হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ আবুল বশর
শহীদ আবুল বশর

শহীদ আবুল বশর

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মধ্যম কাঞ্চনার সন্তান শহীদ আবুল বশর ছিলেন নীরব চরিত্রের এক সাহসী কর্মী, যিনি ন্যায়বিচার ও নেতৃত্বের সংকটে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার জন্য পরিচিত ছিলেন। ২০১২–১৩ সালের আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিকূল সময়েও তিনি নির্ভয়ে আদর্শিক অবস্থান ধরে রেখেছিলেন। দীর্ঘদিন মিথ্যা মামলার চাপ সহ্য করে আত্মগোপনে থাকা এই মানুষটিকে ১৫ অক্টোবর ২০১৬ রাতে গ্রেপ্তার করে ভোরের আলো ফুটবার আগেই ছনখোলায় গুলি করে হত্যা করা হয়। তার দুই শিশু পুত্র ও স্ত্রী আজও স্মরণ করেন এক সৎ, নরম-স্বভাব, দায়িত্বশীল পরিবারের অভিভাবককে। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অটল থাকা এই সাধারণ মানুষের ত্যাগ স্থানীয় জনতার হৃদয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে আছে।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ আবুল বশর
চট্টগ্রাম
১৭

শহীদের পরিচিতি
শহীদ আবুল বশর সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত দুদু মিয়ার ছেলে। মাতা মৃত ছালমা বেগম। সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের লতাপীর বাজার এলাকায় বাড়ি। ঠিকানা-বাসা নং ২১০, ওয়ার্ড ৫. মধ্যম কাঞ্চনা, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম। দুই পুত্র সন্তানের জনক শহীদ আবুল বশরের বড় ছেলে বোরহান উদ্দীন বর্তমানে নবম শ্রেণিতে পড়ে, ছোট ছেলে রায়হান উদ্দীন পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। ২০১২-১৩ সালে নেতৃবৃন্দের মুক্তি আন্দোলনের সময় ব্যাপক সাহসী ভূমিকা ছিল তাঁর। শহীদ আবুল বশর ২০১৪ সালে হজ্জব্রত পালন করেন।

যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
১৫ অক্টোবর ২০১৬ তারিখ রাত আনুমানিক ২টার দিকে বাঁশখালীর কালিপুর থেকে আওয়ামী সন্ত্রাসী মানিক ও মাছ সালামের সহায়তায় সাতকানিয়া থানা পুলিশ তাঁকে এরেস্ট করে। ফজরের আগে আগে সাতকানিয়ার ছনখোলা গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা মানিকের বাড়ির পাশে এনে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ।

শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
১৯৯৬ এর আওয়ামী দুঃশাসন বিরোধী আন্দোলনে ভূমিকার কারণে একাধিক রাজনৈতিক মামলার আসামী হন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ বিভিন্ন ঘটনায় নিহত আওয়ামী যুবলীগ নেতা হাফেজ, গোলাম হোসেন, ইউসুফ কাদরী, নুরুল কবির, হাসান, আলমগীর প্রমুখ নিহত হলে প্রত্যেকটি মামলায় জামায়াত কর্মী আবুল বশরকে পরিকল্পিতভাবে জড়ানো হয়। সাতকানিয়া থানায় মোস্ট ওয়ান্টেড ঘোষণা করা হলে আত্মরক্ষার্থে ২০১৪ সাল থেকে তিনি সাতকানিয়া ছেড়ে বাঁশখালি চলে যান।

ঘটনার সমগ্রিক বিবরণ
১৫ অক্টোবর ২০১৬ তারিখ রাত আনুমানিক ২টার দিকে বাঁশখালীর কালিপুর থেকে আওয়ামী সন্ত্রাসী মানিক ও মাছ সালামের সহায়তায় সাতকানিয়া থানা পুলিশ তাঁকে এরেস্ট করে। ফজরের আগে আগে সাতকানিয়ার ছনখোলা গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা মানিকের বাড়ির পাশে এনে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। কাঞ্চনার স্থানীয় লোকজন জানায়, নিহত বশর বহু দিন যাবত এলাকায় ছিলেন না। জামায়াত কর্মী হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের রোষাণলে পড়ে তাকে বহু মামলার আসামী হতে হয়েছে। এ কারণেই বাঁশখালিতে পলাতক ছিলেন তিনি।
১৭ অক্টোবর ২০১৬ বাদ জোহর বায়তুশ শরফ আখতারিয়া আদর্শ ফাজিল মাদরাসা মাঠে তাঁর জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দসহ এলাকার সর্বসাধারণ অংশগ্রহণ করে।

শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের স্ত্রী বুলু আখতার বলেন- ২০০২ সালে আমাদের বিয়ে হয়েছিল। এরপর থেকে তাঁর কোন খারাপ অভ্যাস আমার চোখে পড়েনি। ৫ ভাই ও ৪ বোনের সংসারে শহীদ আবুল বশর ছিলেন সবার ছোট। ভাইয়েরা সকলেই যার যার সংসার নিয়ে আলাদা থাকেন। শহীদের স্ত্রী দুই ছেলে সন্তান নিয়ে আলাদা সংসারে আছেন। তাঁদের বড় ছেলে বোরহান উদ্দীনের বয়স ১৫ বছর। সে বায়তুশ শরফ আখতারিয়া আদর্শ ফাজিল মাদরাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ছে। সাংগঠনিকভাবে সে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী প্রার্থী। তার ভাই রায়হান উদ্দীন দারুল ইহসান একাডেমিতে পড়ছে দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যায়নরত।

গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
তাঁর শাহাদাতের ঘটনায় প্রায় প্রতিটি জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ হয়। ১৭ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে দৈনিক সংগ্রামের সংবাদের শিরোনাম ছিল পুলিশের দাবি বন্দুকযুদ্ধে নিহত, সাতকানিয়ায় জামায়াত কর্মীকে গুলী করে হত্যা।
সাতকানিয়ার স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দাবি, আবুল বশর জামায়াতের একজন কর্মী ছিলেন। দীর্ঘদিন থেকে তিনি এলাকায় ছিলেন না।
আরটিভি অনলাইন ১৬ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে '২৫ মামলার আসামী বন্দুকযুদ্ধে নিহত' শিরোনামে নিম্মোক্ত সংবাদ প্রচার করে- চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন জামায়াত কর্মী আবুল বশর। তার বিরুদ্ধে সাতটি হত্যাসহ ২৫টি মামলা রয়েছে। ১৫ অক্টোবর ২০১৬ শনিবার রাতে ছনখোলায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের দুদু মিয়ার ছেলে।
সাতকানিয়ার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, বশর গেলো বছর (২০১৫) জামায়াতের বিভিন্ন নাশকতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন থেকে পলাতক ছিলেন।
স্থানীয় জামায়াত নেতা আবুল ফয়েজের দাবি, আবুল বশর তাদের দলীয় কর্মী ছিলেন। গেলো রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে ছনখোলায় গুলি করে হত্যা করেছে। জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের কোনো ধরনের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি।

এক নজরে শহীদ আবুল বশর
নাম: আবুল বশর
পিতা: মৃত দুদু মিয়া
মাতা: মৃত ছালমা বেগম
স্ত্রীর নাম: বুলু আখতার, বয়স: ৩৫ বছর, স্ত্রীর পেশা। গৃহিণী
স্থায়ী ঠিকানা: বাসা নং- ২১০, ওয়ার্ড- ৫, মধ্যম কাঞ্চনা, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।
সাংগঠনিক মান: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী
শহীদ হওয়ার স্থান: ছনখোলা আওয়ামী লীগ নেতা মানিকের বাড়ির পাশে
আঘাতের ধরন: গুলি
যাদের আঘাতে শহীদ: পুলিশ
শাহাদাতের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০১৬

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍