শহীদ আহমদ ছাফা
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
সাতকানিয়ার পশ্চিম ঢেমশার নিবেদিতপ্রাণ কর্মী শহীদ আহমদ ছাফা ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের প্রতি শৈশব থেকেই অটল এক বিশ্বাসী, যিনি পরে ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি হিসেবে মানুষের আস্থার কেন্দ্র হয়ে ওঠেন। মটর পার্টস ব্যবসার পাশাপাশি তিনি সাংগঠনিক দায়িত্বে সততা, ধৈর্য ও আদর্শের দৃঢ়তা দিয়ে পরিচিতি অর্জন করেন। ছাত্রশিবিরের দিনগুলো থেকেই শহীদ বন্ধুদের স্মৃতি ও ত্যাগ তাঁকে আন্দোলনের পথে আরও স্থির করে তোলে। ২০১৭ সালের মে মাসে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের মধ্যেই তাঁর অসুস্থতা বাড়তে থাকে, এবং ৩১ মে চট্টগ্রাম মেডিকেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যু রামপুরের মানুষকে শোকে স্তব্ধ করে, আর তাঁর জীবন থেকে রেখে যায় নিষ্ঠা, ত্যাগ ও নীরব নেতৃত্বের এক গভীর স্মৃতিচিহ্ন।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ আহমদ ছাফা
চট্টগ্রাম
১৮
শহীদের পরিচিতি
শহীদ আহমদ ছাফা সাতকানিয়া উপজেলার পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নের জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের সভাপতি। তিনি তৎকালীন মাদার্শা বর্তমান পশ্চিম ঢেমশা রামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৃত হাজী এজাহার মিয়া, মাতা নসুমা খাতুন। দুই ভাই দুই বোনের মাঝে তিনি সবার ছোট। স্ত্রী উম্মে কুলসুম কলিসহ তার সংসারে রয়েছে এক মেয়ে এক ছেলে। পেশাগত দিক থেকে তিনি মটর পার্টসের ব্যবসা করতেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
৩১ মে ২০১৭ তারিখে পুলিশ রিমান্ডে থাকা অবস্থায় সাতকানিয়া থানায় ৪২ বছর বয়সে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
বাল্যকাল থেকেই ইসলামী আন্দোলনের সাথে গভীর সম্পক তৈরি করেন শহীদ আহমদ ছাফা। ছাত্রাবস্থায় তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাতকানিয়া সরকারী কলেজ শাখার সেক্রটারির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৩ সালে এসএসসি এবং সাতকানিয়া কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেন। সাতকানিয়া উপজেলা সদরের ৪ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে ডলুনদীর তীর ঘেষে ঐতিহ্যবাহী রামপুর গ্রাম। এই গ্রামের মানুষ খুবই সহজ সরল। খুবই দ্বীনদার। অধিকাংশই ইসলামী আন্দোলনকে মনে প্রাণে ভালোবাসে। জন্ম লাভ করেছে ইকামতে দ্বীনের জন্য অনেক সিপাহ সালার। এই গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতে রয়েছে দ্বীনের জন্য নিবেদিত কর্মী। আল্লাহর রহমতে গ্রামের পবিত্র মাটিতে শায়িত আছেন শহীদ আহমদ ছাফার প্রিয় বন্ধু ও সহপাঠী শহীদ আনোয়ার হোসেন। ১৯৯৫ সালের ২৩ অক্টোবর সাতকানিয়া সরকারী কলেজে ছাত্রদলের হাতে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্যপ্রার্থী শহীদ আনোয়ার হোসেন। শহীদ আহমদ ছাফা শহীদ আনোয়ার হোসেনের সাথে একসাথে পড়ালেখা ও সংগঠন করতেন। আনোয়ার হোসেনের শাহাদাৎ বার্ষিকীতে প্রতিবছর শহীদ আহমদ ছাফা স্মৃতিচারণ করতেন। গর্ব করে বলতেন- "আমি দ্বীনের জন্য নিবেদিত একজন শহীদের বন্ধু ছিলাম।" প্রিয় বন্ধুর শহীদি মিছিলে শামিল হয়ে শহীদ আহমদ ছাফা রামপুর মাটি ও মানুষকে ধন্য করলেন। এই রামপুরে শায়িত আছেন ছাত্রশিবিরের শহীদ বোরহান উদ্দিন। ১৯৮৯ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের হাতে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন তিনি। এইভাবে তিনজন শহীদের পবিত্র ভূমি রামপুর গ্রাম। এই গ্রামের আধা-কিলোমিটর পশ্চিমে শায়িত আছেন শহীদ সালাহউদ্দিন, জামায়াতে ইসলামীর কর্মী শহীদ আকবর হোসেন। এক কিলোমিটার দক্ষিণে গাটিয়াডেঙ্গায় শায়িত আছেন শ্রমিক কল্যাণের কর্মী শহীদ মোনায়েম মুন্না।
ঘটনার সামগ্রীক বিবরণ
শহীদের কারাসঙ্গী তারেক হোসেন লিখেছেন- ২৪ মে ২০১৭ বুধবার। ৫ দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত থাকার পর একটু সুস্থ হয়েছেন আহমদ হাফা। পুত্র আবদুল গোফরান মাহমুদ ও কন্যা সুমাইয়া তাকির সাথে সাথে সকালের নাস্তা সেরে কর্মক্ষেত্রের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন তিনি। পেশাগত কাজের পাশাপাশি রুটিন মাফিক নিয়মিত সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতেন। সেদিন ছট্টগ্রাম শহরে অবস্থানরত উপজেলা সংগঠনের উদ্দ্যেগে বাছাইকৃত কর্মীদের নিয়মিত পাঠচক্র ছিল। এক সপ্তাহ আগেই পাঠচক্রের দাওয়াত দেয়া হয়েছে। তাই অসুস্থতার মাঝেও পাঠচক্রে আসতে উদগ্রীব ছিলেন। যথাসময়ে বাদে মাগরিব দ্বারওয়ার ভাইয়ের বাসায় উপস্থিত হয়েছেন ছাফা ভাই। মেহমান ছিলেন মুহতারাম থানা আমীর মাওলানা আবুল ফয়েজ ভাই। পাঠচক্রের নির্ধারিত বিষয়ে ছাফা ভাই প্রাণবন্ত আলোচনা করেন। রাত ৮টায় প্রোগ্রাম শেষ হয়। পরবর্তী প্রোগ্রাম রমজান মাসে, আহমদ ছাফা প্রোগ্রামটি তার বাসায় আয়োজনের প্রস্তাব করেন এবং সকলকে ইফতারের দাওয়াত দেন।
হঠাৎ প্রোগ্রাম শেষে সরকারের পেটুয়া বাহিনী ডিবি পুলিশ ৫ তলা বাসার চারদিকে ঘিরে ফেলে এবং সকলের অনুরোধে সরওয়ার ভাইয়ের বড় ছেলে এসএসসি পরিক্ষার্থীকে ছেড়ে দিয়ে উপস্থিত সকলকে গ্রেফতার করে লালদিঘী ডিবি অফিসে নিয়ে যায়। আহমদ ছাফার দুই বন্ধু রাত ৯টার দিকে তার সাথে দেখা করেন। পারিবারিক, ব্যবসায়িক, মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে দুই বন্ধুর সাথে আলোচনা করেন। ডিবি থেকে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইলটি নিয়ে বন্ধুকে দিয়ে দেন ছাফা ভাই। রাত ১টার দিকে সবাইকে ডিবি অফিস থেকে কোতেয়ালি থানায় নিয়ে যায়। পরদিন সকাল ১১টার দিকে আবার ডিবি অফিসে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে পারিবারিক তথ্য, ছবি তোলাসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল ৫টার দিকে নতুন মামলায় আসামী করে গ্রেফতারকৃত সকলকে আদালতে নিয়ে যায়।
পরদিন বৃহস্পতিবার রাতেই আদালত থেকে কারাগারে নেয়া হয়। এরপর রবিবার রিমান্ড শুনানিতে আবার কোর্টে আনা হয়। এবং ম্যাজিস্ট্রেট একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড মঞ্জুরের পর থেকে একটু বিচলিত দেখা যায় আহমদ ছাফাকে।
তারেক হোসাইন আরো বলেন- "ছাফা ভাই সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার দুপুর পর্যন্ত কুরআন-হাদীস এবং
ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়নে খুবই ব্যস্ত থাকেন। কুরআনের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অজনে খুবই আগ্রহী দেখতাম। প্রতিদিন সকালে নামাজ পড়ে নিয়মিত কুরআন অধ্যয়ন করতেন। মাঝে, মাঝে কুরআন হাদীসের বিভিন্ন বিষয়ে নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করতেন। ইবাদত, বন্দেগী, দ্বীনি ইলম অর্জনে ব্যস্ত থাকতেন। বুধবার বিকেল ৪ টায় রিমান্ডে যেতে ডাক আসে। সাথে সাথে সবাই ৪ রাকাত নফল নামাজ আদায় করি। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সবাইকে ডান্ডাবেড়ি পরার জন্য কারারক্ষীকে নিদেশ দেন। ছাফা ভাই আগে থেকে বিচলিত ও অসুস্থ ছিল। থানা আমির ফয়েজ ভাই বয়স্ক এবং অসুস্থ। তাই থানা আমির এবং ছাফা ভাইকে ডাগাবেড়ি না পরানোর জন্য আমরা অনুরোধ করি। কিন্তু আমাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে দুই জনসহ ৬ জনকেই ডাণ্ডাবেড়ি পরানো হয়। তখন ছাফা ভাই আরো অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সারা শরীর খুব ঘেমে যায়। এই অবস্থায় আমরা আসর নামাজ পড়ে কারা ফটকে প্রবেশ করি। সেখানে ফ্লোরে বসে যান তিনি। আমরা মনে করি সামান্য অসুখ, ইফতার করে ঔষুধ সেবন করলে আল্লাহর রহমতে ভাল হয়ে যাবেন। বিকেল ৫:৩০ টায় ডিবি অফিসে পৌঁছি। অসুস্থায় তিনি আরো বেশি ছটফট করেন। দোয়া, দরুদ পড়তে থাকেন। একটু দাড়ান আবার বসে পড়েন। আমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়েন কিছুক্ষণ। আমাদের একজন ভাই তাকে বললেন, আপনি হতাশ হচ্ছেন কেন? তিনি সাথে সাথে মৃদু প্রতিবাদে শক্ত করে বললেন, 'আমি এগুলোকে ভয় পাই না, ঈমানের সাথে কিভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয় তা আমি জানি। আমি মানসিকভাবে খুব শক্ত। কিন্তু আমি সত্যিকার অর্থেই খুব অসুস্থতা অনুভব করছি'। থানা আমিরকে বললেন আমার খুব খারাপ লাগছে। আমি এখন কি করব? আমির সাহেব রোজা ভাংতে বললেন।
এ অবস্থায় আমরা ডিউটি অফিসারকে ডেকে ডিউটি অফিসারের রুমে তাকে পাঠালাম। আমরা ভাবলাম তাকে খুব দ্রুত মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হবে। না। ইফতারের পূর্ব মুহুর্তে তিনি আবার আমাদের রুমে চলে আসলেন। সবার সাথে ইফতার করলেন। সব কিছু অল্প অল্প খেলেন। নামাজের জন্য দাঁড়ালেন। একটু পায়চারি করলেন। হঠাৎ দেখি বমি বমি ভাব। সাথে সাথে দরজার পাশে আল্লাহু আকবর বলে পড়ে গেলেন।"
শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদ আহমদ ছাফার ভাতিজি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন- আমার আব্বু বিদেশ থাকতেন। আমরা উনাকেই। আব্বু ডাকতাম। প্রতি সপ্তাহে আসার সময় তিনি আমাদের জন্য নানান কিছু নিয়ে আসতেন।
শহীদের ভাবী আরফা বেগম বলেন- আমাদের বিয়ের সময় তাঁর বয়স ছিল ২ বছর। ছোটবেলা থেকে তাকে সন্তানের মতো আদর যত্নে মানুষ করেছি। সেও আমাকে মায়ের মতো সম্মান করতো। এলাকার মানুষের বিপদ আপদে সহযোগিতা করতো।
জানাযা ও দাফন
বুধবার রাতেই ডিবি হেফাজতে আকস্মিকভাবে আহমদ ছাফার শাহাদাতের সংবাদ দ্রুতই গ্রাম, শহর, দেশে বিদেশের সবখানে ছড়িয়ে পড়ে। এ খবরে আত্মীয় স্বজন পরিবার ও সংগঠনের সকল জনশক্তি হতবাক ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। অসহায় নিরপরাধ নিরহংকার খুব সাদাসিধে সহজ সরল মানুষ ছাফাকে এভাবে হারিয়ে সবাই খুবই বিমর্ষ হয়ে যায়। পরদিন শুক্রবার পোস্টমর্টেম শেষ করে পুলিশ প্রহরায় শহীদের কফিন গ্রামের দিকে নিয়ে যায়। শহরে অগণিত শহীদের সাথী স্বজনরা জানাযা পড়ার আগ্রহ করলেও নির্দয় প্রশাসন সে সুযোগ দেয়নি। শহীদের কফিন আসর নামাজের পর নিজ গ্রামে পৌঁছার পূর্বেই সাতকানিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হাজার হাজার শোকাহত জনতা জানাযা স্থলে উপস্থিত হয়। শোকাহত গ্রামবাসীর কান্নার আর্তনাদে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। জানাযার পূর্বে রামপুর বায়তুশ শরফ মাদরাসা মাঠে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর জনাব জাফর সাদেক, নায়েবে আমীর মুহাম্মদ ইছহাক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রামপুর গ্রামের কৃতি সন্তান মাওলানা নেজাম উদ্দীন, সাতকানিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রামপুরের কৃতি সন্তান জসিম উদ্দীন। জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
১ জুন ২০১৭ সময়ের কণ্ঠস্বর "ডিবি পুলিশ হেফাজতে 'আহমদ ছাফা' নামে জামায়াত নেতার মৃত্যুর। অভিযোগ" শিরোনামে নিম্নোক্ত খবর প্রকাশ করে- চট্টগ্রামে ডিবি পুলিশ হেফাজতে আহমদ ছাফা নামে এক জামায়াত নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, সাতকানিয়ার রামপুর এলাকার পশ্চিম ঢেমশার মৃত এজাহার মিয়ার পুত্র। আহমদ ছাফা ২ মেয়ে ১ ছেলের বাবা ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাছের একজন আত্মীয় জানান- পুলিশের হেফাজতে ছাফার মৃত্যু হয়েছে। লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। কিন্তু পুলিশ লাশ দিচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নিহতের পরিবার ও জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে- রিমান্ডে আহমদ ছাফার মৃত্যু হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) সালেহ মো. তানভীর বলেন, আহমদ ছাফা ডায়াবেটিস ও যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এ সব রোগে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
আহমদ ছাফা সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ছিলেন। নগরীর শেখ মুজিব রোডে 'ছাপা মোটরস' নামে তার একটি মোটর পার্টসের দোকান রয়েছে। তিনি সাতকানিয়ার রামপুর এলাকার পশ্চিম ঢেমশার মৃত এজাহার মিয়ার ছেলে।
উল্লেখ্য-গত ২৪ মে রাতে মহানগরীর চকবাজার এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর আবুল ফয়েজ এবং আহমদ ছাফাসহ ৬জন নেতাকর্মী আটক করেছিল নগর গোয়েন্দা পুলিশ।
পরে চকবাজার থানার একটি নাশকতার মামলায় আহমদ ছাফাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের রিমান্ড নেয় ডিবি। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে কারাগার থেকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চমেক হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানায় ডিবি পুলিশ।
এক নজরে শহীদ আহমদ ছাফা
নাম: আহমদ ছাফা
পিতার নাম: মৃত হাজী এজাহার মিয়া
মাতার নাম: নসুমা খাতুন (১০০), মাতার পেশা: বয়স জনিত কারণে অক্ষম
ভাইবোন: ২ ভাই ২ বোন (সবার ছোট)
স্ত্রী: উম্মে কুলসুম কলি, পেশা: গৃহিণী
স্থায়ী ঠিকানা: পশ্চিম ঢেমশা, রামপুর, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।
জন্ম তারিখ: ২৬ জুলাই ১৯৭৫
দায়িত্ব: বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী, ইউনিয়ন সভাপতি পশ্চিম ঢেমশা, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।
সর্বশেষ লেখাপড়া: ডিগ্রি পাস
সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: সাতকানিয়া সরকারি কলেজ
শাহাদাতের তারিখ: ৩১ মে ২০১৭, রাত আনুমানিক ৭.৪৫ টায়
শাহাদাতের স্থান: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ
চট্টগ্রাম
১৮
শহীদের পরিচিতি
শহীদ আহমদ ছাফা সাতকানিয়া উপজেলার পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নের জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের সভাপতি। তিনি তৎকালীন মাদার্শা বর্তমান পশ্চিম ঢেমশা রামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৃত হাজী এজাহার মিয়া, মাতা নসুমা খাতুন। দুই ভাই দুই বোনের মাঝে তিনি সবার ছোট। স্ত্রী উম্মে কুলসুম কলিসহ তার সংসারে রয়েছে এক মেয়ে এক ছেলে। পেশাগত দিক থেকে তিনি মটর পার্টসের ব্যবসা করতেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
৩১ মে ২০১৭ তারিখে পুলিশ রিমান্ডে থাকা অবস্থায় সাতকানিয়া থানায় ৪২ বছর বয়সে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
বাল্যকাল থেকেই ইসলামী আন্দোলনের সাথে গভীর সম্পক তৈরি করেন শহীদ আহমদ ছাফা। ছাত্রাবস্থায় তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাতকানিয়া সরকারী কলেজ শাখার সেক্রটারির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৩ সালে এসএসসি এবং সাতকানিয়া কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেন। সাতকানিয়া উপজেলা সদরের ৪ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে ডলুনদীর তীর ঘেষে ঐতিহ্যবাহী রামপুর গ্রাম। এই গ্রামের মানুষ খুবই সহজ সরল। খুবই দ্বীনদার। অধিকাংশই ইসলামী আন্দোলনকে মনে প্রাণে ভালোবাসে। জন্ম লাভ করেছে ইকামতে দ্বীনের জন্য অনেক সিপাহ সালার। এই গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতে রয়েছে দ্বীনের জন্য নিবেদিত কর্মী। আল্লাহর রহমতে গ্রামের পবিত্র মাটিতে শায়িত আছেন শহীদ আহমদ ছাফার প্রিয় বন্ধু ও সহপাঠী শহীদ আনোয়ার হোসেন। ১৯৯৫ সালের ২৩ অক্টোবর সাতকানিয়া সরকারী কলেজে ছাত্রদলের হাতে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্যপ্রার্থী শহীদ আনোয়ার হোসেন। শহীদ আহমদ ছাফা শহীদ আনোয়ার হোসেনের সাথে একসাথে পড়ালেখা ও সংগঠন করতেন। আনোয়ার হোসেনের শাহাদাৎ বার্ষিকীতে প্রতিবছর শহীদ আহমদ ছাফা স্মৃতিচারণ করতেন। গর্ব করে বলতেন- "আমি দ্বীনের জন্য নিবেদিত একজন শহীদের বন্ধু ছিলাম।" প্রিয় বন্ধুর শহীদি মিছিলে শামিল হয়ে শহীদ আহমদ ছাফা রামপুর মাটি ও মানুষকে ধন্য করলেন। এই রামপুরে শায়িত আছেন ছাত্রশিবিরের শহীদ বোরহান উদ্দিন। ১৯৮৯ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের হাতে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন তিনি। এইভাবে তিনজন শহীদের পবিত্র ভূমি রামপুর গ্রাম। এই গ্রামের আধা-কিলোমিটর পশ্চিমে শায়িত আছেন শহীদ সালাহউদ্দিন, জামায়াতে ইসলামীর কর্মী শহীদ আকবর হোসেন। এক কিলোমিটার দক্ষিণে গাটিয়াডেঙ্গায় শায়িত আছেন শ্রমিক কল্যাণের কর্মী শহীদ মোনায়েম মুন্না।
ঘটনার সামগ্রীক বিবরণ
শহীদের কারাসঙ্গী তারেক হোসেন লিখেছেন- ২৪ মে ২০১৭ বুধবার। ৫ দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত থাকার পর একটু সুস্থ হয়েছেন আহমদ হাফা। পুত্র আবদুল গোফরান মাহমুদ ও কন্যা সুমাইয়া তাকির সাথে সাথে সকালের নাস্তা সেরে কর্মক্ষেত্রের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন তিনি। পেশাগত কাজের পাশাপাশি রুটিন মাফিক নিয়মিত সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতেন। সেদিন ছট্টগ্রাম শহরে অবস্থানরত উপজেলা সংগঠনের উদ্দ্যেগে বাছাইকৃত কর্মীদের নিয়মিত পাঠচক্র ছিল। এক সপ্তাহ আগেই পাঠচক্রের দাওয়াত দেয়া হয়েছে। তাই অসুস্থতার মাঝেও পাঠচক্রে আসতে উদগ্রীব ছিলেন। যথাসময়ে বাদে মাগরিব দ্বারওয়ার ভাইয়ের বাসায় উপস্থিত হয়েছেন ছাফা ভাই। মেহমান ছিলেন মুহতারাম থানা আমীর মাওলানা আবুল ফয়েজ ভাই। পাঠচক্রের নির্ধারিত বিষয়ে ছাফা ভাই প্রাণবন্ত আলোচনা করেন। রাত ৮টায় প্রোগ্রাম শেষ হয়। পরবর্তী প্রোগ্রাম রমজান মাসে, আহমদ ছাফা প্রোগ্রামটি তার বাসায় আয়োজনের প্রস্তাব করেন এবং সকলকে ইফতারের দাওয়াত দেন।
হঠাৎ প্রোগ্রাম শেষে সরকারের পেটুয়া বাহিনী ডিবি পুলিশ ৫ তলা বাসার চারদিকে ঘিরে ফেলে এবং সকলের অনুরোধে সরওয়ার ভাইয়ের বড় ছেলে এসএসসি পরিক্ষার্থীকে ছেড়ে দিয়ে উপস্থিত সকলকে গ্রেফতার করে লালদিঘী ডিবি অফিসে নিয়ে যায়। আহমদ ছাফার দুই বন্ধু রাত ৯টার দিকে তার সাথে দেখা করেন। পারিবারিক, ব্যবসায়িক, মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে দুই বন্ধুর সাথে আলোচনা করেন। ডিবি থেকে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইলটি নিয়ে বন্ধুকে দিয়ে দেন ছাফা ভাই। রাত ১টার দিকে সবাইকে ডিবি অফিস থেকে কোতেয়ালি থানায় নিয়ে যায়। পরদিন সকাল ১১টার দিকে আবার ডিবি অফিসে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে পারিবারিক তথ্য, ছবি তোলাসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল ৫টার দিকে নতুন মামলায় আসামী করে গ্রেফতারকৃত সকলকে আদালতে নিয়ে যায়।
পরদিন বৃহস্পতিবার রাতেই আদালত থেকে কারাগারে নেয়া হয়। এরপর রবিবার রিমান্ড শুনানিতে আবার কোর্টে আনা হয়। এবং ম্যাজিস্ট্রেট একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড মঞ্জুরের পর থেকে একটু বিচলিত দেখা যায় আহমদ ছাফাকে।
তারেক হোসাইন আরো বলেন- "ছাফা ভাই সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার দুপুর পর্যন্ত কুরআন-হাদীস এবং
ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়নে খুবই ব্যস্ত থাকেন। কুরআনের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অজনে খুবই আগ্রহী দেখতাম। প্রতিদিন সকালে নামাজ পড়ে নিয়মিত কুরআন অধ্যয়ন করতেন। মাঝে, মাঝে কুরআন হাদীসের বিভিন্ন বিষয়ে নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করতেন। ইবাদত, বন্দেগী, দ্বীনি ইলম অর্জনে ব্যস্ত থাকতেন। বুধবার বিকেল ৪ টায় রিমান্ডে যেতে ডাক আসে। সাথে সাথে সবাই ৪ রাকাত নফল নামাজ আদায় করি। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সবাইকে ডান্ডাবেড়ি পরার জন্য কারারক্ষীকে নিদেশ দেন। ছাফা ভাই আগে থেকে বিচলিত ও অসুস্থ ছিল। থানা আমির ফয়েজ ভাই বয়স্ক এবং অসুস্থ। তাই থানা আমির এবং ছাফা ভাইকে ডাগাবেড়ি না পরানোর জন্য আমরা অনুরোধ করি। কিন্তু আমাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে দুই জনসহ ৬ জনকেই ডাণ্ডাবেড়ি পরানো হয়। তখন ছাফা ভাই আরো অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সারা শরীর খুব ঘেমে যায়। এই অবস্থায় আমরা আসর নামাজ পড়ে কারা ফটকে প্রবেশ করি। সেখানে ফ্লোরে বসে যান তিনি। আমরা মনে করি সামান্য অসুখ, ইফতার করে ঔষুধ সেবন করলে আল্লাহর রহমতে ভাল হয়ে যাবেন। বিকেল ৫:৩০ টায় ডিবি অফিসে পৌঁছি। অসুস্থায় তিনি আরো বেশি ছটফট করেন। দোয়া, দরুদ পড়তে থাকেন। একটু দাড়ান আবার বসে পড়েন। আমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়েন কিছুক্ষণ। আমাদের একজন ভাই তাকে বললেন, আপনি হতাশ হচ্ছেন কেন? তিনি সাথে সাথে মৃদু প্রতিবাদে শক্ত করে বললেন, 'আমি এগুলোকে ভয় পাই না, ঈমানের সাথে কিভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয় তা আমি জানি। আমি মানসিকভাবে খুব শক্ত। কিন্তু আমি সত্যিকার অর্থেই খুব অসুস্থতা অনুভব করছি'। থানা আমিরকে বললেন আমার খুব খারাপ লাগছে। আমি এখন কি করব? আমির সাহেব রোজা ভাংতে বললেন।
এ অবস্থায় আমরা ডিউটি অফিসারকে ডেকে ডিউটি অফিসারের রুমে তাকে পাঠালাম। আমরা ভাবলাম তাকে খুব দ্রুত মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হবে। না। ইফতারের পূর্ব মুহুর্তে তিনি আবার আমাদের রুমে চলে আসলেন। সবার সাথে ইফতার করলেন। সব কিছু অল্প অল্প খেলেন। নামাজের জন্য দাঁড়ালেন। একটু পায়চারি করলেন। হঠাৎ দেখি বমি বমি ভাব। সাথে সাথে দরজার পাশে আল্লাহু আকবর বলে পড়ে গেলেন।"
শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদ আহমদ ছাফার ভাতিজি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন- আমার আব্বু বিদেশ থাকতেন। আমরা উনাকেই। আব্বু ডাকতাম। প্রতি সপ্তাহে আসার সময় তিনি আমাদের জন্য নানান কিছু নিয়ে আসতেন।
শহীদের ভাবী আরফা বেগম বলেন- আমাদের বিয়ের সময় তাঁর বয়স ছিল ২ বছর। ছোটবেলা থেকে তাকে সন্তানের মতো আদর যত্নে মানুষ করেছি। সেও আমাকে মায়ের মতো সম্মান করতো। এলাকার মানুষের বিপদ আপদে সহযোগিতা করতো।
জানাযা ও দাফন
বুধবার রাতেই ডিবি হেফাজতে আকস্মিকভাবে আহমদ ছাফার শাহাদাতের সংবাদ দ্রুতই গ্রাম, শহর, দেশে বিদেশের সবখানে ছড়িয়ে পড়ে। এ খবরে আত্মীয় স্বজন পরিবার ও সংগঠনের সকল জনশক্তি হতবাক ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। অসহায় নিরপরাধ নিরহংকার খুব সাদাসিধে সহজ সরল মানুষ ছাফাকে এভাবে হারিয়ে সবাই খুবই বিমর্ষ হয়ে যায়। পরদিন শুক্রবার পোস্টমর্টেম শেষ করে পুলিশ প্রহরায় শহীদের কফিন গ্রামের দিকে নিয়ে যায়। শহরে অগণিত শহীদের সাথী স্বজনরা জানাযা পড়ার আগ্রহ করলেও নির্দয় প্রশাসন সে সুযোগ দেয়নি। শহীদের কফিন আসর নামাজের পর নিজ গ্রামে পৌঁছার পূর্বেই সাতকানিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হাজার হাজার শোকাহত জনতা জানাযা স্থলে উপস্থিত হয়। শোকাহত গ্রামবাসীর কান্নার আর্তনাদে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। জানাযার পূর্বে রামপুর বায়তুশ শরফ মাদরাসা মাঠে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর জনাব জাফর সাদেক, নায়েবে আমীর মুহাম্মদ ইছহাক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রামপুর গ্রামের কৃতি সন্তান মাওলানা নেজাম উদ্দীন, সাতকানিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রামপুরের কৃতি সন্তান জসিম উদ্দীন। জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
১ জুন ২০১৭ সময়ের কণ্ঠস্বর "ডিবি পুলিশ হেফাজতে 'আহমদ ছাফা' নামে জামায়াত নেতার মৃত্যুর। অভিযোগ" শিরোনামে নিম্নোক্ত খবর প্রকাশ করে- চট্টগ্রামে ডিবি পুলিশ হেফাজতে আহমদ ছাফা নামে এক জামায়াত নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, সাতকানিয়ার রামপুর এলাকার পশ্চিম ঢেমশার মৃত এজাহার মিয়ার পুত্র। আহমদ ছাফা ২ মেয়ে ১ ছেলের বাবা ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাছের একজন আত্মীয় জানান- পুলিশের হেফাজতে ছাফার মৃত্যু হয়েছে। লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। কিন্তু পুলিশ লাশ দিচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নিহতের পরিবার ও জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে- রিমান্ডে আহমদ ছাফার মৃত্যু হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) সালেহ মো. তানভীর বলেন, আহমদ ছাফা ডায়াবেটিস ও যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এ সব রোগে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
আহমদ ছাফা সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ছিলেন। নগরীর শেখ মুজিব রোডে 'ছাপা মোটরস' নামে তার একটি মোটর পার্টসের দোকান রয়েছে। তিনি সাতকানিয়ার রামপুর এলাকার পশ্চিম ঢেমশার মৃত এজাহার মিয়ার ছেলে।
উল্লেখ্য-গত ২৪ মে রাতে মহানগরীর চকবাজার এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর আবুল ফয়েজ এবং আহমদ ছাফাসহ ৬জন নেতাকর্মী আটক করেছিল নগর গোয়েন্দা পুলিশ।
পরে চকবাজার থানার একটি নাশকতার মামলায় আহমদ ছাফাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের রিমান্ড নেয় ডিবি। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে কারাগার থেকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চমেক হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানায় ডিবি পুলিশ।
এক নজরে শহীদ আহমদ ছাফা
নাম: আহমদ ছাফা
পিতার নাম: মৃত হাজী এজাহার মিয়া
মাতার নাম: নসুমা খাতুন (১০০), মাতার পেশা: বয়স জনিত কারণে অক্ষম
ভাইবোন: ২ ভাই ২ বোন (সবার ছোট)
স্ত্রী: উম্মে কুলসুম কলি, পেশা: গৃহিণী
স্থায়ী ঠিকানা: পশ্চিম ঢেমশা, রামপুর, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।
জন্ম তারিখ: ২৬ জুলাই ১৯৭৫
দায়িত্ব: বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী, ইউনিয়ন সভাপতি পশ্চিম ঢেমশা, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।
সর্বশেষ লেখাপড়া: ডিগ্রি পাস
সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: সাতকানিয়া সরকারি কলেজ
শাহাদাতের তারিখ: ৩১ মে ২০১৭, রাত আনুমানিক ৭.৪৫ টায়
শাহাদাতের স্থান: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍