হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ আবুল আলা মো: ইকবাল
 শহীদ আবুল আলা মো: ইকবাল

শহীদ আবুল আলা মো: ইকবাল

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

নোয়াখালীর খালিশাটোলা গ্রামের অধ্যাপক আবুল আলা মো: ইকবাল ছিলেন ন্যায়, নৈতিকতা ও ইসলামী আদর্শে গড়ে ওঠা এক দৃঢ়চরিত্র মানুষ। দশ বছর অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি সমাজসচেতন নেতৃত্ব ও দায়িত্ববোধ দিয়ে চারপাশে আলো ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন নিরলসভাবে।
সত্যের প্রতি তাঁর অবিচল অবস্থান তাকে সংগ্রামের পথেই এগিয়ে নিয়েছে, যেখানে ভয় নয়—আদর্শই ছিল তাঁর একমাত্র সহচর।
কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি সাহসিকতার সাথে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, বুকभर বিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে নিয়েছেন ন্যায়বোধের মিছিল।
অবশেষে অন্যায়ের মুখোমুখি হওয়া সেই মুহূর্তেই তাঁর নেতৃত্ব, ত্যাগ ও ঈমানী শক্তির পরিপূর্ণ দীপ্তি তাঁর জীবনকে এক অনন্য মর্যাদায় পৌঁছে দেয়।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ: আবুল আলা মো: ইকবাল
ঢাকা-২
"১০ বছর ধরে সুনামের সাথে কলেজের অধ্যাপনা করে আসছিলেন শহীদ ইকবাল হোসেন, ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলন তার কাছে এতটাই প্রিয় ছিল যে, জীবনের তাগিদে কিছুটা সঞ্চয় করার জন্য তার স্ত্রীর প্রশ্নে শহীদ ইকবাল হোসেন বলেছিলেন দুনিয়াটা ত্যাগের জায়গা, ভোগের জায়গা নয়' ভোগ বিলাস থেকে দুরে থেকে আন্দোলনের জন্য নিজের জীবনকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন মহান আল্লাহর পছন্দের বান্দাহ হিসেবে।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ আবুল আলা মো: ইকবাল নোয়াখালী সদর থানার খালিশাটোলা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১লা জানুয়ারি ১৯৭৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মরহুম মৌলভী সুজাইদউল্লাহ পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। তার মাতা ৯০ বছর বয়সী মোছা: আতিয়া খাতুন। তাদের আট সন্তানের ভিতর তিনি ছিলেন অন্যতম। তিনি নিজেকে একজন ভালো সংগঠক ও দায়ী হিসাবে গঠন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। অধ্যাপক গোলাম আযমের দেয়া রায়ের প্রতিবাদে মিছিলের নেতৃত্বভাগে থেকে আগে ভাগেই শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন। ১৩ জুলাই তার সংগীদেরকে বলেছিলেন "এবার কারো ঈদ হবে না। ঈদ হবে সেইদিন যে দিন আমাদের নেতৃবৃন্দ মুক্তি পাবেন।" অবশেষে তার আর এ দুনিয়ায় ঈদ করা হল না। শহীদী ঈদগায় শামিল হয়ে জান্নাতের পথে চলে গেলেন। এর আগে ৬ মাস জেল খেটেছেন ইসলামবিদ্বেষীদের কারাগারে। শাহাদাতকালীন সময়ে তিনি স্ত্রী: তসলিমা খাতুন ও একমাত্র সন্তান নাজমুস সাকিব হীরা, নার্সারি ক্লাসের ছাত্রকে রেখে যান।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
১৪ জুলাই ২০১৩ তারিখে অধ্যাপক গোলাম আযমের ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে সারাদেশে তৌহিদী জনতা ফুঁসে ওঠে। হাজার হাজার সাধারণ জনতা সারাদেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বেলা ২টায় ঢাকায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার উদ্যেগে নাবিস্কো মোড় থেকে মিছিল শুরু হলে পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে মিছিলে ধাওয়া করে। আবুল আলা ইকবাল ভাইকে মিছিল থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের কিছুক্ষণ পর সহযোগীরা পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনেন। কিন্তু পুলিশি নির্যাতনে তখন তার অবস্থা ছিল বেশ মমূর্ষু। এমতাবস্থায় তাকে দ্রুত মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
১৪ জুলাই ২০১৩ অধ্যাপক গোলাম আযমের ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে তৌহিদী জনতা। ঐ দিন বেলা ২টার সময় বিক্ষোভ মিছিল শুরু হবে। শহীদ আবুল আলা ইকবাল ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরীর তেজগাঁও থানার আমীর। প্রস্তুতির জন্য সকল ওয়ার্ড থেকে জনশক্তি আসতে শুরু করে। জোহরের নামাজের পর নির্ধারিত সময়ে মিছির শুরু হয়। এদিকে সরকারও ব্যাপক র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করে। আবুল আলা ইকবাল ভাইয়ের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি নাবিস্কো মোড় থেকে টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ডের কাছে যেতেই পুলিশ ও বিজিবির বাধার মুখে পড়ে। পরে পুলিশ ও তৌহিদী জনতার সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। আবুল আলা ইকবাল ভাইকে মিছিল থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের কিছুক্ষণ পর অর্থাৎ ২.৩০ মিনিটে সহযোগীরা পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনেন। কিন্তু পুলিশি নির্যাতনে তখন তার অবস্থা ছিল বেশ মমূর্ষু। অবস্থা খুবই শোচনীয় দেখে তাকে তৎক্ষণাৎ মহাখালী মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নেয়া হয়। কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরের দিনের জাতীয় পত্রিকাসমূহে তার নিউজটি বিস্তারিতভাবে আসে। দৈনিক সংগ্রাম ১৫ ও ১৬ জুলাই, ২০১৩ তে লিখে।
নোয়াখালীতে দাফন আজ
পুলিশ হেফাজতে অসুস্থ তেজগাঁও জামায়াত আমীরের শাহাদাত
জামায়াতে ইসলামী তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার আমীর অধ্যাপক আবুল আলা মোহাম্মদ ইকবালের মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারি: সংগ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার: পুলিশ হেফাজতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ছেড়ে দেয়া হয় ঠিকই কিন্তু বাঁচতে পারেননি শেষতক। শাহাদাত বরণ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর মজলিশে শূরা সদস্য ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার আমীর অধ্যাপক আবুল আলা মোহাম্মদ ইকবাল (৪৫)। গতকাল রোববার বেলা দু'টায় শাহাদাত বরণের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পূর্ব নাখালপাড়া গোরস্থান মসজিদে প্রথম নামাজে জানাযা হয়। আজ সোমবার তার দ্বিতীয় ও শেষ জানাযা শেষে নোয়াখালীর মাইজদীতে পারিবারিক গোরস্তানে দাফন করা হবে। জামায়াতে ইসলামী সূত্রে এ খবর পাওয়া গেছে। আবুল আলা ইকবাল গুলশান কমার্স কলেজের অধ্যাপক ছিলেন।
জামায়াত সূত্রে জানানো হয়, বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর সাবেক আমীর ও ভাষাসৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণার প্রতিবাদে এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী আহূত সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতালের সমর্থনে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার উদ্যোগে এবং গতকাল দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে ফেরার পথে পুলিশ তাকে ধাওয়া করে গ্রেফতার করে। পুলিশি হেফাজতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। গুরুতর অসুস্থাবস্থায় জনতা অধ্যাপক ইকবালকে মহাখালীর মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শাহাদাত বরণকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর। তিনি স্ত্রী এবং এক পুত্রসন্তান রেখে গেছেন। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি অধ্যাপক ইকবালকে আটকের পর ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
নামাজে জানাযা: মরহুম অধ্যাপক আবুল আ'লা মোহাম্মদ ইকবালের নামাজে জানাযা গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পূর্ব নাখালপাড়া গোরস্থান মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন হযরত মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক। জানাজায় বিপুলসংখ্যক জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মুসল্লি ও সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন। জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরীর মসলিশে শূরা সদস্য হেমায়েত উদ্দীন, শেরেবাংলা নগর থানা আমীর অধ্যাপক আ জ ম কামাল উদ্দীন, তেজগাঁও থানা আমীর সালাহউদ্দীন, সেক্রেটারি মিজানুল করিম, শিল্পাঞ্চল থানা সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমানসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। আজ তার দ্বিতীয় ও শেষ জানাজা নোয়াখালীর মাইজদীতে অনুষ্ঠানের পর পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হবে।
জামায়াত নেতা ইকবালের দাফন নোয়াখালীর নিজ গ্রামে সম্পন্ন
নোয়াখালী সংবাদদাতা: গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় তেজগাঁ শিল্প অঞ্চল থানা জামায়াতের আমীর
 অধ্যাপক আবুল আলা মুহাম্মদ ইকবালের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলাধীন খালিশাটোলা গ্রামে জানাযা পূর্ব এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ড. রেদওয়ান উল্লাহ শাহিদী। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও নোয়াখালী জেলা আমীর মাওলানা আবদুল মুনয়িম, শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও নোয়াখালী শহর সভাপতি নেয়ামত উল্লাহ শাকের, তেজগাঁ শিল্প অঞ্চল থানা জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ নিজামুর রহমান, অধ্যক্ষ আবদুস শহীদ-এর পরিচালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ইকবালের শ্বশুর মাওলানা আবুল কালাম, ভাই আবুল লাইস খালেদ, নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহবুব আলমগীর আলো, বিশিষ্ট আলেম সাজ্জাদুর রহমান আতিকি, অধ্যক্ষ মাওলানা মোসলেহ উদ্দিন, মাওলানা আবদুর রশিদ, সাংবাদিক জিয়াউল কবির সুমনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। গত রোববার ঢাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল থেকে আটকের পর আমীর ইকবাল পুলিশের হাতে আটক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুকালে ৪ বছরের ১টি পুত্রসন্তান ও স্ত্রী রেখে যান। তার পুত্রকে পিতার জানাযার পাশে দেখে উপস্থিত জনতা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে। পুলিশি নির্যাতনে পিতাহারা এতিম শিশুকে সান্তনা দানের কোনো ভাষা ছিল না।
 নাম: শহীদ আবুল আলা মো: ইকবাল (১৩৪)। পেশা: কলেজ শিক্ষক।
 জন্ম তারিখ ও বয়স: ১লা জানুয়ারি ১৯৭৯, ৩৪ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ১৪ জুলাই ২০১৩ সময় ২ টা।
 শাহাদাতের তারিখ: ১৪ জুলাই ২০১৩, বিকাল ৩টা স্থান: ঢাকা। দাফন করা হয়: পারিবারিক কবরস্থান।
 স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম। খালিশাটোলা, ডাকঘর: নতুনহাট ইসলামিয়া মাদ্রাসা, থানা: নোয়াখালী সদর, জেলা: নোয়াখালী।
 পিতা: মৃত: মরহুম মৌলভী সুজাইদউল্লাহ।
 মাতা: মোছা: আতিয়া খাতুন। বৃদ্ধা, অসুস্থ।
 স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: তসলিমা খাতুন। একমাত্র সন্তান: নাজমুস সাকিব হীরা, নার্সারি, নাখাল পাড়া হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়।
 ভাই-বোনের বিবরণ: আনোয়ারা বেগম, বিবাহিতা। বাবুল, ব্যবসা। হুমায়ূন কবীর, (অবসরপ্রাপ্ত) জুট মিল কর্মকর্তা। এনামূল কবীর, মৃত। রুবি বেগম, বিবাহিতা। শেফালী বেগম, বিবাহিতা। শহীদ আবুল আলা মো: ইকবাল, শহীদ। মোঃ খালেদ, ম্যানেজার, ইসলামী ব্যাংক।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍