হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ হাফেজ মোঃ জসীম উদ্দন
শহীদ হাফেজ মোঃ জসীম উদ্দন

শহীদ হাফেজ মোঃ জসীম উদ্দন

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ডোমখালী গ্রামে জন্ম নেওয়া হাফেজ মোঃ জসীম উদ্দীন ছিলেন একাধারে ধর্মপ্রাণ ছাত্র, শ্রমজীবী তরুণ ও অসুস্থ মায়ের একমাত্র সহায়। সৌদি আরব থেকে ফিরে এসে রংমিস্ত্রির কষ্টশ্রমে পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখা এই যুবক ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবেদিত কর্মী। ২০১৩ সালের ২৩ নভেম্বর মাগরিবের নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে ওৎ পেতে থাকা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের নির্মম হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। জীবন-মৃত্যুর দৌড়ে হাসপাতালের পথে রাতেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর মৃত্যু মিরসরাইয়ে শোকের ঢেউ তোলে, আর রেখে যায় আদর্শে দৃঢ় এক নিরহংকার তরুণের স্থায়ী স্মৃতি।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ হাফেজ মোঃ জসীম উদ্দন
চট্টগ্রাম
২১

শহীদের পরিচিতি
শহীদ হাফেজ মোঃ জসীম উদ্দিন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ডোমখালী গ্রামের নুরুল আফসার ও জাহেদা বেগম দম্পতির বড় ছেলে। হাফেজী শেষ করার পর তিনি মাদরাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ালেখা করতেন। কয়েক বছর সৌদি আরবে চাকুরি করেন। বছরখানেক আগে দেশে ফিরে আসেন। এ সময় তিনি রং মিস্ত্রির কাজ করতেন। বাড়িতে মায়ের সাথে থাকতেন এবং অসুস্থ মায়ের সেবা করতেন। সন্তানকে হারিয়ে মা আজ পাগলপারা। শহীদ হাফেজ জসীম উদ্দীন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। হাফেজ জসীম উদ্দীন ১৯৮৬ সালের ০৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন।

যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন।
সীতাকুণ্ড ১নং ইউনিয়নের অন্তর্গত বগাসতর ভূঁইয়া হাটে মাগরিবের নামাজ মসজিদে পড়ে আসার সময় সমিতির বাজারে ওৎ পেতে থাকা ছাত্রলীগের ১৫/২০ জন সন্ত্রাসীরা হামলা করে। আহত হওয়ার পর তাকে ৮ টায় মোস্তানের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হতে সেখান থেকে মাতৃনগর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে আসার পথে রাত ১ টায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

ঘটনার সামগ্রীক বিবরণ
২৩ নভেম্বর ২০১৩ শুক্রবার রাত নয়টার দিকে বগাচতর এলাকা থেকে ডোমখালী তার বাড়ি আসছিল। সমিতির বাজারের পাশে ব্রিজ পার হওয়ার সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ছাত্রলীগের কর্মীরা তার গতিরোধ করে। এরপর ছাত্রলীগ নেতা রিপন, ছালেক, কাউসার, নুর উদ্দিন ও শরিফের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল জসীমকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। বাজার থেকে লোকজন এসে তাকে (জসীম) উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি দেখে মাতৃকা হাসপাতালে ভর্তি করায়। পরে শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) নেয়ার পথে রাত সাড়ে ১২টার দিকে জসীম উদ্দীন শাহাদাত বরণ করেন।
উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি হাফেজ আশরাফ উদ্দিন বলেন, "প্রশাসনের মদদে ছাত্রলীগ-যুবলীগের ক্যাডাররা দুইদিন আগে আমাদের চার নেতাকে গুলি ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাদের মধ্যে উপজেলা শিবিরের সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম ও শিবিরকর্মী জাহেদ হাসপাতালে মৃত্যুর প্রহর গুণছেন। ঠিক সে সময়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আমার বন্ধু হাফেজ জসীম উদ্দিকে নির্মমভাবে হত্যা করে।"
ময়না তদন্তের পর মরদেহ নিয়ে যাবার সময় পার্শ্ববর্তী গজারিয়া বাজারে ছাত্রলীগ বাহিনী তার লাশ আনতে বাধা দিচ্ছিলো। পরে অনেক কষ্টে মরদেহ নেয়া হয়। পুলিশ জানাযা পড়তে দেয়নি। পরে অধ্যাপক মুফিজুর রহমানের ইমামতিতে গায়েবানা জানাযা পড়া হয়।

শহীদের পরিবারিক অবস্থা
দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে শহীদ জসিম উদ্দীম সবার বড়। পিতা নুরুল আফসার ওমান প্রবাসী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি শহিদের পিতা। এক বোনের বিয়ে হলেও এখনও ছোট বোনটি অবিবাহিতা অবস্থায় আছে।

গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
২৯ নভেম্বর ২০১৩ সাপ্তাহিক সোনার বাংলায় "জামায়াত কর্মী হাফেজ জসীমকে হত্যা করেছে। ছাত্রলীগ ক্যাডারর‍্য" শিরোনামে নিম্নোক্ত খবর প্রচার করে-
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, সীতাকুণ্ডে জামায়াত নেতা আমিনুল ইসলামকে নৃশংস কায়দায় হত্যার কয়েকদিন পর গত ২২ নভেম্বর ২০৩ শুক্রবার রাতে মিরসরাইয়ে হাফেজ জসীম উদ্দিন (২৯) নামে এক জামায়াত কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে আওয়ামী ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে মিরসরাই উপজেলার ১৬ নম্বর সাহেরখালী ইউনিয়নের ডোমখালী সমিতির বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রতিবাদে সাহেরখালী এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরী, জেলায় এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে জামায়াত শিবির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেছে।
মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের আমীর নুরুল করিম জানান, ২২ নভেম্বর ২০১৩ শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বগাচতর এলাকা থেকে ডোমখালী তার বাড়ি ফিরছিল। সমিতির বাজারের পাশে ব্রিজ পার হওয়ার সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ছাত্রলীগের কর্মীরা তার গতিরোধ করে। এরপর ছাত্রলীগ নেতা রিপন, ছালেক, কাউসার, নুর উদ্দিন ও শরিফের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল জসীমকে বাজারের চুষ্টু সওদাগরের দোকানের পিছনে নিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। বাজার থেকে লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি দেখে মাতৃকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) নেয়ার পথে রাত সাড়ে ১২টা দিকে মোঃ জসীম উদ্দীন শাহাদাত বরণ করেন। মাঝপথ থেকে বাড়িতে নিয়ে আসলেও পরে লাশের ময়না তদন্তের জন্য আবার চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হয়। জামায়াত কর্মী জসীম উদ্দিন মারা যাওয়ার খবর শুনে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী ও আত্মীয়-স্বজনের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি হাফেজ আশরাফ উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের মদদে ছাত্রলীগ-যুবলীগের ক্যাডাররা দুইদিন আগে আমাদের চার নেতাকে গুলি ও কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। তাদের মধ্যে উপজেলা শিবিরের সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম ও শিবির কর্মী জাহেদ হাসপাতালে মৃত্যুর প্রহর গুণছেন। ঠিক সে সময়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আমার বন্ধু হাফেজ জসীম উদ্দিকে নির্মমভাবে হত্যা করে। তিনি অবিলম্বে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।
এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের ময়না তদন্ত শেষে তার গ্রামের বাড়ি ডোমখালী নিয়ে যাওয়া হয়।
জামায়াত কর্মী জসীম উদ্দিনের প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয় উপজেলার কমলদহ বাজারে। এ সময় জানাযাপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ আমীরুজ্জামান, সাবেক আমীর অধ্যাপক মফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রফেসর এমডিএম কামাল উদ্দিন চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত নেতা অধ্যাপক নুরুন্নবী, মাস্টার আবদুস সালাম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি অধক্ষ্য রবিউল হোসেন, মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের আমীর নুরুল করিম, বিএনপি নেতা উপাধ্যক্ষ আতিকুল ইসলাম লতিফী, চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন সে লিম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শিবিরের সভাপতি কুতুব উদ্দিন শিবলী, সেক্রেটারি রবিউল হোসেন, মিরসরাই উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি হাফেজ আশরাফ উদ্দিন প্রমুখ। বক্তারা জামায়াত কর্মী জসীম উদ্দিনের খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের জোর দাবি জানান।

এক নজরে শহীদ হাফেজ মোঃ জসমীম উদ্দীন
নাম: হাফেজ মোঃ জসীম উদ্দীন
পিতা: নুরুল আফসার
পিতার বয়স ও পেশা: ৬০বছর, ওমান প্রবাসী
মাতা: জাহেদা বেগম
বয়স ও পেশা: ৩৭বছর, গৃহিণী
জন্ম তারিখ: ০৬.০৬.১৯৮৬
ভাই বোন: ২ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সবার বড়
ঠিকানা: গ্রাম- ডোমখালী, পোস্ট- শায়েরখালী, মিরসরাই, চট্টগ্রাম
শাহাদাতের তারিখ: ২৩ নভেম্বর ২০১৩
শাহাদাতের ঘটনা: রাতে বাড়ি ফেরার পথে সমিতির বাজারে ওৎ পেতে থাকা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে যখম করে ফেলে যায়। সেখান থেকে স্থানীয় জনতা হাসপাতালে নেয়ার পথে শাহাদাত বরণ করেন।