শহীদ আমিনুল ইসলাম আমিন
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জন্ম নেওয়া শহীদ আমিনুল ইসলাম আমিন ছিলেন একনিষ্ঠ দাওয়াতী কর্মী, ব্যবসায়ী নেতা এবং বাড়োকুণ্ড ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি। ছাত্রজীবন থেকে নেতৃত্বে অভ্যস্ত এই মানুষটি ইসলামী আন্দোলন, সামাজিক প্রভাব ও সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতায় এলাকায় আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন। স্থানীয় জনতার ভালোবাসা ও রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা তাঁকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর পরিবারের সামনে সাদা পোশাকধারীদের হাতে অপহৃত হয়ে তিন দিনের নির্যাতন শেষে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ পাওয়া যায় মহাসড়কের পন্থছিলা কসাইখানার পাশে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অটল অবস্থান ও সাহসিকতার জন্য আমিনুল আজও সীতাকুণ্ডের মানুষের স্মৃতিতে অমলিন এক শহীদ-নেতা।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ আমিনুল ইসলাম আমিন
চট্টগ্রাম
১৯
শহীদের পরিচিতি
শহীদ আমিনুল ইসলাম আমিন ১৯৭৯ সালের ১ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার মান্দারীটোলায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৃত সাহাবুল ইসলাম ও মাতা আসুরা খাতুন। পাঁচ ভাই এক বোনের মধ্যে আমিনুল ইসলাম আমিন দ্বিতীয়। স্ত্রী আয়োশা আক্তার সীমা ছাড়াও তাঁর সংসারে রয়েছে শাফায়াত আমিন নামের সাত বছর বয়সী একটি মেয়ে। সাংগঠনিকভাবে তিনি ছিলেন বাড়োকুণ্ড ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ও রুকনপ্রার্থী। সীতাকুণ্ড আলীয়া মাদরাসা থেকে তিনি কামিল পাশ করেন। ১৯৯৬ সালে সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেন। তিনি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছিলেন এবং চিটাগাং চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ছিলেন। ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী ছিলেন এবং কলেজের সহ সভাপতি ছিলেন।
সাবেক শিবির নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর স্থানীয় নেতা। সীতাকুণ্ডের একনিষ্ঠ এই জামায়াত নেতা চল্লিশ বছর বয়সে শাহাদাত বরণ করেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে আসার সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় যাত্রাবিরতি কালে হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে থেকে সাদা পোশাকধারী ১২-১৫ জন সশস্ত্র লোক নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে জোর করে মাইক্রোতে তুলে নেয়। ২০ নভেম্বর ২০১৩ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পন্থিছিলা কষাইখানার পাশে তার লাশ পাওয়া যায়।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শহীদ অমিনুল ইসলাম ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিত প্রাণ। এলাকায় তার খুব জনপ্রিয়তা ছিল। তিনি ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ছিলেন। আওয়ামী জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদ মিছিলে প্রায় সময় নেতৃত্ব দিতেন এবং মিছিলের সামনে থাকতেন।
ঘটনার সামগ্রীক বিবরণ
১৭ নভেম্বর ২০১৩ ঢাকা (শশুর বাড়ি) হতে স্ত্রী আয়েশা আক্তার সীমা ও শিশু কন্যাসহ সীতাকুণ্ড নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে মালিবাগ থেকে সোহাগ পরিবহনের একটি গাড়িতে উঠেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম সদরে যাত্রাবিরতিকালে তিনি হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে নাস্তা করতে বসেন, এই সময় সাদা পোশাকধারী ১২-১৫ জন সশস্ত্র লোক নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে এবং তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ আছে বলে শহীদ আমিনুলকে জোর করে একটি সাদা মাইক্রোতে তুলে নেয়। এরপর থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করেও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরবর্তিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে তার সন্ধানে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয় প্রশাসনকে।
২০ নভেম্বর ২০১৩ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পন্থিছিলা কষাইখানার পাশে তার লাশ পাওয়া যায়। তার ছোট ভাই বেলাল উদ্দিন ঘঠনাস্থলে এসে শহীদ আমিনুল এর লাশ সনাক্ত করেন। তার মাথা ও পিঠে ৪টি গুলির চিহ্ন পাওয়া যায় এবং গামছ দিয়ে তার মুখ বাধা ছিল।
শহীদের আপন জনদের কথা
তার ভাই বেলাল জানান, শাহাদাতের ২ বছর আগে ঢাকার মোহাম্মদপুরে আমিন বিয়ে করে। বাড়োকুড পিএইচপি গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজে চাকরি করতেন তিনি। তার একটি মেয়ে রয়েছে।
সরকার বিরোধী কর্মসূচি সীতাকুণ্ডে সবচেয়ে বেশি বাস্তবায়ন হয়েছে। তার পেছনে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা থাকায় সরকার প্রশাসন টার্গেট করেছে জামায়াত-শিবিরকে। ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগ কোন সভা-সমাবেশ করেতে পারেনি ১৮ দলের নেতা-কর্মীদের ভয়ে। বাড়বকুণ্ডের শুকলাল হাটে আওয়ামী লীগের সাথে ১৮ দলের নেতা-কর্মীদের সাথে সংঘর্ষ হয়। এ সময় জামায়াত-শিবিরের ধাওয়া খেয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ছাদাকাত উল্লাহর বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। এরপর থেকে আওয়ামী লীগ রাস্তায় ওঠা বন্ধ হয়ে যায়। একইভাবে সীতাকুণ্ড পৌরসদর, বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা, ফৌজদারহাট এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা হরতাল বিরোধীসহ কোন কর্মসূচি করতে পারেনি। এ কারণে পুলিশ প্রশাসনে আনা হয়েছে নতুন নতুন মুখ। উপজেলা পরিষদে হয়েছে জরুরি আইনশৃঙ্খলা বৈঠক। পুলিশ আন্দোলন দমন করতে ১৮ দলের শীর্ষ নেতাদের কয়েকশ' মামলায় কয়েক হাজার আসামী করেও দমন করতে পারছিল না আন্দোলন।
আমিনের ছোট বেলার বন্ধু নুরুন্নবী জানায়, সে খুব সহজ সরল ছিল। স্থানীয় মান্দারী টোলা প্রাইমারী স্কুল থেকে পড়ালেখা করার পর সীতাকুন্ড কামিল মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাস করেন। এরপর সীতাকুন্ড ডিগ্রী কলেজ থেকে বিএ পাস করে। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন ১৯৯৬ সালে তিনি সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেফতার হয়ে কারা বরণ করেন।
বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা বদরুল আলম জানান, আমিনুল ছাত্রজীবনের পর ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াতী কাজে সময় দিয়েছে। বাড়বকুণ্ড জামায়াতের সেক্রেটারি দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে জামায়াতের রুকন প্রার্থী ছিলেন আমিনুল। গত ইউপি নির্বাচনে আমিন বাড়বকুণ্ড থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন।
জানাযা ও দাফন
হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ২১ নভেম্বর বেলা ২টায় বাড়বকুণ্ড ঈদগাহ মাঠে জানাযা শেষে জামায়াত নেতা শহীদ আমিনুল ইসলামের কফিন তার গ্রামের মান্দারটোলা নুর মোহাম্মদ সুফি জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়। শাহাদাতকালে তিনি বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, ২ ভাই এবং ৪ মাসের এক মেয়ে সন্তান রেখে যান। জানাযায় ইমামতি করেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী। জানাযায় বিএনপি-জামায়াত, ১৮ দলের নেতা-কর্মীরাসহ সীতাকুণ্ডের সর্বস্তরের জনগণ শরীক হন।
শহীদ আমিনুল ইসলামের জানাযা পূর্ব সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম এমপি বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা মানুষ হত্যা করে প্রধানমন্ত্রীত্ব রক্ষা করতে চায়। জনগণের সমর্থন নেই বলেই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে ভয় পায় আওয়ামী লীগ।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
২৯ নভেম্বর ২০১৩ সাপ্তাহিক সোনার বাংলায় "জামায়াত নেতা আমিনুল হত্যার প্রতিবাদে সীতাকুণ্ডে জনতার অবরোধ ভাঙচুর আগুন" শিরোনামে নিম্নোক্ত খবর প্রচার করে- সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: সীতাকুণ্ডের জামায়াত নেতা মো. আমিনুল ইসলামকে কুমিল্লা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেয়ার পর গত বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৩ দুপুরে তার গুলিবিদ্ধ লাশ সীতাকুণ্ডের পন্থিছিলা এলাকায় পাওয়া গেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সীতাকুন্সের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আমিনুল ইসলাম আমিন সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়োকুণ্ড ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর নেতা। উল্লেখ্য গত ১৭ নভেম্বর জামায়াত নেতা আমিন তার স্ত্রী ও ৪ মাসের কন্যা শিশুকে নিয়ে ঢাকা থেকে ভলভো করে চট্টগ্রাম আসছিলেন। এ সময় কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে হাইওয়ে ইন হোটেলে নাস্তা করে বের হওয়ার সময় স্ত্রী কন্যার সামনে ৭/৮ জনের একটি দল ডিবি-পুলিশ পরিচয় দিয়ে জোর করে একটি সাদা মাইক্রোতে তাকে তুলে নিয়ে যায়। ডিবি ব্যাব পুলিশ আমিনকে গ্রেফতার করার বিষয়টি স্বীকার করেনি। এরপর থেকে ঘটনাটি নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়। আমিনের স্ত্রী সীতাকুণ্ড ও চৌদ্দগ্রাম থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ জিডি গ্রহণ করেনি। পরিবার ও স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ আমিনকে উদ্ধার করার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিল এবং সীতাকুণ্ড জামায়াত নেতা আমিনকে কোর্টে হাজির করার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়। এরপরই আমিনের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায় ডিটি রোডে। সীতাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতের আমীর অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের ছত্রছায়ায় স্থানীয় চেয়ারম্যান সাদাকাত উল্লাহ ও রেহান চেয়ারম্যানের যোগসাজশে আমিনের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে জামায়াত নেতাকে খুন করা হয়।
আমিনুল ইসলাম হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের সমাবেশ ও মিছিল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, পুলিশের ছত্রছায়ায় চিহ্নিত আওয়ামী সন্ত্রাসীরা জামায়াত নেতা আমিনুল ইসলামকে হত্যা করেছে। তারাই দীর্ঘদিন ধরে সীতাকুণ্ডে খুন, সন্ত্রাস, গাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে আসছে। তিনি বলেন, এই অবৈধ সরকার পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করছে। সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জামায়াত নেতা আমিনুল ইসলামের খুনিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সীতাকুণ্ডে জামায়াত নেতা আমিনুল ইসলাম হত্যার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী শাখার উদ্যোগে তাৎক্ষণিক এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নগর কর্মপরিষদ সদস্য ডা. মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ সদর অঞ্চল সভাপতি লুৎফর রহমান, জামায়াত নেতা ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুছ, এম আলম, মুহাম্মদ কলিম উল্লাহ, নগর উত্তর শিবির নেতা সাদুর রশিদ চৌধুরী প্রমুখ।
অবিলম্বে জামায়াত নেতা আমিনুল ইসলামের খুনি চিহ্নিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মাওলানা মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা আমীর মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক আহসান উল্লাহ প্রমুখ। সীতাকুণ্ডে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি মোতায়েন করেছে। পুলিশ, র্যাব বিজিবি সদস্যদের সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে টহল দিতে দেখা গেছে।
এদিকে প্রত্যদর্শীরা জানান, বিক্ষুব্ধ জনতা অগ্নিসংযোগের সময় আওয়ামী লীগ নেতা চেয়ারম্যান সাদেক উল্লাহ তার পার্শ্ববর্তী অন্য একটি বাড়িতে আত্মোগোপন করে। সেখান থেকে তিনি র্যাবের সাহায্য চেয়ে ফোন করলে খবর পেয়ে বিপুলসংখ্যক র্যাব-পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে যায়। তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার সময় স্থানীয় তেলী বাজার এলাকায় শত শত গ্রামবাসী র্যাবের দুটি গাড়ি অবরোধ করে। এ সময় গুলি চালালে জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এতে দু'জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়। পরে র্যাব সদস্যরা সাদেক উল্লাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়। এছাড়াও কয়েকটি স্থানে বিক্ষুদ্ধ জনতার সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।
সীতাকুণ্ড সদরে দোকানপাট বন্ধ এবং অনেকটা জনমানব শূন্য হয়ে পড়েছে। রাস্তায় শুধু র্যাব, পুলিশ, বিজিবির সদস্যরা টহল দিচ্ছে। ভুতুড়ে এ পরিস্থিতির কারণে সীতাকুণ্ডে ১৪৪ ধারা জারির গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু প্রশাসন সূত্র এর সত্যতা নিশ্চিত করেনি। সীতাকুণ্ডের ইউএনও শাহীন আলম জানিয়েছেন, বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি ভাঙচুরের খবর পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে প্রশাসন। কোথাও ১৪৪ ধারা জারি করা হয়নি।
ভাই-বোনের বিবরণ
১. মুহাম্মদ ইউছুফ, পেশা- কৃষিকাজ
২. মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, চাকুরি
৩. মুহাম্মদ মহিউদ্দীন, প্রবাসী
৪. রাবিয়া বেগম, বিবাহিতা, গৃহিণী
এক নজরে শহীদ আমিনুল ইসলাম আমিন
নাম: আমিনুল ইসলাম আমিন
পিতার নাম: মৃত সাহাবুল ইসলাম
মাতা: আসুরা খাতুন, বয়স ৭৩ বছর
জন্ম তারিখ: ১ মার্চ ১৯৭৯
স্ত্রীর নাম: আয়েশা আক্তার সীমা, পেশা: গৃহিণী
সন্তান: ১ সন্তান (মেয়ে), বর্তমান বয়স: ৭ বছর
ঠিকানা: গ্রাম- মান্দারীটোলা, পোস্ট- বাড়োকুণ্ড, থানা-সীতাকুণ্ড, জেলা- চট্টগ্রাম
সাংগঠনিক মান: রুকন প্রার্থী
দায়িত্ব: বাড়োকুণ্ড ইউনিয়ন সভাপতি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
অপহরণের তারিখ: ১৭ নভেম্বর'১৩
শহীদ হওয়ার স্থান: সীতাকুণ্ড পৌরসভার পন্থিশীলা
শাহাদাতের ঘটনা: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে তিনদিন নির্যাতন করে সর্বশেষ গুলিকরে হত্যা।
যাদের আঘাতে শহীদ: যুবলীগ
শাহাদাতের তারিখ: ২০ নভেম্বর ২০১৩
চট্টগ্রাম
১৯
শহীদের পরিচিতি
শহীদ আমিনুল ইসলাম আমিন ১৯৭৯ সালের ১ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার মান্দারীটোলায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৃত সাহাবুল ইসলাম ও মাতা আসুরা খাতুন। পাঁচ ভাই এক বোনের মধ্যে আমিনুল ইসলাম আমিন দ্বিতীয়। স্ত্রী আয়োশা আক্তার সীমা ছাড়াও তাঁর সংসারে রয়েছে শাফায়াত আমিন নামের সাত বছর বয়সী একটি মেয়ে। সাংগঠনিকভাবে তিনি ছিলেন বাড়োকুণ্ড ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ও রুকনপ্রার্থী। সীতাকুণ্ড আলীয়া মাদরাসা থেকে তিনি কামিল পাশ করেন। ১৯৯৬ সালে সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেন। তিনি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছিলেন এবং চিটাগাং চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ছিলেন। ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী ছিলেন এবং কলেজের সহ সভাপতি ছিলেন।
সাবেক শিবির নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর স্থানীয় নেতা। সীতাকুণ্ডের একনিষ্ঠ এই জামায়াত নেতা চল্লিশ বছর বয়সে শাহাদাত বরণ করেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে আসার সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় যাত্রাবিরতি কালে হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে থেকে সাদা পোশাকধারী ১২-১৫ জন সশস্ত্র লোক নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে জোর করে মাইক্রোতে তুলে নেয়। ২০ নভেম্বর ২০১৩ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পন্থিছিলা কষাইখানার পাশে তার লাশ পাওয়া যায়।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
শহীদ অমিনুল ইসলাম ছিলেন ইসলামের জন্য নিবেদিত প্রাণ। এলাকায় তার খুব জনপ্রিয়তা ছিল। তিনি ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ছিলেন। আওয়ামী জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদ মিছিলে প্রায় সময় নেতৃত্ব দিতেন এবং মিছিলের সামনে থাকতেন।
ঘটনার সামগ্রীক বিবরণ
১৭ নভেম্বর ২০১৩ ঢাকা (শশুর বাড়ি) হতে স্ত্রী আয়েশা আক্তার সীমা ও শিশু কন্যাসহ সীতাকুণ্ড নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে মালিবাগ থেকে সোহাগ পরিবহনের একটি গাড়িতে উঠেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম সদরে যাত্রাবিরতিকালে তিনি হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে নাস্তা করতে বসেন, এই সময় সাদা পোশাকধারী ১২-১৫ জন সশস্ত্র লোক নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে এবং তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ আছে বলে শহীদ আমিনুলকে জোর করে একটি সাদা মাইক্রোতে তুলে নেয়। এরপর থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করেও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরবর্তিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে তার সন্ধানে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয় প্রশাসনকে।
২০ নভেম্বর ২০১৩ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পন্থিছিলা কষাইখানার পাশে তার লাশ পাওয়া যায়। তার ছোট ভাই বেলাল উদ্দিন ঘঠনাস্থলে এসে শহীদ আমিনুল এর লাশ সনাক্ত করেন। তার মাথা ও পিঠে ৪টি গুলির চিহ্ন পাওয়া যায় এবং গামছ দিয়ে তার মুখ বাধা ছিল।
শহীদের আপন জনদের কথা
তার ভাই বেলাল জানান, শাহাদাতের ২ বছর আগে ঢাকার মোহাম্মদপুরে আমিন বিয়ে করে। বাড়োকুড পিএইচপি গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজে চাকরি করতেন তিনি। তার একটি মেয়ে রয়েছে।
সরকার বিরোধী কর্মসূচি সীতাকুণ্ডে সবচেয়ে বেশি বাস্তবায়ন হয়েছে। তার পেছনে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা থাকায় সরকার প্রশাসন টার্গেট করেছে জামায়াত-শিবিরকে। ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগ কোন সভা-সমাবেশ করেতে পারেনি ১৮ দলের নেতা-কর্মীদের ভয়ে। বাড়বকুণ্ডের শুকলাল হাটে আওয়ামী লীগের সাথে ১৮ দলের নেতা-কর্মীদের সাথে সংঘর্ষ হয়। এ সময় জামায়াত-শিবিরের ধাওয়া খেয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ছাদাকাত উল্লাহর বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। এরপর থেকে আওয়ামী লীগ রাস্তায় ওঠা বন্ধ হয়ে যায়। একইভাবে সীতাকুণ্ড পৌরসদর, বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা, ফৌজদারহাট এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা হরতাল বিরোধীসহ কোন কর্মসূচি করতে পারেনি। এ কারণে পুলিশ প্রশাসনে আনা হয়েছে নতুন নতুন মুখ। উপজেলা পরিষদে হয়েছে জরুরি আইনশৃঙ্খলা বৈঠক। পুলিশ আন্দোলন দমন করতে ১৮ দলের শীর্ষ নেতাদের কয়েকশ' মামলায় কয়েক হাজার আসামী করেও দমন করতে পারছিল না আন্দোলন।
আমিনের ছোট বেলার বন্ধু নুরুন্নবী জানায়, সে খুব সহজ সরল ছিল। স্থানীয় মান্দারী টোলা প্রাইমারী স্কুল থেকে পড়ালেখা করার পর সীতাকুন্ড কামিল মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাস করেন। এরপর সীতাকুন্ড ডিগ্রী কলেজ থেকে বিএ পাস করে। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন ১৯৯৬ সালে তিনি সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেফতার হয়ে কারা বরণ করেন।
বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা বদরুল আলম জানান, আমিনুল ছাত্রজীবনের পর ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াতী কাজে সময় দিয়েছে। বাড়বকুণ্ড জামায়াতের সেক্রেটারি দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে জামায়াতের রুকন প্রার্থী ছিলেন আমিনুল। গত ইউপি নির্বাচনে আমিন বাড়বকুণ্ড থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন।
জানাযা ও দাফন
হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ২১ নভেম্বর বেলা ২টায় বাড়বকুণ্ড ঈদগাহ মাঠে জানাযা শেষে জামায়াত নেতা শহীদ আমিনুল ইসলামের কফিন তার গ্রামের মান্দারটোলা নুর মোহাম্মদ সুফি জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়। শাহাদাতকালে তিনি বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, ২ ভাই এবং ৪ মাসের এক মেয়ে সন্তান রেখে যান। জানাযায় ইমামতি করেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী। জানাযায় বিএনপি-জামায়াত, ১৮ দলের নেতা-কর্মীরাসহ সীতাকুণ্ডের সর্বস্তরের জনগণ শরীক হন।
শহীদ আমিনুল ইসলামের জানাযা পূর্ব সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম এমপি বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা মানুষ হত্যা করে প্রধানমন্ত্রীত্ব রক্ষা করতে চায়। জনগণের সমর্থন নেই বলেই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে ভয় পায় আওয়ামী লীগ।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
২৯ নভেম্বর ২০১৩ সাপ্তাহিক সোনার বাংলায় "জামায়াত নেতা আমিনুল হত্যার প্রতিবাদে সীতাকুণ্ডে জনতার অবরোধ ভাঙচুর আগুন" শিরোনামে নিম্নোক্ত খবর প্রচার করে- সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: সীতাকুণ্ডের জামায়াত নেতা মো. আমিনুল ইসলামকে কুমিল্লা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেয়ার পর গত বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৩ দুপুরে তার গুলিবিদ্ধ লাশ সীতাকুণ্ডের পন্থিছিলা এলাকায় পাওয়া গেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সীতাকুন্সের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আমিনুল ইসলাম আমিন সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়োকুণ্ড ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর নেতা। উল্লেখ্য গত ১৭ নভেম্বর জামায়াত নেতা আমিন তার স্ত্রী ও ৪ মাসের কন্যা শিশুকে নিয়ে ঢাকা থেকে ভলভো করে চট্টগ্রাম আসছিলেন। এ সময় কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে হাইওয়ে ইন হোটেলে নাস্তা করে বের হওয়ার সময় স্ত্রী কন্যার সামনে ৭/৮ জনের একটি দল ডিবি-পুলিশ পরিচয় দিয়ে জোর করে একটি সাদা মাইক্রোতে তাকে তুলে নিয়ে যায়। ডিবি ব্যাব পুলিশ আমিনকে গ্রেফতার করার বিষয়টি স্বীকার করেনি। এরপর থেকে ঘটনাটি নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়। আমিনের স্ত্রী সীতাকুণ্ড ও চৌদ্দগ্রাম থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ জিডি গ্রহণ করেনি। পরিবার ও স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ আমিনকে উদ্ধার করার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিল এবং সীতাকুণ্ড জামায়াত নেতা আমিনকে কোর্টে হাজির করার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়। এরপরই আমিনের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায় ডিটি রোডে। সীতাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতের আমীর অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের ছত্রছায়ায় স্থানীয় চেয়ারম্যান সাদাকাত উল্লাহ ও রেহান চেয়ারম্যানের যোগসাজশে আমিনের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে জামায়াত নেতাকে খুন করা হয়।
আমিনুল ইসলাম হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের সমাবেশ ও মিছিল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, পুলিশের ছত্রছায়ায় চিহ্নিত আওয়ামী সন্ত্রাসীরা জামায়াত নেতা আমিনুল ইসলামকে হত্যা করেছে। তারাই দীর্ঘদিন ধরে সীতাকুণ্ডে খুন, সন্ত্রাস, গাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে আসছে। তিনি বলেন, এই অবৈধ সরকার পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করছে। সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জামায়াত নেতা আমিনুল ইসলামের খুনিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সীতাকুণ্ডে জামায়াত নেতা আমিনুল ইসলাম হত্যার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী শাখার উদ্যোগে তাৎক্ষণিক এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নগর কর্মপরিষদ সদস্য ডা. মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ সদর অঞ্চল সভাপতি লুৎফর রহমান, জামায়াত নেতা ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুছ, এম আলম, মুহাম্মদ কলিম উল্লাহ, নগর উত্তর শিবির নেতা সাদুর রশিদ চৌধুরী প্রমুখ।
অবিলম্বে জামায়াত নেতা আমিনুল ইসলামের খুনি চিহ্নিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মাওলানা মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা আমীর মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক আহসান উল্লাহ প্রমুখ। সীতাকুণ্ডে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি মোতায়েন করেছে। পুলিশ, র্যাব বিজিবি সদস্যদের সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে টহল দিতে দেখা গেছে।
এদিকে প্রত্যদর্শীরা জানান, বিক্ষুব্ধ জনতা অগ্নিসংযোগের সময় আওয়ামী লীগ নেতা চেয়ারম্যান সাদেক উল্লাহ তার পার্শ্ববর্তী অন্য একটি বাড়িতে আত্মোগোপন করে। সেখান থেকে তিনি র্যাবের সাহায্য চেয়ে ফোন করলে খবর পেয়ে বিপুলসংখ্যক র্যাব-পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে যায়। তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার সময় স্থানীয় তেলী বাজার এলাকায় শত শত গ্রামবাসী র্যাবের দুটি গাড়ি অবরোধ করে। এ সময় গুলি চালালে জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এতে দু'জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়। পরে র্যাব সদস্যরা সাদেক উল্লাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়। এছাড়াও কয়েকটি স্থানে বিক্ষুদ্ধ জনতার সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।
সীতাকুণ্ড সদরে দোকানপাট বন্ধ এবং অনেকটা জনমানব শূন্য হয়ে পড়েছে। রাস্তায় শুধু র্যাব, পুলিশ, বিজিবির সদস্যরা টহল দিচ্ছে। ভুতুড়ে এ পরিস্থিতির কারণে সীতাকুণ্ডে ১৪৪ ধারা জারির গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু প্রশাসন সূত্র এর সত্যতা নিশ্চিত করেনি। সীতাকুণ্ডের ইউএনও শাহীন আলম জানিয়েছেন, বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি ভাঙচুরের খবর পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে প্রশাসন। কোথাও ১৪৪ ধারা জারি করা হয়নি।
ভাই-বোনের বিবরণ
১. মুহাম্মদ ইউছুফ, পেশা- কৃষিকাজ
২. মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, চাকুরি
৩. মুহাম্মদ মহিউদ্দীন, প্রবাসী
৪. রাবিয়া বেগম, বিবাহিতা, গৃহিণী
এক নজরে শহীদ আমিনুল ইসলাম আমিন
নাম: আমিনুল ইসলাম আমিন
পিতার নাম: মৃত সাহাবুল ইসলাম
মাতা: আসুরা খাতুন, বয়স ৭৩ বছর
জন্ম তারিখ: ১ মার্চ ১৯৭৯
স্ত্রীর নাম: আয়েশা আক্তার সীমা, পেশা: গৃহিণী
সন্তান: ১ সন্তান (মেয়ে), বর্তমান বয়স: ৭ বছর
ঠিকানা: গ্রাম- মান্দারীটোলা, পোস্ট- বাড়োকুণ্ড, থানা-সীতাকুণ্ড, জেলা- চট্টগ্রাম
সাংগঠনিক মান: রুকন প্রার্থী
দায়িত্ব: বাড়োকুণ্ড ইউনিয়ন সভাপতি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
অপহরণের তারিখ: ১৭ নভেম্বর'১৩
শহীদ হওয়ার স্থান: সীতাকুণ্ড পৌরসভার পন্থিশীলা
শাহাদাতের ঘটনা: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে তিনদিন নির্যাতন করে সর্বশেষ গুলিকরে হত্যা।
যাদের আঘাতে শহীদ: যুবলীগ
শাহাদাতের তারিখ: ২০ নভেম্বর ২০১৩
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍