম
১৫
শহীদের পরিচিতি
শহীদ কামাল উদ্দীন ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ তারিখে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার গারাংগিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা- মৃত মোঃ নুরুল ইসলাম ও মাতা মৃত শামসুন নাহার। একেবারে ছোট বেলায় তিনি মাতৃহারা হন। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। জামায়াতকর্মী কামাল হোসেন পেশায় গ্রীল ওয়ার্কশপের ব্যবসা করতেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে রাতে বাড়ি ফেরার পথে রূপকানিয়া গাছের বাগান এলাকা থেকে দুই বন্ধু আবদুল হাকিম ও কামাল উদ্দীনকে অপহরণের পর আবদুল হাকিমকে জবাই করে হত্যা করে বশির বাহিনীর প্রধান বশির ও তার ভাগিনা নেজাইম্যা ডাকাত। হত্যার পর লাশ গুম করে বশির বাহিনীর প্রধান বশির আহমদ ও তার ভাগিনা ডাকাত নেজাইম্যাসহ কয়েকজন। পরদিন সকাল ১০টার দিকে কামাল উদ্দীনের লাশ স্থানীয় হাতিয়ারকুল খালে ভাসতে দেখে লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২ সেপ্টেম্বর ২০১১ শুক্রবার। ঈদুল ফিতরের ৩য় দিন। সাতকানিয়ায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে ফেরার পথে রূপকানিয়া গাছের বাগান এলাকা থেকে জামায়াতের দু'জন কর্মী আব্দুল হাকিম ও কামাল উদ্দিনকে অপহরণ করে পৈশাচিকভাবে হত্যা করে। হত্যার পর লাশ গুম করে বশির বাহিনীর প্রধান বশির আহমদ ও তার ভাগিনা ডাকাত নেজাইম্যাসহ কয়েকজন। ৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে দক্ষিণ রূপকানিয়া গাছের বাগান এলাকা থেকে আবদুল হাকিমের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় জনতা। এ ব্যাপারে দৈনিক প্রথম আলো ৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ নিম্মোক্ত খবর প্রচার করে- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় গতকাল ৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ শনিবার আবদুল হাকিম (৪২) ওরফে পান হাকিম নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি কামাল উদ্দিন (৩৬) নামের তাঁর একজন ব্যবসায়িক অংশীদার নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, কামালকেও হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ হোসেন জানান, সকাল ১০টার দিকে কামাল উদ্দীনের লাশ স্থানীয় হাতিয়ারকুল খালে ভাসতে দেখে লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
৫ সেপ্টেম্বর ২০১১ দৈনিক সংগ্রামের খবর- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় দুই জামায়াতকর্মী অপহরণের পর এক জনের লাশ উদ্ধার করার ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে নিহতের ছোট ভাই আব্দুল জলিল। গতকাল দায়েরকৃত এ মামলায় আওয়ামী লীগের ক্যাডার বশির বাহিনীর প্রধান বশির আহমদ ও তার ভাগিনা ডাকাত নেজাইম্যাসহ ১৮ জনকে আসামী করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
গারাংগিয়ায় জামায়াতের প্রতিবাদ সমাবেশ।
সাতকানিয়ায় আওয়ামী সন্ত্রাসী কর্তৃক ২জন জামায়াত কর্মীকে অপহরণ করে হত্যার প্রতিবাদে ও অবিলম্বে খুনীদের গ্রেফতারের দাবীতে জামায়াতে ইসলামী পারাংগিয়া শাখার উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সমাবেশ মাওলানা ফৌজুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার নায়েবে আমীর মোহাম্মদ ইসহাক। উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন আমীর আবু তাহের, ইউনিয়ন সভাপতি অধ্যাপক আবু তাহের, ইউনিয়ন সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবুল কালাম প্রমুখ। সর্বশেষ ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার সময় ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার উত্তরে ডলু নদীতে ভাসমান অবস্থায় কামালের লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় জনতা থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সাতকানিয়া থানায় নিয়ে আসে।
তিনটি জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। সাতকানিয়া মডেল হাইস্কুল মাঠে প্রথম জানাযা। দ্বিতীয় জানাযা চট্টগ্রাম কাজেম আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং তৃতীয় জানাজা গারাংগিয়া মাদরাসার মাঠে।
৫ সেপ্টেম্বর ২০১১ দৈনিক সংগ্রামের খবর
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় দুই জামায়াতকর্মী অপহরণের পর এক জনের লাশ উদ্ধার করার ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে আবদুল হাকিমের ছোট ভাই আব্দুল জলিল। গতকাল দায়েরকৃত এ মামলায় আওয়ামী লীগের ক্যাডার বশির বাহিনীর প্রধান বশির আহমদ ও তার ভাগিনা ডাকাত নেজাইম্যাসহ ১৮জনকে আসামী করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। সাতকানিয়া উপজেলার দক্ষিণ রূপকানিয়ায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত শহীদ জামায়াত কর্মী আব্দুল হাকিমের জানাযা ৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ ইং তারিখ, সকাল সাড়ে সাতটায় চট্টগ্রাম কলেজ রোডস্থ কাজেম আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত জানাজায় ইমামতি করেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মফিজুর রহমান। জানাজাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার জাতীয় সংসদ সদস্য, চট্টগ্রাম মহানগরীর জামায়াত আমীর মাওলানা মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে ধ্বংস করে এই রাজনৈতিক হত্যাকান্ড করা হয়েছে। এই হত্যাকান্ড রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কর্মীদের হত্যা করে রাজনীতি ধ্বংস করা যায় না। জামায়াত কর্মী শহীদ আব্দুল হাকিমের ২য় নামাজে জানাযা সকাল-সাড়ে নয়টায় সাতকানিয়া হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত জানাজায় ইমামতি করেন মাওলানা আ.ন.ম. শামসুল ইসলাম এমপি। সাতকানিয়া হাইস্কুল মাঠে জানাজাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর আ ন ম শামসুল ইসলাম এমপি, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর অধ্যাপক জাফর সাদেক, বান্দরবান জেলা আমীর মাওলানা আব্দুস সালাম আজাদ, চট্টগ্রাম মহানগর শিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল, জামায়াত নেতা মুহাম্মদ ইসহাক, মাওলানা আবুল ফয়েজ, ডাঃ নুরুল হক, ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম, ডা. আব্দুল জলিল ও কলিম উল্লাহ। সমাবেশে মাওলানা শামসুল ইসলাম এমপি বলেন, জামায়াত কর্মী হাকিমের খুনী কারা তাদের সাতকানিয়ার মানুষ ভাল করেই চিনে।
সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, দুই জন মানুষ অপহরণের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তাদের উদ্ধারের জন্য চেষ্টা করেনি। পরের দিন সকালে একজনের লাশ উদ্ধার সম্ভব হলেও কামালের লাশটি পর্যন্ত এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তিনি খুনী বশির, তার ভাগিনা নেজাইম্যা ডাকাত ও বশির বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা ও অপর জামায়াত কর্মী কামালের লাশ উদ্ধার করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
এক নজরে শহীদ মো: কামাল উদ্দীন
নাম: মোঃ কামাল উদ্দীন
পিতার নাম: মৃত নুরুল ইসলাম
মাতার নাম: মৃত শামসুন নাহার
ঠিকানা: গ্রাম- গারাংগিয়া, ডাকঘর- গারাংগিয়া উপজেলা- সাতকানিয়া, জেলা- চট্টগ্রাম
শাহাদাতের তারিখ ও স্থান: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ ইং পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাশে ডলু নদী থেকে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
যে ঘটনায় শহীদ: অতর্কিতে হামলার পর জবাই করে হত্যা
কাদের দ্বারা আক্রান্ত: আওয়ামী লীগ
পারিবারিক অবস্থা: অস্বচ্ছল
ভাই বোন: দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রথম
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এসএসসি, বারোদুনা উচ্চবিদ্যালয়
জন্ম তারিখ: ০১ সেপ্টেম্বর ১৯৭১
সাংগঠনিক মান: জামায়াত কর্মী
সংগঠনের আসার ইতিহাস: গারাংগিয়া কামিল মাদরাসায় অধ্যায়নকালে ছাত্র সংগঠনের দাওয়াত পান এবং শাহাদাতের পূর্ব পর্যন্ত সংগঠনে সক্রিয় ছিলেন।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍