শহীদ মুহাম্মদ জুবাইরুল ইসলাম
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
১৯৯৭ সালে চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া জুবাইরুল ইসলাম সামাজিক ন্যায় ও ইসলামী মূল্যবোধের পক্ষে সোচ্চার এক তরুণ কর্মী ছিলেন। ১৩ জানুয়ারি ২০১৫ রাতে মাহফিল থেকে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়ে তিনি সহপাঠীদের হৃদয়ে গভীর শোকের রেখা রেখে যান। মৃত্যুর তিন দিন আগে দেওয়া তার ফেসবুক স্ট্যাটাসেই ফুটে উঠেছিল শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা। কলেজজীবনে সংগঠনের দায়িত্বশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মী হিসেবে তিনি বিশেষ পরিচিতি পান।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ মুহাম্মদ জুবাইরুল ইসলাম
চট্টগ্রাম
২৩
"হে প্রভু--!! বিপদে মুসিবতে আমাকে সবর করার তাওফিক দিও!! হে রাহমান। আমার কঠিন মুহূর্তে তোমার রহমতের চাদরে ঢেকে নিও।।হে মালিক। তুমি আমার বিচার দিনে আমাকে কঠিন আজাবের মুখোমুখি করিও না।।। হে আল্লাহ। যে দিন আমার মৃত্যুর ফয়সালা হবে সেদিন আমাকে শহীদি মৃত্যু দান কর।।। (আমীন)"
(শহীদ জুবাইরুল ইসলামে ফেইসবুক পোস্ট)
শহীদের পরিচিতি
শহীদ জুবাইরুল ইসলাম চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পশ্চিম চুনতি গ্রামে ১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুস ও মাতা তামান্না বেগমের দশ সন্তানের মধ্যে জুবাইরুল ইসলাম সবার ছোট। শাহাদাতের সময় তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরিক্ষার ফলপ্রার্থী ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই পারিবারিকভাবে ইসলামী আন্দোলনমুখী ছিলেন। ২০০৮ সালে ছাত্রশিবিরের সমর্থক, ২০১০ সালে কর্মী এবং ২০১৩ সালে সাথী শপথ গ্রহণ করেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
১৯ দিন ব্যাপী চুনতী সীরাতুন্নবী (স.) মাহফিল থেকে ওয়াজ শুনে বাড়ি ফেরার পথে চুনতি শাহ সাহেব গেইট এলাকায় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে জুবাইরুল ইসলামসহ তার বন্ধুদের উপর। এতে অন্য বন্ধুরা জুবাইরকে রক্ষায় এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে তাদেরকেও গুরুতর আহত করে। পরে জুবাইরকে মারাত্মক আহত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে তার লাশ চুনতি বেড়ার দোকান এলাকায় ফেলে চলে যায়।
শাহাদাতের পূর্বের ঘটনা
শহীদ জুবাইরুল ইসলাম সবসময় শাহাদাতের তামান্না মনে লালন করতেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে মজবুত অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী সরকারের অন্যায়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি সবার কাছে অল্প সময়ে পরিচিতি লাভ করেন। শাহাদাতের মাত্র তিনদিন আগে ৯ জানুয়ারি সকাল ৮.৩০ টায় শাহাদাতের মৃত্যু কামনায় দুআ করে ফেইসবুকে তিনি স্টাটাস দেন। তার স্টাটাসট নিম্নরূপ-"হে প্রভু!! বিপদে মুসিবতে আমাকে সবর করার তাওফিক দিও!! হে রাহমান। আমার কঠিন মুহূর্তে তোমার রহমতের চাদরে ঢেকে নিও!! হে মালিক। তুমি আমার বিচার দিনে আমাকে কঠিন আজাবের মুখোমুখি করিও
না!! হে আল্লাহ! যে দিন আমার মৃত্যুর ফয়সালা হবে সেদিন আমাকে শহীদি মৃত্যু দান কর!!! (আমীন)"
আল্লাহ শহীদ জুবাইরের এই মোনাজাত কবুল করতে দেরি করেননি। অসাধারণ মিশুক, অমায়িক, সদা হাস্যোজ্জ্বল ও সদালাপী ছিলেন শহীদ জুবাইর। গ্রাম ও শহরে ছোট বড় সকলের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। ছোটদেরকে দেখলে মিষ্টি হেসে সালাম দিতেন এবং তাদের সাথে সময় কাটানোর চেষ্টা করতেন। সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে শহীদ জুবাইরুল ইসলাম পুরোদমে সাংগঠনিক কাজ শুরু করেন। তিনি কলেজের ওয়ার্ড ইন্টার ফ্যাকাল্টি আর্টসে দায়িত্ব পালন করেন।
অল্প সময়ের ব্যবধানে ২০১৩ সালে তিনি সাথী শপথ গ্রহণ করেন। তার সম্পর্কে মহসিন কলেজের অর্থ সম্পাদক ও ইন্টার ফ্যাকাল্টি আর্টসের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন- জুবাইর ভাই ছিলেন অত্যন্ত শান্ত ও সুশৃঙ্খল। সাংগঠনিক যে কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন অগ্রগামী। বিশেষ করে হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অংশগ্রহণ করেন। শহীদ জুবাইর জামায়াতে নামাজের ব্যাপারে অতান্ত সতর্ক ও আন্তরিক ছিলেন। প্রতিদিন ফজরে তিনি যেখানেই থাকতেন আগে উঠে সবাইকে জাগিয়ে নিয়ে যেতেন। তিনি সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন। শহীদ জুবাইরুল ইসলাম সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের অধ্যয়নরত জনশক্তিদের মধ্যে প্রথম শহীদ।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি মুহসিন কলেজ থেকে গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলায় চুনতি মিরিখিল যান জুবাইরুল ইসলাম। ঐ রাতেই বন্ধুদের সাথে ১৯ দিন ব্যাপী চুনতী সীরাতুন্নবী (স.) মাহফিলে যান। ওয়াজ শুনে বাড়ি ফেরার পথে চুনতি শাহ সাহেব গেইট এলাকায় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে জুবাইরুল ইসলামসহ তার বন্ধুদের উপর। এতে অন্য বন্ধুরা জুবাইরকে রক্ষায় এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে তাদেরকেও গুরুতর আহত করে। পরে জুবাইরকে মারাত্মক আহত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে তার লাশ চুনতি বেড়ার দোকান এলাকায় ফেলে চলে যায়। এতেও সন্ত্রাসীরা ক্ষান্ত হয়নি। তারা পুলিশ প্রশাসন এবং পক্ষপাতদুষ্ট মিডিয়ায় ট্রাকচাপায় জুবাইর নিহত হয়েছে বলে খবর দেয়। কিন্তু পুলিশ এবং মিডিয়া ঘটনাস্থলে না গিয়ে, সত্য অনুসন্ধান না করে পরিকল্পিতভাবে ট্রাক চাপায় নিহতের মিথ্যা সংবাদ প্রচার করতে থাকে। পরদিন ১৪ জানুয়ারি সকাল ১০টা পুলিশ শহীদ জুবাইরুল ইসলামের লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য বাড়ি থেকে নিয়ে যায়।
শহীদের আপন জনদের কথা
গর্বিত মায়ের কথা: শহীদ জুবাইরের গর্বিত মা তামান্না বেগম বলেন, আমার কলিজার টুকরা শহীদ জুবাইর পাড়া প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনের খোঁজখবর বেশি রাখতো। সবার খবর সে আমাকে এসে জানাতো।
গর্বিত পিতার বক্তব্য
শহীদ জুবাইরের গর্বিত পিতা মাওলানা ইউনুস বলেন, আমার অন্য নয়টি সন্তানের চেয়ে জুবাইর ছিল ভিন্ন। ইসলামী আন্দোলন করার কারণে বাতিল শক্তি জুবাইরকে সহ্য করতে পারেনি। শহীদের পিতা হতে পেরে আমি আজ গর্বিত। শহীদ জুবাইরের দেখানো পথে ইসলামী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য তিনি শোকাহত সার্থীদের প্রতি আহবান জানান।
কলেজে প্রতিক্রিয়া
কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী জুবাইরের শাহাদাতের খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মহসিন কলেজ সভাপতি মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেন, শহীদ জুবাইর ছিলেন আনুগত্যের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক। প্রতিদিন দাওয়াতী উপকরণ নিয়ে ক্যাম্পাসে এসে ছাত্রদের ইসলামের দিকে আহবান করতেন।
এক নজরে শহীদ জুবাইরুল ইসলাম
নাম: জুবাইরুল ইসলাম
পিতা: মাওলানা ইউনুস
পেশা: অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরিজীবি, বর্তমানে মসজিদ খতিব
মাতা: তামান্না বেগম, পেশা: গৃহিণী
ভাইবোন: ৫ ভাই, ৪ বোন (সবার ছোট)
জন্ম তারিখ: ১ জানুয়ারি ১৯৯৭
ঠিকানা: মাওলানা ইউনুসের বড় বাড়ি, মিরিখিল, চুনতী, ডাকঘর- চুনতী, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম- ৪৩৯৮
সাংগঠনিক মান: সাথী
আহত হওয়ার স্থান ও ধরন: ১৩ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে ওয়াজ শুনে বাড়ি ফেরার পথে চুনতি শাহ সাহেব গেইট এলাকায় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে পিটিয়ে হত্যা করে
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এইচএসসি
শাহাদাতের তারিখ: ১৩ জানুয়ারি ২০১৫
শাহাদাতের স্থান: চুনতি শাহ সাহেব গেইট এলাকায়
যাদের আঘাতে শহীদ: আওয়ামীলীগ
যে শাখার শহীদ: চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা
চট্টগ্রাম
২৩
"হে প্রভু--!! বিপদে মুসিবতে আমাকে সবর করার তাওফিক দিও!! হে রাহমান। আমার কঠিন মুহূর্তে তোমার রহমতের চাদরে ঢেকে নিও।।হে মালিক। তুমি আমার বিচার দিনে আমাকে কঠিন আজাবের মুখোমুখি করিও না।।। হে আল্লাহ। যে দিন আমার মৃত্যুর ফয়সালা হবে সেদিন আমাকে শহীদি মৃত্যু দান কর।।। (আমীন)"
(শহীদ জুবাইরুল ইসলামে ফেইসবুক পোস্ট)
শহীদের পরিচিতি
শহীদ জুবাইরুল ইসলাম চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পশ্চিম চুনতি গ্রামে ১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুস ও মাতা তামান্না বেগমের দশ সন্তানের মধ্যে জুবাইরুল ইসলাম সবার ছোট। শাহাদাতের সময় তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরিক্ষার ফলপ্রার্থী ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই পারিবারিকভাবে ইসলামী আন্দোলনমুখী ছিলেন। ২০০৮ সালে ছাত্রশিবিরের সমর্থক, ২০১০ সালে কর্মী এবং ২০১৩ সালে সাথী শপথ গ্রহণ করেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
১৯ দিন ব্যাপী চুনতী সীরাতুন্নবী (স.) মাহফিল থেকে ওয়াজ শুনে বাড়ি ফেরার পথে চুনতি শাহ সাহেব গেইট এলাকায় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে জুবাইরুল ইসলামসহ তার বন্ধুদের উপর। এতে অন্য বন্ধুরা জুবাইরকে রক্ষায় এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে তাদেরকেও গুরুতর আহত করে। পরে জুবাইরকে মারাত্মক আহত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে তার লাশ চুনতি বেড়ার দোকান এলাকায় ফেলে চলে যায়।
শাহাদাতের পূর্বের ঘটনা
শহীদ জুবাইরুল ইসলাম সবসময় শাহাদাতের তামান্না মনে লালন করতেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে মজবুত অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী সরকারের অন্যায়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি সবার কাছে অল্প সময়ে পরিচিতি লাভ করেন। শাহাদাতের মাত্র তিনদিন আগে ৯ জানুয়ারি সকাল ৮.৩০ টায় শাহাদাতের মৃত্যু কামনায় দুআ করে ফেইসবুকে তিনি স্টাটাস দেন। তার স্টাটাসট নিম্নরূপ-"হে প্রভু!! বিপদে মুসিবতে আমাকে সবর করার তাওফিক দিও!! হে রাহমান। আমার কঠিন মুহূর্তে তোমার রহমতের চাদরে ঢেকে নিও!! হে মালিক। তুমি আমার বিচার দিনে আমাকে কঠিন আজাবের মুখোমুখি করিও
না!! হে আল্লাহ! যে দিন আমার মৃত্যুর ফয়সালা হবে সেদিন আমাকে শহীদি মৃত্যু দান কর!!! (আমীন)"
আল্লাহ শহীদ জুবাইরের এই মোনাজাত কবুল করতে দেরি করেননি। অসাধারণ মিশুক, অমায়িক, সদা হাস্যোজ্জ্বল ও সদালাপী ছিলেন শহীদ জুবাইর। গ্রাম ও শহরে ছোট বড় সকলের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। ছোটদেরকে দেখলে মিষ্টি হেসে সালাম দিতেন এবং তাদের সাথে সময় কাটানোর চেষ্টা করতেন। সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে শহীদ জুবাইরুল ইসলাম পুরোদমে সাংগঠনিক কাজ শুরু করেন। তিনি কলেজের ওয়ার্ড ইন্টার ফ্যাকাল্টি আর্টসে দায়িত্ব পালন করেন।
অল্প সময়ের ব্যবধানে ২০১৩ সালে তিনি সাথী শপথ গ্রহণ করেন। তার সম্পর্কে মহসিন কলেজের অর্থ সম্পাদক ও ইন্টার ফ্যাকাল্টি আর্টসের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন- জুবাইর ভাই ছিলেন অত্যন্ত শান্ত ও সুশৃঙ্খল। সাংগঠনিক যে কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন অগ্রগামী। বিশেষ করে হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অংশগ্রহণ করেন। শহীদ জুবাইর জামায়াতে নামাজের ব্যাপারে অতান্ত সতর্ক ও আন্তরিক ছিলেন। প্রতিদিন ফজরে তিনি যেখানেই থাকতেন আগে উঠে সবাইকে জাগিয়ে নিয়ে যেতেন। তিনি সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন। শহীদ জুবাইরুল ইসলাম সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের অধ্যয়নরত জনশক্তিদের মধ্যে প্রথম শহীদ।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি মুহসিন কলেজ থেকে গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলায় চুনতি মিরিখিল যান জুবাইরুল ইসলাম। ঐ রাতেই বন্ধুদের সাথে ১৯ দিন ব্যাপী চুনতী সীরাতুন্নবী (স.) মাহফিলে যান। ওয়াজ শুনে বাড়ি ফেরার পথে চুনতি শাহ সাহেব গেইট এলাকায় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে জুবাইরুল ইসলামসহ তার বন্ধুদের উপর। এতে অন্য বন্ধুরা জুবাইরকে রক্ষায় এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে তাদেরকেও গুরুতর আহত করে। পরে জুবাইরকে মারাত্মক আহত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে তার লাশ চুনতি বেড়ার দোকান এলাকায় ফেলে চলে যায়। এতেও সন্ত্রাসীরা ক্ষান্ত হয়নি। তারা পুলিশ প্রশাসন এবং পক্ষপাতদুষ্ট মিডিয়ায় ট্রাকচাপায় জুবাইর নিহত হয়েছে বলে খবর দেয়। কিন্তু পুলিশ এবং মিডিয়া ঘটনাস্থলে না গিয়ে, সত্য অনুসন্ধান না করে পরিকল্পিতভাবে ট্রাক চাপায় নিহতের মিথ্যা সংবাদ প্রচার করতে থাকে। পরদিন ১৪ জানুয়ারি সকাল ১০টা পুলিশ শহীদ জুবাইরুল ইসলামের লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য বাড়ি থেকে নিয়ে যায়।
শহীদের আপন জনদের কথা
গর্বিত মায়ের কথা: শহীদ জুবাইরের গর্বিত মা তামান্না বেগম বলেন, আমার কলিজার টুকরা শহীদ জুবাইর পাড়া প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনের খোঁজখবর বেশি রাখতো। সবার খবর সে আমাকে এসে জানাতো।
গর্বিত পিতার বক্তব্য
শহীদ জুবাইরের গর্বিত পিতা মাওলানা ইউনুস বলেন, আমার অন্য নয়টি সন্তানের চেয়ে জুবাইর ছিল ভিন্ন। ইসলামী আন্দোলন করার কারণে বাতিল শক্তি জুবাইরকে সহ্য করতে পারেনি। শহীদের পিতা হতে পেরে আমি আজ গর্বিত। শহীদ জুবাইরের দেখানো পথে ইসলামী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য তিনি শোকাহত সার্থীদের প্রতি আহবান জানান।
কলেজে প্রতিক্রিয়া
কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী জুবাইরের শাহাদাতের খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মহসিন কলেজ সভাপতি মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেন, শহীদ জুবাইর ছিলেন আনুগত্যের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক। প্রতিদিন দাওয়াতী উপকরণ নিয়ে ক্যাম্পাসে এসে ছাত্রদের ইসলামের দিকে আহবান করতেন।
এক নজরে শহীদ জুবাইরুল ইসলাম
নাম: জুবাইরুল ইসলাম
পিতা: মাওলানা ইউনুস
পেশা: অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরিজীবি, বর্তমানে মসজিদ খতিব
মাতা: তামান্না বেগম, পেশা: গৃহিণী
ভাইবোন: ৫ ভাই, ৪ বোন (সবার ছোট)
জন্ম তারিখ: ১ জানুয়ারি ১৯৯৭
ঠিকানা: মাওলানা ইউনুসের বড় বাড়ি, মিরিখিল, চুনতী, ডাকঘর- চুনতী, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম- ৪৩৯৮
সাংগঠনিক মান: সাথী
আহত হওয়ার স্থান ও ধরন: ১৩ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে ওয়াজ শুনে বাড়ি ফেরার পথে চুনতি শাহ সাহেব গেইট এলাকায় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে পিটিয়ে হত্যা করে
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এইচএসসি
শাহাদাতের তারিখ: ১৩ জানুয়ারি ২০১৫
শাহাদাতের স্থান: চুনতি শাহ সাহেব গেইট এলাকায়
যাদের আঘাতে শহীদ: আওয়ামীলীগ
যে শাখার শহীদ: চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍