শহীদ মুহাম্মদ জসীম উদ্দীন
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ মুহাম্মদ জসীম উদ্দীন জন্ম: ৫ জুলাই ১৯৮১, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম। তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ জামায়াত কর্মী ও স্থানীয় ইউনিট সভাপতি, যিনি সমাজসেবা ও ধর্মীয় চেতনার মাধ্যমে এলাকায় পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। হাসমতের দোকান বাজারে ফার্নিচারের ব্যবসার পাশাপাশি তিনি নিয়মিত মানুষকে নামাজে ডাকতেন, সামাজিক কাজে যুক্ত থাকতেন এবং ইসলামের পথে নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়ার চেতনা নিয়েই কাজ করে গিয়েছেন ।
২০১৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি এক নিকটাত্মীয়ার জানাযা শেষে মটর সাইকেলে ফেরার পথে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় পুলিশ তাকে গুলি করলে তিনি আহত হন এবং পরবর্তীতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী খুরশিদা আক্তার সুমী ও তিন সন্তানের জীবনে নেমে আসে গভীর অর্থনৈতিক দুরবস্থা। গ্রামবাসীর স্মৃতিতে তিনি থেকে গিয়েছেন সাহস, নিষ্ঠা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রতীক হিসেবে।
স্থানীয় মানুষের ভাষায় জসিম ছিলেন সত্যিকারের সৎ, নম্র এবং ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ এক মানুষ; তাঁর চলে যাওয়া আজও এলাকার প্রতিটি হৃদয়ে বেদনার আলোড়ন তোলে।
২০১৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি এক নিকটাত্মীয়ার জানাযা শেষে মটর সাইকেলে ফেরার পথে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় পুলিশ তাকে গুলি করলে তিনি আহত হন এবং পরবর্তীতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী খুরশিদা আক্তার সুমী ও তিন সন্তানের জীবনে নেমে আসে গভীর অর্থনৈতিক দুরবস্থা। গ্রামবাসীর স্মৃতিতে তিনি থেকে গিয়েছেন সাহস, নিষ্ঠা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রতীক হিসেবে।
স্থানীয় মানুষের ভাষায় জসিম ছিলেন সত্যিকারের সৎ, নম্র এবং ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ এক মানুষ; তাঁর চলে যাওয়া আজও এলাকার প্রতিটি হৃদয়ে বেদনার আলোড়ন তোলে।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ মুহাম্মদ জসীম উদ্দীন
চট্টগ্রাম
২২
শহীদের পরিচিতি
শহীদ মুহাম্মদ জসীম উদ্দিন ১৯৮১ সালের ৫ জুলাই সাতকানিয়া থানার ফজুর পাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার আফজল নগর মুহুরীপাড়া এলাকার মৃত ফজল করিম ও ফিরোজা বেগম দম্পতির ১২ সন্তানের মধ্যে ৬ষ্ঠ। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হাসমতের দোকান বাজারে তাঁর একটি ফার্ণিচারের দোকান ছিল। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন এবং ইউনিট সভাপতির দায়িত্ব পালন করতেন। শাহাদাতকালে তিনি স্ত্রী খুরশীদা আক্তার সূমী ও দুই সন্তান রেখে যান।
শাহাদাতের ঘটনা
২০১৪ সালে ১২ ফেব্রুয়ারি এক আত্মীয় মহিলার জানাযা শেষে মটর সাইকেলে ফেরার পথে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় পুলিশ তাকে গুলি করলে তিনি আহত হন। আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে মাটিতে ফেলে পুনরায় বেধড়ক লাঠিপেটা করে। মারাত্মক আহত হয়ে পড়লে তাকে পুলিশ চট্টগ্রাম মেডিকেলের উদ্দেশ্যে নিয়ে যায় এবং সাতপুরা নামক স্থানে পৌঁছে পুনরায় তাকে গুলি করলে তিনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন।
শাহাদাতের পূর্বের ঘটনা
শাহাদাতের পূর্বে শহীদ মুহাম্মদ জসীম উদ্দিন সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতেন এবং বলতেন- একটাই জীবন আল্লাহর পথে বিলিয়ে দিতে চাই।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২০১৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বুধবার বেলা ১১টার দিকে জামায়াতকর্মী মুহাম্মদ জসীম ও রফিকসহ কয়েকজন বন্ধু একটি জানাযা শেষে বাড়ি ফেরার পথে সাতকানিয়া কেরানীহাটের পূর্বপার্শ্বে ছদাহা কেওচিয়া স্কুল সড়কে পৌঁছলে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে গুলী করে। আহত হয়ে পড়ে গেলে পুলিশ মারাত্মক আহত অবস্থায় মুহাম্মদ জসিম ও রফিককে সাতকানিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নেয়ার পথে জসিম শাহাদাত বরণ করেন এবং রফিককে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান- জানাযা থেকে মোটর সাইকেল যোগে ফেরার পথে পুলিশ পথ রোধ করে প্রথমে রফিককে গুলি করে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। তখন জসিম রফিককে উদ্ধার করতে গেলে জসিমের পায়ে গুলি করে পুলিশ ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে যায়। পরে আবার থানা থেকে বের করে আনু পুকুরের দোকানের কাছে নামিয়ে হাটু, অণ্ডকোষ ও বগলের নিচে গুলি করে হত্যা করে।
শহীদের আপন জনদের কথা
মাতা। আমার বড় ছেলে আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছে। আমি শহীদের মা হিসেবে গর্বিত। আল্লাহ যেন আমার ছেলেকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন, আমীন।
শহীদের আন্দোলনের সাথীরা
শহীদ জসিম উদ্দিন খুব সৎ ও ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। আল্লাহ তাকে শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন।
শহীদ মুহাম্মদ জসীম উদ্দীনের স্ত্রী খুরশিদা আখতার সুমী বলেন তাঁর আচার ব্যবহার খুব ভাল ছিল।
ভাই-বোন সকলকে এক নজরে দেখতেন তিনি। সামাজিক কর্মকাণ্ডে সব সময় সক্রিয় ছিলেন। এলাকার সকলকে নামাজের জন্য নিয়মিত ডাকতেন। সন্তানদের অনেক ভালোবাসতেন। তার খুব ইচ্ছা ছিল বড় ছেলেকে কোরআনে হাফেজ বানাবেন। এজন্য তিনি তার ছেলে ও ভাতিজাকে হাফেজী মাদরাসায় ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর অভাবের কারণে হাফেজী মাদরাসা থেকে ছাড়িয়ে আনতে হয়। জসীম উদ্দীনের বড় ভাই তৌহিদুল ইসলাম বলেন- আমরা বন্ধুর মতো ছিলাম। একসাথে বিভিন্ন জায়গায় যেতাম। ছোটবেলা থেকেই জসীম বিভিন্ন সামাজিক কাজে জড়িত ছিলেন। কোথাও রাষ্ট্র ভাঙ্গা দেখলে নিজেই আশপাশ থেকে মাটি এনে তা ঠিক করে দিতেন। শাহাদাতের আগের দিন তিনি আমাকে বললেন-"ওরা আমাকে ধরতে পারলে মেরে ফেলবে।" তাঁর কথা এত দ্রুত সত্য হবে ভাবতেও পারিনি।
শহীদের পারিবারিক অবস্থা
শহীদ মুহাম্মদ প্রসীম উদ্দীনের পরিবারে এখন স্ত্রী খুরশিদা আখতার সুমী ছাড়াও তিন সন্তান রয়েছে। খুরশীদা আখতার সুমী ২০০১ সালে উত্তর আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করছেন। শহীদের বড় ছেলে তের বছর বয়সী ইমামুল হাসান ইমন পড়ছে ক্লাস সেভেনে। দ্বিতীয় ছেলে মোমিনুল হোসেন সাইমন পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। আর সর্বশেষ ছেলে মোজাহিদুল ইসলামের বয়স বর্তমানে পাঁচ বছর। এ মুহূর্তে অর্থনৈতিকভাবে খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছে শহিদ পরিবারটি।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
শহীদ জসীমের শাহাদাতের ঘটনায় প্রায় সব পত্রিকায় সংবাদ পরিবেশিত হয়। ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সংগ্রাম "সাতকানিয়ায় পুলিশের গুলীতে জামায়াত কর্মী জসিমউদ্দীন নিহত" শিরোনামে নিম্মোক্ত সংবাদ পরিবেশন করে।
সাতকানিয়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযান চলাকালে গুলিবর্ষণে এক জামায়াতকর্মী নিহত ও অপর এক কর্মী গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ বৃহস্পতিবার থানায় থানায় বিক্ষোভ, আগামীকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ শুক্রবার দোয়া দিবসের কর্মসূচী ঘোষণা করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলার কেরাণীরহাটের পূর্ব পার্শ্বে ছদহা কেউচিয়া স্কুল সড়কে একটি জানাযা নামায পড়ে বাড়ি ফেরার পথে জামায়াতকর্মী জসীমউদ্দিন (২৫) ও মো: রফিক (৩০) কে গ্রেফতারের চেষ্টাকালে পুলিশের গুলীতে তারা গুরুতর আহত হয়। তাদের বুকে ও পায়ে গুলি লাগে বলে জানা গেছে। পুলিশ আহত অবস্থায় রফিক ও জসীমকে আটক করে প্রথমে সাতকানিয়া সদর স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনে। সেখানে জসীমউদ্দিনকে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করে। রফিককে ২৬ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। নিহত জসিম আফজল নগর মুহুরীপাড়া এলাকার মৃত ফজল করিমের পুত্র।
জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিবৃতি
সাতকানিয়ায় পুলিশের গুলীতে জামায়াতকর্মী জসিম নিহতের প্রতিবাদ দায়ীদের গ্রেফতার করে শাঙ্কির দাবীতে চট্টগ্রাম জামায়াত নেতৃবৃন্দ বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাটের পূর্ব পার্শ্বে ছদাহা স্কুল সড়কে মোটর সাইকেলে যাওয়ার পথে পুলিশ জামায়াতকর্মী মুহাম্মাদ জসিম ও রফিককে লক্ষ্য করে গুলী করে মারাত্মক আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে জসিম মারা যায় এবং রফিক মারাত্মক আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর মুখোমুখি। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার জন্য দায়ী চিহ্নিত পুলিশ সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ ও উত্তর জেলার আমীর ও সেক্রেটারি যথাক্রমে সাবেক এমপি মাওলানা আ.ন.ম শামসুল ইসলাম, মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মুহাম্মাদ ইছহাক, ড. হেলাল উদ্দীন মুহাম্মদ নোমান, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আমিরুজ্জামান ও অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল আমিন চৌধুরী উক্ত বিবৃতি প্রদান করেন।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ
১. মোসাঃ খুরশিদা আক্তার (স্ত্রী), ২৬ বছর, গৃহিণী
২. ইমামুল হাসান ইমন, ৮ বছর, ছাত্র, হাজিরপাড়া হেফজ মাদরাসা
৩. মুমিনুল হোসেন আইমন, ৫ বছর, ছাত্র, ছদাহা আদর্শ মাদরাসা
এক নজরে শহীদ মুহাম্মদ জসীম উদ্দীন
নাম: শহীদ মুহাম্মদ জসীম উদ্দীন
পিতার নাম: মৃত ফজল করিম
মাতার নাম: ফিরোজা বেগম
স্ত্রীর নাম: খুরশিদা আকতার সুমী
স্ত্রীর পেশা: গৃহিণী
স্ত্রীর পড়ালেখা: এসএসসি ২০০১
ঠিকানা: বাড়ী নং- ২৪৯, ওয়ার্ড নয়- ০২, দক্ষিণ ফজুর পাড়া, ১৫নং ছদাহা, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম- ৪৩৯৭
শাহাদাতের স্থান ও তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। ছদাহা কেঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয় রোড ২নং ব্রিজের দক্ষিণ পাশে
যে ঘটনায় শহীদ: বিনা উসকানিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতারের পর হাতে ও পায়ে গুলি করে হত্যা
কাদের দ্বারা আক্রান্ত: পুলিশ
ভাই-বোন: সাত ভাই পাঁচ বোনের মধ্যে সপ্তম
সন্তান: এ দুই সন্তান।
সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ৮ম শ্রেণি, ছদাহা উচ্চ বিদ্যালয়।
জন্য তারিখ: ৫ জুলাই ১৯৮১
সাংগঠনিক মান: জামায়াত কর্মী
সাংগঠনিক দায়িত্ব: ইউনিট সভাপতি
সংগঠনে আসার ইতিহাস: স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে দাওয়াত পান।
চট্টগ্রাম
২২
শহীদের পরিচিতি
শহীদ মুহাম্মদ জসীম উদ্দিন ১৯৮১ সালের ৫ জুলাই সাতকানিয়া থানার ফজুর পাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার আফজল নগর মুহুরীপাড়া এলাকার মৃত ফজল করিম ও ফিরোজা বেগম দম্পতির ১২ সন্তানের মধ্যে ৬ষ্ঠ। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হাসমতের দোকান বাজারে তাঁর একটি ফার্ণিচারের দোকান ছিল। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন এবং ইউনিট সভাপতির দায়িত্ব পালন করতেন। শাহাদাতকালে তিনি স্ত্রী খুরশীদা আক্তার সূমী ও দুই সন্তান রেখে যান।
শাহাদাতের ঘটনা
২০১৪ সালে ১২ ফেব্রুয়ারি এক আত্মীয় মহিলার জানাযা শেষে মটর সাইকেলে ফেরার পথে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় পুলিশ তাকে গুলি করলে তিনি আহত হন। আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে মাটিতে ফেলে পুনরায় বেধড়ক লাঠিপেটা করে। মারাত্মক আহত হয়ে পড়লে তাকে পুলিশ চট্টগ্রাম মেডিকেলের উদ্দেশ্যে নিয়ে যায় এবং সাতপুরা নামক স্থানে পৌঁছে পুনরায় তাকে গুলি করলে তিনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন।
শাহাদাতের পূর্বের ঘটনা
শাহাদাতের পূর্বে শহীদ মুহাম্মদ জসীম উদ্দিন সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতেন এবং বলতেন- একটাই জীবন আল্লাহর পথে বিলিয়ে দিতে চাই।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২০১৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বুধবার বেলা ১১টার দিকে জামায়াতকর্মী মুহাম্মদ জসীম ও রফিকসহ কয়েকজন বন্ধু একটি জানাযা শেষে বাড়ি ফেরার পথে সাতকানিয়া কেরানীহাটের পূর্বপার্শ্বে ছদাহা কেওচিয়া স্কুল সড়কে পৌঁছলে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে গুলী করে। আহত হয়ে পড়ে গেলে পুলিশ মারাত্মক আহত অবস্থায় মুহাম্মদ জসিম ও রফিককে সাতকানিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নেয়ার পথে জসিম শাহাদাত বরণ করেন এবং রফিককে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান- জানাযা থেকে মোটর সাইকেল যোগে ফেরার পথে পুলিশ পথ রোধ করে প্রথমে রফিককে গুলি করে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। তখন জসিম রফিককে উদ্ধার করতে গেলে জসিমের পায়ে গুলি করে পুলিশ ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে যায়। পরে আবার থানা থেকে বের করে আনু পুকুরের দোকানের কাছে নামিয়ে হাটু, অণ্ডকোষ ও বগলের নিচে গুলি করে হত্যা করে।
শহীদের আপন জনদের কথা
মাতা। আমার বড় ছেলে আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছে। আমি শহীদের মা হিসেবে গর্বিত। আল্লাহ যেন আমার ছেলেকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন, আমীন।
শহীদের আন্দোলনের সাথীরা
শহীদ জসিম উদ্দিন খুব সৎ ও ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। আল্লাহ তাকে শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন।
শহীদ মুহাম্মদ জসীম উদ্দীনের স্ত্রী খুরশিদা আখতার সুমী বলেন তাঁর আচার ব্যবহার খুব ভাল ছিল।
ভাই-বোন সকলকে এক নজরে দেখতেন তিনি। সামাজিক কর্মকাণ্ডে সব সময় সক্রিয় ছিলেন। এলাকার সকলকে নামাজের জন্য নিয়মিত ডাকতেন। সন্তানদের অনেক ভালোবাসতেন। তার খুব ইচ্ছা ছিল বড় ছেলেকে কোরআনে হাফেজ বানাবেন। এজন্য তিনি তার ছেলে ও ভাতিজাকে হাফেজী মাদরাসায় ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর অভাবের কারণে হাফেজী মাদরাসা থেকে ছাড়িয়ে আনতে হয়। জসীম উদ্দীনের বড় ভাই তৌহিদুল ইসলাম বলেন- আমরা বন্ধুর মতো ছিলাম। একসাথে বিভিন্ন জায়গায় যেতাম। ছোটবেলা থেকেই জসীম বিভিন্ন সামাজিক কাজে জড়িত ছিলেন। কোথাও রাষ্ট্র ভাঙ্গা দেখলে নিজেই আশপাশ থেকে মাটি এনে তা ঠিক করে দিতেন। শাহাদাতের আগের দিন তিনি আমাকে বললেন-"ওরা আমাকে ধরতে পারলে মেরে ফেলবে।" তাঁর কথা এত দ্রুত সত্য হবে ভাবতেও পারিনি।
শহীদের পারিবারিক অবস্থা
শহীদ মুহাম্মদ প্রসীম উদ্দীনের পরিবারে এখন স্ত্রী খুরশিদা আখতার সুমী ছাড়াও তিন সন্তান রয়েছে। খুরশীদা আখতার সুমী ২০০১ সালে উত্তর আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করছেন। শহীদের বড় ছেলে তের বছর বয়সী ইমামুল হাসান ইমন পড়ছে ক্লাস সেভেনে। দ্বিতীয় ছেলে মোমিনুল হোসেন সাইমন পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। আর সর্বশেষ ছেলে মোজাহিদুল ইসলামের বয়স বর্তমানে পাঁচ বছর। এ মুহূর্তে অর্থনৈতিকভাবে খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছে শহিদ পরিবারটি।
গণমাধ্যমে শাহাদাতের খবর
শহীদ জসীমের শাহাদাতের ঘটনায় প্রায় সব পত্রিকায় সংবাদ পরিবেশিত হয়। ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সংগ্রাম "সাতকানিয়ায় পুলিশের গুলীতে জামায়াত কর্মী জসিমউদ্দীন নিহত" শিরোনামে নিম্মোক্ত সংবাদ পরিবেশন করে।
সাতকানিয়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযান চলাকালে গুলিবর্ষণে এক জামায়াতকর্মী নিহত ও অপর এক কর্মী গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ বৃহস্পতিবার থানায় থানায় বিক্ষোভ, আগামীকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ শুক্রবার দোয়া দিবসের কর্মসূচী ঘোষণা করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলার কেরাণীরহাটের পূর্ব পার্শ্বে ছদহা কেউচিয়া স্কুল সড়কে একটি জানাযা নামায পড়ে বাড়ি ফেরার পথে জামায়াতকর্মী জসীমউদ্দিন (২৫) ও মো: রফিক (৩০) কে গ্রেফতারের চেষ্টাকালে পুলিশের গুলীতে তারা গুরুতর আহত হয়। তাদের বুকে ও পায়ে গুলি লাগে বলে জানা গেছে। পুলিশ আহত অবস্থায় রফিক ও জসীমকে আটক করে প্রথমে সাতকানিয়া সদর স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনে। সেখানে জসীমউদ্দিনকে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করে। রফিককে ২৬ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। নিহত জসিম আফজল নগর মুহুরীপাড়া এলাকার মৃত ফজল করিমের পুত্র।
জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিবৃতি
সাতকানিয়ায় পুলিশের গুলীতে জামায়াতকর্মী জসিম নিহতের প্রতিবাদ দায়ীদের গ্রেফতার করে শাঙ্কির দাবীতে চট্টগ্রাম জামায়াত নেতৃবৃন্দ বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাটের পূর্ব পার্শ্বে ছদাহা স্কুল সড়কে মোটর সাইকেলে যাওয়ার পথে পুলিশ জামায়াতকর্মী মুহাম্মাদ জসিম ও রফিককে লক্ষ্য করে গুলী করে মারাত্মক আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে জসিম মারা যায় এবং রফিক মারাত্মক আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর মুখোমুখি। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার জন্য দায়ী চিহ্নিত পুলিশ সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ ও উত্তর জেলার আমীর ও সেক্রেটারি যথাক্রমে সাবেক এমপি মাওলানা আ.ন.ম শামসুল ইসলাম, মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মুহাম্মাদ ইছহাক, ড. হেলাল উদ্দীন মুহাম্মদ নোমান, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আমিরুজ্জামান ও অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল আমিন চৌধুরী উক্ত বিবৃতি প্রদান করেন।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ
১. মোসাঃ খুরশিদা আক্তার (স্ত্রী), ২৬ বছর, গৃহিণী
২. ইমামুল হাসান ইমন, ৮ বছর, ছাত্র, হাজিরপাড়া হেফজ মাদরাসা
৩. মুমিনুল হোসেন আইমন, ৫ বছর, ছাত্র, ছদাহা আদর্শ মাদরাসা
এক নজরে শহীদ মুহাম্মদ জসীম উদ্দীন
নাম: শহীদ মুহাম্মদ জসীম উদ্দীন
পিতার নাম: মৃত ফজল করিম
মাতার নাম: ফিরোজা বেগম
স্ত্রীর নাম: খুরশিদা আকতার সুমী
স্ত্রীর পেশা: গৃহিণী
স্ত্রীর পড়ালেখা: এসএসসি ২০০১
ঠিকানা: বাড়ী নং- ২৪৯, ওয়ার্ড নয়- ০২, দক্ষিণ ফজুর পাড়া, ১৫নং ছদাহা, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম- ৪৩৯৭
শাহাদাতের স্থান ও তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। ছদাহা কেঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয় রোড ২নং ব্রিজের দক্ষিণ পাশে
যে ঘটনায় শহীদ: বিনা উসকানিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতারের পর হাতে ও পায়ে গুলি করে হত্যা
কাদের দ্বারা আক্রান্ত: পুলিশ
ভাই-বোন: সাত ভাই পাঁচ বোনের মধ্যে সপ্তম
সন্তান: এ দুই সন্তান।
সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ৮ম শ্রেণি, ছদাহা উচ্চ বিদ্যালয়।
জন্য তারিখ: ৫ জুলাই ১৯৮১
সাংগঠনিক মান: জামায়াত কর্মী
সাংগঠনিক দায়িত্ব: ইউনিট সভাপতি
সংগঠনে আসার ইতিহাস: স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে দাওয়াত পান।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍